Tuesday 19th of June 2018 08:11:39 PM

দৈনিক ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ !

“মজিদ ও সিরাজুল নামের দুই জনকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হলেও কোন তদন্ত কমিটি নেই”

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯মার্চ,স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজারের (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের) লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বনে প্রবেশের টিকেটের কোটি টাকা অভিনব কায়দায় প্রায় ৮ বছর যাবৎ সরকারী টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র। ফলে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব।
যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারাই যদি অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে সরকারী রাজস্ব খাতের টাকা নিজেরা নিয়ে নিচ্ছে, তাদের কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। এনিয়ে ফেসবুক ও জনমনে প্রশ্ন জেগে উঠেছে। রক্ষক যখন ভক্ষকের দায়িত্বে থাকে তখন স্থানীয়রা মনে করছে বন কর্মকতারা যদি সঠিক তরারকি করতো তাহলে এই চক্রগুলো এমনটা সাহস করতো না। কিন্তু চক্রটি এতোই পরাক্রমশালী যে এদের বিরুদ্ধে সরকারী কর্মকর্তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের মদদপুষ্ট বলে এরা এলাকায় সর্বমহলে পরিচিত।
সম্প্রতি বন বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক এ অবৈধ আত্মসাৎ এর ঘটনা উদঘাটন করেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারী এই ঘটনায় জড়িত দুই জনকে টিকেট বিক্রির দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

অপর দিকে এই অভিযোগে অব্যাহতি প্রাপ্ত মজিদ ও সিরাজুলকে কৌশলে ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে সরকার দলীয় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চিরহরিৎ বনের মধ্যে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।দেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে সংরক্ষিত বনা ল লাউয়াছড়া অন্যতম।যার ফলে প্রতিদিন এই উদ্যানে আসেন শত-শত পর্যটক। আর পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত প্রবেশ টিকেটের অর্থ অভিনব কৌশলে দীর্ঘ দিন ধরে চুরি করে আসছে সঙ্গবদ্ধ একটি চক্র। যার ফলে সরকার হারিয়েছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনটি কৌশল অবলম্বন করে উদ্যানের রাজস্ব চুরি করা হয়েছে।এর প্রথম কৌশল হিসেবে এক টিকেট একাধিক বার বিক্রি করা হয়।টিকেট কাউন্টারের আব্দুল মজিদ দর্শনার্থীদের কাছে টিকেট বিক্রি করে। বিক্রিত টিকেট পর্যটকদের নিকট থেকে পুনরায় সংগ্রহ করে মজিদের কাছে নিয়ে আসত সহকারী সিরাজুল ইসলাম।এভাবে হাত ঘুরে ৫০ টাকার একটি টিকেট ৪ বার বিক্রি করা হতো।এতেও যখন তাদের লোভ সংবরণ হয়নি বরং বাড়তে থাকে, তখন দ্বিতীয় কৌশল হিসেবে তৈরি করে নকল টিকিট বই। পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নকল বই থেকে টিকিট দেয়া হতো।এছাড়া দর্শনার্থীদের প্রবেশ টিকেটের পর তৃতীয় কৌশল হিসেবে পার্কিংয়ের গাড়ির টিকেটের মূল্য চুরি করা হয়েছে।একটি বড় গাড়ি উদ্যানের প্রাঙ্গণে পাকিংয়ে সঠিক ভাড়া আদায় করলেও বন বিভাগকে সেই টিকেটের কম মূল্য দেখানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লাউয়াছড়া উদ্যানের প্রতিদিন গড়ে ৫শ দর্শনার্থী আসে বেড়াতে। গত ফেব্রুয়ারীর ১৫ তারিখের আগ পর্যন্ত রাজস্ব আয় ছিল সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৩৪১ টাকা ও সর্বনিম্ন ৭ হাজার ২২৮ টাকা। ফলে দৈনিক গড় আয় আগে ছিল ১৫ হাজার। কিন্তু এই অপরাধী চক্রটি সনাক্ত হওয়ার পর ১৫ তারিখের পর থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় হয়েছে ৮৭ হাজার ৬৭১ টাকা ও সর্বনিম্ন ১৭ হাজার ৯২৬ টাকা। বর্তমানের কিছুদিনের গড় রাজস্ব আয়  দৈনিক ৪০হাজার টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।এ হিসেবে গত ৮ বছরে কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়।

সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের নভেম্বর থেকে অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ ও সিরাজুল ইসলাম টিকিট বিক্রির দায়িত্ব গ্রহণ করে।

এই চক্রের ২ জনকে অব্যাহতি দেয়ার পর থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা রেকর্ড পরিমাণেও দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কথিত প্রভাবশালী মদদপুষ্ট মজিদ ও সিরাজুল যোগদানের জন্য বিভিন্ন জায়গাতে তদবির করছে। খবর নিয়ে জানা যায়, মজিদকে উদ্যানের আশেপাশে ঘোরাফেরার করতে দেখা গেছে।
এ চক্রের হোতা আব্দুল মজিদ বিষয়টি অস্বীকার করেন। তাহলে কেন বন বিভাগ সাময়িক অব্যাহতি দিল? এমন প্রশ্নের জবাবে সিএমসির সভাপতি মো. মানিক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত বন বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তাদেরকে রাজস্ব আদায় থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। যেহেতু তারা কয়েক বছর যাবৎ এই চুরির সাথে সম্পৃক্ত সেহেতু সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।
সুশিল সমাজ,নাগরিক ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি,লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছ থেকে সরিয়ে এনে সরকারী আওতায় আনা উচিৎ। তা না হলে রাজস্ব চুরির মত অপরাধ বৃদ্ধি পাবে এবং সরকার বিশাল অংশের রাজস্ব হারাতে বসবে।

বন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সিএমসি একটি রাজনৈতিক পরিবারের কাছে বন্দি।এই পরিবারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।এই কমিটির বর্তমান ও সাবেক সভাপতি এই পরিবারের দুই ভাই।তা ছাড়া এই চক্রের ২ জনকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়ার পর থেকে সিএমসির বর্তমান সভাপতি সহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার মাধ্যমে ম্যানেজ’র চেষ্টা চলছে যাতে মজিদ ও সিরাজকে পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সভাপতি এম মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক বলেন, বন বিভাগ যাদের অব্যাহতি দিয়েছেন তারা হচ্ছে সিএমসির স্টাফ।তাদেরকে শুধু সিএমসি বরখাস্ত করতে পারে।এছাড়া যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।আমাদের কমিটি বোর্ড মিটিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সহকারী বন সংরক্ষক কর্মকর্তা মো.তবিবুর রহমান জানান, মজিদ ও সিরাজুল যখন রেভিনিউ দায়িত্বে ছিল তখন তারা টিকেটের টাকা চুরি করতো। আত্মসাতের টাকার পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এত করে এই বনের রাজস্ব কমতো।তিনি আরোও বলেন ২০১৫ সালের অর্থ বছর আয় হয়েছে ২৬ লক্ষ টাকা, ২০১৬ সালে ৬২ লক্ষ এবং ২০১৭ সালে মোট আয় হয়েছে ৪১ লক্ষ টাকা।তবে ২০১৮ সালে টিকেটের মূল্য ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকাতে বৃদ্ধি করা হয়। বন বিভাগ চাইলেও সিএমসি স্টাফদের অবৈধ কার্যক্রমের ব্যাপারে কথা বলতে পারছেন না।

ডিএফও মিহির কুমার দো বলেন, অনিয়মের কারনে অব্যাহতিপ্রাপ্তরা বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে পুনরায় ফিরে আসার জন্য সুপারিশ করাচ্ছে।লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সহ.ব্যবস্থাপনা কমিটিতে আগামী সভায় এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯মার্চ,বেনাপোল থেকে এম ওসমান:  যশোরের বেনাপোলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৮.৩ (আট দশমিক তিন) কিলোমিটার এলাকা প্রথমবারের মতো ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ বা অপরাধমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর ১টায় যশোরের শার্শা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্তে ৬৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কালিয়ানী বিওপি এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় উক্ত ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহা-পরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, বিএসপি, বিজিবিএম, এনডিসি, পিএসসি, বিএসএফ মহা-পরিচালক শ্রী কে কে শর্মা, আইপিএস, বিজিবি ও বিএসএফ এর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, উভয় দেশের স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে একুশে টেলিভিশনের সিইও জনাব মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ প্রতিদিন এর সম্পাদক ও নিউজ২৪ এর সিইও জনাব নঈম নিজাম, উভয় দেশের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
বিজিবি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মোহসিন রেজা জানান, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের নয়া-দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের কৌশল হিসেবে সীমান্তের অপরাধ প্রবণ এলাকা ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষণার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মা উক্ত প্রস্তাবের প্রশংসা করেন এবং ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় উভয় দেশের সম্মতিতে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তের পুটখালী ও দৌলতপুর বিওপি এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এবং বিপরীত দিকে ভারতের কাল্যানি ও গুনারমঠ বিওপি এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার (বর্ডার পিলার নম্বর ১৭/১৪৩-আর হতে ১৭/১৮১-আর পর্যন্ত) মোট ৮.৩ কিলোমিটার সীমান্ত পরীক্ষামূলক ভাবে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষণার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহন করা হয়। বিজিবি ও বিএসএফ এর সর্বাতœক প্রচেষ্টা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও উদ্যোগের ফলে উক্ত সীমান্ত এলাকা ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা সম্ভব হয়েছে।
‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষিত সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিজিবি’র উদ্যোগে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকারের বর্ডার সার্ভেইল্যান্স ডিভাইস যেমন-ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, সার্চ লাইট, থার্মাল ইমেজার ইত্যাদি স্থাপন করা হয়েছে। একইসাথে বিজিবি’র উদ্যোগে সীমান্তে অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ এর মধ্যে আন্তসীমান্ত অপরাধ যেমন-চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার, মানব পাচার, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড যাতে সংঘটিত না হয় সে লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বলবৎ রাখবে এবং অপরাধ দমনে ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার অর্থ্যাৎ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া নিজ নিজ দেশের স্থানীয় প্রশাসন এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের সহযোগিতায় সীমান্ত অপরাধে জড়িতদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের যথাসাধ্য ব্যবস্থা করা হবে। পর্যায়ক্রমে সীমান্তের অন্যান্য এলাকায় ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষণার লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ সমন্বিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এসময় স্থানীয় সাংবাদিকদের বিজিরি মহা-পরিচালক জেনালের আবুল হোসেন-বলেন, দুদেশের সৈনিকেরা (বিজিবি-বিএসএফ) মাল্টিমিডিয়া হিসাবে কাজ করবে-চোরাচালান মাদক অস্ত্র পাচারসহ বিভিন্ন কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। ফলে সীমান্ত থাকবে সুরক্ষা বাড়বে নিরাপত্বা।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯মার্চ,সানিউর রহমান তালুকদার, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বাংলাবাজার নামকস্থানে ইমা ও সিএনজি অটোরিক্সা মুখোমুখি সংঘর্ষে গোবিন্দ্র দেব নাথ (৩৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে কমপক্ষে আরো ১০জন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার নবীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার চালাকছর গ্রামের মৃত গোপাল দেবনাথের পুত্র বলে জানা গেছে।

সূত্রে প্রকাশ, বৃহস্পতিবার দুপুরে নবীগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া সিএনজি অটোরিক্সা নবীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কের উল্লেখিতস্থানে পৌঁছামাত্র বিপরীত দিক থেকে ছেড়ে আসা নবীগঞ্জগামী ইমা পরিবহন গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধে। এসময় সিএনজিটি দুমড়ে মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই সিএনজির যাত্রীর গোবিন্দ্র দেবনাথ নিহত হয় এবং তার মা রিনা রাণী দেবনাথ ও এক শিশুসহ কমপক্ষে ১০জন গুরুতর আহত হয়।
এসময় স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার এস আই সুজিত চক্রবর্তী একদল পুলিশ নিয়ে নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯মার্চঃকমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বৃহষ্পতিবার (৮মার্চ) দুপুর একটায় কমলগঞ্জে ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদে বসত ঘরে আগুন লেগে সব হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে বড় ভাই এর পরিবার। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়,ইসলামপুর ইউনিয়নের ছয় ঘরি গ্রামের মৃত আনজব উল্যার পূত্র শারিরিক প্রতিবন্ধী জমির মিয়া (৪৮)র বসত ঘরে আগুন লেগে কাপড় চোপড়, আসবাব পত্র , নগদ টাকা ও মূল্যবান কাগজ পত্র সহ লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী পুড়ে যায়। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

জমির মিয়া অভিযোগ করেন বাবুল মিয়ার বাড়ির সীমানা নিয়ে তার ছোট ভাই বাবুল মিয়া (৪৬)র সাথে ঝগড়ার জের ধরে তার পূত্র হাফিজ মিয়া (২২) চাচা জমির মিয়ার বসত ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।

কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো: আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর থেকে বাবুল মিয়া ও তার ছেলে হাফিজ মিয়া আত্মগোপন করেছে। তিনি আরও বলেন, সরেজমিন তদন্তেও দেখা গেছে ভাতিজা হাফিজ মিয়াই চাচা জমির মিয়ার বসত ঘরে অগ্নি সংযোগ করেছে। তবে বাবুল মিয়া তার পূত্রের বিরুদ্ধে জমির মিয়ার ঘরে আগুন লাগানোর বিষয় অস্বীকার করে বলেন, বৃহষ্পতিবার দুপুরে তিনি বাড়ীর বাশঁ কাটতে গেলে জমির মিয়া বাধা দেওয়ার এক পর্যায়ে বড় ভাই আইন উল্যার ঘর থেকে দিয়াশলাই এনে নিজের বসত ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী, জমির মিয়ার বড় ভাই আইন উল্যা,প্রতিবেশী গউছ আলী, চেরাগ মিয়া,মদই মিয়া,রবিজান বিবি,সাইরুন বেগম প্রমূখের সাথে আলাপকালে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে বাড়ীর সীমানা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে জমির মিয়া ও বাবুল মিয়া দুই ভাইয়ের বিরোধ চলছে। বারবার সালিশ বসেও দুই ভাইয়ের বিরোধ শেষ হয়নি।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোঃ মোকতাদির হোসেন পিপিএম জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯মার্চ,অস্ট্রেলিয়া থেকেঃ   অস্ট্রেলিয়া যুবলীগ গত ৭ই মার্চ সিডনির উপকন্ঠে ওয়ালি পার্ক গ্রামীন হলে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনের উপর একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। ৭ই মার্চ-এর ঐতিহাসিক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন  সংগঠনের সভাপতি মোস্তাক মেরাজ। অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের সাধারন সম্পাদক নোমান শামীমের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ডঃ আবুল হাসনাত মিল্টন।
বক্তারা আলোচনা সভায় ৭ই মার্চের তাৎপর্য্য তুলে ধরেন। এসময় বক্তারা বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান একটি বিরল সম্মান, এই ভাষণ আর বাংলাদেশের ভূখন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন সারা পৃথিবীর মানুষের অনুপ্রেরণাদানকারী একটি দলিলে পরিণত হয়েছে।
তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ জাতির পিতাকে তাদের মনে সর্বোচ্চ স্থান দেন এবং কেউই জাতির পিতাকে নিয়ে কোন বিরূপ মন্তব্য বরদাস্ত করেন না। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বলেন, জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আবেদন চিরদিনের এবং তা কখনও শেষ হবার নয়। কারণ এরমধ্য দিয়েই মুক্তিকামী বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে ছিল। সংগঠনের সভাপতি মোস্তাক মেরাজ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ শুধু বাঙালী জাতিকে নয়, বিশ্বে চিরকাল মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা রাখে।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী রাহুল, কলামিস্ট-সাহিত্যিক আরিফুর রহমান, সামাজিক আন্দোলনের পরিচিত মুখ ফাহাদ আসমার, যুবলীগ নেতা মাহমুদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান, মহীউদ্দীন কাদের, যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক অপু সারোয়ার, অস্ট্রেলিয়া ছাত্রলীগ সভাপতি আমিনুল ইসলাম রুবেল, সহ-সভাপতি আলাউদ্দীন অলোক, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ নেতা হাসান শিমুল ফারুক রবিন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ প্রচার সম্পাদক জুয়েল তালুকদার, যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক হারুনুর রশীদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া যুবলীগ নেতা রকি তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক এলিজা টুম্পা, দপ্তর সম্পাদক মোঃ সেলিম, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের ত্রান ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক জাকির প্রধানিয়া, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক উবায়দুল হক, সহ-সভাপতি এমদাদ হক সহ অন্যান্য নেতা ও কর্মীবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতার দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে।