Wednesday 19th of September 2018 08:22:11 PM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০এপ্রিল,ডেস্ক নিউজঃ   রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক, শ্রমিকের অধিকার, তাঁদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সুস্থ্যতা নিশ্চিতকরণের কোন বিকল্প নেই।

১ মে মহান মে দিবস উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন । আগামীকাল বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দেশব্যাপী এ দিবস উদযাপিত হবে।

মহান মে দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষই হচ্ছে উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্যেই নিহিত রয়েছে দেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ।

আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন তথা ‘রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১’ বাস্তবায়নে শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার শ্রমজীবী মানুষের সার্বিক কল্যাণসাধন ও তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান শ্রমিকবান্ধব সরকার এ লক্ষ্যে ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিতসহ শ্রমিকের স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে প্রয়োজন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, শ্রমিকের একাগ্রতা এবং শ্রমিক মালিক পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। শ্রমিক ও মালিকের ইতিবাচক ও অগ্রসরমাণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে শ্রমক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ও উৎপাদনশীলতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, স্বার্থ ও কল্যাণের সঙ্গে মহান মে দিবসের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন এবং ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সকলে স্ব স্ব ক্ষেত্রে ঐকান্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।সূত্রঃবাসস

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০এপ্রিল,ডেস্ক নিউজঃ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত, চার মাসে দেশে এক হাজার ৮৭১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে দুই হাজার ১২৩ জন। আহত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৫৫৮ জন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির চার মাসের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সোমবার (৩০ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

বিকেলে সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১৮৭১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১২৩ জন নিহত ও ৫৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশের ৬টি বিভাগীয় হাসপাতালের তথ্য অনুসারে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৪ মাসে মারা গেছে ২০৬ জন। বিদায়ী বছরের একই সময়ে ছোট-বড় ১৭৬৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯৭৯ জন নিহত ও ৪৭২৭ জন আহত হয়েছিল । এতে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে মোট দুর্ঘটনা ১ দশমিক ৬ শতাংশ, নিহত ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, আহত ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে ৪৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৫৩ জন আহত ও ৫১৪ জন নিহত হয়, এ মাসে ১৪০টি বাস, ২০৪টি ট্রাক-লরি ও কাভার্ডভ্যান, ৯টি হিউম্যান হলার, ৪১টি কার ও মাইক্রোবাস, ৫২টি অটোরিকশা, ৯৮টি মোটরসাইকেল, ৩২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫৩টি নছিমন-করিমন- ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনার ১৭৭টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮০টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এবং ৮টি ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ৬ জন, গাড়ি চাপায় ২০৫ জন পথচারী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৫২১ জন আহত ও ৪৫৯ জন নিহত হয়। এই মাসে ১১৩টি বাস, ১৮৯টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৯টি হিউম্যান হলার, ৬৩টি অটোরিকশা, ৩২টি কার ও মাইক্রোবাস, ৯৩টি মোটরসাইকেল, ২৩টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৩৫টি নছিমন করিমন সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনার ১৫৪টি মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ৮৭টি খাদে পড়ে, ৬টি ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১৭০টি গাড়ি চাপার ঘটনা ঘটে।

মার্চ মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ মাসে ৪৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫০৬ জন আহত, ৪৮৩ জন নিহত হয়েছেন। এ মাসে ১৩২টি বাস ২৩৬টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৭টি হিউম্যান হলার ৬১টি অটোরিকশা, ২৭টি কার ও মাইক্রোবাস, ৯০টি মোটরসাইকেল, ১৪টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ২৬টি নছিমন করিমন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনার ১৫৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮৭টি খাদে পড়ে ও ৩টি ট্রেন- যানবাহনের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২২২টি গাড়ি চাপার ঘটনা ঘটেছে।

এপ্রিল মাসে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৭৮ জন আহত ও ৪৬১ জন নিহত হয়। এই মাসে ১১৪টি বাস, ১৮৪টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬টি হিউম্যান হলার, ৬১টি অটোরিকশা, ২৭টি কার ও মাইক্রোবাস, ৮২টি মোটরসাইকেল, ১৪টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৩৬টি নছিমন করিমন-ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব ঘটনার ১১৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮৯টি খাদে পড়ে, ১টি বাস-ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং ২১১টি গাড়ি চাপার ঘটনা ঘটে।

সড়ক দুর্ঘটনারোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কয়েকটি সুপারিশ পেশ করেছে।

সুপারিশগুলো হলো, সড়ক দুর্ঘটনাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরিভিক্তিতে সড়ক দুর্ঘটনার প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে মালিক-শ্রমিক-যাত্রী-সরকার মিলে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ, ফিটনেসবিহীন মেয়াদোত্তীর্ণ লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন উচ্ছেদ করে মানসম্মত যানবাহনের ব্যবস্থা, চালকদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, চালকদের হাতে দৈনিক চুক্তি ভিক্তিক বাস, ট্রাক, হিউম্যান হলারসহ অন্যান্য যানবাহন ইজারা দেয়া বন্ধ, দেশের সব বেহাল সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার, ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত, বিআরটিএকে শক্তিশালীকরণ, পরিবহন খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত এবং ফুটপাত নিমার্ণ ও সংস্কারসহ ফুটপাত দখল মুক্ত করে হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত করা।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০এপ্রিল,শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:  মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের অডিটরিয়ামে উদ্বোধন করা হয়েছে ১০ দিন ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র ও স্মারক প্রদর্শনী।
সোমবার দুপুরে গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের সহযোগীতায় সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী সংগৃহীত মুক্তিযুদ্ধের এ স্মারক ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মো:জাহিদ হোসেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার কুমুদ রঞ্জন দেব এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গলস্থ ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন, ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল জাহিদুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতিক ফোরকান উদ্দিন, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. হরিপদ রায়, কমলগঞ্জ রহিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমদ বদরুল, গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ, ফিনলে টি র ডিজিএম গোলাম মো: শিবলী।
মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তীর স ালনায় আরো বক্তব্যদেন নেপ নেতা প্রবীণ সাংবাদিক চৌধুরী নিহারেন্দু হোম সজল, মনিপুরি নারীনেত্রী জয়া শর্ম্মা, বঙ্গকবি লুৎফুর রহমান, সাংবাদিক শামীম আক্তার হোসেন, সাংবাদিক চৌধুরী ভাস্কর হোম, সাংবাদিক সুমন বৈদ্য, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব শ্যামল আচার্য্য ও সাংবাদিক শিমুল তরফদার প্রমূখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমলগঞ্জের দেওড়াছড়া বধ্যভুমি সংরক্ষন করে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের জন্য রহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমদ বদরুলকে সম্মাননা দেয়া হয়।
এর আগে অতিথিরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন । প্রদর্শনীতে বাঙ্গালীর স্বাধীকার আন্দোলন থেকে একাত্তর পর্যন্ত বিভিন্ন পেক্ষাপটের প্রায় আড়াইশত ছবি ও শহীদদের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মৃতি স্মারক রয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কর্ণেল জাহিদ বলেন, বীরদের শ্রদ্ধা না জানালে বীরের জন্ম হবে না। সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোর পাশাপাশি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানানোরও সুযোগ করে দিয়েছেন। আর উপজেলার প্রাক্তন মুক্তিযোদ্ধা কুমুদ রঞ্জন দেব জানান, আমরা যে কাজ করতে পারিনি বিকুল চক্রবর্তী সে কাজ করছেন আমাদের সকলের উচিৎ বিকুল চক্রবর্তীকে সাহায্য করা।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০এপ্রিল,শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:  মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বজ্রপাতে ১ জন নিহত ও ৪ জন আহত। সোমবার দুপুর ১২টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাখাইছড়া চা বাগানে এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, চা বাগানে আনারস বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে কিশোর গোয়ালা (২০), দিপেন সবর (২৫), রাখাল সবর(২৭) রিপন ভূইয়া (১৮), অজয় গোয়ালা(২২) গুরুত্বর আহত হন। তাদেরকে ¤্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রিপন ভূইয়া (১৮), অজয় গোয়ালা(২২)কে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর সময় রাস্থায় অজয় গোয়ালা মারা যায়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুস সুবহান নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহতের চিকিৎসা চলছে । লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রয়েছে।

 

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০এপ্রিল,ডেস্ক নিউজঃ  দেশে দুর্যোগের ঘনঘটা কেবলই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে নানামুখী জনদুর্ভোগ। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক ধারায় বাংলাদেশে এসে পড়ছে অনেক ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব। যখন-তখন আঘাত হানছে ঝড়-তুফান ও সমুদ্রে নিম্নচাপ। এর সঙ্গে বজ্রাঘাতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হচ্ছে ফসল। আবহাওয়া-প্রকৃতির বিরূপ আচরণে আতঙ্ক ভর করেছে হাওর ও চরাঞ্চলের কৃষকদের মনে। শহর ও গ্রামের প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং জনস্বাস্থ্য বাড়িয়েছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছর থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও ব্যাপকতা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশিই পরিলক্ষিত হচ্ছে এ বছর। এর জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাকের এমন ধারা অব্যাহত থাকলে আরও বড় সমস্যার কবলে পড়তে পারে দেশ এমনটিই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকালই সারাদেশে বজ্রপাতে বাবা-ছেলে, স্কুলছাত্র, পোশাকশ্রমিক, নারী ও কৃষকসহ ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তাদের মধ্যে সিরাজগঞ্জে পাঁচ ও মাগুরায় চারজন প্রাণ হারান। এ ছাড়া গাজীপুর, নওগাঁ, নোয়াখালী, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গোপালগঞ্জ, রাঙামাটিতে বজ্রাঘাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

গতকাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভারী বর্ষণ হয়েছে। এর সঙ্গে বয়ে যায় কালবৈশাখী। বৈরী আবহাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌ ও সড়কপথে যানচলাচল সীমিত করা হয়। অনেক স্থানে নৌপথে যানচলাচল বন্ধ রাখা হয়। ঢাকার সদরঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সব ধরনের নৌচলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

পদ্মা নদীতে ঝড়ো হাওয়ায় কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল গতকাল কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এ কারণে উভয় পাড়ে পারাপারের অপেক্ষায় অনেক যানবাহন আটকা পড়ে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়াঘাটেও নৌযান চলাচল সীমিত করা হয়। কালবৈশাখীর কবলে পড়ে ৪০০ যাত্রী নিয়ে মেঘনায় আটকা পড়ে একটি লঞ্চ।
সংখ্যার হিসাবে বিশ্বের চার ভাগের এক ভাগ বজ্রপাতই হয় বাংলাদেশে। তবে গত তিন বছরে বেড়ে গেছে বজ্রপাতের হার। একই সঙ্গে বেড়েছে প্রাণহানির ঘটনাও। বর্তমান সময়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় ২০১০ সাল থেকে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে এটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব জিওগ্রাফির অধ্যাপক ড. টমাস ডব্লিউ স্মিডলিনের ‘রিস্ক ফ্যাক্টরস অ্যান্ড সোশ্যাল ভালনারেবিলিটি’ শিরোনামে গবেষণা থেকে দেখা গেছে, প্রতিবছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৪০টি বজ্রপাত হয়। বাংলাদেশ দুর্যোগ ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বজ্রপাতে ২৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালেও মৃতের সংখ্যা ছিল দুই শতাধিক। এ বছর কেবল এপ্রিলেই মারা গেছেন ৩০ জন। তবে বজ্রপাত ঠেকানোর তাৎক্ষণিক কোনো প্রক্রিয়া না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে তার উল্টো হচ্ছে। বড় বড় গাছ ধ্বংস করে ফেলার কারণে গ্রামাঞ্চল অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। নতুন করে বনায়নও হচ্ছে না। কৃষিজমির মধ্যে অতীতে তাল বা খেজুরগাছ লাগিয়ে বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা করা গেলেও বর্তমানে সেসব গাছও কমে আসছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের হাওর ও বিল অঞ্চল আর উত্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং দিনাজপুর অঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা বেশি। এসব অঞ্চলে মুঠোফোনের টাওয়ার লাইটেনিং এরস্টোর লাগিয়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো যায়। প্রতিবেদকদের পাঠানো খবরে গতকালের বজ্রঘাতে হতাহতের চিত্রঃ
সিরাজগঞ্জ : শাহজাদপুর, কামারখন্দ ও কাজীপুর উপজেলার তেকানীচরে বজ্রপাতে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেনÑ কাজীপুরের তেকানী গ্রামের শামসুল হক (৫৫) ও তার ছেলে আরমান (১৪); কামারখন্দের পুষ্পকুড়া গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের এবং শাহজাদপুরের ছয়আনি গ্রামের ফারুক খানের ছেলে নাবিল (১৭) ও পলিন (১৫)। তারা শাহজাদপুর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
এদিকে বজ্রপাতে শাহজাদপুর পোস্ট অফিসের পাশে শওকত আলীর বাড়ির গ্যাসলাইনে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলেন।
মাগুরা : মাঠে কাজ করার সময় মাগুরা সদর উপজেলার আমুড়িয়া গ্রামের আলম মোল্লা, শালিখা উপজেলার বুনাগাতি ইউনিয়নের বাকলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক প্রল্লাদ বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে সদর উপজেলার আক্কুরপাড়া এলাকায় মাগুরা-শ্রীপুর সড়কে মারা যান ভ্যানচালক শামীম সরদার। শালিখা উপজেলার সীমাখালীতে বজ্রপাতের প্রচ- শব্দে মুঠোফোন টাওয়ার থেকে নিচে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান মেহেদী হাসান। তিনি জয়পুরহাটের মনপুরা এলাকার আলম মিয়ার ছেলে।
গাজীপুর : জেলার কালিয়াকৈর ও শ্রীপুরে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জ উপজেলার হরিনাথপুরের আব্বাস আলীর ছেলে জাফিরুল ইসলাম (২৮) কালিয়াকৈর প্রাণ হারান ব্রজ্রাঘাতে। উপজেলার মাটিকাটা এলাকায় স্থানীয় ইনক্রেডিবল ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার চেকম্যান ছিলেন তিনি। বজ্রপাতে ওই কারখানার শ্রমিক সৌরভ, মণি সামান্ত, লতা, আলেয়া ও তাপসী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ধলাদিয়া গ্রামের কালু কবিরাজের স্ত্রী বিলকিস বেগম (৪৩) মারা যান।

নওগাঁ : জেলার সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় এক গৃহবধূ ও এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেনÑ সাপাহারের শিমুলডাঙ্গা রামাশ্রম গ্রামের সোনাভান (২২) এবং পোরশার বালিয়াচান্দা গ্রামের মুক্তার হোসেন (১৪)। সাপাহারে সোনাভানের স্বামীসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
নোয়াখালী : সদর ও সেনবাগ উপজেলায় বজ্রপাতে এক স্কুলছাত্র ও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দুজন। মৃতরা হলেনÑ সদর উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের সোহেল রানা জগলুর ছেলে ও নোয়াখালী জিলা স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইকবাল হাসনাত পিয়াল (১৩) এবং ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর গ্রামের রজন মিয়ার ছেলে মো. শাহিন (২৬)। সেনবাগে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন শাহিন।
এ ছাড়া বজ্রপাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দরুইন গ্রামে কৃষক আবদুর রহিম (৫০), রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় মানছুরা বেগম (৩৫), গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার অশোক পা-ে (২২) ও সুনামগঞ্জে কৃষক লিটন মিয়া (৩০) মারা গেছেন।
এদিকে গতকাল সকাল থেকে থেমে থেমে ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বৈরী আবহাওয়ায় দেশের বিমানবন্দরগুলোয় স্বাভাবিক বিমান চলাচল ব্যাহত হয়।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল। চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের ইতিহাসের ভয়াল প্রলঙ্কারী দিন। এই দিনে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে রাতের অন্ধকারে ল-ভ- এক বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছিল উপকূলীয় এলাকা। শুধু কুতুবদিয়ায় সে দিন আনুমানিক ৪৫ হাজার মানুষ নিহত হন এবং কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ বিলীন হয়। গতকাল বেদনাবিধুর ঘটনার ২৭ বছর পার হয়েছে। যদিও এর পর প্রায়শই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়ে বাংলাদেশ। গত এক দশক ধরে প্রায় প্রতিবছরই ছোটখাটো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার মানুষকে এর বেশি শিকার হতে হয়। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, সচেতনতা ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রচারে ক্ষতি ও মৃতের সংখ্যা কমেছে অনেক। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, বন্যা, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাতসহ নতুন নতুন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যোগ হচ্ছে। এমনকি গত কয়েক বছর অতিবৃষ্টি ও বন্যায় হাওর, চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের মুখেও পড়তে হতে পারে দেশকে।
চলতি মৌসুমের শুরুর দিকে ব্যাপক শিলাবৃষ্টির ঘটনা ঘটে। এতে ফসলের ভয়াবহ ক্ষতি হয়। বর্তমানে নতুন করে আতঙ্কের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে বজ্রপাত ও অতিবৃষ্টি।
দেশের ধানের প্রধান জোগান আসে মূলত হাওরাঞ্চল থেকে। তবে গত বছর দেশের বেশ কয়েকটি হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি ও অতিবৃষ্টিতে ডুবে যায়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সীমাহীন খাদ্য সংকটে পড়া কৃষকরা এবার নতুন ধান চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন; কিন্তু এবার ফসলের ক্ষতি হলে তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। কিন্তু পাকা ধানে ফসলের ক্ষেত ভরে থাকলেও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে হাওরের কৃষকদের মধ্যে। আকাশ কালো হলেই তাদের মধ্যে অজানা এক আতঙ্ক ভর করে। গত কয়েক দিনের ঘন ঘন বৃষ্টি তাদের মনে শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ বছর যদি ফসল ঘরে তুলতে না পারে, তবে অনেকেরই মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে।
সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া-জলবায়ুর রূপ বদল চরমভাব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একের পর এক দুর্যোগে তৈরি হচ্ছে জনদুর্ভোগ ও সংকট। চিরায়ত ষড়ঋতুর আদি চরিত্র বদলে যাচ্ছে। পঞ্জিকা মাফিক বর্ষায় বৃষ্টি ঝরে কম, প্রাক-বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে ঝরে আরও বেশি। শীতের স্থায়িত্ব তেমন প্রভাব ফেলে না। গ্রীষ্মের খরতাপ মরুর আগুনের হলকা নিয়ে আসে। শরৎ, হেমন্ত ও বসন্ত আলাদা করে চেনা যায় না। আবহাওয়া-প্রকৃতির বিরূপতা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা-বয়সের মানুষের জীবনযাত্রায় নানামুখী অনিষ্ট ও ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে মানবসম্পদের গড় উৎপাদনশীলতা। কমছে সক্ষমতা। সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধি ও করালগ্রাসে বসতি হারিয়ে পিছু হটে মূল ভূখ-ের দিকে ধাবিত হচ্ছে উপকূল, চর ও দ্বীপাঞ্চলের অভাবী মানুষরা।আমাদের সময় থেকে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০এপ্রিল,নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রাইয়ে এক আজব ফুলের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ফুল দেখতে এখন প্রতিদিন শত শত নারী পুরুষ ভিড় জমাচ্ছে। ফুলটি উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের বড়শিমলা গ্রামের মানিক মন্ডল ওরফে ঝড়ুর বাড়ি সংলগ্ন স্থানে মাটি ফেটে বের হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝড়ুরবাড়ি সংলগ্ন বাড়ির উঠানের এক পাশে মাটি ফেটে একটি ফুল বের হতে দেখা যায়। পরদিন শুক্রবার সকালে ফুলটি আকারে আরো একটু বড় হয়। সন্ধ্যা হতে হতে ফুলটি অনেক বড় আকৃতির হয়ে যায়। অন্যান্য ফুলের সুগন্ধি থাকলেও এ ফুল থেকে চরম দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে।
এদিকে আজব এ ফুলের সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার শত শত নারী পুরুষ ফুলটি দেখার জন্য প্রতিনিয়ত ভিড় জমাচ্ছে।

এ বিষয়ে বড়শিমলা গ্রামের সংশ্লিষ্ট ইউ পি সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম ও শাহাদৎ হোসেন বলেন, আমরা আমাদের বয়সে এ জাতীয় কোনো ফুল দেখিনি। এটি আমাদের কাছে খুব আশ্চর্যজনক বলে মনে হচ্ছে। এবং এই ফুলের ঘ্রাণ অন্য ফুলের তুলনায় অনেক গুন বেশি।

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ কেএম কাওছার হোসেন বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো সংবাদ পাইনি। তবে আমার মনে হচ্ছে, এটি কোনো আগাছা হতে পারে। এমন আগাছা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে জন্মে থাকে, এখানে কৌতুহলের কিছু নেই।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০এপ্রিলঃ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের দ্বীপবন্দ বিলপাড় গ্রামেরআওয়ামীলীগ নেতা ফিরোজ আলীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তার সহযোগীদের বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের হাত থেকে মুক্তি পেতে গ্রামবাসী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিলপাড় গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বী হাজী সফর আলী গ্রামবাসীর পক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, আমাদের গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহানের পুত্র কথিত আওয়ামীলীগ নেতা ফিরোজ আলী ও তার সহযোগীরা ক্ষমতার দাপট ও প্রভাব খাটিয়ে এলাকার নিরীহ সাধারন মানুষকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী ও নানা ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামের মৃত নাজিম উদ্দিনের পুত্র আব্দুস সোবহান ও তার ছেলে আব্দুল খালিক, আখল ও গয়াছ বিভিন্ন ছিনতাই ও ডাকাতি মামলার আসামী। তাদের নেতৃত্বদানকারী ফিরোজ আলীর অপকর্মের কারনে এক সময়ে চল্লিশ গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেন, পরে তারা আবার গ্রামে এসে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বিগত ২০০১ সালে গ্রামবাসী তাদের চুরি, ডাকাতিও হয়রানীর শিকার হয়ে সিলেট প্রেসক্লবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। যা পরদিন স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন দৈনিকে “মামলাবাজ ভু’মি খেকো ফিরোজ পরিবারের হাত থেকে দুই গ্রামের মানুষকে মুক্তি দিন” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।
ইতিপূর্বে ফিরোজ আলী ও তার ভাবী শামসুন্নাহার, আব্দুন নুর, তেরাব আলী বাদী হয়ে গ্রামের নিরীহ লোকজনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আর্থিক ফায়দা হাসিলে ব্যর্থ হয়ে গত ২৪ এপ্রিল কিছু অপরাধী লোক নিয়ে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে গ্রামবাসীর বিরুদ্বে মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও সিলেট জেলা আইনজীবী সমতির সদস্য এডভোকেট গিয়াস আহমদ সহ গ্রামের সম্মানিত ব্যক্তিদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসী ফিরোজ আলীর ও তার সহযোগীদের হয়রানী থেকে রেহাই
পেতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে গ্রামের অর্ধশত মুরুব্বী ও যুব সমাজ উপস্থিত ছিলেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০এপ্রিল,নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে ১২দলীয় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকেলে নড়াইল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ষ্টেডিয়ামে জেলা ক্রিড়া সংস্থার আয়োজনে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী। উদ্বোধনী খেলায় নড়াইল জেলা ফুটবল দল– ৪-১ গোলে আবাহনী ক্রিড়া চক্র গোপালগঞ্জকে পরাজিত করে। নড়াইলের ১১ নং খেলোয়ার আওরঙ্গ শ্রেষ্ঠ খেলোয়ার নির্বাচিত হয়েছেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিমউদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ সোহরাব হোসেন বিশ^াস, পৌর মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ^াস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোঃ কামরুল আরিফ , অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( রাজস্ব) কাজী মাহবুবুর রশীদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু, জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সাধারন সম্পাদক মোঃ হাসানুজ্জামান,জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি আইয়ুব খান বুলু, জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি রওশন আরা কবীর লিলি, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক রাবেয়া ইউসুফ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ কয়েক হাজার ফুটবল প্রেমী দর্শক এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নড়াইল সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও শিবশঙকর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে ও নৃত্যানুষ্ঠান এবং বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ লাঠিয়াল দলের অংশগ্রহনে লাঠি খেলা পরিবেশিত হয়।
এ টুর্নামেন্টে ভারতের মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব, ঢাকার ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা ফুটবল এসোসিয়েসন, খুলনা, আবাহনী ক্রীড়াচক্র, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা, সেন্ট মেরী স্পোটিং ক্লাব, সাতক্ষিরা, মাগুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন, ঝিনাইদাহ, চুয়াডাঙ্গা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশেন ও যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ ১২টি দল এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০এপ্রিল,রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ   সিলেটের জৈন্তাপুর ইপজেলার মিনাটিলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশ অনুপবেশ করে সিলেটে যাওয়া প্রক্কালে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে ২৮এপ্রিল শনিবার রাত ৮টায় থানার সম্মুখে অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জাহিদ আনোয়ার এর নেতৃত্বে চেক পোষ্ট বসিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার আসামপাড়া হতে ছেড়ে আসা প্রইভেট মাইক্রে সিলেট-গ-১১-০৫১২ তল্লাসী চালিয়ে ৪জন নাইজেরিয়ান নাগরিক আটক করে মডেল থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হল নাইজেরিয়ার নাগরিক অভি চিসম এনেস্ট (৩৫), আশাচি লিনাস এনমনি (৩৭), ওকাফার ওয়েসি ডেকর (৩২) এবং জেম্স ওকে সিহা (৩০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়- আটকৃতদের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশে বৈধ কোন পাসপোর্ট ভিসা নেই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের নিকট ফুটবল খোলোয়াড় হিসাবে পরিচয় তুলে ধরে। ব্যাপক জিজ্ঞাসা বাদে তারা স্বীকার করে অবৈধ ভাবে দালালদের মাধ্যমে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের আমকী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের মিনাটিলা সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আশাচি লিনাস এনমনি তার একটি পাসপোর্ট পুলিশের নিকট উপস্থাপন করে। তাতে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ভিসা এবং বৈধ সীল মোহার না থাকায় এবং অন্যান্যদের পাসপোর্ট দেখাতে না পারায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে তাদেরকে পুািলশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
অন্য একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায় ২৮এপ্রিল বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ কালে মিনাটিলা বিজিবির টহল দলের সদস্যরা তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা তাদের পাসপোর্ট রয়েছে জানায়। এসময় টহলরত বিজিরি সদস্যরা তাদেরকে ইমিগ্রেশন দিয়ে প্রবেশের জন্য পুনরায় ভারতে ফেরত পাঠায়। কিন্তু তারা দালাল তাদেরকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কৌশলে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আসামপাড়া গুচ্ছগ্রাম নামক স্থানে নিয়ে আসে এবং একটি প্রাইভেটে তুলে দিয়ে দালালরা সটকে পড়ে।
এবিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ মাঈনুল জাকির বলেন- গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে জৈন্তাপুর থানার সম্মুখে চেক পোষ্ট বসিলে গাড়ী তল্লাসী ৪জন নাইজেরিয়ান নাগরিককে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বৈধ কোন কাগজপত্র না দেখাতে পারায় পুলিশ বাদী হয়ে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দায়ের করে যাহার নং-১৬, তারিখ-২৮-০৪-২০১৮। গতকাল ২৯এপ্রিল আটককৃত ৪জন নাইজেরিয়ান নাগরিককে আদলতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০এপ্রিল,রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা হতে বাংলাদেশ পুলিশ ট্রেনিং রিক্রুট কনেষ্টেবল পুরুষ ও মহিলা পদে গত ফেব্রুয়ারী মাসে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহনের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রবেশের প্রক্কালে জৈন্তাপুর উপজেলা হতে ২জন মহিলা সহ ২৭জন সুযোগ পাওয়ায় জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ তাদেরকে সংবর্ধনা প্রদান করে।

গতকাল দুপুর ১টায় জৈন্তাপুর মডেল থানার আয়োজনে সংবর্ধনা প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট সার্কেল সিনিয়র এ.এস.পি আমিনুল ইসলাম সরকার, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ মাঈনুল জাকির, অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) আনোয়ার জহিদ, সেকেন্ড ইন কমান্ড ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্জ রাজন সহ সকল এস.আই, এ.এস.আই এবং পুলিশ সদস্যবৃন্দ। পুলিশ টেনিংয়ের জন্য ২মহিলা সহ ২৭জন কনেষ্টেবল পদে নিয়োগ প্রাপ্তদের ফুল দিয়ে বরন করে তাদেরকে মিষ্টি মুখ করানো হয়।

সংবর্ধনা কালে সার্কেল এ.এস.পি আমিনুল ইসলাম বলেন- বাংলাদেশের আইন শৃংঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তারই ধারবাহিকতায় পুলিশ বাহিনীতে নতুন কনেষ্টেবল নিয়োগের মাধ্যমে এই বিভাগকে আরও শক্তিশালি করা হল। এবারই প্রথম ১শত টাকায় পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে।

পুলিশের ইতিহাসে নিয়োগটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আর তোমরা সততা নিষ্ঠা এবং কঠোর ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে এই বাহিনীকে যোগদান করে দেশের এবং পুলিশ বাহিনীর সুনাম অক্ষুন্ন রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৯এপ্রিল,জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ   আগামী ৩বৎসর চারিকাটা ইউনিয়ন যুবলীগের সকল কার্যক্রম পরিচালনা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে এবং আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী তথা ইমরান আহমদের বিজয় নিশ্চিত করতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে। গত ২৮ এপ্রিল শনিবার জৈন্তাপুর উপজেলা যুলীগের আহবাক কমিটির জরুরী সভায় চারিকাটা ইউনিয়ন যুবলীগের ৩১সদস্য বিশিষ্ট পূনাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করে জৈন্তাপুর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন, যুগ্ন আহবায়ক মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, শাহিন আহমদ।
শরীফ আহমদ কে সভাপতি এবং সুলেমান রশিদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হল সহ-সভাপতি নাছির আহমদ, আনোয়ার হোসেন, কামাল আহমদ, মামুন রশিদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জহুর উদ্দিন, রায়হান উদ্দিন, আবুল কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন রশিদ, রুবেল আহমদ চৌধুরী, শামিম আহমদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক উমর আলী, দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল আম্বিয়া, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক শাহীন আহমদ, অর্থ সম্পাদক শাহজাহান আলম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শ্রী রন চন্দ, ক্রীড়া সম্পাদক বাহার উদ্দিন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কবির আহমদ, সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বিলাল উদ্দিন, আলমগীর, সম্মানিত সদস্য তরুস্কমনি দেব (বাবুলাল), আল আমিন-১, রানা নাথ, আল-আমিন-২, আনোয়ার হোসেন, আব্দুস শুকর, তামিম আহমদ, আলীম উদ্দিন, মিন্টু রঞ্জন দেব, মোহাম্মদ সুলতান।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৯এপ্রিল,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের আধকানি গ্রামে আনর মিয়ার বাড়িতে শনিবার গভীর রাতে অগ্নিকান্ডে দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে পেট্রোল দিয়ে কে বা কারা এই অগ্নিকান্ড ঘটিয়েছে বলে গৃহকর্তা আনর মিয়া(৭১) জানান। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
রবিবার বিকালে সরজমিন গিয়ে ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টায় কে বা কারা শক্রতা বশতঃ পেট্রোল ঢেলে আনর মিয়া বাড়ির একটি আধাপাকা টিনসেড ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।

মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরে রক্ষিত ২টি গরু, ২টি ছাগল, ১০টি কবুতর, ২ সেট ফার্ণিচার, সাড়ে পাঁচ বান্ডিল ঢেউটিন, ১টি বাইসাইকেলসহ প্রায় সোয়া দুই লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অবশ্য এসময় এই ঘরে কোন লোকজন ছিলেন না। স্থানীয় লোকজনের চেষ্টায় আধাঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সব হারিয়ে নিঃস্ব আনর মিয়া ও তার ছেলে জইমত মিয়া, আজমত মিয়া, বাছিত মিয়া.প্রতিবেশী মনফর মিয়া,আসিক মিয়া,সায়েদ মিয়া আমজদ আলী প্রমুখ জানান, পেট্রোল দিয়ে সৃষ্ট আগুনে নীরিহ এ পরিবারের দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সবকিছু আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তারা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।

এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাব্বির আহমদ ভূঁইয়া, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল ও আদমপুর বাজার ব্যাসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর মুন্না রানা অগ্নিকান্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রোববার সকালে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আমরা তাকে সরকারের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদনের পরামর্শ দিয়েছি।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৯এপ্রিল,বেনাপোল প্রতিনিধি: শার্শায় পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টির পরিচয়ে সংবাদিকের কাছে চাঁদা দাবি করেছে। এ ব্যপারে ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় সাধারন ডায়েরী করেছে।
থানা সুত্র জানায়, শার্শা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ইয়ানূর রহমানের কাছে শনিবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ০১৮৬৯-৮২২১০০ নম্বার থেকে একটি ফোন আসে। তখন ফোন দাতা নিজেকে পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টির সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ সাহেবের সাথে কথা বলতে ফোনটি তার কাছে দেন।

এ সময় উক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ নিজেকে আন্ডার গ্রাউন্ডের নেতা দাবি করে বলেন, আমি ভারতে দীর্ঘদিন অবস্থান করছি। গতকাল বেনাপোলে এসেছি এবং এখানে অবস্থান করছি।

আগামি কাল যশোর জেলখানা হতে তার কিছু সদস্য জামিনে মুক্তি পাবে। এর জন্য অর্থের প্রয়োজন । এবং এ অর্থের একটা অংশ আপনাকে আজই দিতে হবে। প্রয়োজনে আপনার বাড়িতে আমার সদস্যরা গিয়ে টাকা নিয়ে আসবে। এ সময় আরো বলেন, তারা আজই ভারতে আবার চলে যাবে। আজকে দিনের মধ্যে তাদের চাঁদার টাকা দিতে হবে। তবে চাঁদার অংকের কথা তিনি বলেননি।
এ ব্যাপারে সাংবাদিক ইয়ানুর রহমান শার্শা থানায় হাজির হয়ে ঘটনাটি উল্লেখ করে একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন। যার নং ১১২৩, তাং ২৮/০৪/১৮।

“এখনো ধরা পরেনি সব আসামী ও খুনিরাঃ মানববন্ধনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ”

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৯এপ্রিলঃ    হবিগনজ জেলাধীন চুনারুঘাট উপজেলার সামাজিক ন্যায় বিচারের কিংবদন্তী উপজেলা ব্যাকস সভাপতি আলহাজ আবুল হোসেন আকল মিয়া হত্যাকান্ডের প্রায় দুইমাস হতে চললো।  এখনো এজহারভুক্ত অনেক আসামী ধরা পড়েনি। সেইদিনের জেলা পুলিশ প্রশাসনের প্রেসব্রিফিংয়ে যে দৃঢ়তা শুনেছিলেনন সাধারন মানুষ আজ তা যেন ম্রিয়মান।
সর্বত্র প্রশ্ন আকল মিয়া হত্যার বিচার হবে তো ?
না কি এখানেও রাজনীতি চলবে ?
পুলিশ প্রশাসন কাজ করছেন কি ?
না কি শুধুই আইওয়াশ ?
আকল মিয়া হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ও খুনিদের গ্রেফতার এবং ফাঁসির দাবিতে আজও মানববন্ধন করেন চুনারুঘাটের সর্বস্তরের  মানুষ।
ব্যাকস নিয়ন্ত্রিত সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহবানে চুনারুঘাট মধ্যবাজারে আয়োজিত ২৯/০৪/২০১৮ বিকাল ৪টায় আজকের মানববন্ধনে উপরোক্ত বিষয়গুলোই বক্তাগনের বক্তব্য হতে ক্ষোভের সাথে বেড়িয়ে আসে। যদিও বাদী এবং ব্যাকস সেক্রেটারি জানান পুলিশ সঠিক পথেই এগুচ্ছে কিন্তু কৌশলগত কারনে প্রশাসন অনেক তথ্য গোপন রাখছেন।
এসব বক্তব্য ও চিন্তা থেকে সাধারন মানুষের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে সন্দেহ ও ক্ষোভ।
বড় বিস্ফোরণের আগেই প্রশাসনের উচিত আকল মিয়া হত্যাকান্ডের মামলার তদন্ত আরো জোরালো করে বিচার কাজকে ত্বরান্বিত করা।
খুনিদের গ্রেফতার ও তাদের ফাঁসির দাবিতে চুনারুঘাটের সকল শ্রেনি, পেশা ও দলের মানুষ আজ এক কাতারে। সাধারন মানুষের স্বতস্পূর্ত উপস্থিতিতে আজকের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চুনারুঘাট উপজেলার সাবেক সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান রিপন, বর্তমান আহবায়ক সোহেল আরমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ উপজেলা শাখার সেক্রেটারী ও ২নং আহমদাবাদ ইউপি’র চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল হাসনাত চৌধুরী সন্জু ও সভাপতি মানিক সরকার, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত সভাপতি আঃ কাইয়ূম তরফদার, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি আবু তাহির মহালদার, ব্যাকস সেক্রেটারী আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান মাসুদ, সদর জামে মসজিদের ইমাম মাও. মোহাম্মদ আলী, ব্যাকস সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আঃ সালাম তালুকদার, আকল মিয়ার বড় ছেলে এডভোকেট নজমুল ইসলাম বকুল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইবুনালের  প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৯এপ্রিল,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নছরতপুর নাম স্থানে সিএনজি (অটোরিক্সা) আটক করাকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশের সংঙ্গে অটো রিক্সা চালকদের সংঘর্ষে ঘটনায় গত শনিবার (২৮ এপ্রিল) ৮৮ জনের নাম উলে¬খসহ অজ্ঞাত ৬শত থেকে ৭শত জনকে আসামী করে পুলিশ এসল্ট মামলা করেছে।

সরকারী কাজে বাধা ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে শায়েস্তাগঞ্জ থানার উপপরির্দশক এস, আই আব্দুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে এসল্ট মামলাটি করেন। এঘটনায় পুলিশ গত (২৮ এপ্রিল) ১০ জন এবং ২৯ এপ্রিল ৩ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ দিন যাবত অবৈধ ভাবে অটো রিক্সা সিএনজি চলাচলের দায়ে গত ২৬ এপ্রিল হতে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ২৭টি অটো রিক্সা সিএনজি আটক করে হাইওয়ে থানা পুলিশ।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ গত বৃহস্পতিবার ২৬ এপ্লিল শায়েস্তাগঞ্জ মহাসড়ক থেকে ৫টি অটো রিক্সা আটক করে। এর প্রতিবাদে গত শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নছরতপুর নাম স্থানে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন এক দল সিএনজি ও অটো রিক্সা শ্রমিক ও মালিকরা। খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানা ও হাইওয়ে থানা একদল পুলিশ নিয়ে মহাসড়ক থেকে সিএজি শ্রমিকদের সড়ে যেতে অনুরোধ করে।

এ সময় পুলিশের সংঙ্গে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে শ্রমিক ও মালিকরা পুলিশকে গিরে ফেলেন এবং সড়কে বিভিন্ন যাত্রীবাহী আটক হওয়ার পর কিছু গাড়ীর গ্লাস ভাঙ্গচুর করে। তখন পুলিশ কে লক্ষ করে শ্রমিকরা ধারালো অস্ত্র, লাঠি নিয়ে এলো পাথারি ভাবে পুলিশের উপর আক্রমণ ও রেল এর পাথর দিয়ে ঢিল নিক্ষেপ করে। শায়েস্তাগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমান সহ ১৫ জন পুলিশ সদস্য সহ অর্ধশতাধিক আহত হন। পাশাপাশি দু’ঘন্টা সংঘষে উভয় পক্ষ আহত হন।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আনিসুর রহমান এ ঘটনায় তার গত ২৮ ও ২৯ এপ্রিল রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসল্ট মামলায় অভিযোক্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে গত শনিবার ও গত কাল রবিবার দিন আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। দায়ের কৃত এসল্ট মামলার আসামীরা হলেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সিতার মিয়া, দুলাল মিয়া, রুবেল মিয়া, কিম্মত আলী, সাবাজ মিয়া সহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এদিকে এ মামলার গ্রেপ্তার হওয়ার বয়ে সিএনজি শ্রমিকরা বাড়ি ছেড়েছেন। শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় এখন সিএনজি অটো রিক্সা শূণ্য। হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনার মামলায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার জানান, ঢাকা সিলেট মহাসড়কে সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল করলে গত বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) ৫টি গাড়ি আটক করে হাইওয়ে পুলিশ। পরে সিএনজি শ্রমিক ও মালিকদের পক্ষ থেকে সিএনজিগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য দাবি করা হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার তদবির ও মোবাইল ফোনে হুমকি দিলে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ১০ টি জিডি এন্টি করে।  পুলিশ সিএনজি ছেড়ে না দেওয়ায় গত শুক্রবার (২৭ এপ্রিল)  সকালে শ্রমিকরা শায়েস্তাগঞ্জ নছরতপুর মোড়ে মহাসড়কে অবরোধ করলে পুলিশ বাধা দেয়।

এর জের ধরে শ্রমিকরা পুলিশের উপর হামলা করে। উল্লেখ্য, এর আগে হবিগঞ্জের ঢাকা-সিলেটে মহাসড়কে সিএনজি চলাচল করলে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় পুলিশ। এর প্রতিবাদে শুক্রবার সিএনজি সংগঠনের শ্রমিকরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মহাসড়কে আন্দোলনে নামে। এ সময় পুলিশ তাদেরকে সড়িয়ে দিতে চাইলে দু’পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে আহত পুলিশ সদস্যরা হল, এসআই দেলোয়ার হোসেন, এএসআই আব্দুল ওয়াদুদ, কনস্টেবল সুবিত, আকাশ, মশিউর রহমান, প্রণব, আশরাফ, জহিরুল ইসলাম, সুবির, ওয়াকিব মিয়া, রোমান আহমেদ, আব্দুল খালেক, রকিব আহমেদ, মকবুল হোসেন। এছাড়াও আহত শ্রমিক ও পুলিশদের হবিগঞ্জ সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc