Saturday 25th of November 2017 04:20:34 AM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮নভেম্বর,নিজস্ব প্রতিনিধি: সিলেট থেকে চট্রগ্রামগামী আর্ন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে মো: আব্দুল আহাদ (২৪) নামে ডিবি পরিচয়দানকারী একজনকে আটক করেছে পুলিশ।তিনি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ক্যাম্প টিলা গ্রামের মো: আফতার আলীর ছেলে।বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ রেলওয়ে থানার আখাউড়া সার্কেল’র সহকারী পুলিশ সুপার,পারভেজ আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে গ্রেফতারের বিষয় নিশ্চিত করেন।
এসময় তিনি জানান,মঙ্গলবার দিবাগত ১২ টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ ক’জন শিক্ষার্থী গান গেয়ে গেয়ে ট্রেনে করে যাচ্ছিল। এসময় হঠাৎ পাশের সিট থেকে ডিবি এএসপি পরিচয়দানকারী আব্দুল আহাদ এর সাথে যাত্রীদের কথাকাটাকাটি হয়। তখন তাকে তার ডিবি পরিচয় পত্র দেখানোর কথা বললে সে পরিচয় পত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়।সন্দেহ হলে পরে পুলিশকে খবর দিলে তাকে আটক করে প্রথমে চট্রগ্রাম রেলওয়ে থানায় রেখে পরদিন শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়।
বুধবার বিকেলে তাকে মৌলভীবাজার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮নভেম্বর,এম ওসমানঃ যশোরের শার্শায় তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষনের স্বীকার হয়েছে। সে উপজেলার বড় মান্দারতলা গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে (১০) ও বড় মান্দারতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। তাকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
জানা যায়, মঙ্গলববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় শার্শা উপজলার বড় মান্দারতলা গ্রামের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীর বাড়ী থেকে বাড়ীতে ফেরার সময় প্রতিবেশী মৃত: ইব্রাহীম এর লম্পট ছেলে শুকুর আলী শিশুটিকে মুখ চেপেধরে পাশে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে বাড়ী থেকে তার মা ছুটে আসছে বুঝতে পেরে লম্পট ইব্রাহিম পালিয়ে যায়।
শিশুটির মা মাছুরা খাতুন জানান, আমার মেয়ের চিৎকার শুনে আমি ছুটে যেয়ে বাড়ীর পাশের বাগানে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ এসএম আক্তার ফারুক জানান, শিশুটির অবস্থা খুব খারাপ। অতিরিক্ত রক্ত খরন হওয়ার কারনে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম মশিউর রহমান জানান, ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে এসআই মামুন এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনা স্থলে পাঠানো হলে সেখানে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক শুকুর আলীকে আটক করা হয়েছে। এবং এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং ১৫। আটককৃত আসামীকে বুধবার সকালে কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮নভেম্বর,এম ওসমানঃ  স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো খুলনা থেকে সরাসরি কলকাতায় ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে। ১৬ নভেম্বর থেকে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নামে একটি ট্রেন খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচল শুরু করবে বলে মঙ্গলবার বাংলাদেশ রেলওয়ের (পশ্চিমা ল) চিফ অপারেশন সুপারিন্টেনডেন্ট বেলাল উদ্দিন এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নামে ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
“ওদিন কলকাতা থেকে ট্রেনটির শুভেচ্ছা যাত্রা হিসেবে দু’দেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রেলওয়ে ও টেকনিক্যাল কমিটির কর্মকর্তাদের নিয়ে আসবেন। ১৬ নভেম্বর থেকে বাণিজ্যিক ভাবে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নিয়মিত চলাচল শুরু করবে।”
সুপারিন্টেনডেন্ট বেলাল আরও বলেন, কলকাতা-ঢাকা ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ সপ্তাহে তিনদিন চলাচল করলেও ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ আপাতত সপ্তাহে একদিন প্রতি বৃহস্পতিবার চলবে।
বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনটিতে মোট ৪৫৬টি আসন রয়েছে। এরমধ্যে এসি চেয়ার ৩১২টি আর ১৪৪টি কেবিন চেয়ার রয়েছে বলে জানান তিনি।
১৯৬৫ সালের পর প্রথমবারের মতো খুলনা থেকে সরাসরি কলকাতায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে জানিয়ে যশোর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার পুষ্পল কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ খুলনা থেকে কলকাতা ১৭৭ কিলোমিটার রেলপথ পাড়ি দিতে সময় নেবে সাড়ে চার ঘণ্টা। খুলনা রেলস্টেশন ও কলকাতার চিৎপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ সকাল সাড়ে ৭টায় কলকাতার থেকে ছেড়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা পৌঁছাবে। বেলা ২টায় আবার কলকাতার উদ্দেশে খুলনা ছেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮নভেম্বর,কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বুধবার (৮নভেম্বর) মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল প্রদান করা হয়। এদিন সাড়ে ১১টায় আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এলজিএসপির অর্থায়নে আলীনগর ইউনিয়নের কামুদপুর ও চিৎলিয়া জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের চার ছাত্রী ও তিন ছাত্রের মাঝে বাইসাইকেল প্রদান করা হয়।

এদের মাঝে ষষ্ঠ শ্রেণির ৩ জন, সপ্তম শ্রেণির ২ জন ও অষ্টম ও নবম শ্রেনির ১জন করে শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল প্রদান করা হয়।স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক(বাদশাহ)-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে সাইকেল প্রদান করেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, শুধুমাত্র যাতায়াত সমস্যায় দূল দূরান্ত ও পাহাড়ি এলাকার অনেক ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারে না। তাদের অনেকেই আবার ঝরে পড়ে।

ঝরে পড়া রোধ করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত করতে ইতিমধ্যেই উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে এডিবির অর্থায়নে বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক ছাত্রীকে বাই সাইকেল প্রদান করা হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে পুরো কমলগঞ্জ উপজেলার সকল উচ্চ বিদ্যালয়ের দূল দূরান্তের শিক্ষার্থীর মাঝে বাইসাইকেল প্রদান করা হবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮নভেম্বর,নড়াইল  প্রতিনিধিঃ   মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু জাতিকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে যানে না, সে জাতি অগ্রগতি করতে পারে না। স্বপ্ন কি ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৪১, ভিশনের একটি সোপান আছে, ২০২১ সালে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে যাবো,৩০ শে একটি জংশন, আমরা এসজিডি বাস্তবায়ন করব, ২০৪১শে আমরা একটি আধুনিক দেশে পরিনত হব, ক্ষুধা, দারিদ্র মুক্ত দেশ-নড়াইলে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ টি বিশেষ উদ্যোগ  ব্র্যান্ডিং এর প্রচার কার্যক্রম এবং সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের সফলতা , অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ে মহিলা  সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ । বুধবার নড়াইল জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তর,ঢাকার মহাপরিচালক মোঃ জাকির হোসেন।

তথ্য সচিব আরো বলেন ,বাংলাদেশ কিন্ত আজ সারা বিশে^ উন্নয়নের রোল মডেল ।  আমাদের অর্থনীতি বিষয়ে আমাদের বলার কিছু নেই আমরা যে নিম্ন মধ্যবিত্ত দেশে এসেছি তা বিশ^ ব্যাংকই বলছে। যে বিশ^ ব্যাংক আমাদের পদ্মা সেতুর ঋন দেয়নি, আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, আমরা নিজেদের পয়সায় পদ্মা সেতু করার সক্ষমতা করেছি, এ রকম আরো ১০ টি মেধা প্রকল্প আমরা করছি , এই প্রকল্প হয়ে গেলে আমাদের জিডিপি আরো অনেক বেড়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী তো এটাই চেয়েছেন, উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে আসার জন্য তার যে প্রচেষ্টা, তার কিছুটা হলেও আপনারা নড়াইলের মহিলারা তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন  দেখিয়েছেন আমরা সে লক্ষে অনেক দুর এগিয়েছি , আমাদের লক্ষ্য স্থির, আমাদের পরিকল্পনা আছে, স্বপ্ন আছে চলুন আমরা সবাই মিলে স্বপ্ন পূরনে অংশ গ্রহন করি, আমরা দেশকে একটি আধুনিক উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিনত করি।

 এ সময়  কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তর নড়াইলের উপ- পরিচালক চিন্ময় রায়,জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান,জেলা তথ্য অফিসার মোঃ মেহেদী হাসান, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডঃ আলমগীর সিদ্দিকী, মজেলা পরিষদের মহিলা সদস্য রওশন আরা কবির লিলি, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি বেগম রাবেয়া ইউসুফ,নড়াইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এনামুল কবির টুকু,বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন মহিলা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মহিলা জনপ্রতিনিধি,গনমাধ্যম কর্মিগন উপস্থিত ছিলেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮নভেম্বর,রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরন না করে অকৃষকদের মধ্যে সার কিটনাশক ও অন্যান্য উপকরন বিতরন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষি কর্মকর্তাসহ ইউপি সদস্যরা জড়িত রয়েছেন বলে একাধিক কৃষকের অভিযোগ। অভিলম্বে প্রকৃত কৃষক নির্ধারন করে সার বিতরনের দাবী জানান সাধারণ কৃষকরা।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়- জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রকৃত গরীব ও কার্ডধারী কৃষকদের বাঁধ দিয়ে তার মনোনিত কৃষকনন এমন ব্যক্তিদের মাঝে সরকারী সার কিটনাশক অন্যান্য উপকরন বিতরন করছেন বলে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করে।

এছাড়া বিগত বৎসর সহ চলতি বৎসরে কার্ডধারী কৃষকদের বাঁধ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে তার মনোনিত অকৃষদের মাঝে সার বিতরন করে। সরজমিনে খোঁজ নিয়ে যানাযায়- জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১নং ৩নং, ৪নং ও ৭নং ওয়ার্ড ব্যাতিত অন্যান্য ওয়ার্ড গুলোতে প্রকৃত কৃষক যাচাই বাছাই ছাড়াই সরকারী সার বিতরনের তালিকায় রয়েছেন অকৃষক। অনেক ক্ষেত্রে কৃষি কার্ড ধারীদের বাঁধ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবী সরকার প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে ভর্তুকির আওতায় বিনামূল্যে সার কিটনাশক বিতরন করার কথা। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষকদের বাঁধ দিয়ে কৃষকনন এমন ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে সার বিতরনের অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউপি সদস্যরা কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করে তালিকা কৃষি অফিসে প্রেরণের পর তা ফিন্ড অফিসারদের মাধ্যমে উপজেলা কৃষি অফিস যাচাই বাছাই করার করবে। জৈন্তাপুরে উপজেলা কৃষি অফিস যাচাই বাছাই ছাড়াই ইউপি সদস্যদের তালিকা অনুযায়ী সার বিতরনের উদ্যোগ গ্রহন করেন।
অপরদিকে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিগত ২১সেপ্টেম্বর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলাররা। তারা অভিযোগে উল্লেখ করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসাইন জৈন্তাপুরে যোগদানের পর হতে নানা অনিয়নের মাধ্যমে তাদের নিকট হতে উৎকোচ আদায়ের চেষ্টা করতে চান। লিখিত অভিযোগে আরও জানাযায় সারের বরাদ্ধ নিতে প্রত্যায়ন পত্র, আগমনি বার্তা দেওয়ার পরও ডিলারদের গোদাম পরিদর্শন ষ্টক রেজিষ্টার স্বাক্ষর করেন না কৃষি কর্মকর্তা এবং সার বিক্রয়ের অনুমতি দেন না। ফলে ডিলাররা উপজেলা সাধারণ কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে সার বিক্রয় করতে না পেরে তাদের কে ফিরিয়ে দেন। মোঃ ফারুক হোসাইন বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সাধারন কৃষকদের দাবী আমরা সটিক সময়ে ডিলাদের নিকট সার পাই না। সরকারী সার বিতরনের ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষদের সার না দিয়ে অকৃষকদের মধ্যে সার বিতরনের অভিযোগ করেন। অভিলম্বে তারা সার বিতরনের কার্যক্রম বন্দ করে পুনরায় প্রকৃত তালিকা প্রনয়ন করে সার বিতরনের দাবী জানান।
এবিষয়ে জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসোনের সাথে জানাতে চাইলে তিনি বলেন- ইউপি চেয়ারম্যান তালিকা তৈরী করে আমাদের নিকট প্রেরন করেন আমরা সেই অনুযায়ী সার কিটনাশক বিতরন করি। কর্ডের তুলনায় বরাদ্ধ কম তাই অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা বাদ পড়ে। ফিন্ড অফিসারদের মাধ্যমে কৃষক যাচাই করার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমরা যাচাই করে থাকি। আপনার বিরুদ্ধে ডিলারদের অভিযোগ জানতে চাইলে তিনি বলেন- ডিলারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছিল, পরবর্তীতে তারাই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮নভেম্বর,নড়াইল প্রতিনিধিঃ “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে দক্ষতা” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে নড়াইলে গণপ্রকৌশল দিবস ও আইডিইবি’র গৌরবোজ্জ্বল ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে।বুধবার সকাল ১০ টায় আইডিইবি জেলা শাখার আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে এ উপলক্ষে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে পুরাতন বাসটার্মিনাল এলাকায় আইডিইবির জেলা কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

র‌্যালীতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী। আইডিইবি’র জেলা শাখার সভাপতি মোঃ মাহামুদুল আলার সভাপতিত্বে এসময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সোহরাব হোসেন বিশ্বাস,জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী এম, এ কায়েচ,  সড়ক ও জনপথের সহকারি প্রকৌশলী ওমর ফারুক, সাধারন সম্পাদক প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস,লোহাগড়া পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী মোঃ শফিউল আলমসহ বিভিন্ন  কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮নভেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ   আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান শতাধিক এমপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য, দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি, টেন্ডারবাজি, এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। এ সব কারণে তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট এমপিদের সাথে নেতা-কর্মীদের দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে। এমন নেতিবাচক ভাবমূর্তির এমপির সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক স্তরের সর্বশেষ জরিপে অন্তত দশ ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে এমপিদের জড়িত থাকার এ সব তথ্য আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের হাতে এসেছে। এ দিকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও আগামী নির্বাচনে এ সব এমপির মনোনয়ন না দিতে দলের হাইকমান্ডের উপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করছেন।তথ্য ইত্তেফাক

জানা গেছে, নেতাকর্মীদের কাছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এলাকায় সুপরিচিত, মানুষের কল্যাণে কাজ করেন, দক্ষ সংগঠক, সত্, নিষ্ঠাবান ও শিক্ষিত, এমন ব্যক্তিরাই দলীয় প্রতীক পাবেন। সাংগঠনিক কাজে সংশ্লিষ্ট না থাকলেও দলীয় আদর্শকে ধারণ করেন এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনাও আছে। দলের হাইকমান্ড এ সব যোগ্যতাসম্পন্ন নেতাদের সারাদেশ থেকে বাছাই করছে। এবার দুইশ আসনে এমন প্রার্থী দেয়া হবে যারা লড়াই করে বিজয় নিশ্চিত করতে পারবেন তাদের। আবার ক্ষেত্রবিশেষে বিএনপির প্রার্থীর প্রভাব, গ্রহণযোগ্যতার বিপরীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন নির্ভর করবে । শতাধিক আসনে বিএনপির প্রার্থী কারা হচ্ছে সেটিও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বর্তমান সংসদে স্বতন্ত্র এমপি রয়েছেন এমন কাউকে কাউকে দলে এনে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যেসব এমপি তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে অনেক বিচ্ছিন্ন, এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা নেই, ক্ষমতার দাপট, অহমিকা, প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে নিজস্ব আলাদা বলয় সৃষ্টি করেছেন তারা এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না এটা অনেকটাই নিশ্চিত। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনাভোটে এমপি নির্বাচিত হয়ে অনেক এমপি নির্বাচনী এলাকায় পা দেননি। আবার কারও স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, ভাই, ভাগ্নে, শ্যালক, শ্বশুরকে দিয়ে এলাকায় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। এ সব আত্মীয়-স্বজন টিআর, কাবিখা, কাবিটা, কর্মসৃজন প্রকল্পে ভাগ-বাটোয়ারাসহ টেন্ডারবাজি, হাটবাজার, বালুমহল ইজারা, দখলসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। আবার উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পদে বসিয়েছেন ভিন্ন দল থেকে আসা বিতর্কিতদের, আত্মীয়-স্বজনদের। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত করা হয়েছে ত্যাগী ও পুরনো পরীক্ষিত-কর্মীদের। জরিপে এরকম দশ ধরনের অভিযোগ শতাধিক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান এমপিদের মধ্যে কেউ কেউ হত্যা, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির দায়ে জেলে গেছেন। আবার কারো বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ‘এমপি লীগ’ গঠন করেছেন কেউ কেউ। এর ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। যার কারণে অনেকে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। এর প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়তে পাড়ে।

এদিকে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক জরিপ দফায় দফায় পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব জরিপ প্রতিবেদনে বর্তমান এমপিদের ভালো ও মন্দ কাজের পর্যালোচনা করেই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। ইতোমধ্যে পরিচালিত একাধিক জরিপ রিপোর্ট দলের হাইকমান্ডের হাতে রয়েছে। প্রতিটি রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এলাকায় জনপ্রিয় এমপিরা যাতে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বাদ না পড়ে সেটিও হাইকমান্ডের বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার অবস্থা, অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, এলাকায় তাদের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিতর্কিত এমপিদের স্থলে এবার নতুন মুখ দেখা যেতে পারে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আগামী নির্বাচনে কোন ধরনের প্রার্থী দলের পছন্দ সেটা বারবার বলে আসছেন। কোনো ধরনের বিতর্কিত ভাবমূর্তির কোনো জনপ্রতিনিধিকে এবার মনোনয়ন দেয়া হবে না সেটাও প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড গত এক বছর ধরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তারই অংশ হিসেবে বিতর্কিত অনেককে ডেকে এনে সংশোধন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকমান্ড। এরপরেও যারা সংশোধন হননি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হবে বলে সূত্র জানায়।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের দু’জন সদস্য জানান, গত বছর দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের পর সাংগঠনিক সম্পাদকরা জেলায় জেলায় সফর করছেন। এ সময় স্থানীয় জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বর্তমান এমপিদের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমান এমপিদের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। তারা হাইকমান্ডের কাছে সে তথ্য জমা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ইত্তেফাককে জানান, যারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন তাদের আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। দৈনিক ইত্তেফাক থেকে

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮নভেম্বরঃ   সিলেট সদর উপজেলার ৩নং খাদিমনগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কালাউরা পয়েন্টে ইউনুছ মিয়া মার্কেটের ১০টি দোকান ও কলোনীর ৭টি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে নগদ টাকা, মূল্যবান মালামালসহ অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। জানা যায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৈদ্যুতিক সট সার্কিটের মাধ্যমে আগু লেগেছে।

মার্কেটে সোহাগ মিয়ার একটি পার্টস এর দোকান, রাসেল মিয়ার মোবাইল ও কম্পিউটারের ২টি দোকান, আব্দুল মান্নানের পান শুপারীর দোকান, শামীম মিয়ার ৩টি গোদাম, দিলোয়ার হোসেনের হোটেলের গোদাম, ফ্যামেলী ব্যবহৃত অন্য ২টি দোকানসহ মোট ১০ টি দোকান পুড়েছে এবং একি মার্কেটের বিপরীত দিকে বসবাসরত কলোনীর ৭টি ঘর ও আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়েছে।

ঘটনার খবর ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিস পৌছার আগে এলাকাবাসী আগুন নিভাতে সক্ষম হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন পুরোপুরিভাবে নিভেছে কি না তা পরিক্ষা করে দেখে।

একই এলাকার বাসিন্দা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব উদ্দিন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মুহিবুর রহমান বেলাল, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য সিরাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ সরকার, সমাজসেবী মহব্বত আলী ও জাবেদ আহমদ জানান, এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি রাতে হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরও বৃদ্ধি পেতো আগুনের লেলিহান শিখা পুরো এলাকাতে ছড়িয়ে পড়তো এবং ঘুমন্ত বৃদ্ধ-শিশুসহ কলোনীতে বসবাসরত মানুষ ও হয়তো মারা যেতো, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আল্লাহতালার মেহরবানীতে এলাকাবাসী বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮নভেম্বর,হৃদয় দাশ শুভ,স্টাফ রিপোর্টার:গত ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএলের পঞ্চম আসর। এই আসরে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম আট ম্যাচের পরিসমাপ্তি শেষে ঢাকায় ফিরবে বিপিএল। দর্শক আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা এই আসর নিয়ে উচ্চাশা ছিল সবার। কিন্তু, সম্প্রচারের নিম্নমান সেই উচ্চাশার প্রত্যাশাকে অনেকাংশে ফিকে করে দিয়েছে। মাঠে উপস্থিত না থাকলেও টেলিভিশনে কোটি দর্শক এই ইভেন্ট উপভোগ করেন। সাউন্ড সিস্টেম, ভিডিও কোয়ালিটি, কমেন্ট্রি সবই বেশ নিম্নমানের।

এদিকে ৭ নভেম্বর থেকে দুই চ্যানেলে সম্প্রচারের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দেশের বাইরেও দেখা যাবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এর ম্যাচ সমূহ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বাদেও অন্যান্য দেশে অবস্থানকারী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত হলো বিপিএল এর দুয়ার। দেশী-বিদেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে দেশের ঘরোয়া লিগের পদযাত্রা পঞ্চম আসরে এসে অনেক প্রত্যাশা জমিয়েছে। কে-স্পোর্টসের এলইডি প্যারিমিটার বোর্ড বসানো হয়েছে। প্যারিমিটার প্রযুক্তির মাধ্যমে বাউন্ডারি রোপের পেছনের ডিজিটাল বোর্ড জুড়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি পরিবর্তন হচ্ছে। আকর্ষণীয় সংযোজন সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশের দুই চ্যানেল মাছরাঙ্গা ও গাজী টেলিভিশন বাদেও এবার এই আসর সম্প্রচার করবে আন্তর্জাতিক সব ব্রডকাস্টার। এরমধ্যে আছে পাকিস্তানি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল জিও সুপার, ফ্রি স্পোর্টস, উইলো, ফ্লো, স্টার টাইমসের মতো ব্রডকাস্টার। জানা গেছে,
পাকিস্তান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, জাপান, রাশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিপিএলের যাত্রা শুরু হলো। অর্থাৎ, শুরু হলো বিপিএলের বিশ্বায়ন।
বিপিএলের আন্তর্জাতিক পরিসরে হাটা কতোটা মসৃণ হবে সেটা ভাবনার বিষয়। কারণ, সেই শুরু থেকেই এদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিপিএল যেভাবে সম্প্রচার করে আসছে তা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। এবারের আসরের দুই সম্প্রচারকারী চ্যানেলের টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতা বেশ দৃষ্টিকটু। এইচডি বা হাই ডেফিনেশন পিকচার কোয়ালিটি নিয়ে গাজী টিভি’র স্ক্রিন গড়পড়তা মনে হয়। মাছরাঙ্গা’র অবস্থায়ও একই। ভিডিও কোয়ালিটি বেশ নিম্নমানের। ক্যামেরার কারসাজিও বেশ দুর্বল। ক্যামেরার এঙ্গেল, জুমিং গ্রাফিক্স দৃষ্টিকটু লাগে।
ভিডিওগ্রাফি অনেক কঠিন বিষয়। যারা ভাল বুঝেন তারা ভাল বলতে পারবেন। কিন্তু অন্যান্য দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির সম্প্রচারের মান দেখলে কষ্ট হয়। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএলের সম্প্রচারে সনি সিক্স বা সনি ম্যাক্সের সম্প্রচারের কোয়ালিটি রীতিমত চোখ ধাঁধানো। আইপিএলের বাজেট অনেক বেশি, তাই উদাহরণ হিসেবে অন্য ঘরোয়া লিগের প্রসঙ্গ তুললেও একই অবস্থা। বিপিএলের চেয়ে কম বাজেটের পিএসএল, সিপিএলের সম্প্রচার কোয়ালিটি দেখলে আমাদের অবস্থা অনুধাবন করা সম্ভব।
বিপিএল সম্প্রচারের নিম্নমান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ৷
দুইদিনের খেলা শেষে একদিন বিরতি দিয়ে আবার মঙ্গলবার শুরু হয় বিপিএল ২০১৭ এর আসর। সবার চোখ থাকবে ঢাকা পর্বের দিকে। কার্যত, মাঠের কয়েক হাজার দর্শকের চেয়ে টেলিভিশনে দর্শক সংখ্যা অনেক বেশি। কোটি দর্শক, যারা স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখে অভ্যস্ত, যারা হাই ডেফিনেশন মানে ভাল করেই বুঝেন, যারা বাইরের দেশের লিগগুলো ফলো করেন, তাদেরকে নিম্নমানের সম্প্রচার দিয়ে ভুলানো যাবেনা। চোখের শান্তি এখানে খুব জরুরী। খেলা দেখে যদি শব্দ বিভ্রাট, নিম্নমানের ভিডিও কোয়ালিটির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে দর্শকের তা মোটেও ভাল লাগবে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অনেক প্রত্যাশার বিপিএল।
বিপিএল ঘিরে এক মাসের বেশি সময় উৎসবমুখর থাকে পুরো বাংলাদেশ। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পঞ্চম আসরে পা দিয়েছে বিপিএল। কিন্তু, এখন বিপিএলের বাজেট বেড়েছে। দর্শক বেড়েছে। ফলে দর্শক চাহিদাও বেড়েছে। এখনও যদি বাজে গ্রাফিক্সের কারণে খেলোয়াড়দের জার্সির রং বুঝতে সমস্যা হয়, স্কোর বোর্ডের ডিজাইন নিয়েও প্রশ্ন উঠে, কমেন্ট্রি নিয়ে প্রশ্ন উঠে, মাঠের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে সমস্যা হয়, দর্শকদের চিৎকার যা কিনা মাঠের প্রাণ তা নিয়েও যদি সীমাবদ্ধতা থেকে যায় তাহলে বিপিএলের ভবিষ্যৎ বিপন্ন বই কি!
তবে আশার কথা বিদেশী ব্রডকাস্টাররা যুক্ত হচ্ছেন বিপিএল সম্প্রচারে। বিশ্বের কোটি দর্শক এখন এইসব মাধ্যমে চোখ রাখবেন ৪০ দিনের এই ক্রিকেট যজ্ঞে। এখন সময় এসেছে বিপিএলের সম্প্রচারের মান উন্নত করার। কোটি কোটি টাকা খরচ করে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনী বোর্ড না লাগিয়ে সম্প্রচারে মন দেওয়ার সময় হয়েছে। না হলে শতকোটি টাকার বিপিএলের স্বপ্নযাত্রা মুখ থুবড়ে পড়বে।