Monday 23rd of July 2018 05:49:48 AM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০১মে,বিক্রমজিত বর্ধন:    মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে বজ্রপাতের ঘটনায় সোমবার (৩০ এপ্রিল) ২ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রবাসী ও একজন চা শ্রমিক রয়েছেন।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে তমিজ উদ্দিন (৩৫) নামের একজন প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তিনি মাঠে গরু চরাতে গিয়েছিলেন। এসময় তার সঙ্গে থাকা ৩টি গরুও ঘটনাস্থলে মারা যায়।
শ্রীমঙ্গলে বজ্রপাতের আরেক ঘটনায় অজয় গোয়ালা (২০) নামের একজন চা শ্রমিক নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও চারজন। দুপুরে ভারী বর্ষণের সময় উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া চা বাগানে এই ঘটনা ঘটে।
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে অজয় মারা যান। নিহত অজয় লাখাইছড়া চা বাগানের বাসিন্দা চা শ্রমিক দিপক গোয়ালার ছেলে। এই ঘটনায় আহতরা হলেন একই এলাকার রাখাল সবর (৩২), জীতেন সবর (৩০), কিশোর গোয়ালা (২৫) ও রিপন ভূইয়া (২০)।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুস সুবহান নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহতের চিকিৎসা চলছে এবং মৃত ব্যাক্তির লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রয়েছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০১মে,এম এস জিলানী আখনজীঃ    হবিগঞ্জ জেলা তাঁতী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি, সিলেট বানিজ্যিক বিশ্ব-বিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি, সাবেক জেলা শ্রমিকলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পুটিজুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মুদ্দত আলী ও নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন সর্দারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান চুনারুঘাট উপজেলা তাঁতী লীগের নেতৃবৃন্দ।

২৯ এপ্রিল রবিবার রাত ৯ঘটিকায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ কার্য্যালয়ে গিয়ে তাদের এ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান চুনারুঘাট উপজেলা তাঁতী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা তাঁতী লীগনেতা ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুব ছাদিক উজ্জল, জেলা তাঁতী লীগনেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা মুহিবুল আলম জীবন, চুনারুঘাট উপজেলা তাঁতী লীগের আহবায়ক মোঃ কবির মিয়া খন্দকার ও উপজেলা তাঁতী লীেেগর সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বাবুলসহ উপজেলা তাঁতী লীগের অন্যান্য নেতা-কর্মীগন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০১মে,জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি:  সিলেটের জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নিয়োগ অবৈধ হলেও তিনি এ পদে বহাল রয়েছেন। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা টিম অধ্যক্ষের নিয়োগ অবৈধ বলে প্রতিবেদন দেয় এবং নিয়োগ প্রাপ্তির পর থেকে এমপিও বাবদ উত্তোলিত সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়ার নির্দেশ প্রদান করে৷

কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নির্দেশনাটি ধামাচাপা দিয়ে অধ্যক্ষ পদে বহাল থাকছেন মফিজুর রহমান। গত ১৮ বছরে মাত্র একবারের অভ্যন্তরীন অডিটে নানা আর্থিক অনিয়ম ও কেলেংকারির চিত্র ফুটে উঠে। সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে অধ্যক্ষ মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে পাঠানো অভিযোগ অনুসন্ধানে যানা জানা যায় ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কলেজটির প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন লোকমান হোসেন।

তিনি কর্মরত থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় ভুয়া নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে ২০০০ খ্রিস্টাব্দের ২০ জুলাই মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী অধ্যক্ষ পদে অবৈধ ভাবে নিয়োগ লাভ করেন। এ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে ২০০২ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অক্টোবর পুনরায় অবৈধ ভাবে নিয়োগ লাভ করেন। এ নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী নিজেই দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান দেখালেও ২০০২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজ থেকে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন তিনি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দেখিয়ে নিয়োগ লাভ করেন। তিনি এইচএসসি ও বিকম তৃতীয় শ্রেণী এবং মাস্টার্স পূর্ব ভাগে তৃতীয় শ্রেণী ডিগ্রীধারী।

অর্থাৎ তার একাধিক তৃতীয় বিভাগ আছে। নিয়োগ কালে ভুয়া তথ্য প্রদান করেছেন এবং কাম্য অভিজ্ঞতা না থাকায় মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অধ্যক্ষের নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান চৌধুরী এ প্রতিবেদনের জবাব দাখিলের পর ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্রডশিট জবাব অনুমোদনে অনেক গুলো সিদ্ধান্ত প্রদান করে। ব্রডশিট জবাবে দেখা যায়, অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নিয়োগ বিধি সম্মত না হওয়ায় উত্তোলিত সমুদয় বেতন ভাতার সরকারি অংশের অর্থ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমেন সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়।

এমনকি অর্থ জমাদানের চালানের সত্যায়িত ছায়ালিপি পত্র জারির ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। ব্রডশিটে অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান চৌধুরী তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজে যোগদানের পর তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজ থেকে অতিরিক্ত উত্তোলিত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দানের নির্দেশও দেয়া হয়েছিল।
এদিকে কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিটে অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারীর চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ১৮ বছর ধরে তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করলেও তার মেয়াদকালে কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিট হয়েছে মাত্র ১বার। অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ কলেজের গভর্নিং বডিকে ব্যবহার করে এসব অনিয়ম করে যাচ্ছেন। সূত্র জানায় ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দেখিয়ে নিয়োগ সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি মরহুম রশিদ হেলালী অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। কিন্তু অধ্যক্ষের সহোদর ও রাষ্ট্রপতির তৎকালীন প্রেস সচিব মোখলেছুর রহমান চৌধুরীর সুবাদে তিনি এ যাত্রায় পার পেয়ে যান।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রতাপ চৌধুরী জানান জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমানের নিয়োগ বিধি সম্মত নয় মর্মে তারা একটি অভিযোগ পেয়েছেন। কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধির অভিযোগ প্রাপ্তির পর তারা সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী এবং অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে তারা এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি মাস্টার আব্দুর রহিম জানান কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কলেজ গভর্নিং বডির আগামী সভায় আলোচনা হবে।
কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী এ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তাঁর নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করার কথা স্বীকার করলেও এসব আপত্তি পরবর্তীতে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানান। তবে নিস্পত্তির কোন ডকুমেন্ট দেখাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
এ ব্যাপারে কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মাসুক আহমদ জানান অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করে ইতিপূর্বে গ্রহণকৃত বেতনের টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ফেরত দানের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এ আদেশ উপেক্ষা করে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বহাল তবিয়তে আছেন।