Tuesday 12th of December 2017 01:16:10 AM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬ডিসেম্বর,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ যশোরের বেনাপোল বাজারের কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সর্ভিস থেকে ২লক্ষ টাকার মুল্যের ৪৬ পিছ ভারতীয় উন্নত মানের শাড়ী-থ্রিপিছ ও লেহেঙ্গা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। বুধবার বিকাল ৫ টার সময় এ পন্য উদ্ধার হয়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র যশোর-৪৯ ব্যাটালিয়নের বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আবুল কাশেম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল বাজার এলাকায় কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সর্ভিসে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় উন্নত মানের শাড়ী-থ্রিপিছ ও লেহেঙ্গা উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো জানায় প্রথমে জিজ্ঞাসা করা হয় কে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক তখন কুরিয়ারে বসে থাকা দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার বেনাপোল প্রতিনিধি ও আর টিভি’র বেনাপোল প্রতিনিধি পরিচয় দানকারী কামাল হোসেনকে দেখিয়ে দিয়ে বলেন ইনি এ প্রতিষ্ঠানের মালিক। এ সময় ঐ প্রতিষ্ঠানের এজেন্সি প্রতিনিধি কামাল হোসেন ও তার সহযোগী লাবলু নামাজের কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায়।
অনেক সময় অপেক্ষা করার পরও সে আর ফিরে না আসায় উদ্ধারকৃত পন্য নিয়ে আমরা চলে আসি। তিনি আরো জানায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব চোরাকারবারি পন্য প্রায় বুকিং হয়ে দেশের প্রত্যান্ত অ লে যায় বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আছে।
বেনাপোল বাজারের একটি সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন দির্ঘ্যদিন ধরে কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি কামাল হোসেন প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙ্গিয়ে চোরাই পন্য দেশের অভ্যান্তরে পাচার করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। সম্প্রতি সে একটি বিশেষ পেশায় নিয়োজিত হয়ে এসব চোরাকারবারি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জোরে সোরে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬ডিসেম্বর,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উদ্যোগে পরিচালিত পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর জুলুছে (মিছিলে) অংশগ্রহণকারীদের উপর অতর্কিত হামলা করে প্রাণে হত্যার চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত ঘটনায় গুরুত্বর ভাবে মোঃ রমজান আলী (২২) পিতা মৃত আলী আকবর ও আমির হোসেন (১৫) পিতা সেলিম মিয়া  আহত হন।আহতরা জেলাসদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আজ বুধবার সকাল ১১ টায়  উপজেলা সদরের চৌমুহনা  চত্বরে মানববন্ধন ও শহরে  বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে স্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেছেন আহলে সুন্নাত নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা অাব্দুল মুহিত হাসানী, হাফেজ মোশাইদ অালী,হাজি আফরোজ উদ্দিন,হাজি আব্দুল হাই,মাও আব্দুল কাইয়ুম আল কাদেরী,মাও নুরুল ইসলাম, মইনুল ইসলাম খান,এম মুহিবুর রহমান মুহিব,হাজি ইজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ,মামুনুর রশিদ মামুন,আব্দুল কাইয়ুম,অাব্দৃল মালিক বাবুল, মাওলানা এমরান অালী, এম এম রাসেল মোস্তফা,জুনেদুল ইসলাম আদনান,কামরুল ইসলাম, মাও অাব্দুল মুকিদ,মাও রোমেল আহমদ  খান,আনোয়ার আলি,বদরুল আলম বিল্লাল,হারুনুর রশিদ  প্রমুখ।

এতে জুবায়ের আহমদ এর পরিচালনায় সভাপতিত্ব করেন অাহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি দুরুদ অালী।

উল্লেখ্য,কমলগঞ্জে জশনে জুলুস পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবীর মিছিল চলাকালীন সময়ে মিলাদুন্নবী বিরোধী সন্ত্রাসী আব্দুস সামাদ অতর্কিত ভাবে  ক্ষুর দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে প্রথমে আমির হোসেনকে পরে তাকে বাঁচাতে  দৌড়ে আসা তার চাচা রমজান আলীকেও গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

একই এলাকায় চিহ্নত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মিলাদুন্নবী বিরোধী মোঃ করিম মিয়ার (বাটটি করিম) পুত্র আব্দুস সামাদ (২২) অতর্কিত ভাবে ধারালো ক্ষুর দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এই বর্বর হামলায় রমজান আলীর গলায়,বুকের বাম পাশে  ক্ষুরের আঘাতে মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হয়। মারাত্মক আহত অবস্হায় প্রথমে তাকে স্থানীয় কমলগঞ্জ স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তার অবস্হা আশংকজনক হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় আহতের মামা জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও  ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও সন্ত্রাসী আব্দুস সামাদকে আটক করেনি পুলিশ।এ ঘটনার ফলে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে যে কোন সময় সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সচেতন মহলের ধারনা।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার পুলিশ সুত্রে জানা যায় আসামী সন্ত্রাসী আব্দুস সামাদকে আটকের চেস্টা চলছে।

বিভিন্ন পর্যটনস্পটে পর্যটক ও দর্শনার্থী বিমুখ হবার আশংকা স্থানীয়দের ক্ষোভ

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬ডিসেম্বর,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ    সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিভিন্ন পর্যটনস্পটে সুটিংয়ে নায়ক-নায়িকাদের পোষাকে অশ্লিলতার অভিযোগ। ঢাকা থেকে বিভিন্ন নাটক,চলচিত্র,মিউজিক ভিডিওর সুটিং করতে আসা বিশেষ করে নায়িকাদের শরীরের পোষাক এতটাই খারাপ যে অশ্লিলতা কে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তারা তাদের নির্দিষ্ট এলাকার ভিতরে না থেকে প্রকাশে কাপপিস পোষাক পরে অভিনয় করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্থানীয়রা এ নিয়ে বিভিন্ন আইডি থেকে বিরুপ মন্তব্য করছে। এ নিয়ে ঐসব এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এর ফলে আগত দেশ,বিদেশের পর্যটক ও দর্শনার্থী এবং স্থানীয় সকল বয়সের লোক জনের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। সেই সাথে গ্রামীন এলাকার সাভাবিক পরিবেশ কে ধংশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনের করেন সচেতন হাওরবাসী। এসব স্থানে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থী ও স্থানীয় জনসাধারনের পদচারনায় মখুর থাকলেও দিন দিন পরিবেশ ভিন্ন রুপ ধারন করছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও একাধিক সূত্রে জানাযায়,এখন এই উপজেলায় সুন্দর্য পিপাসু দর্শনার্থী ও পর্যটকদের আগমনে প্রান চাঞ্চল্যতা বিরাজ করছে। এ উপজেলার এখন ট্যাকেরঘাটে ডিসি পার্ক,টাংগুয়া হাওর,বারেকটিলাসহ দর্শনীয় পর্যটন স্থান গুলোতে হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীগন সাভাবিক পোষাক পরছে। উত্তরে হিমেল হাওয়ায় শীতের এই আবহাওয়ায় সকাল দুপুর সন্ধ্যায় মনমাতানো পরিবেশ উপভোগ করছেন। কিন্তু নাটক,চলচিত্র,মিউজিক ভিডিওর সুটিং করতে গিয়ে আধুনিকতার নামে বিশেষ করে নায়িকাদের পোষাক (শরীরের অনেক অংশ দেখা যায় ) যা গ্রামীন পরিবেশকে অশ্লিলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এতে করে ছোট ছোট শিশু থেকে শুরু করে উঠতি বয়সী যুবক ও মধ্য বয়সী পুরুষরাসহ নানান বয়সী লোকজন অশ্লীল পোষাকে পরা অবস্থায় ঐসব নায়িকাদের দেখার জন্য হুমরী খেয়ে পরছে। এতে করে হাওরপাড়ের গ্রাম বাংলার সহজ সরল মানুষের জীবন প্রনালীতে পোষাকের ক্ষেত্রে বিরুপ প্রভাব পরবে বলে মনে করেন হাওরপাড়ের সচেতন লোকজন। হুসাইন আহমদ,কিবরিয়া হাসান,মায়িসা আক্তার,জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় ঐ এলাকার অনেকেই বলেন,ডিজিটাল যুগে সবাই নিত্য নতুন পোষাক পরে কিন্তু শরীল দেখা যায় এমন পোষাক পরা সঠিক কাজ না। আর টেলিভিশন ও সিডিতে প্রচারিত নাটক ও ছবিতে নায়ক-নায়িকাদের অনুশরন করেই বড় হচ্ছে উঠতি বয়সী যুবক-যুবতিরা। যার জন্য গ্রামেও ইফটিজিং সহ নানান ঘটনা বাড়ছে।

আর এমন অবস্থা বিরাজ করলে এখানে আগত দেশ ও বিদেশের দর্শনার্থী ও পর্যটকগন আসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ঐসব এলাকার অভিবাবকগন বলেন,হাওরপাড়ে এখন বাস্থবে এই ভাবে ঐসব নোংরা পোষাক গুলো পরিহিত অবস্থায় নায়িকাদের দেখলে ছোট ছোট শিশু থেকে শুরু করে উঠতি বয়সী যুবকদের মধ্যে এর বিরুপ প্রভাব বিস্তার করবে ভেবে দূষচিন্তা গ্রস্থ হয়ে পড়ছি। আমরা আমাদের ছেলে ও মেয়েদের পর্দা মধ্যে রেখে বড় করছি। তাই এসব বন্ধ করা না হলে হাওর পাড়েও আধুনিকতার নামে পোষাকে নোংরামী দিন দিন বেড়ে যাবার আংশকা রয়েছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬ডিসেম্বর,রেজওয়ান করিম সাব্বিরঃ  শ্রীপুর পাথর কোয়ারির দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আ.লীগ সম্পাদক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামী করে ৭৭জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের। এজাহার নামীয় ৩আসামী সহ গ্রেফতার ৯জন। পুলিশের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়- বিগত ৩ডিসেম্বর সকাল ১১টায় শ্রীপুর (শ্রীপুর, আসামপাড়া, কড়মপুর) পাথর কোয়ারীর দখলকে কেন্দ্র করে উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী গ্র“পের সদস্য মুসলিম আলী, ইসমাইল আলী, আব্দুর রাজ্জাক রাজা, সেলিম চৌধুরী, ফয়েজ আহমদ বাবর, মড়া মিয়া, শামীম আহমদ উরফে গন্ডার শামীম, নজরুল ইসলামেরে নেতৃত্বে উপজেলা আ.লীগের সিনিয়র সভাপতি কামাল আহমদ গ্র“পের উপর হামলা চালানো হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় কামাল আহমদ গ্র“পের সদস্য উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি ফারুক আহমদ, যুবলীগের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন, হুসন আহমদ(নিহত), নজরুল মিয়া, অহিদ মিয়া, আব্বাস মিয়া, আমিন আহমদ, কালা মিয়া, দেলোয়ার, আব্দুর রশিদ, গোপাল, মোস্তাক আহমদ, সালেহ আহমদ, আমিন উদ্দিন, মোহন মিয়া, তাজ উদ্দিন, আব্দুল খালেক, জমশেদ মিয়া, আব্দুর রহিম, আকবর আলী, আব্দুস শুকুর, বাহার, আখলাকুল আম্বিয়া, সাজিদুর রহমান, নুর উদ্দিন, আব্দুন নুর সহ প্রায় ৩০-৩৫জন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুত্বর ৬জনকে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টায় দরবস্ত ইউনিয়নের মহাইল গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মর্তুজ আলীর ছেলে প্রবাসী হুসেন আহমদ(৩৫) নিহত হন।
এঘটনায় নিহতের ভাই আমিন আহমদ বাদী হয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামী করে ৭৭জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত আসামী করে ৬ডিসেম্বর বুধবার জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে (যাহার নং-০৬, তারিখঃ ০৬-১২-২০১৭)।
এদিকে ঘটনার পর হতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান হতে এজাহার নামীয় ৩আসামী সহ মোট ৯জনকে গ্রেফতার করে। এজাহার নামীয় ৩আসামী হল হোসেন আহমদ, রাজু সিং, আব্দুল মতিন উরফে বাঘের ডিম মতিন। সন্দেহ ভাজন গ্রেফতারকৃত আসামীরা হল আব্দুস ছামাদ, সোহাগ মিয়া, রুকন মিয়া, আব্দুস শুকুর, জাহাঙ্গীর আলম, শামীম মিয়া।
এবিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খাঁন মোঃ মাইনুল জাকির বলেন- নিহতের ভাই আমিন আহমদ বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগটি মামলা হিসাবে রের্কড করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারের জন্য সাড়াশী অভিযান অব্যাহত আছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬ডিসেম্বর,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ   হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুরে সংরক্ষিত নারী এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর উপর হামলার মামলায় নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা তারা মিয়া ও জেলা পরিষদের সদস্য ও আ’লীগ নেতা আলাউর রহমান শাহেদকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জের একদল ডিবি পুলিশ ঢাকা ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় ঢাকার কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে তাদেরকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে তাদেরকে হাজির করে এ আবেদন জানায় ডিবি পুলিশ। পরে তাদেরকে হবিগঞ্জ কারাগারে প্রেরন করেছে আদালত।
বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা।
তিনি জানান, তারা মিয়া ও শাহেদ কয়েকদিন ধরে উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। ইতিমধ্যে একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর করেন আদালত। এরপরও তারা ঢাকায় অবস্থান নিয়ে আত্মগোপন করেছিল। পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য এবং সব ধরণের প্রযুক্তির ব্যবহার করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কদমতলীর একটি বাসা থেকে হবিগঞ্জ ডিবি’র ওসি শাহ আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে আজ (বুধবার) আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
পুলিশ সুপার বলেন, অনুষ্ঠানে তারা ও শাহেদের নেতৃত্বে সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তার সাথে ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে। যেকোন নারীর সাথেই এ ধরণের আচরণ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। তাছাড়া কেয়া চৌধুরী একজন সংসদ সদস্য। মামলা দায়েরের পর থেকেই তাদেরকে গ্রেফতারে কাজ করছিল গোয়েন্দারা। বিষয়টি তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে অনেক আলামতই উদ্ধার করা হয়েছে। তারা মিয়ার মোবাইল ফোনটিও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় যতগুলো অপরাধ সংগঠিত হয়েছে প্রত্যেকটি অপরাধই আমলে নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১০ নভেম্বর বিকেলে মিরপুর বেঁদে পল্লীতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে সরকারী সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে এমপি কেয়া চৌধুরীর একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে সমাজসেবা অফিস। অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ পরই উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মো. তারা মিয়া ও জেলা পরিষদ সদস্য আলাউর রহমান শাহেদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠানে হামলা করে কিছু দুস্কৃতিকারী। এ সময় এমপি কেয়া চৌধুরীকে অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিত করে তারা মিয়ার লোকজন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এমপি কেয়া চৌধুরীর অনুসারীসহ উপজেলাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। এমপির সমর্থনে লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর তাৎক্ষনিকভাবে মিরপুর বাজারে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে এমপি কেয়া চৌধুরীর সমর্থকরা। তখন এমপি কেয়া চৌধুরী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। হামলায় অনুষ্ঠানে আসা উপজেলা মহিলা লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাহেলা আক্তার ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তৈয়ব আলী আহত হন।
আহত আওয়ামী লীগ নেতা তৈয়ব আলীকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং মহিলা লীগ নেত্রী রাহেলা আক্তারকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। রাতে এমপি কেয়া চৌধুরীর অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এদিকে উক্ত ঘটনার পর মিরপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে র্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে উত্তেজিত সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঘটনার পর দিন থেকে এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর হামলার ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে বাহুবল। জেলার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
১৮ নভেম্বর এ ঘটনায় বাহুবল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন উপজেলার লামাতাসী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী পারভিন আক্তার। মামলায় ভাইস চেয়ারম্যান মো. তারা মিয়া, উপজেলা পরিষদের সদস্য আলাউর রহমান সাহেদ ও তারা মিয়ার গাড়ি চালক মো. জসিম উদ্দিনকে আসামী করা হয়। এর আগে গাড়ি চালক জসিম উদ্দিন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬ডিসেম্বর,শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জ:স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও দুই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দুই শহীদের পরিবার। এই দুই সহোদর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হলেন, কমলগঞ্জ উপজেলার ৪নং শমশেরনগর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ চন্দ্র পাল ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পিযুষ কান্তি পাল।
১৯৭১ সনে মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের অগণিত ছাত্র, যুবকসহ স্বাধীনতাকামী সর্বস্তরের জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তি সংগ্রামে। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র লড়াই-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে এ দেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু কমলগঞ্জ উপজেলার ওই দুই ভাই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম আজো রাষ্ট্রীয় গেজেটভুক্ত হয়নি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে শমশেরনগর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মৃত প্যায়ারী মোহন পালের দুই ছেলে প্রতাপ চন্দ্র পাল ও পিযুষ কান্তি পাল দেশকে হানাদারমুক্ত করতে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার দীপ্ত শপথ নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তারা ৪নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব:) সি, আর দত্তের নেতৃত্বে ভারতের কৈলাশহর সাবসেক্টর এর ভগবাননগর ইয়থ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন আব্দুল হামিদের অধীনে গাইডের দায়িত্ব নিয়ে শমশেরনগর পাক বাহিনীর আস্তানার খোঁজখবর নিতে দেশে আসার পর দেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। পাক বাহিনীর সদস্যরা তাদের ক্যাম্পে নিয়ে প্রতাপ চন্দ্র পাল ও পিযুষ কান্তি পালকে অমানুষিক নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করে।
তাদের নাম শহীদ মুক্তযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় তালিকাভুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলসহ বিভিন্ন দপ্তরের গত কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাচাই কমিটিতেও তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত আছে। কিন্তু অদ্যাবধি পর্যন্ত তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ চন্দ্র পালের বিধবা স্ত্রী কুমুদিনী পাল কান্না বিজড়িত কন্ঠে আমাদের সময় কে জানান, আমার স্বামী প্রতাপ চন্দ্র পাল ও ভাসুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পিযুষ কান্তি পালকে ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ জুন তারিখে শমশেরনগর বিমান ঘাটি এলাতার ক্যাম্পে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে গুলি করে হত্যা করে।শমশেরনগর বিমানবন্দর এলাকায় স্থাপিত মুক্তিযোদ্ধকালীন গণ হত্যার স্বীকার যারা তাদের নামের তালিকার প্রথমেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা পিযুষ কান্তি পাল ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ চন্দ্র পাল এর নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। ২০১১ সালে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে আর কোন সুযোগ সুবিধা তারা পায়নি। তিনি মৃত্যুর পূর্বে তার স্বামী ও ভাসুরের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃপাদৃষ্টি কামনা করছেন।
মৌলভীবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার-২ যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো: মাসুক মিয়া বলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শমশেরনগর বিমানবন্দর এলাকার ক্যাম্পে পাকসেনাদের হাতে নির্মম নির্যাতনের পর পাক সেনাদের গুলিতে শহীদ হন সোনাপুর গ্রামের প্রতাপ চন্দ্র পাল ও পিযুষ কান্তি পাল।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হক জানান, সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় চাহিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় প্রতাপ চন্দ্র পাল ও পিযুষ কান্তি পাল এর নাম পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক পুণ্যব্রত চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬ডিসেম্বর,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  ১৯৭১সালের ৬ডিসেম্বর এই দিনে সুনামগঞ্জ জেলা হানাদার মুক্ত হয়েছিল। জানাযায়,সুনামগঞ্জ শহর কে পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত করার জন্য মেজর মোত্তালিব,ক্যাপ্টেন যাদব,ক্যাপ্টেন রগুনাথ ভাট নগড়ে একটি পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী হানাদার বাহিনীর উপর আক্রমনের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি কোম্পানীতে বিভক্ত করা হয়।

এ কোম্পানীকে যোগীর গাঁও,বি কোম্পনীকে হালুয়ারঘাট,সি কোম্পানীকে হাসনগর,ডি কোম্পানীকে ভাদের টেক,ই কোম্পানীকে মল্লিকপুর,এফ কোম্পানীকে কৃষœ তলা অবস্থান গ্রহন এবং তাদের যাবতীয় রসদ সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয় এডিএম কোম্পানীকে।

এছারাও অতিরিক্ত একদল মুক্তিযোদ্ধা কে বনগাঁও সদর দপ্তরে রাখা হয়। সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে যৌথ নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা নতুন প্রভাত ছিনিয়ে আনার জন্য পাকিস্তানী বাহিনীর বুকে চুরান্ত আগাত করতে এগিয়ে আসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করলে কোথাও পাকিস্তানী বাহিনীর চিহ্ন পাওয়া যায় নি।

পাকিস্তানী বাহিনী মধ্য রাতেই পালিয়ে যায় সুনামগঞ্জ শহর ছেড়ে। এই সংবাদ চারদিকে প্রচার হতে থাকলে জয় বাংলা শ্লোগানে মুখরীত হয়ে উঠে বাংলার আকাশ বাতাশ। সুনামগঞ্জ মুক্ত ঘোষনার পর শুরু হয় ত্রান ও পূর্নবাসনের কাজ। শহর ও পাশ্ববর্তি অঞ্চলে তত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর মোত্তালিবকে।

এছারাও যুদ্ধ বিধস্ত সুনামগঞ্জ এর মোকাবিলা করার জন্য দেওয়ান রেজা চৌধুরী কে চেয়ারম্যান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সদস্যরা যুদ্ধাত্তর নানান সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট ছিলেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬ডিসেম্বর,জহিরুল ইসলাম: আজ ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে শত্রু মুক্ত হয় মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও বড়লেখা উপজেলা।
কুলাউড়া মুক্ত দিবস: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার গাজিপুর চা-বাগান এলাকায় ৫ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ আক্রমণে পাকবাহিনী ৬ ডিসেম্বর কুলাউড়া ছেড়ে রাজনগর হয়ে মৌলভীবাজারে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং কুলাউড়া মুক্ত হয়।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও পৃথিমপাশার গণকবরের পূর্ণাঙ্গতা পায়নি।পুষাইনগরের শ্মশানঘাট দিঘীর পাড়ে ১৪ জন শহীদের গণকবরের জায়গায় গোবর ফেলা হচ্ছে,নেই সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা। গণকবর সংরক্ষণের দাবি জানান কুলাউড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুশিল দেব। তবে মৌলভীবাজার-২ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য নওয়াব আলী আব্বাছ খানের প্রচেষ্টায় কুলাউড়ার ডাক বাংলো প্রাঙ্গনে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল মুক্ত দিবস: এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে শ্রীমঙ্গল শহর ছেড়ে পালিয়েছিল পাকহানাদার বাহিনী। তবে এই মুক্তির স্বাদ নিতে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে চা-বাগান ঘেরা এই জনপদের মানুষকে। পাকবাহিনীর সদস্যরা ২৮ এপ্রিল অস্থায়ী দুটি ক্যাম্প করে শহরের ওয়াফদা ভবন এবং বর্তমান চাশিল্প শ্রম কল্যাণ ভবনে। ৩০ এপ্রিল পাকহানাদার বাহিনী যুদ্ধের বাংকার বানানোর কথা বলে শহর সংলগ্ন ভাড়াউড়া চা-বাগানে এক সঙ্গে ৫৫ জন চা-শ্রমিকদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তাদের ওপর গুলি চালায়। এভাবে উপজেলার পাঁচটি স্থানে গণহত্যা চালায় তারা। পরিশেষে ডিসেম্বরের ৪ ও ৫ তারিখ মুক্তি বাহীনি ও মিত্রবাহিনীর দুটি টিম শ্রীমঙ্গলের দিকে আসার সংবাদ শুনে পিছু হটে পাকবাহিনী সদস্যরা। এরপর থেকে ৬ ডিসেম্বরকে স্থানীয়ভাবে হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়। যুদ্ধে পাকবাহিনীর বুলেটে নিহত হন উপজেলার ২৬ জন মুক্তিযোদ্ধা। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে সাধু বাবার তলীর কাছে বধ্যভূমি ৭১ নামে।

বড়লেখা মুক্ত দিবস: ৬ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশপ্রেমের উদ্বেল বড়লেখাবাসী জেগে উঠেছিল ঝংকারে। প্রায় ৩২৫টি গ্রাম যেন প্রতিরোধে এক একটি দুর্গে পরিণত হয়। বড়লেখার প্রতি কণা মাটি ফুঁসে উঠে আগ্নেয়গিরির অবিনাশী ক্ষমতায়। টানা নয় মাস স্বাধীনতার দুর্নিবার স্বপ্নে পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে লড়েছে বড়লেখার মুক্তিকামী সংগ্রাম জনতা।

রাজনগর মুক্ত দিবস: যুদ্ধের শুরুতে জেলা হেড কোয়ার্টার থেকে রাজনগর উপজেলায় পাকবাহিনীর সদস্যরা টহল দেয়। পরে অক্টোবরের দিকে রাজনগর থানায় অস্থায়ী ক্যাম্প করে পাকবাহিনী। এই উপজেলায় পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর সরাসরি কোনো যুদ্ধ হয়নি।কিন্তু পাচগাঁও, খলাগ্রাম, পে শ্বর,মনসুর নগরসহ ১১টি স্থানে ব্যাপক গণহত্যা চালায় পাকবাহিনীর সদস্যরা। খলা গ্রামের ধরের বাড়িতে ১৪ জনকে ব্রাশফারার করে হত্যা করে হানাদাররা। আজও সেই স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে ধরের বাড়ির পুরোনো জীর্ণ ভবনটি।

এদিকে পাঁচগাও গ্রামে ৭৬ জনকে পুকুরপাড়ে লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে ৬ ডিসেম্বর রাজনগরকে হানাদার মুক্ত করা হয়। সে সময়ের ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মৌলভীবাজার জেলার চারটি উপজেলা শহরের পালিত হচ্ছে ৬ ডিসেম্বর মুক্ত দিবস।মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন সামাজিক সাহিত্য, সাংস্কৃতিক সংঘঠন বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।