Tuesday 19th of June 2018 08:15:21 PM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১মার্চ,নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) : সমাজের অধিকার বঞ্চিত কোমলমতি শিশুদের প্রিয় পাঠশালা ছায়পথ পথশিশু বিদ্যানিকেতন। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একদল শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের উদ্যোগে গড়ে তোলা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছায়পথ পথশিশু বিদ্যানিকেতন। সুবিধা বি ত ছিন্নমূল শিশুদের আলোর পথ দেখানোর এক উদীয়মান সূর্য। এখানে পথশিশুদের অক্ষর জ্ঞান ছাড়াও নৈতিক বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।

অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার এ কাজটি করে যাচ্ছেন নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ছায়াপথ সংগঠনটি। শিক্ষাদানের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধিসহ আলোকিত দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন এই তরুণেরা। আর সবই হচ্ছে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে। বৃহস্পতিবার বাদে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে একটু উত্তরে রেলকোলনীর খোলা আকাশের নীচে চলে এ পাঠদান। সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা আনন্দ নিয়ে পড়াশোনা করে তরুণদের উদ্যোগে চালু হওয়া এই পাঠশালায়।

১৪ জন শিক্ষক নিয়ে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে শুরু হয় সমাজের সুবিধা বি ত ছিন্নমূল পথ শিশুদের জন্য ব্যাতীক্রমধর্মী এ পাঠশালাটির যাত্রা। এখানে বর্তমানে ৬০ জন শিশুশিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। এখানে যারা পড়াশুনা করছে তারা সবাই কোন না কোন কাজের সাথে জড়িত। কেউ ভিক্ষা বৃত্তি, কেউ বা বাসা বাড়িতে কাজ করাসহ এমন কী অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত। এসব শিশুর জঘন্য কর্মকান্ড থেকে ফিরে আনার লক্ষ্যে এ পাঠশালার যাত্রা শুরু হয়। এখানে শিশুশিক্ষার্থীদের মায়ের মমতা ও বাবার স্নেহ দিয়ে প্রতিটি পড়ানো হচ্ছে।

শত ব্যস্ততার মাঝেও শিক্ষকরা বিকাল হলেই ছুটে আসেন খোলা আকাশের নিচে শিশুদের পাঠদান করতে। বিনা পয়সায় এ পাঠশালায় পড়াচ্ছেন তারা। এ পাঠশালা থেকেই শিশুশিক্ষার্থীদের দেয়া হয় বই খাতাসহ শিক্ষা উপকরণ। যারা এখানে পাঠদান করছেন তারাই সবাই আত্রাই মোল্লা আজাদ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পেশাজীবী। তারা কলেজে শেষে কেউবা প্রাতিষ্ঠানিক কাজকর্ম শেষে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এখানে পাঠদান করেন।

এ পাঠশালায় যারা শিক্ষকতা করছেন তারা সবাই ছায়াপথ সংগঠনের সদস্য। এখানে প্রাক-প্রাইমারি স্তরের শিক্ষা দেয়া হয়। এমনকি অক্ষরজ্ঞান থেকে শুরু করে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান, ছবি আঁকা, গল্প কিংবা গানের আসর- সবই রয়েছে এই স্কুলটির পাঠ্য তালিকায়। এ পাঠশালার শিক্ষার্থীদের বয়স ৬ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। অক্ষর জ্ঞান ছাড়াও এখানে নৈতিক বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করেন শিক্ষকরা। পাঠশালাটি পড়াশুনা শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে। তারপর পবিত্র কোরাআন তালাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় পাঠদান। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সমাজকে আলোকিত করাই এ সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। সুবিধাবি ত শিশুদের সুশিক্ষা প্রদান, মানসিক বিকাশ সাধন ও সুন্দর ভবিষ্যত্ গঠনের অনুপ্রেরণা প্রদানের উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে ‘ছায়াপথ’।

সরেজমিনে গতকাল পড়ন্ত বিকালে উপজেলার ছায়াপথ পথশিশু বিদ্যানিকেতনে শিক্ষার্থী লিপি,রত্না ও নবির বলেন, ‘আমরা সবাই বিভিন্ন কাজ করি। কাজের ফাঁকে এখানে পড়ছি। আমাদের বই-খাতা কিনতে হচ্ছে না। এ স্কুল থেকেই দেওয়া হচ্ছে। আমরা বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপড়া করছি।

এ ব্যাপারে ছায়পথ সংগঠনের উদ্যক্তা ও ছায়াপথ পথ শিশু বিদ্যানিকেতনের শিক্ষক মো: আমানুল্লাহ ফারুক বাচ্চু বলেন, আমরা মূলত ছিন্নমূল শিশুদের পড়াছি। তারা অন্যান্য শিশুর মতো নয়। ওরা সমাজের সুবিধা বি ত। তাদেরকে আলোর পথ দেখাচ্ছি। যাতে তারা মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ থেকে দূরে থাকে এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
এ বিষয়ে শিক্ষক বিনামিন, মো: রাকিব শুভ, আলমগীর খোকন ও মোয়াজ্জেম মিঠুর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, সমাজের জন্য কিছু করতে পারাটাই আমাদের সার্থকতা।এখানে যারা পড়ছে তারা সবাই পড়াশুনায় ভাল। তাদের ভালভাবে গাইডলাইন দিতে পারলে তারাও ভাল কিছু করতে পারবে।

ছায়াপথ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ডা: আশিষ কুমার বলেন, এখানে যারা পড়াচ্ছেন তারা সবাই বিনা পয়সায়, অর্থাৎ স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। কেউ শিক্ষার্থী আবার অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। আমাদের নিজেদের অর্থ দিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের বই খাতা কিনে দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা কাজগুলো করছি। আমাদের উদ্দেশ্য হল সুবিধা বি ত ছিন্নমূল শিশুরা যাতে অপরাধের দিকে পা না বাড়ায়। তাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসা। তাই আমরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে শিশুদের পাঠদান করছি।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১মার্চ,রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি:হরিপুর বাজার মাদ্রাসার ছাত্র মুজ্জাম্মিল অালী হত্যার প্রতিবাদে জৈন্তাপুর বাজারে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্টিত৷
১১ মার্চ রবিবার দুপুর ২ ঘটিকার সময় জৈন্তাপুর বাস ষ্টেশনে ঈমান অাক্বিদা সংরক্ষন কমিটির অায়োজনে ১নং লক্ষীপুর পশ্চিম অামবাড়ী মাঠে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় হরিপুর বাজার মাদ্রাসার দাওরা হাদিস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র হাফিজ মাওলানা মুজ্জম্মিল অালী নিহত হন৷ নিহতের ঘটনায় জড়ীতদের গ্রেফতারের দাবী এবং অালীম উলামাদের উপর দায়ের করা ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বিশাল মানব বন্ধন অনুষ্টিত হয়৷
মানব বন্ধনে বক্তারা বলেন- মুজ্জাম্মিল অালী হত্যার ১২দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন উল্লেখযোগ্য অাসামী গ্রেফতার করতে পারেনি৷ এছাড়া থানা পুলিশ অামাদের কথা দিয়েছিল অাপনারা শান্ত থাকুন অাসামীরা বাংলাদের যে কোন স্থানে থাকুক না কেন অামরা তাদেরকে গ্রেফতার করে অাইনের অাওতায় নিয়ে অাসব৷ কিন্তু তা না করে উল্টা ভন্ডদের পক্ষালম্বন করে অালিম উলামাদের উপর ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্যা মামলা নিয়ে হয়রানির পায়তারা করছে৷
অামরা এই ব্যার্থ পুলিশ প্রশাসন কে জৈন্তার মাঠিতে দেখতে চাই না৷ মুজ্জাম্মিল হত্যা মামলার অাসামী গ্রেফতার করতে ব্যার্থ হন তাহলে জৈন্তার মাটি হইতে অাপনারা স্ব ইচ্ছায় প্রত্যাহার করে চলে যান৷ বক্তারা অারও হুসিয়ারী করে বলেন অাগামী ১৮ মার্চের মধ্যেই যদি এ মামালার কোন উল্লেখযোগ্য অাসামী গ্রেফতার করতে না পারেন তাহলে অাপনাদের অপসারনের দাবীতে এবং শহীদ মুজ্জাম্মিলের বিচারের দাবীতে বৃহত্তর জৈন্তাপুরকে অচল করে দেওয়া হবে৷ সময় থাকতে ব্যবস্থা নিন নতুবা জৈন্তাপুরের পরিস্থিতি অসাভাবিক হলে এর দায় ভার পুলিশ প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনকে নিতে হবে৷ মুজ্জাম্মিল হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত অামরা অামাদের ঘোষিত সকল কর্মসূচী পালন করব৷ পরে উপজেলা প্রশাসন বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে ঈমান অাক্বীদা সংরক্ষন কমিটি সিলেট৷
ঈমান অাক্বীদা সংরক্ষণ কমিটির সদস্য মাওলানা অাব্দুল ওয়দুদের পরিচালনায় এবং হরিপুর বাজার মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হিলাল অাহমদের সভাপতিত্বে মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল অাবেদীন, হরিপুর বাজার মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা অাব্দুল কাদির (বাঘেরখালি), মাওলানা অালিম উদ্দিন, লামনীগ্রাম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা অাব্দুল জব্বার, মাওলানা অলিউর রহমান, জৈন্তাপুর উপজেলা অাওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামাল অাহমদ, দরবস্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল অালম বাহার, চারিকাটা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ অালম চৌধুরী তোফায়েল, মুফতি জিল্লুর রহমান কাসেমী, সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা রহমত উল্লাহ,মাওলানা কবির অাহমদ, মাওলানা অাব্দুল মালেক, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক অাহমদ, অাওয়ামীলীগ নেতা অালা উদ্দিন, জৈন্তাপুর উপজেলা অাওয়ামী যুবলীগের অাহবায়ক অানোয়ার হোসেন, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সহ যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ, জৈন্তাপুর উপজেলা অাওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম অাহবায়ক কুতুব উদ্দিন সহ বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহতামিম বৃন্দরা বক্তব্য রাখেন৷

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১মার্চ,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মোটরবাইক চুরির হিড়িকে যখন মোটর বাইক মালিকগন দিশেহারা তখন বিশেষ এক যন্ত্র উদ্ভাবন করে তাক লাগিয়ে দিলেন নুরুল ইসলাম মাসুম নামে এক যুবক। নুরুল ইসলাম মাসুম চুনারুঘাট উপজেলার জমশেরপুর গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আলী আকবরের কনিষ্ঠ পুত্র।

মাসুম জানান, তার উদ্ভাবিত বিশেষ যন্ত্রটি মোটর বাইকে সংযুক্ত থাকলে স্পর্শ করা মাত্র সয়ংক্রিয়ভাবে দূরত্ব যতই হোক নিজ মোবাইলে যন্ত্রটি বাইক মালিককে জানিয়ে দিবে। এমনকি মোটর বাইক চুরি করে নিতে চাইলে চোরের ছবি এবং যে রাস্তায় বাইক নিয়ে যাচ্ছে ওই রাস্তাটি বাইক মালিক এই যন্ত্রটির মাধ্যমে নিজ মোবাইলে দেখতে পারবেন। মাসুম আরো জানান, শুধু মোটর বাইক নয় বড় বড় মার্কেটেও স্থাপন করলে ৩ ইঞ্চি পরিধির যন্ত্রটি বিশেষ কায়দায় সংযুক্ত করে রাখলে দুর্বৃত্তের গতিবিধি নিজ মোবাইলে জানিয়ে দিবে।

মাসুম এই যন্ত্রটি নাম মাত্র মূল্যে বাজারজাত করতে এবং সরকারী স্বীকৃতির জন্য সকলের সহযোগীতা কামনা করছেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১মার্চঃপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মাসেতুর কাজ। সেতুর ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের ওপর তৃতীয় স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার) ৭-সি বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো ৪৫০ মিটার কাঠামো।

গেল বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথম স্প্যানটি। এর প্রায় ৪ মাস পর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যানটি বসে। এর মাত্র দেড় মাস পর রোববার (১১ মার্চ) শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ধূসর রঙের তৃতীয় স্প্যানটি বসানো হলো।

স্প্যান বসানোর আনুষঙ্গিক কাজ শুরু হয় রোববার সকাল থেকেই। সকাল ৯টার দিকে পিলারের ওপর স্প্যান বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় প্রায় অর্ধ কিলোমিটারের সেতু।

এর আগে শনিবার (১০ মার্চ) বিকেলে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যান নিয়ে ভাসমান ‘তিয়ান ই’ ক্রেনটি ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের কাছে পৌঁছায়। এই ক্রেনের ধারণ ক্ষমতা তিন হাজার ৬০০ টন।

সেতুর প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, সকালে স্প্যান বহনকারী ক্রেনটিকে ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের সামনে পজিশন অনুযায়ী আনা হয়। এরপর লিফটিং ক্রেনের সাহায্যে অস্থায়ী বেয়ারিংয়ের ওপর রাখা হয় স্প্যানটিকে। তবে স্থায়ীভাবে বসতে কয়েকদিন সময় লাগবে।

এছাড়া স্প্যান ওঠানোর আগে ওয়েট টেস্ট, ট্রায়াল লোড টেস্ট, বেজ প্লেট, পাইল পজিশন, মেজারমেন্টসহ আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

এছাড়া, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২ পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এই সেতুর কাঠামো এবং সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১মার্চ,চান মিয়া, ছাতক (সুনামগঞ্জ):ছাতকে রাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকার অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এলাকাবাসির প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০মার্চ) বিদ্যালয়ের হলরুমে পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমরুজ আলীর সভাপতিত্বে ও মখলিছ আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, ইউপি সদস্য আতাউর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য রইছ আলী, শানুর মিয়া, আনোয়ারুল ইসলাম, মেহের উল্লাহ, কারন্য দাস, রঞ্জিত সরকার, আমির আলী, ফখর উদ্দিন প্রমূখ। সভায় সাহেদা বেগমের অপসারণসহ স্কুলের শৃংখলা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এদিকে ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম, সদস্যা আফিয়া বেগম, রইছ উদ্দিন, আসাদুজ্জামান, অলীউল ইসলাম, অনামিকাসহ অন্যান্যরা শিক্ষক দেবানন দেব ও শিক্ষিকা সাহেদা বেগমের অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জানা গেছে, সাহেদা বেগম পদোন্নতি পাওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন চৌধুরিকে অন্যত্র সরিয়ে এখানে নিজেই প্রধান শিক্ষক পদ নেয়ার অপচেষ্ঠা চালাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের পাশে তার বসত বাড়ি থাকায় জোরপূর্বক তিনি এ পদ দখলে এলাকাবাসির সাথে অশালিন আচরণসহ অনৈতিক কর্মকান্ড ঘটিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করে যাচ্ছেন।

গত ৫মার্চ উপজেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষা অফিসার আসাদুজ্জামান সরকার বিদ্যালয়ে আসলে পরিচালনা কমিটি, অভিবাবক ও এলাকাবাসির উপস্থিতিতে সাহেদা বেগম বক্তব্য দেয়ার একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে পায়ের জুতা খুলে তদন্ত কর্মকর্তাসহ লোকজনকে হুমকি দেন। এঘটনায় এলাকায় দু’পক্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোন সময় ভয়াবহ সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসি।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১মার্চ,এস কে দাশ সুমন:  শ্রীমঙ্গল  শহরতলির  বিভিন্ন  ব্যাবসা  প্রতিষ্ঠানসহ  হাট  বাজারে  দিন  দিন  বেড়েই  চলেছে  বাংলাদেশ  সরকার  কর্তৃক  নিষিদ্ধ  ঘোষিত  পলিথিনের  ব্যাগের  উৎপাদন  ও  ব্যবহার। কোন  কিছুতেই  লাগাম  টেনে  ধরা  যাচ্ছে  না  এই  নিষিদ্ধ পলিথিনের  উৎপাদন  ও  ব্যবহার , আর পরিবেশ  ও  জনস্বাস্থ্যের  জন্য  ক্ষতিকর  এসব  অপচনশীল  দ্রব্যে  মারাত্মক  স্বাস্থ্য  ঝুঁকিতে  ফেলেছে  আমাদের  জনজীবন  ও  জীব  বৈচিত্র্য।

সরেজমিনে  পরিদর্শনে  গিয়ে  দেখা  যায়  শ্রীমঙ্গল  উপজেলার  বিভিন্ন  ব্যাবসা  প্রতিষ্ঠান  শপিং  মল, কাঁচা বাজার,  মাছ  বাজারে  দেদারছে  পলিথিন  বিক্রির  রীতিমত  উৎসব  চলছে। অত্র  উপজেলার  হাট  বাজারের  বিভিন্ন  দোকানে  দেখা  গেছে  এসব  পলিথিনের  ব্যবহার । ফলে  মাটি  হারাচ্ছে  তার  উর্বরতা  ও  বন্ধ  হচ্ছে  পয়ঃনিষ্কাশন  ব্যবস্থা।  দূষিত হচ্ছে  বিশুদ্ধ  বায়ু  প্রবাহ  সেই  সাথে  ছড়াচ্ছে  বিভিন্ন  ক্ষতিকর  রোগ  জীবাণু। সল্প  পূঁজিতে  অধিক  লাভজনক  ও  বাজারে  এর  ব্যাপক  চাহিদা  থাকায়  কিছু  অসাধু  ব্যবসায়ী  পলিথিন  উৎপাদনে  আগ্রহী  হয়ে  উঠছে  এবং  রাতারাতি  আঙ্গুল  ফুলে  কলা  গাছ  হয়ে  যাচ্ছে।
পরিবেশ  অধিদপ্তরের  সুত্রমতে  ১৯৮২  সালের  প্রথম  দিকে  দেশের  অভ্যন্তরীণ  বাজারে  প্রথম  পলিথিনের  বাজারজাত  ও  ব্যবহার  পর্ব  শুরু  হয়।  সহজে পরিবহন  যোগ্য  ও  স্বল্পমূল্যের  কারণে  এদেশের  ব্যাপক  জনগোষ্ঠীর  কাছে  পলিথিনের  ব্যাবহার  দ্রুত  জনপ্রিয়  হয়ে  উঠে। কিন্তু  ক্রমান্বয়ে  পলিথিনের  ব্যাপক  চাহিদা  ও  যত্রতত্র  ব্যবহার  এবং  ফেলে  রাখার  কারনে  পরিবেশের  মারাত্মক  বিপর্যয়  ডেকে  আনছে  এই  পলিথিন । বিশেষ  করে  ড্রেন,  ডোবা,  পুকুর,  নালা, খাল  সহ  বিভিন্ন  জলাশয়ে  পলিথিন  জমা  হবার  কারনে  ওইসব  স্থানে  জলের  স্বাভাবিক  প্রবাহ  বাধাগ্রস্ত  হয়, যার  দরুন  মশা – মাছির  প্রজনন  বৃদ্ধি  সহ  পরিবেশের  মারাত্মক  বিপর্যয়  সৃষ্টি  করে।
এর  ফলশ্রুতিতে  গনপ্রজাতন্ত্রী  বাংলাদেশ  সরকারের  পরিবেশ  অধিদপ্তর  ২০০২  সালে  বাংলাদেশে  পলিথিন  ব্যাগ  উৎপাদন,  আমদানি,  বাজারজাত, ক্রয় – বিক্রয়,  প্রদর্শন,  মজুদ  ও  বিতরণ  সম্পূর্ণ  নিষিদ্ধ  করে। কিন্তু  পরিতাপের  বিষয়  সরকারের  পক্ষে  নিষিদ্ধ  ঘোষিত  হবার  একযুগ  পরেও  আবার  মাথাচাড়া  দিয়ে  উঠেছে  নিষিদ্ধ  পলিথিনের  অবাধ  বিক্রয়  ও  বিতরণ  সমগ্র  দেশের  ন্যায়  শ্রীমঙ্গলে  বিক্রি  হচ্ছে  পরিবেশ  ও  জনস্বাস্থ্যের  জন্য  ক্ষতিকর  এই  অপচনশীল  পলিথিন।
শহরতলির  বিভিন্ন  ব্যবসা  প্রতিষ্ঠান  ও  বাজারে  স্বল্পমূল্যে  এসব  পলিথিন  তুলে  দেওয়া  হচ্ছে  ক্রেতাদের  হাতে  যা  পরবর্তীতে  গিয়ে  পড়ছে  বিভিন্ন  পুকুর,  ডোবা,  ড্রেন  ও  রাস্তায়।  তৈরি  করছে  স্বাস্থ্য  ঝুঁকি  বন্ধ  হচ্ছে  পয়ঃনিস্কাশন  ব্যাবস্থা  তৈরি  হচ্ছে  জলাবদ্ধতা ।
দ্বরিকা  পাল  মহিলা  কলেজের  সহকারী  প্রভাসক  ও  লাউয়াছড়া  বন  ও  জীববৈচিত্র  রক্ষা  আন্দোলন  কমিটির  আহ্বায়ক  জলি  পাল  বলেন  পলিথিন  আমাদের  সমাজের  জন্য  মারাত্মক  হুমকি  স্বরূপ  এটি  পরিবেশের  ভারসাম্য  নষ্ট  করে  এতে  মাটির  উর্বরাশক্তি  বিনষ্ট  হয়  ফসল  উৎপাদনে  প্রতিবন্ধকতা  সৃষ্টি  করে,  আইনের  যথাযথ  প্রয়োগের  মাধ্যমেই  এর  ব্যবহার  রোধ  করা  সম্ভব।  এ  ব্যাপারে  পৌর  কতৃপক্ষ  এবং  স্থানীয়  প্রশাসনের  দৃষ্টি  আকর্ষণ  করছেন  শ্রীমঙ্গলের  সচেতন  নাগরিক  সমাজ।