Friday 14th of December 2018 01:37:51 AM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩মার্চ,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্যাম্পাসে  দেশিয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করেছে বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের মাথায়।
আজ শনিবার (৩ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শাবি ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর ড. জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ছুরিকাঘাতকারী যুবককে আটক করেছে শিক্ষার্থীরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
সূত্রে জানা যায়, শাবির হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাফর ইকবাল। অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জাফর ইকবালও উপভোগ করছিলেন।

এ সময় হঠাৎ এক অজ্ঞাত যুবক জাফর ইকবালকে পেছন দিক থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় ছুরিকাঘাতকারী অজ্ঞাত ওই যুবককে ধরে ব্যাপক মারধর করে শাবি শিক্ষার্থীরা।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩মার্চ,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:   সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় কর্মরত পাউবো’র এসও শমসের আলী উপজেলার প্রতিটি পিআইসির সভাপতির নিকট থেকে উৎকোচের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। যা নীতিমালার পরিপন্থি। পিআইসির বাজেট বাড়ানো ও নীতিমালা অনুযায়ী কাজ না করার শর্তে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) এর সভাপতিদের বাড়িতে গিয়ে প্রতি রাতে উৎকোচ বিনিময় করেন।

গতকাল শুক্রবার রাত ১০ টায় উপজেলার আনন্দপুর মাদারিয়া বাঁধের সভাপতি নীতিরঞ্জন রায়ের বাড়িতে উৎকোচসহ এসও শমসের আলীকে হাতে নাতে আটক করেন হবিবপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুব্রত সরকার ও সাংবাদিক বিপ্লব রায়। এসময় এসওকে এতরাতে  িপআইসির বাড়িতে কেন প্রশ্ন করা হলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তবে ঘরের ভেতরে পিআইসির সভাপতি নীতিরঞ্জন রায় মাদারিয়া বাঁধে বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে সঠিকভাবে কাজ না করার জন্য রাতে তার বাড়িতে এনে এসও শমসের আলীর পকেট ভারি করে দিলেন উৎকোচ দিয়ে।

এছাড়াও হাঁসের মাংস, মুরগির মাংস দিয়ে পেট ভোজনের আয়োজন করা হয়। এসও শমসের আলীর বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আছে পিআইসিদের ওয়ার্ক অর্ডার দেয়ার সময় ১০ হাজার করে টাকা প্রতিটি পিআইসিদের কাছ থেকে রাখা হয়েছে। গত বছরও পাউবো’র কর্মকর্তা ও পিআইসিদের ভাগবাটোয়ার হরিরলুটে কৃষকেরা সোনার ফসল হারিয়ে নি:স্ব হয়ে একটি বছর অভাব অনটনে কাটান। যার ফলে সরকার নতুন নীতিমালা প্রনয়ন করে হাওর রক্ষা বাঁধের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। হাওররক্ষা বাঁধের জন্য এই বছর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থাকেলও শাল্লা উপজেলায় এসও শমসের আলীই সবকিছু। উনি নিজের ইচ্ছেমত টাকার বিনিময়ে পিআইসি গঠন করে। যে জায়গায় চার লাখ টাকার প্রয়োজন সে জায়গায় পিআইসিদের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে এগার লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে দেন।

এরই প্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার রাতে মাদারিয়া বাঁধের বরাদ্দ বাড়ানোর লক্ষে সভাপতি নীতিরঞ্জন রায়ের বাড়িতে খাবারের আয়োজন করা হয়। এবং সভাপতি নীতিরঞ্জন রায়  এসও শমসের আলীর হাতে উৎকোচ তোলে দেন মাদারিয়া বাঁধের বরাদ্দকৃত টাকার বাজেট বাড়ানোর জন্য। তবে এসও শমসের আলীকে প্রতিরাতে পিআইসিদের বাড়িতে কেন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান দাওয়াত খাওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে যান। উৎকোচ নেয়ার বিষয়টি সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ভূইঁয়াকে জানানো হলে তিনি জানান এসও শমসের আলীকে পুলিশে দেয়ার জন্য।

শাল্লা থানা ওসি দেলোয়ার হোসেনকে এই বিষয়ে অবগত করা হলে তিনি জানান ইউএনও স্যার আমাদেরকে নির্দেশ দিলে আমরা এসও শমসের আলীকে আটক করতে পারব। এই বিষয়ে ইউএনওর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও উনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে পাউবো’র নির্বাহী প্রকোশলীও জানান এসওকে গ্রেফতার করার জন্য আমি ইউএন’র সাথে যোগাযোগ করি। ইউএনও ফোন রিসিভ করেননি। এসওর উৎকোচের বিষয়টি উপজেলা প্রকল্পের যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সুবল চন্দ্র দাসকে জানানো হয়। তিনি বলেন এত রাতে এসও পিআইসির বাড়িতে কিসের জন্য যাবেন। আর পিআইসিদের সাথেই কেন উনার যোগসুত্র থাকবেন। তবে এই বিষয়টা রহস্যজনক। আমি ঢাকা থেকে এসে উপজেলা কমিটিকে অবগত করবো।

স্থানীয় হিন্দু নের্তৃবৃন্দের ক্ষোভ,তদন্তে পুলিশ

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩মার্চ,সাজন আহমেদ রানাঃ শ্রীমঙ্গলে সনাতন ধর্মের দেবী ‘বিপদনাশিনী’ নামধারী ও দাবীকারী শিপ্রা রাণী দেব’র কথিত আধ্যাতিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও তার সংঘবদ্ধ গোষ্টির বিরুদ্ধে সাড়ে তিন বছরের কণ্যা শিশুর অপচিকিৎসার (বিজ্ঞানসম্মত নয়) কারনে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে মর্মে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন হতভাগ্য কমলগঞ্জ উপজেলার গোপালনগর এলাকার বিশ্বজিৎ ঘোষ (৩৬)।

গত ২২ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় বিশ্বজিৎ ঘোষ সাংবাদিকদের নিকট লিখিত অভিযোগে জানান, তার কণ্যা বৃদ্ধি রাণী ঘোষ চোখের রোগে ভুগছিল। মৌলভীবাজার বি.এন.এস.বি চক্ষু হাসপাতাল এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ডাক্তার খায়ের আহমেদ চৌধুরী তার চিকিৎসা করেছিলেন।ডাক্তার রোগিনীর চক্ষু অস্ত্রোপচার এর জন্য মতামত ব্যক্ত করেন এবং ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু, স্থানীয়লোক ও শ্রীকান্ত নামে এক প্রতারকের কাছ থেকে শুনে তিনি শ্রীমঙ্গলস্থ শিপ্রা রাণী দেব এর দ্বারস্থ হন।

নিহত হতভাগা শিশু

এতে কথিত ‘বিপদনাশীনি’ শিপ্রা রাণী ও তার ছেলেসহ চক্রের লোকজন তাকে ৩ মাসের মধ্যে মেয়ের আরোগ্য হবে এরুপ আশ্বাস দেন। ছোট্ট মেয়েকে চিকিৎসার বিধি অনুযায়ী শিপ্রা রাণীর আশ্রমে রেখে আসা হয়। কিছুদিন পর মেয়ের কোন উন্নতি না হওয়ায়, উন্নত ও সুচিকিৎসার জন্য নিতে চাইলে আমাকে ধর্মীয় বিধি-নিষেধ আছে এবং দেবী আশ্রয় করেছেন, তার আরোগ্য হওয়া শুরু হয়েছে ইত্যাদি বলে কালক্ষেপন করে। ইতোমধ্যে তারা আমার কাছ থেকে এক লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার টাকা গ্রহণ করে। গত ২০ ফেব্রুয়ারী শিপ্রা রাণীর বাড়িতে থাকাবস্থায় শিশু বৃদ্ধি মারা যায়।

তিনি বিলাপের সুরে অভিযোগ করে বলেন, ‘ভূল চিকিৎসার ফাঁদে পড়ে, আমার মেয়ে বৃদ্ধি মারা গেল। বহন করতে হল মেয়ের লাশ। কেন আমি এ প্রতারকের ফাঁদে পড়ে আমার মেয়েকে এখানে নিয়ে এসে লাশ নিয়ে ফিরে গেলাম।’ একইভাবে, শ্রীমঙ্গলের রাশনা বেগম নামে এক মহিলাকে অপচিকিৎসার নামে বেশ কয়েকজন পুরুষ সহচর যারা তাকে দৈবিক চিকিৎসার নামে উপর্যুপরি আঘাত করে এবং এক পর্যায়ে রোগিনীর রক্ত¯্রাব হতে থাকে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি শিপ্রা রাণীর বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে শ্রীমঙ্গল থানা সুত্রে জানা গেছে। বর্তমানে রাশনা বেগম সিলেটে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে সুত্রে জানা যায়।
কে এই ‘বিপদনাশিনী দেবী’ দাবীকারী শিপ্রা রাণী দেব?

নিহত শিশুর পুর্বের ছবি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি উত্তর ভাড়াউড়া এলাকায় পুর্বে বসবাস করতেন স্বামীসহ। সাংসারিক ঝামেলার দরুন শিপ্রা রাণীর স্বামী ভাইয়ের সাথে মনোমালিন্যর কারনে দক্ষিণ ভাড়াউড়া এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। শিপ্রা রাণী বীমা কোম্পানীতে চাকুরী করতেন। একসময়, তিনি তার বাড়িতে বিপদনাশিনী মন্দির স্থাপন করবেন বলে এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নেন। মন্দির নির্মানের পর চাকুরী ছেড়ে তিনি নিজেই নিজেকে ‘বিপদনাশিনী দেবী’ আখ্যায়িত করেন। এলাকার জানাজানি হলে অনেকেই ধর্মকে ব্যবহার করে তার এসব কাজের বিরোধিতা করেন। কেউ কেউ আবার, বিপদনাশিনীর আশ্রয় ভেবে নিজেদের সমস্যা নিয়ে তার বাড়িতে ছুটে যান। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তার সহচর হিসেবে কাজ করেন কুলাউড়ার শ্রীকান্তসহ কয়েকজন যুবক ও শিপ্রা রাণীর পুত্র জুয়েল দেব প্রমুখ। তারা মুলত প্রচার – প্রচারণায় কাজ করেন। শুধু তাই নয়, শিপ্রা রাণী নিজের স্বামী নারু দেবকে ‘পুত্র’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং স্বামীকে মানসিক প্রতিবন্ধী হিসেবে গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট জাহির করেন।
এলাকাবাসীর বক্তব্যঃ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীর অনেকেই বলেন, এখানে মন্দির হয়েছে আমরা জানি। কিন্তু শিপ্রা রাণীর এই আচরণ বিধি মেনে নিতে পারি না বলে ঐ মন্দিরে আমরা যাই না। কিন্তু প্রতিনিয়তই বিভিন্ন স্থান থেকে বিপদগ্রস্থ মানুষ ছুটে আসেন তার কাছে। অনেক সময় দেখা যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি ছুটতে থাকেন এবং তার পিছনে আট – দশজন যুবক ছুটতে থাকে। তার এসব কর্মকান্ড স্থানীয়রা ইউপি চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়কে অবহিত করলে, তিনি শিপ্রা রাণীকে এসব কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার কথা বলেন। এমনকি হিন্দু ধর্মীয় পূজা বিধির ও রীতির তোয়াক্কা না করে নিজ ফর্মুলা মোতাবেক (ভুল পন্থায়) বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মকান্ড করেন বলে স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে।
শিপ্রা রাণীর ভক্তবৃন্দরা যা বলেনঃ
শিপ্রা রাণীর উপকার প্রত্যাশীদের (ভক্তবৃন্দ) মধ্যে রয়েছেন দেশের বিভিন্ন জায়গার সাধারণ মানুষ, সমাজের বহুস্তরের পেশাজীবি, ব্যবসায়ী, প্রবাসী, সরকারী চাকুরীজীবিসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা। প্রবাসী একজন ভক্ত বিগত ২৪ ফেব্রুয়ারী এ প্রতিবেদকের ফোনে বিদেশ থেকে ফে ুগঞ্জের বিজন কুমার বর্ধন নামে একজন ফোন করে, শিপ্রা রাণীর সম্পর্কে সাফাই বর্ণনা করেন। এখানে মিথ্যা কিছু নাই বলে জানান। এমন কি পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সংবাদ সম্মেলন করেননি শিপ্রা রাণী বা অন্য কোন পক্ষ। এছাড়া, শিপ্রা রাণীর সাথে থাকা আরো কয়েকজন ভক্ত দাবীকারী ব্যক্তি শিপ্রা রাণীর মধ্যে ‘বিপদনাশিনী দেবী’ রয়েছেন বলে দাবী করেন।
পরবর্তীতে, এ বিষয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানে নারু দেব’র বাড়িতে গেলে গণমাধ্যমের ক্যামেরায় তার কর্মকান্ডের বিবরণ উঠে আসে। তিনি, স্বল্পবসনা হয়ে দৃষ্টিকটুভাবে নাচেন এবং নাচের এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়। শুধু তাই নয়, তিনি গণমাধ্যমকর্মীদেরকে জাপটে ধরেন এবং ‘পুত্র’ বলে আখ্যায়িত করেন। ধর্মীয় কিছু কথাবার্তা বলে অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘শিশু বৃদ্ধির মৃত্যু মেয়ের বাবার কর্মফল এবং এটি বিশ্বজিৎ, বিশ্বজিৎ এর বোন মুন্না, কাকাতো ভাই সমীরণকে তিনি অবহিত করেন শিশুটির মৃত্যুর পুর্বেই।

এক্ষেত্রে ‘জগৎ জননী’ তাকে জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘তোর বাচ্চা সুস্থ হবে ৬ মাসের মধ্যে, যা করে জগতের জননী, মানুষে কোন কিছু করে না। আবার তিনিই বলেন, ‘অমবস্যার আগে মা আমাকে সাড়া দিয়েছেন, শিশু বৃদ্ধি প্রাণ ত্যাগ করবে। আমি বিশ্বজিৎকে গলা জড়িয়ে বলি, বাবা বিশ্বজিৎ তুই ভেঙ্গে পরিস না, এক বৃদ্ধি মারা গেলে হাজারো বৃদ্ধি পাওয়া যাবে। মাত্র ১০ মাস ১০ দিন লাগবে। আর সেদিনই ২১ টি মোমবাতি চেয়েছি। মন্দিরে জ্বালিয়ে দেবার জন্য। এরপর আমি তাকে বুকে জড়াইয়া বলি, তোর বৃদ্ধি ভালো নায়’। কিন্তু বিশ্বজিৎ ঘোষ এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করায় বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি রাগত স্বরে মেয়েটির পিতাকে (বিশ্বজিৎ ঘোষকে) অভিশাপ দিতে থাকেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপের সময় তার সাথে থাকা সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট নেপাল পরিচয় দেয়া এক ব্যক্তি বলেন, সরকারী – বেসরকারী বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ তার ভক্ত রয়েছেন এবং তিনি উপকার পেয়েছেন বলে জানান তবে তিনি এও বলেন, অনেকেই উপকারের কথা স্বীকার করেন না।
শ্রীকান্ত নামে শিপ্রা দেবীর সহচর বলেন, ঐ শিপ্রা রানীর বাসায় যেকোন ব্যক্তি দিবা রাত্রি থাকতে পারেন। বিভিন্ন সময় শতব্যক্তি এখানে থাকেন বলে জানা যায়। ভক্তরা এখানে দান করেন। এবং পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা সম্পর্কে এ প্রতিবেদকের সাথে শ্রীকান্ত আলাপকালে বলেন, ‘আমি দোষী নায়, আমি দোষের কিছু দেখি না, এখন যদি আল্লায় আমাকে জেল- ফাঁসি দিলাইন, আমারে নেয়গি, তাইলে কইমু আলহামদুলিল্লা।’ তিনি এখানে উনিশ -বিশ আছে স্বীকার করে, সংবাদকর্মীদের সংবাদ প্রকাশে বিরত থাকার জন্য অনুনয় বিনয় করেন এবং একপর্যায়ে প্রতিবেদককে ঘুষ দেবার প্রস্তাব করেন।
কুলাউড়া উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতারক শ্রীকান্ত কুলাউড়ায় একটি দোকানে চাকুরী করত। পরবর্তীতে সে কয়েক লক্ষাধিক টাকার দেনার দায়ে সেখানে টিকতে না পেরে সে শ্রীমঙ্গলে এসে এ প্রতারণামুলক কাজে যোগ দেয়। ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীন এলাকার সহজ – সরল লোকদেরকে চটকদার কথাবার্তার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করে শিপ্রা রাণীর নিকট পাঠায়।
এ ব্যাপারে জানতে শ্রীমঙ্গল হিন্দু – বৌদ্ধ – খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্রী অজয় দেব প্রতিবেদককে বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে আমরা খোঁজ নিয়েছি। এগুলো বিশ্বাস যোগ্য ব্যাপার নয়। হিন্দু (সনাতন) ধর্মে এমন কোন বিধান নাই। আমরা পূজা ব্যতীত অন্য সব ধরনের কর্মকান্ড সম্পুর্ণ বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে সাধারণ সম্পাদক সুশীল শীলকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে’
এ বিষয়ে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক প্রতিবেদককে বলেন, চিকিৎসা সাধারণত স্বীকৃত ডাক্তারের নিকট থেকে নেয়া উচিত। চিকিৎসা বিজ্ঞান এ ধরনের পদ্ধতি সমর্থন করে না। ধর্মীয় বিশ্বাস ও চিকিৎসা বিজ্ঞান দুটি আলাদা বিষয়। শিশুটির পিতার উচিত ছিল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা।
এসম্পর্কে আলাপকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সহ -সাংগঠনিক সম্পাদক এসকে দাশ সুমন বলেন, ‘আমাদের সনাতন ধর্মের কিছু স্বার্থন্বেষী মহল, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় দেব দেবীর নামে প্রতারণামূলক অর্থ আত্মসাৎ করে, তারা ধর্ম নিয়ে সরল মানুষের মনে ভীতি স ার করে ও ধর্মভীরু মানুষকে দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত করে, আমরা পূজা উদযাপন পরিষদসহ সনাতন ধর্মীয় সকল সংগঠন চাই, এ ধরনের কাজ যারা করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে মানুষ ধর্মের নামে প্রতারিত না হয়।’
এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমি অবগত। বিপদনাশিনী আমাদের দেবী, কোন মানুষ যদি নিজেকে দেবী দাবী করে তা আমরা (হিন্দু সমাজ) মানব না। সে ধর্মীয় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এসব করে যাচ্ছে। এখানে এক নারীকে চিকিৎসার নামে পিটানো হয়। পরে, ঐ মহিলা পুলিশের দারস্থ হলে শ্রীমঙ্গল থানা শিপ্রা রাণীর প্রতি নজর রাখছে। শিপ্রা রাণী চিকিৎসা বাবদ দশহাজার টাকা দিয়েছে। আমরা হিন্দু ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠন এ বিষয়টি নিয়ে জরুরী ভিত্তিতে বসে প্রয়োজন স্বাপেক্ষে একটি প্রেস রিলিজ দিয়ে দেয়া হবে।’
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম নজরুল এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়টির প্রতি আমরা গুরুত্ব সহকারে নজর রাখছি এবং তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩মার্চ,আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার থেকে:বাঙ্গালীর শিখরের সন্ধানে এই স্লোগানকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করা মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলার নাট্যলোক-মৌলভীবাজারের ১যুগ পূর্তি উপলেক্ষ্য পথ শিশুদের নিয়ে মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এক বার্ণাঠ্য শুভাযাত্রা বের করা হয়। শুভাযাত্রাটি মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে মৌলভীবাজার শহর প্রদক্ষীণ করে আবার শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

শুভাযাত্রা শেষে বিশিষ্ট নাট্যকার,চ্যালেন এস.ইউকের পরিচালক ও প্রধান উপদেষ্টা খালেদ চৌধুরীর স ালনা ও সাংবাদিক দুরুদ আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধরাণ সম্পাদক মিছবাউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি বকশী ইকবাল আহমেদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাকালীন উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক ফৌরদৌসী সুলতানা, মৌলভীবাজার সাংস্কৃতিক কর্মী সংসদের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন দুলাল, বাধন থিয়েটার এর সভাপতি রুহেল আহমেদ, নাট্যকার ও সাংবাদিক আলী হোসেন রাজন,খবর পত্রের পলাশবাড়ী প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম,মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোশাহিদ আহমেদ, অনুষ্টান শেষে ছির্ন্নমল পথ শিশু, ও শাহবন্দর হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩মার্চ,মকিস মনসুর: স্মরণ কালের ভয়াবহ তুষারপাতে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে বৃটেনের ওয়েলসের কাডিফ সহ গোটা ইউরোপ।   ভারী তুষারপাত ও তুষারঝড়ে পুরো ইউরোপজুড়ে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫৫ জন। এর মধ্যে শুধু পোল্যান্ডেই নিহত হয়েছেন ২১ জন।  একমাত্র ব্রিটেনেই মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১০ এ। অল্প সময়ের ব্যবধানে মৃতের সংখ্যা এত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দরিদ্র জনগষ্ঠীকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই তুষারঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্ররা। বিশেষ করে, গৃহহীন ও অভিবাসীরা।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি আরো বলেছে, ঠান্ডা-জনিত অসুখে ভোগার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বৃদ্ধ, শিশু ও বহুদিন ধরে অসুখে ভুগছেন বা শারীরিক অথবা মানসিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ।

ব্রিটেনের তাপমাত্রা নেমে এসেছে মাইনাস ২২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে। ভারী তুষারপাতের সাথে তুষার ঝড় ও প্রচন্ড ঠান্ডায় লন্ডনের অনেক বাসাবাড়ীর পানির পাইপ ফ্রিজ হয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ব্রিটিশ গ্যাসসহ বিভিন্ন হেম কেয়ার সার্ভিস কর্মীরা বিপদজনক এই আবহাওয়ার মধ্যেও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ভারী তুষারপাতের কারনে ইউরোপের বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এসব অঞ্চলের ট্রেন ও বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। শীতের তীব্রতার কারণে ব্রিটেনের শতাধিক স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।  টানা তুষারপাতে ব্রিটেনের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ আবহাওয়া সতর্কাবস্থা।

লন্ডনের হিথ্রো, সিটি এয়ারপোর্ট ও এ্যাবারডিনে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল ও তিনশ ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে।পরিস্থিতি মোকাবেলায় লিংকনশায়ারে সেনাবাহিনীকে তলব করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সপ্তাহের ছুটির দিনে ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষার ঝড় ইমা’র আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ শীতের এই তীব্রতা অব্যাহত থাকবে বলে সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের প্রথম থেকেই‘দ্য বিস্ট ফ্রম দ্য ইস্ট’নাম দেওয়া শৈত্যপ্রবাহে ইউরোপের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩মার্চ, নিজস্ব  প্রতিনিধিঃ নবীগঞ্জের বাঁশডর গ্রামের ত্রাস এনামুল গং কর্তৃক হামলায় সাংবাদিক সানিউর রহমান তালুকদার সাজ্জাদ এর পরিবারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক সানিউর এর পিতা মোঃ আনোয়ার মিয়া তালুকদার (৬০) ও মাতা মোছা: সখিনা বেগম চৌধুরী (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতবস্থায় তাঁদেরকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা বাউসা ইউনিয়নের বাঁশডর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কবরস্থানের জায়গা নিয়ে বাঁশডর গ্রামের বাসিন্দা মো: আনোয়ার মিয়া তালুকদার এর সাঙ্গে একই গ্রামের নুনু মিয়ার ছেলে সন্ত্রাসী এনামুল মিয়ার বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায় ধারালো দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে এনামুল ও তার সহযোগীরা তাদের বাড়িতে এসে জোরপূর্বক ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এসময় ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর ও টাকা-পয়সা লুটপাট করে ছিনিয়ে যায়।

এ সময় সাংবাদিক সানিউর এর বাবা-মা বাঁধা দিলে তাঁদেরকে বেধড়কভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষনিকভাবে তাঁদেরকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। গুরুতর আহত সাংবাদিক সানিউর এর মা সখিনা বেগম চৌধুরী আশঙ্কা মুক্ত নয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসী এনামুল মিয়া এলাকায় ‘এক নয় দুই নয়’ নারীবাজি’সহ এরকম অনেক অপরাধমূলক কাণ্ডের সাথে সক্রিয় রয়েছে এবং এলাকাজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম ছাড়াও মাদকসেবনের সাথেও সম্পৃক্ত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সাংবাদিক সানিউর এর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। যেকোনো সময় আবারও সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা করতে পারে, এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোড়ালো হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্বপরিবার।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩মার্চ,আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজারঃ  মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনাস্থ সেন্টাল রোডের অহনা ক্লথ ষ্টোরে শুক্রবার ভোর রাতে দোকান চুরি হয়।দুপুর ১টায় দোকান মালিক সজল দে জানান দোকানের তালা ভেঙ্গে দামী শাড়ি ,লঙ্গি,থান কাপরসহ দোকানে থাকা নগদ ১লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

চুরি হওয়া মালামালের দাম প্রায় ৪ থেকে ৫লক্ষ টাকা সর্ব মোট দোকানের মালামাল ও নগদ অর্থ সহ ৬লক্ষ ৭০ হাজার টাকা প্রায়। এব্যাপারে সজল দে মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি অভিযোগ করেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc