Wednesday 15th of August 2018 12:44:01 PM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯ফেব্রুয়ারি,ডেস্ক নিউজঃ  মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এখনও যেসব রোহিঙ্গা মুসলমান রয়ে গেছেন তাদেরকে অনাহারে মারা হচ্ছে। তাদের জন্য এখন এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তারা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। দেশটির সেনাবাহিনী এ নির্মমতার সঙ্গে জড়িত। রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংসতা নিয়ে নতুন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এসব তথ্য জানিয়েছে।খবর পার্সটুডে
গত জানুয়ারির শেষ দিকে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি বাংলাদেশে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। রাখাইনে সেনাবাহিনীর চাপিয়ে দেওয়া ক্ষুধা এবং অব্যাহত অপহরণ ও লুটতরাজের মুখে কীভাবে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছেন, সাক্ষাৎকারে সেসব কথা উঠে এসেছে।
অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাও গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসজুড়ে রাখাইন থেকে পালানো হাজারো রোহিঙ্গার বিষয়ে তথ্য নথিভুক্ত করেছে। সীমান্ত পেরিয়ে এখনো রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত আছে।
অ্যামনেস্টি বলেছে,মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের সম্পদ লুট করছে; তাদের অপহরণ করছে; নারী-পুরুষ-শিশুকে অনাহারে থাকতে বাধ্য করছে। এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য,এই গোষ্ঠীর জন্য এমন একটি অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন তল্লাশিচৌকিতে রোহিঙ্গাদের অর্থকড়ি ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুটে নিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। গ্রামে গ্রামে রোহিঙ্গা বাড়িঘরে গিয়ে তাদের নারী ও তরুণীদের অপহরণও করছে।
ফলে দেশ ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠছে তারা। রোহিঙ্গারা বলছে,বহুমুখী নির্যাতনের ঘটনার মধ্যে প্রধানত খাদ্যাভাবই সবচেয়ে কঠিন বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। অ্যামনেস্টি বলেছে, এ খাদ্যসংকট সৃষ্টির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ড। তারা রোহিঙ্গাদের নিজেদের খেতখামারে যেতে দিচ্ছে না। যেতে দিচ্ছে না বাজারঘাটে। মানবিক ত্রাণ গ্রহণের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯ফেব্রুয়ারি,ডেস্ক নিউজঃ   ব্রিটিশ সংসদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে তাদের এক প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে। সংসদের লোকদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটিই এ প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংসদে কাজ করেন,এমন প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

সম্প্রতি সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে আন্তদলীয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সংসদে নিপীড়নের ঘটনা অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। ব্রিটিশ সংসদ হাউস অব কমন্সের নেতা আন্দ্রে লিডসম বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে,শুধু যৌন হয়রানি নয়,সংসদের ৩৯ শতাংশ কর্মী কর্মস্থলে নির্যাতন ও হয়রানির কথা বলেছেন। এসব কর্মীর মধ্যে ৪৫ শতাংশ নারী ও ৩৫ শতাংশ পুরুষ। গত বছর ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যার মাইকেল ফ্যালন অশোভন যৌন আচরণ করার জন্য পদত্যাগ করেন।

এ ছাড়া পার্লামেন্ট সদস্য স্টেফেন ক্রাব, ক্রিস পিনসার, ড্যানিয়েল কাসজিনস্কিকেও সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন যৌন আচরণের অভিযোগ ওঠে। জাতীয় সংসদ যেখানে মানুষের কল্যাণে আইন প্রণয়ন করা হয় সেখানেই যদি এ অবস্থা বিরাজ করে তাহলে সারা দেশে যৌন হয়রানির অবস্থা যে আরও ভয়াবহ তাতে কোনো সন্দেহ নেই বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।পার্সটুডে

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯ফেব্রুয়ারি,জুম্মান  হুসেনঃজিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে  বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবাদ সভা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশ  দল বিএনপি অস্ট্রেলিয়া শাখার উদ্যোগে এক তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা ৮ই ফেব্রুয়ারি রোজ বুধবার সিডনিস্থ স্থানীয় ল্যাকেম্বায় অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক প্রতিহিংসার মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়। বিএনপি নেতৃদ্বয়  বলেন, নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এবং আরেকটি ৫ জানুয়ারীর মত অগণতান্ত্রিক একপেশে নির্বাচন করার জন্য বিনাভোটের এই সরকার দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা দেশে গণতন্ত্র চায় না।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, দেশের জনগণ তাদের আর কোন অগণতান্ত্রিক ও প্রহসনমূলক এক তরফা এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক ররহমান ছাড়া কোন নির্বাচন মেনে নিবে না। রক্ত  দিয়ে হলেও এই বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে এবং কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ।
বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র নেতা  ডঃ প্রফেসর হুমায়ের চৌধুরী রানার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মনিরুল হক জর্জ,মোঃমোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ,লিয়াকত আলী স্বপন,ডাঃ আব্দুল ওহাব বকুল,এস এম নিগার এলাহী চৌধুরী,লুৎফুল কবির,হায়দার আলী,হাবিব মোহাম্মদ  জকি,মোঃআবুল হাছান,মোঃনাসিম উদ্দিন আহম্মেদ,সোহেল ইকবাল মাহমুদ,সেলিম লকিয়ত,ইয়াসির আরাফাত সবুজ,ইন্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান,খাইরুল কবির পিন্টু,জাকির আলম লেলিন,আব্দুল মতিন উজ্জল,ইন্জনিয়ার কামরুল ইসলাম শামীম,মোঃআবুল কাশেম,হুমায়ুন কবির,ফেরদৌস অমি,আব্দুস সামাদ শিবলু,বেল্লাল হোসেন ঢালী,মৌহাইমেন খান মিশু,কামরুল ইসলাম,আব্দুল্লাহ আল মামুন,একেএম আসাদুজ্জামান,সেলিম খান মুকুল,মিতা কাদরী,জেবল হক জাবেদ,মিজানুর রহমান,কোরবান আলী,শেখ শামী সহ আর ও অসখ্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এএনএম মাসুম।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯ফেব্রুয়ারি,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:  সংবাদ প্রকাশ সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দৈনিক নতুন দিন পত্রিকার প্রতিনিধি আলমগীর  হোসেন ও তার বোনের উপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দৈনিক নতুন দিন পত্রিকায় কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা গ্রামের মৃত আলকাছ মিয়ার ছেলে জামশেদ হোসেন এর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার ভূয়া ভাতা উত্তোলন নিয়ে সংবাদ প্রচার হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এ পত্রিকার কমলগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ আলমগীর হোসেনকে প্রাণে হত্যার হুমকি প্রদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২২ আগষ্ট তারিখে সাংবাদিক আলমগীর হোসেন কমলগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। জিডি করার পর জামশেদ হোসেন ও তার বড় ভাই জসিম মিয়া গংরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় সাংবাদিক আলমগীর হোসেন (৩২) এর উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহকারে হামলা চালিয়ে নগদ সাড়ে ৭ হাজার টাকা ও পত্রিকার পরিচয় পত্র ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য রেহানা বেগমসহ স্থানীয়রা সাংবাদিক আলমগীর হোসেন ও তার বড় বোন দিলারা বেগমকে উদ্ধার কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে আজ শুক্রবার ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জনকে আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে সাংবাদিক আলমগীর হোসেন জানান, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে জসিম মিয়া, জামশেদ মিয়া গংরা বিভিন্ন সময় আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। আমি বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি।
তবে হামলাকারী জামশেদ হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলমগীরের বিরুদ্ধে আদালতে আমি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার ওসি মো: আব্দুল মোকতাদির হোসেন পিপিএম লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯ফেব্রুয়ারি,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট দূনীর্তি মামলায় খালেদা জিয়ার ৫বছর ও তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ জন আসামীর ১০বছরের কারাদ-ের রায় নিয়ে বিক্ষোব করেছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি,যুবদল,ছাত্রদলসহ ও অঙ্গসংঘটনের নেতৃবৃন্ধের। দেশমাতা গণতন্ত্রের নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপর রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রে প্রহসনের বিচার বন্ধ করে দেশনেত্রীকে সম্মানে বেকসুর খালাসের দাবীতে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার আদালত চত্ত্বরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এতে ফোরামের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল হক,এডভোকেট শাহীনূর রহমান,এডভোকেট নাজিম কয়েস আজাদ,ব্যারিস্টার জালাল উদ্দিন,এডভোকেট মামুনুর রশীদ কয়েস,এডভোকেট মাসুক আলম,এডভোকেট আবুল হোসেন,এডভোকেট আইনুল হক,এডভোকেট মনির উদ্দিন মনির,এডভোকেট কামাল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। পরে শহরের পুরাতণ বাসস্ট্যান্ড থেকে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপি,যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে অপর এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।

বক্তারা,বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রহসনের বিচারের রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন,প্রহসনের এ রায় বাতিল না হলে গণরায়ের মাধ্যমে জুলুমবাজ এ সরকারের পতন ঘটাতে সুনামগঞ্জ থেকে গণ আন্দোলন শুরু করা হবে। খালেদা জিয়ার রায়ের পর পর সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি,যুবদল,ছাত্রদলসহ ও অঙ্গসংঘটনের নেতৃবৃন্ধের ঐকবদ্ধ হয়ে শহরের আরপিন নগড় থেকে এক বিশাল মিছিল নিয়ে পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় গেলে পুলিশের বাধায় প- হয়। পরে এখানেই অবস্থা করে প্রায় ঘন্টা খানেক অবস্থান করে।

এসময় বিএনপির চেয়ারপার্রনের উপদেষ্টা এডঃ ফজলুল হক আছপিয়া,সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন,সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল,জেলা বিএনপির সাংগঠানিক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল সহ নেতৃবৃন্ধ। বর্তমানে শহরে থম থমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃংখলা স্বাভাকি রাখতে বিজিবি,পুলিশ ও র‌্যাব সহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃংখলাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯ফেব্রুয়ারি,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে নকল কীটনাশক বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ অাদালতে ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন-শায়েস্তাগঞ্জের মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়া (৩৫) ও শানখলা ইউনিয়নের রমাপুর গ্রামের পলাশ মিয়াকে (২৩)। ৮ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ অাদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাইজার মোঃ ফারাবী ভ্রাম্যমাণ অাদালত বসিয়ে এ অর্থদন্ড প্রদান করেন। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,  উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের  ভিরতাকো নামক বিপুল পরিমাণে নকল কীটনাশক বিক্রির খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী ওই সব এলাকায় অভিযান চালান।

অভিযানকালে ধান ক্ষেতের মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকা নিধনের জন্য অনুমোদিত ও বহুল প্রচলিত সিনজেনটা ভিরতাকো নামক কীটনাশকের নকল ঔষধ বিপননের সময় হাতেনাতে দুই ব্যবসায়ীকে অাটক করা হয়। এসময় তাদের নিকট থেকে ১৪৮ প্যাকেট নকল ভিরতাকো জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ২১হাজার টাকা। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এ ব্যাপাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাইজার মোঃ ফারাবী বলেন উপজেলায় যেখানে এ ধরনের নকল ভিরতাকো বিক্রি করা হবে তাদের ধরতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃজালাল উদ্দিন সরকার বলেছেন, অসাধু বিক্রেতাকে সনাক্ত করুন। কৃষি ও কৃষক বাঁচান।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯ফেব্রুয়ারি,নজরুল ইসলাম তোফা: শিল্প-সুন্দর মন ও জীবনের জন্যই সৃষ্টি, সৌন্দর্য্যের শৈল্পিক ব্যবহার যুগ যুগ ধরেই আবহমান বাংলায় মানব জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। শিল্পের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। আসলে জোর দিয়ে বলতেই হচ্ছে বিজ্ঞাপন শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প মাধ্যম। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সৃষ্টির সাহিত্যতত্ত্বে সৌন্দর্য সম্পর্কে আলোকপাত করতেই বলেছে, সুন্দরের হাতে বিধাতার পাসপোর্ট আছে, সর্বত্রই তার প্রবেশ সহজ। অর্থাৎ সুন্দর সব কিছুতে খুব সহজে, সর্বত্রই প্রবেশাধিকার পায় মানুষ।
তাই সুন্দরের প্রতি আকর্ষণবোধ হওয়া মানুষের চিরন্তনী স্বভাব। বিধাতার পাসপোর্টধারী এসুন্দর শিল্পকলার মধ্যে বিজ্ঞাপন শিল্প অস্তিত্ব ত্বরান্বিত হওয়ার জন্যই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, খেলা ধুলা, বিনোদন এবং মানবাধিকার ইত্যাদি কর্মকান্ড জড়িত। বিজ্ঞাপন একটি নিপুণ শিল্প শৈলী মাধ্যম। সাধারণ অর্থে বলা যায়, পন্যদ্রব্যের পরিচিতি এবং বেচাকেনার জন্যই খরিদ্দারদের আকর্ষণ করার ব্যবসায়িক কৌশল বা আর্ট। ব্যবসা বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই বিজ্ঞাপন শিল্পের গুঁড়া পত্তন হয়েছে।পণ্যদ্রব্য সম্পর্কে ক্রেতাদের মধ্যে জানাজানি এবং তা ক্রয়ের জন্য এক ধরনের প্রভাবিত করার লক্ষে ভাড়া করা জায়গায় চাপানো অথবা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সংবাদ চাপানোর নাম বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন শিল্পকে বলা চলে বাণিজ্যের প্রসাধন।

মেয়ে যেমন প্রসাধন দিয়ে নিজকে আকর্ষণীয় করে তুলে, ঠিক তেমনই বিজ্ঞাপন পন্যকে শিল্প সম্মত ভাবেই প্রকাশ করে ক্রেতাদের কেনার আগ্রহ বাড়ানোর এক সেতু বন্ধনের অনবদ্য শিল্প কৌশল।
সংবাদ পত্রে দেখা যায় অজস্র প্রকারের বিজ্ঞাপন, আবার রেডিও শুনতে যাওয়া হোক না, সেখানেও
শ্রবণইন্দ্রিয়কে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে বিজ্ঞাপন। টেলিভিশনের সামনে বসুন না, সেখানেও চোখ-কান দুটোকে আকৃষ্ট করছে বিজ্ঞাপন। সিনেমা দেখতেও বাড়তি আকর্ষণ পাওয়া যায় বিজ্ঞাপনের।

পথচারী পথ চলতে গেলেও পেয়ে থাকে বিজ্ঞাপনের অনেক দৃষ্টি নন্দন আবহ। লঞ্চ, স্টীমার, রেল গাড়ি, বাস বা বিমান যাতেই চলাফেরা করা হোক না কেন, দেশীয় বিজ্ঞাপনের সঙ্গে পরিচয় ঘটবেই। হাট-বাজারে, গঞ্জে ও শহরে ক্যানভাসাররা ছায়ায় মতো অনুসরণ করবেই বিজ্ঞাপনের পসরা সাজিয়ে। সেলসম্যানেরা দোকানে বিজ্ঞাপন চাপিয়ে দিতে তারা যেন, প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যান এবং তারা বলেও থাকে অন্য ঔষধের চেয়ে তার কম্পানির ঔষধটাই শ্রেষ্ঠ ঔষধ। এক সময় দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের গঞ্জে এবং হাটে বাজারে মুড়ির টিন বা তেলের টিনে শব্দ সৃষ্টি করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মজার মজার বিষয় ভিত্তিক বিজ্ঞাপন বা বার্তা প্রচার করেছিল।

এখন এই প্রযুক্তির বিজ্ঞাপন বিলুপ্তির পথে হলেও তাকে বিজ্ঞাপনের আওতাতেই গন্য করা হয়। সকল দিক বিবেচনা করে বলা যায় বর্তমান যুগ যেন গুরুত্বপূর্ণ এক বিজ্ঞাপনের যুগ।
বিজ্ঞাপন শিল্প সর্ব প্রথম কোথায় বা কবে থেকেই শুরু তার সঠিক ইতিহাস এখনও জানা না গেলেও ধারনা মাফিক বলা যায়, অতি প্রাচীন কাল থেকেই বিজ্ঞাপন শিল্প বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাবেই ব্যবহার হয়। ছাপারযন্ত্র আবিষ্কারের আগে প্রধানত মুখে মুখে প্রচার করেই বিজ্ঞাপন শিল্পের এমন বৃহৎ কাজটি সম্পাদন করেছিল। সুতরাং বলাই যায় যে, পঞ্চাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা চালু ছিল। ১১৪১সালে ফ্রান্সের বৈরী শহরে খুব চিৎকার করে উৎপাদিত পন্যদ্রবের কথা ঘোষণা করেছিল। ঐ সময় ১২ জন লোকের একটি দল বৈরী শহরে উৎপাদিত পণ্যের জন্য একটি বিজ্ঞাপন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিল।

কোম্পানি এসংস্হাকে ফ্রান্সের আষ্টম লুই স্বীকৃতি দিয়েছিল বৈকি। সম্ভবতঃ এটিই হবে পৃথিবীর প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্ত বিজ্ঞাপন সংস্থা। সুতরাং এই উপ-মহাদেশের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় সর্বপ্রথম বিজ্ঞাপন শুরু, বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমেই। কিন্তু বিগত শতাব্দীতে এ দেশে বিজ্ঞাপন হয়েছিল ঢোল পিটিয়ে এবং কন্ঠ ধ্বনির চিৎকার ঘটিয়ে। অনেক পন্ডিত ব্যক্তিবর্গদের মতে, বিজ্ঞাপন পোস্টার শুরু প্রচীন গ্রীস ও রোমে। গ্রীস এবং রোমান ব্যবসায়ীরা দোকানে সাইন বোর্ড ছাড়াও কাঠের ফলকে অথবা দেয়ালে প্রচারকেরা বৌদ্ধ জীবন যাত্রার নানা ঘটনা চিত্রায়িত করে সেই গুলিকে মুখের কথার দ্বারাই এক জায়গা থেকে অন্যান্য জায়গায় ঘুরে ঘুরে প্রচার করেছিল।

১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে এসে আরও অনেক আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে ছাপার নানান কায়দা আবিষ্কার করে তারা, ছাপাকে বিভিন্নভাবে বিজ্ঞাপন করে ও পণ্যেদ্রব্যের প্রচারের কাজে লাগাতে শুরু করে। আবার বিলেতে ছাপাখানার প্রবর্তন হয়েছিল উইলিয়াম ক্যাক্সটনের মাধ্যমে ১৪৭৭খ্রিস্টাব্দে, শুধুমাত্র অক্ষ বিন্যাসেই তা ছাপা বিজ্ঞাপন হয়ে উঠে। তাকে দোকানে দোকানে লটকিয়ে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিল। অবশ্য এই বিজ্ঞাপনটি ছিল হ্যান্ড বিলের আকারেই যেন ছাপানো। পরবর্তীতে পুস্তক-পুস্তিকা, সাময়িকী এবং সংবাদ পত্র ইত্যাদির প্রসার ঘটার সঙ্গে অথবা যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন দিক জোরালো হয়। সেই সময়ে বিভিন্ন কারণেই বিজ্ঞাপন ব্যবহার হতো।

তবে তখন সবচেয়ে বেশিরভাগ বিজ্ঞাপন ছিল উৎপাদিত মালা মাল সম্বন্ধে জনসাধারণেরকে অবহিত করা। পরে আবার লিথোগ্রাফির ব্যবহারে আধুনিক জগতে সর্ব প্রথম রঙিন পোস্টার আর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ধাঁচের বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে ফরাসি চিত্রশিল্পী জুলেসেরে। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ ফ্রান্সে তাঁর নিজের লিথোগ্রাফিক প্রেস থেকে প্রথম রঙিন বিজ্ঞাপনী পোস্টার বের করেছিল।

তারপরেই তিনি থিয়েটার মিউজিক হল, রেস্তরাঁ এবং আরও অজস্র রকমের জিনিসপত্রের বিজ্ঞাপনের জন্য নানান প্রকার রূপ রেখা বেঁধে দিয়েছিল শিল্পী জুলসেরে। সেটা হলো রঙিন ছবির সঙ্গে খুব কম লেখার সমন্বয় ঘটিয়ে এমন একটি ভিস্যুয়াল জিনিস দাঁড় করেছিল যা খানিকটা দূর থেকেই সে বিজ্ঞাপন গুলো লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে পারতো। পথচারীরাও সে বিজ্ঞাপনটিতে কি বলতে চেয়েছিল তা একঝলকে দেখেই, খুব দ্রুত
বুঝে নিতে পারতো। অর্থাৎ জ্বল জ্বলে রঙিন ফর্ম, জোরদার লাইন এবং স্পষ্ট অক্ষর মিলিয়ে মিশিয়ে জুলসেরেই তৈরী করেছিল যুগসেরা শ্রেষ্ঠ ম্যুরাল। বিজ্ঞাপন বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন একজন শিল্পী আরও যে সব অপরূপ পোস্টার অংঙ্কন করেছিল সেগুলো শৈল্পিক বিজ্ঞাপনে সমাদৃত হয়েছিল এক কথায় সারা দুনিয়া। আসলে তখন বিজ্ঞাপন শিল্পীর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞপ্তি জিনিস পত্রের কাটতি।

এই বিজ্ঞাপনের সাহায্যেই ব্যক্তি তথা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রয়োজনকে অত্যাবশ্যক করে তোলেছিল পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন স্থানের অনেক বড় বড় শিল্প কারখানা। তার সাথে সাথেই বলা যায়, নতুন পন্যদ্রব বাজার জাতের জন্যই বিজ্ঞাপনের জরুরি প্রয়োজন হয়ে উঠে। সুতরাং বলাই চলে, সর্ব প্রথম আকর্ষণীয়ভাবে যে বিজ্ঞাপনটি বেরিয়েছিল সেটি ১৪৮০ সালে, তা লন্ডনে ছাপা হয়েছিল। এমন এই

বিজ্ঞাপন পৃথিবীর ১ম স্বার্থক বিজ্ঞাপন বলেই শিল্পী জুলসেরে বিশ্বের এই লন্ডন স্হান টিকে বিজ্ঞাপন শিল্পের জন্মস্থান বলেছিল। বিশ শতকের বিজ্ঞাপন শিল্প এটি একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। তার সাথে সাথেই মানুষের শিল্প বোধের বৈচিত্র্যময় পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। সুতরাং বলাই যায়, বিজ্ঞাপন শিল্পের কদর আরও দিন দিন বাড়ছে।

বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন শিল্পের ইতিহাস টানার সঙ্গে সঙ্গে মনে করি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভৌগলক অবকাঠামো উঠে আসে বৈকি। সত্যিকার অর্থে যদি দেশীয় রাজনৈতিক পাশাবলদ গুলিকে বাদ দেওয়া হয় এবং যদি বাংলাদেশের অর্থনীতির দিকে দৃষ্টি দেওয়া যায়, তবে দেখা যাবে ভারত উপমহাদেশে ইন্ডাস্ট্রিজ বা শিল্প কারখানা যখন শুরু ঠিক তখনই বিজ্ঞাপন শিল্পের সূচনা। যে সব জায়গায় ক্রেতারা ছিল সেসব জায়গায় বিজ্ঞাপন প্রথা শুরু হয়েছিল। তাদের পন্যদ্রবকে পরিচিতি করার জন্যেই বা খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্যে। সুতরাং সে অর্থে ঘটা করেই বলা যায়, ভারতে যখন বিজ্ঞাপনের সূচনা হয়েছিল ঠিক তখন থেকে বর্তমানের এই বাংলায় বিজ্ঞাপন শিল্পের শুরু হয়।

বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন শিল্পের শুরু জোরদার ভাবে এখন বলাই যায়, অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে অর্থাৎ ইংরেজদের হস্তগত হওয়ার পরপরই বৈকি। এদেশে তখন অনেক সস্তায় প্রিন্ট মেশিন অথবা বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি নিয়ে আসে বিলাত থেকে ইংরেজরা। তখন থেকে এদেশীয় সামান্তবাদ প্রভূরা বা বাবু শ্রেণীর লোকেরা খুব বেশি উৎসাহী হয়ে উঠে। তারা বিলাত থেকে আসা শিল্পী বা কারিগরদের পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করে। সেই সময়েই শিল্পীদের নাম, ঠিকানা সহ তাদের পরিচয় তোলে ধরার জন্যেই এক প্রকার
ব্যক্তিগত কৌশলেই বলা যায় বিজ্ঞাপন শিল্প নির্মাণ করেছিল।

এডভারটাইজিং আর্ট বা বিজ্ঞাপন শিল্প আসলে সে সময় সম্পূর্ণ রূপেই মুদ্রণ যন্ত্রের উপর নির্ভরশীল ছিল। ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে “সচিত্র বাংলা” বইয়ের প্রথম সাক্ষাতেই পাওয়া যায়। এমন এই বই যা, গঙ্গা কিশোর ভট্টাচার্য দ্বারা প্রকাশিত হয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমলে বাংলাদেশে। তারপর এলো বৃটিশ আমল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারত ও বাংলাদেশের মিত্র বাহিনীর স্বপক্ষে বহু পোস্টার লিফলেটের ভূমিকা এদেশে নতুন একটি ট্রেন্ড তৈরী হয়, তা ইংরেজদের প্রভাবে। ভারতীয়দের চৌকস দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারাই পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস জাতীয়তা বোধ গড়ে তুলতে এমন এই বিজ্ঞাপন শিল্পের নানান প্রচার প্রচারণার প্রসারতা লাভ করে।

১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান ভাগের ফলেই শিল্প কারখানার সিংহভাগ পড়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানে। পন্যের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন শিল্পের মূল অফিস গুলো পশ্চিম পাকিস্তানে থেকে যায়। তাই সে সময়ে মুসলিম তরুণ শিল্পী কলকাতা থেকে ঢাকায় আসে। তৎকালীন গোড়া ইসলামী পাকিস্তান সরকার এবং শাসকের বিরুদ্ধে শিল্পের ব্যবহারিক প্রয়োজনীয়তা, বাংলাদেশের উন্নতির স্বার্থেই শিল্পকলার প্রয়োজন যে আছ, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের বোধগম্য হয়েছিল এবং তিনি বিজ্ঞাপনী পোস্টারে প্রতিবাদী হয়েছিলেন।

১৯৪৮ সালে আর্ট স্কুল স্থাপিত হলেও বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন শিল্পের চাহিদা খুব কম ছিল। বলা যায়, লোক সংখ্যার তুলনায় শিল্পকারখানা কম থাকার ফলে পন্যের উৎপাদন তুলনা মূলক চাহিদা অনেক বেশী থাকার কারণে নতুন পন্যদ্রব্য বাজার সৃষ্টি করতে বেশি বেগ পেতে হতো না। এই কারণেই তখন বিজ্ঞাপন শিল্পের প্রতিযোগিতা কম ছিল। তাই একই ধরনের মনোপলিশি অথবা নিজ খেয়াল খুশি মতো ব্যবসা করে যেতো। আবার পাকিস্তান আমলে ৬০ দশকের বিজ্ঞাপন শিল্পকে লক্ষ্য করলে সেসময় বিজ্ঞাপন প্রচার বাংলাদেশে যতটুকুই হয়েছিল, তা শুধুই শিল্পপতিরা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে করেছে।

এমনকি দৈনিক পত্রিকা গুলির বিশেষ সংখ্যা এবং সামলিম্যান্ট প্রিন্টের আগ মুহুর্তের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হতো পশ্চিম পাকিস্তানে দিকে। তবে সে সময়ের বাংলাদেশে দু’তিনটি বিজ্ঞাপন সংস্থার নাম উল্লেখ করা যায়। যেমন, এভার গ্রিন পাবলিসিটি কামআর্ট,গ্রিন ওয়েজ,এডভারটাইজিং কর্পোরেশন। তারা প্রসাধনী পন্যের প্যাকোডিজাইন থেকে শুরু করে প্রেস লে-আউট পর্যন্ত করেছে। এই সাফল্যের পাাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের বিজ্ঞাপনও করেছে। ১৯৭১ সালের পরই বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন শিল্পের প্রচার মাধ্যমগুলির উন্নতি যেন চোখে পড়ে। বিশেষ করে অডিও ভিস্যুয়ালের অনন্য অবদানের জন্যই বলা যায় যে, দেশীয় টিভি, রেডিও, আপসেট প্রিন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উপর নির্ভর করে চলে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা। দুটি উদাহরণ দিয়েই বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা সুস্পষ্টভাবে বিজ্ঞাপনের সিংহ ভাগ জায়গা দখল করে রেখেছে সরকারী দর পত্র বিজ্ঞাপন গুলো। কোনও শিল্প উন্নত দেশের দৈনিক পত্রিকা গুলোতে দেখা যাবে, শিল্প পতিদের পন্যের প্রচারের প্রতিযোগিতায় বিজ্ঞাপন আধিক্য। সমাজের পরিবর্তনের সাথে সাথেই ক্রেতাদের মনো ভাবের উপরে খুব প্রভাব বিস্তার করে।

গ্রামাঞ্চলের মানুষ দৈনন্দিন উৎপাদিত পন্যদ্রব জনসাধারণের নিকটবর্তী করতে ব্যর্থ ছিল। বলা যায় এক যুগের মতো সময় লেগেছিল দেশের সকল মানুষের কাছে পৌঁছাতে এবং তা সম্ভব হয়েছিল বিজ্ঞাপন শিল্পে র বদৌলতে। অবশ্য কলকারখানার কারিগরি পদ্ধতি অনেকাংশেই পরিবর্তন ও তার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পরিবর্তনেরই বিজ্ঞাপন ধারার অনেক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশের মুদ্রণ যন্ত্রের ব্যবহার অনেকাংশেই যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ফটোকম্পোজ, ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশন এবং রি-প্রোডাকশন এর নতুন পদ্ধতি চালু করে বাংলাদেশকে এক ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে বলা যায়। যার পরিপেক্ষিতে লেজার প্রেস, আপসেট এবং ফ্লোক্সওগ্রাফির অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন কাজের সমন্বয় ঘটিয়ে বহু ধরনের বিজ্ঞাপন নির্মাণ হচ্ছে। বর্তমানে আজ বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তি আগমনেই ত্বরান্বিত হচ্ছে বিজ্ঞাপন শিল্প।

আর এই শিল্পের সিংহভাগ পন্যদ্রবের উৎপাদনকে কাজে লাগিয়ে। আবার সামাজিক যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই উন্নতিশীল ডিজিটাল বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সমৃদ্ধশালী ও পরিচ্ছন্ন হওয়াতেই বিজ্ঞাপনের আধিক্য অনেক বেশি।

নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।