Saturday 25th of November 2017 04:19:41 AM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩নভেম্বর,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:  সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় আন্তঃ জেলা মোটর সাইকেল চোর সিন্ডিকেটের তিন সদস্যকে শুক্রবার বিকালে অভিযান চালিয়ে আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের পুলিশ কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে চোর সিন্ডিকের সদস্যদের সাথে পুলিশের সংর্ঘষ হয়। এঘটনায় আহত হয়েছে দশজন পথচারী। স্থানীয় সুত্রে জানাযায়,আজ শুক্রবার বিকালে ছাতক উপজেলার জটি গ্রামের আব্দুল হদিসের পুত্র আব্দুল মোমিনের মোটর সাইকেল বারগোপি বাড়ির মৃত চেরাগ আলীর পুত্র লায়েকের বাড়ি থেকে চোর সিন্ডিকের সদস্যরা গবিন্দগঞ্জ নেওয়ার পথে বটেরখাল পার হয়ে বগাইন গ্রামে পৌছালে বগাইন গ্রামের খালেদ মিয়া তার নিজ বাড়িতে ফেরার পথে তাদের পথরোধ করলে চোররা মটর সাইকেল রেখে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ মটর সাইকেল উদ্ধার করে। পরে এলাকাবাসীর তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিত্বে অভিযান চালিয়ে বিকালে আন্তজেলা চোর সিন্ডিকেটের সদস্য ছাতক উপজেলা বগাইন গ্রামের মখদ্দুছ আলীর পুত্র রিপন (২৫) ও সরিষাপুর গ্রামের ছাত্তার আলীর পুত্র আবুল লেইছ (২৭)কে আটক করা হয়। এদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এই সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য বিশ্বনাথ উপজেলার শেখেরগাঁও গ্রামের বাদশা মিয়াকে আটক করে পুলিশ। এই খবর পেয়ে আন্তঃ জেলা চোর সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা একত্রিত হয়ে আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে সিঙ্গেরকাচ বাজারে দিয়ে পুলিশ আটক আসামীদের থানায় নিয়ে আসার পথে পুলিশের উপর হামলা চালায়।

এসময় পুলিশ ও চোর সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আহত হয়েছে দশজন পথচারী। এসময় পুলিশের হাতে আটককৃত বাদশা মিয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এঘটনায় এলাকায় চা লের সৃষ্টি হয়েছে। আরো একাধিক সুত্রে জানাযায়,রিপন,আবুল লেইছ ও লায়েকের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী মোটর সাইকেল চোর সিন্ডিকেট র্দীঘ দিন ধরেই মটর সাইকেল চুরি করে আসছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। ছাতক থানার ওসি আতিকুর রহমান আসামী পালিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে জানান,একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং এর সাথে জরিত থাকার অভিযোগে দু জনকে আটক করা হয়েছে। বাদশা মিয়া একটি মামলার আসামী তাকে আটক করা হয় নি।

উল্লেখ্য,গত ৩০অক্টোবর ছাতক উপজেলার জটি গ্রামের আব্দুল হদিসের পুত্র আব্দুল মোমিনের একটি পিভিএস মোটর সাইকেল ঘরের তালা ভেঙ্গে,৩১অক্টোবর লক্ষী পাশা গ্রামের মৃত আছকন্দর আলীর পুত্র আবু জাহিদের একটি পালসার মোটর সাইকেল ঘরের বারান্দার গ্রীল ভেঙ্গে ও মঈনপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার নজরুল ইসলামের পুত্র মোহাম্মদ আলীর মোটর সাইকেল চুরি হয়। এসব চুরির গাড়ী বারগোপি বাড়ির মৃত চেরাগ আলীর পুত্র লায়েক মিয়ার বাড়িতে মজুত রাখা হয়।

বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে লায়েক মিয়ার গুদামে চুরিকৃত মোটর সাইকেল ভাগবাটোয়ারা করে বিক্রির জন্য বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়।
জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩নভেম্বর,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ    বেনাপোল সীমান্তের খলশী এলাকা থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি ও ২ টি ম্যাগজিনসহ জালাল উদ্দিন (৩৬) ও আকরাম হোসেন (৩৮) নামে দুই অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পোর্ট থানা পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় বেনাপোল সীমান্তের গোগা ইউনিয়নের খলশি বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, বেনাপোলের গোগা ইউনিয়নের খলশি গ্রামের রহমত আলীর ছেলে জালাল উদ্দিন (৩৬) ও একই গ্রামের দুঃখে মোড়লের ছেলে আকরাম হোসেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপূর্ব হাসান জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি বেনাপোল সীমান্তে খলশী বাজারে অস্ত্র কেনা-বেচা হচ্ছে। এসময় পুলিশ সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে জালাল ও আকরামকে আটক করে। পরে তাদের দেহ তল্লাশী করে একটি বিদেশী পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি ও ২ টি ম্যাগজিন উদ্ধার করে”। আটককৃত দুই অস্ত্র ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩নভেম্বরঃ বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম মুহিবুর রহমান মুহিব বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সহ-সাংগঠনিক পদে নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা প্রদান করে জেলা ইসলামী যুবসেনা।বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় শহরের একটি রেষ্টুরেন্টে যুবসেনা জেলা সাধারণ সম্পাদক হাজী ইজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আল্লামা অধ্যক্ষ শেখ মোঃ আব্দুল করিম সিরাজ নগরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী হারুন মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ সভাপতি মাওলানা আব্দুল মুহিত হাসানী।

জেলা যুবসেনার সহ সাধারণ সম্পাদক ডা. মামুনুর রশিদ এর উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম এ এম রাসেল মোস্তফা শেখ বোরহান (রঃ) ইসলামী সোসাইটির জেলা ব্যাপি মেধা যাচাই পরিক্ষার নির্বাহী পরিচালক (সার্বিক) এম এ সামাদ দৈনিক কালের কন্ঠ শুভ সংঘ মৌলভীবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ তাকবির হুসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহান হুসাইন হেলাল, যুবসেনার নেতৃবৃন্দের উপস্থিত ছিলেন ডা. এম.এ কে আজাদ, মনিরুল ইসলাম চৌধুরী মহন, মাওলানা মোঃ নুরুল ইসলাম মোঃ আবু তাহের, পাবেল আহমদ, এম এস আই জাহাঙ্গীর ছাত্রসেনার নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আশরাফুল খান রুহেল, শেখ সাইফুর রহমান মুন্না, আব্দুস সালাম, মোঃ জোবায়ের আহমদ জুবেল, রুহুল আমিন দেলওয়ার, মোঃ নাজমুল ইসলাম, সাকিল আহমদ বাবুল, মোশারফ আহমদ, আকিব আলী রনি প্রমুখ পরিশেষে সংগঠন পক্ষ থেকে তাকে ক্রেষ্ট ও পুষ্পপিত অভিনন্দন জানানো হয়।

বক্তারা বলেন এম মুহিবুর রহমান মুহিব যেভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন এবং আজ বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার কেন্দ্রীয় সহ সংগঠনিক নির্বাচিত হয়েছেন। সে জন্য তাকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং ভবিষ্যতে তার উত্তর উত্তর সাফল্য কামনা করেন।প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩নভেম্বর,নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা করে অনলাইন গণমাধ্যমের উন্নয়নে মুহিত চৌধুরী যে ভুমিকা রেখেছেন ইাতহাসে তা স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। মুহিত চৌধুরী কবি-সাংবাদিক-গীতিকার-নাট্যকার-ঔপন্যাসিক এবং সংগঠক, বহুমাত্রিক পরিচয়ে তিনি পরিচিত।

কবি মুহিত চৌধুরীর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব আয়োজিত সুহৃদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

পুরো অনুষ্টানটি সঞ্চালনা করেন সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব-এর সহ-সাধারণ সম্পাদক ও আজকের সিলেট ডটকম-এর প্রধান সম্পাদক এম সাইফুর রহমান তালুকদার।

সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ড.রাগীব আলী মিলনায়তন সন্ধ্যা থেকেই নবীন-প্রবীন লেখক-সাংবাদিক এবং সংস্কৃতি কর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। এসময় তারা কবি মুহিত চৌধুরীকে ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত করেন।

প্রাণ ছুঁয়ে যাওয়া জন্মদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, প্যানেল মেয়র (১) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা) ও মিডিয়া অফিসার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও মিডিয়া অফিসার আব্দুল ওয়াহাব, প্রবাসী গীতিকার মুহাম্মদ ইলিয়াস আলী, ছড়াকার সৈয়দ মুক্তাদা হামিদ, অনুপ্রানন সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব-এর সহ-সভাপতি গোলজার আহমদ হেলাল, সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ মকসুদ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক কে এম রহিম সাবলু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তোফায়েল আহমদ, কার্যকরি পরিষদ সদস্য ফারহানা বেগম হেনা, আজকের সিলেট ডটকম এর বার্তা সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন রুবেল, নিউজচেম্বার২৪.কম সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম, সিলেট বাংলা নিউজ এর সম্পাদক কামাল আহমদ, এমটি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর সিলেট ব্যুরো প্রধান রাহিব ফয়ছল, সিলেটের সময় ডটকম-এর স্টাফ রিপোর্টার মবরুর আহমদ সাজু, দৈনিক  সিলেট ডটকম স্টাফ রির্পোটার তানভীর তালুদার, দৈনিক  সিলেট ডটকম স্টাফ রির্পোটার আতিক সামী, সিলেট টেলিগ্রাফ এর সম্পাদক অশীষ দে, মাসিক প্রতিভাত এর সম্পাদক এম আলী হোসাইন  নববার্তা ডটকম এর সিলেট ব্যুরো উদয় জুয়েল, সিলেট মিডিয়া ডটকম এর স্টাফ রিপোর্টার ফাহাদ মারুফ, আজকের সিলেট ডটকম-এর ষ্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ রাসেল আহমদ, নিউজ চেম্বার ২৪ ডটকম-এর স্টাফ রিপোর্টার সুলাইমান আল মাহমুদ, শাহজাহান শাহেদ, আমাদের পত্রিকা ডটকম-এর সিলেট প্রতিনিধি তাওহীদ হোসেন রাসেল, আখলাকুল আম্বিয়া চৌধুরী, সাংবাদিক শাহিন উদ্দিন, মাসিক প্রতিভাত সম্পাদক এম. আলী হোসাইন, শিক্ষাবার্তা ডটকম-এর সিলেট প্রতিনিধি মিহির রঞ্জন তালুকদার, ব্যবসায়ী হাসান আহমদ খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারলেও টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানান সিলেটের প্রথম মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামনান।

কবি মুহিত চৌধুরী তার অনুভ’তি প্রকাশ করতে গিয়ে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃজ্ঞতা জানান এবং সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জন্মদিনের কেক কাটা হয়।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩নভেম্বর,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে অাইনুল্লাহ (৫৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
৩ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত বৃদ্ধ যাদবপুর গ্রামের মৃত উদ্রিস উল্লার ছেলে।

স্হানীয় সূত্রে পাওয়া, চাচা ভাতিজার মধ্যে জায়গা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে অাসছিল। শুক্রবার সকালে জায়গায় বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে বৃদ্ধ সহ ৫ জন গুরুতর অাহত হয়।
গুরুতর অাহত অবস্থায় অাইনুল্লাহকে হবিগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রাসেলুর রহমান সত্যতা স্বিকার করেছেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩নভেম্বর,রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে সিলেট তামাবিল মহাসড়ক বাসগাড়ী হতে পুলিশ ৫০ বোতল ”সি-কফ” নামক ফেন্সীডিলসহ দুই মহিলাকে অাটক করে৷

পুলিশ সূত্রে যানাযায়- গতকাল ২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ জানতে পারে সিলেট তামাবিল মহাসড়ক দিয়ে ভারত হতে জৈন্তাপুরে ফেন্সীডিল প্রবেশ করছে৷ সংবাদ পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার সেকেন্ড ইন কমান্ড এস.অাই ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্জ রাজন এর নেতৃত্বে এ.এস.অাই হুমায়ুন এবং কনেষ্টেবল লিপি রানী দেব বাস গাড়ীতে তল্লাসী চালিয়ে ৫০ বোতল সি-কফ নামক ফেন্সীডিল সহ তাদেরকে অাটক করা হয়৷ অাটককৃতরা হলেন জৈন্তাপুর উপজেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নিজপাট যশপুর গ্রামের মৃত বিল্লাল মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ ফিরোজা বেগম (৪৮), অপরজন হল নিজপাট তোয়াসীহাটি (খাসিয়াহাটি) গ্রামের টিয়া দেবএর স্ত্রী ছায়া দেব (৪৮)৷ চক্রটি দীর্ঘদিন হতে ভারতীয় সীমান্তের মোকামপুঞ্জি, অালুবাগান, ডিবিরহাওর,  নলজুরী, টিপরাখলা দিয়ে ভারত হতে জৈন্তাপুরে মাদক দ্রব্য পাঁচার করে অাসছে৷
এবিয়য়ে অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ জাহিদ অানোয়ার অাটকের বিষয় নিশ্চিত করে জানান অাটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক অাইনে মামলা দায়ের করে শুক্রবার অাদালতে প্রেরণ করা হবে৷

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩নভেম্বর,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ যশোরের বেনাপোলে অতিরিক্ত মদ পানে আবুল হাসান (৩৫) নামে এক সিএন্ডএফ কর্মচারির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। আবুল হাসান বেনাপোল পোর্ট থানার গাজীপুর গ্রামের ওমর আলীর ছেলে ও বেঙ্গল এজেন্সী নামের একটি সিএন্ডএফ এজেন্টের কর্মচারি।
এলাকার লোকজন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত মদপান করে বাড়ি যাওয়ার পর সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে সে মারা যান। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা: কল্লোল কুমার সাহা জানান, অতিরিক্ত মদপান করার কারনে অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে বেলা ২টার দিকে বেনাপোলে আনা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) ফিরোজ আহম্মেদ জানান, অতিরিক্ত মদপান করার কারনে তার মৃত্যু হয়েছে।

 

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩নভেম্বর,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে দুটি চেকপোস্ট স্থাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (০২ নভেম্বর) সকাল ১০টার সময় বেনাপোল চেকপোস্টের শূন্যরেখায় এই নবনির্মিত চেকপোস্ট দুটিতে বিজিবি সদস্যদের কর্তব্যপালন করতে দেখা যায়। তবে সীমান্তের ভারতীয় অংশের প্রধান দুটি প্রবেশদ্বারে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যরা বন্দর স্থাপনের শুরু থেকেই দায়িত্ব পালন করে আসছে।
গত ৩ আগস্ট ‘বেনাপোল সীমান্তে বাংলাদেশ প্রবেশদ্বার অরক্ষিত’ শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়। এ রিপোর্টের পর থেকে চেকপোস্ট স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করে চলেছে বিজিবি।
বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে ভারতে রফতানি পণ্য বহনকারী বাংলাদেশি ট্রাকচালক কুরবান আলী জানান, আগে এ পথে ভারতে পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় শূন্য রেখায় কেবলমাত্র বন্দরের লোকজন ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ সদস্যরা পণ্যের বিবরণ ও ট্রাক নম্বর রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি করার পাশাপাশি চালকদের সাক্ষর করাতো। এখন নতুন করে বাংলাদেশ অংশে বিজিবি সদস্যরাও ওই একই কার্যক্রম শুরু করেছে।
একই কথা জানান, পেট্রাপোল বন্দর থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাক চালক নিরঞ্জন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) রেজাউল করিম শূন্য রেখায় বাণিজ্য তদারকিতে বিজিবি চেকপোস্ট স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি সদস্যরা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এই কার্যক্রম শুরু করেছে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে লিখিত কিংবা মৌখিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন, রিপোর্টের জের ধরে বেনাপোল চেকপোস্টে বিজিবির বর্তমানে যে নিñিদ্র নিরাপত্তা ও সু-শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, তা দেশ স্বাধীনের পরে আগে কখনো তারা দেখেননি। এমন ব্যবস্থাপনা সবার নজর কেড়েছে, কমেছে অনেকাংশে অনিয়ম।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩নভেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ   আজ সেই ভয়াল-বীভৎস্য ৩ নবেম্বর। বেদনাবিধুর ও কলঙ্কের কালিমায় কলুষিত বিভীষিকাময় ইতিহাসের আরেক ভয়ঙ্কর দিন। মানব সভ্যতার ইতিহাসে বেদনাবিধুর কলঙ্কিত অধ্যায় জেলহত্যা দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের যে কটি দিন চিরকাল কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, তার একটি ৩ নবেম্বর এই দিন। যে ক’টি ঘটনা বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করে অর্জনের পথে বাধা তৈরি করেছে, তার মধ্যে একটি ঘটেছিল ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের এ দিনে।

পরিকল্পিত ভাবে বাঙালী জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করতে প্রায় ৪২ বছর আগে ১৯৭৫ সালের ৩ নবেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ জাতির চার সূর্য সন্তান, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম পরিচালক, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ-ঘনিষ্ঠ সহচর বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এমন জঘন্য, নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সিপাহসালার তাজউদ্দীন আহমেদ কারান্তরীণ অবস্থায় বুঝতে পেরেছিলেন ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর মতো তাদেরও বাঁচতে দেবে না। ১৯৭৫ সালের ৩ নবেম্বর জেলহত্যার কদিন আগে অর্থাৎ অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে যান তার পরিবারের সদস্যরা। তাদেরকে তাজউদ্দীন আহমেদ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দেখা স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদেরকে আর বাঁচিয়ে রাখবে না। আমি মুজিব ভাইকে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) স্বপ্নে দেখেছি। বঙ্গবন্ধু আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন- তাজউদ্দীন তুমি চলে এসো, সেই ১৯৪৪ সাল থেকে তোমার সঙ্গে আমার পরিচয়। তারপর থেকে আমরা দু’জন এক সঙ্গে ছিলাম, এখন তোমাকে ছাড়া আর ভাল লাগে না।” ‘আমার ছোটবেলা ১৯৭১ এবং বাবা তাজউদ্দীন আহমেদ’ গ্রন্থেও এই বিষয়টি লিখেছেন তার কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপি।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে স্বপ্ন দেখার বিষয়টি যে এত তাড়াতাড়ি তার সামনে এমন নিষ্ঠুর ও ভয়ঙ্কর হয়ে আসবে, তা বোধহয় তিনি কখনও কল্পনাও করতে পারেননি। অথচ তার স্বপ্নই সত্য হলো। স্বপ্ন দেখার মাত্র ক’দিনের মাথায় জেলখানায় ঘটে যায় ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হত্যাকা-। জাতীয় অপর তিন নেতার সঙ্গে তাজউদ্দীন আহমেদও নিষ্ঠুর হত্যাকা-ের শিকার হন।

এর আগে একই বছরের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ এই চার সহকর্মীকে গ্রেফতার করে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্যু, পাল্টা ক্যু’র রক্তাক্ত অধ্যায়ে মানবতার শত্রু ও বঙ্গবন্ধুর হন্তারক ওই একই পরাজিত শক্তির দোসর বিপথগামী কিছু সেনাসদস্য কারাগারে ঢুকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করে জাতীয় চার নেতাকে। সেই থেকে প্রতি বছরের মতো এ দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন কারান্তরীণ দেশমাতৃকার সেরা সন্তান এই জাতীয় চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে একাত্তরের পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। বাঙালীকে পিছিয়ে দিয়েছিল প্রগতি-সমৃদ্ধির অগ্রমিছিল থেকে। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকা- ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। বিশ্বাসঘাতক খুনীদের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য আজ জাতির সামনে পরিষ্কার। মিথ্যা কুয়াশার ধূম্রজাল ছিন্ন করে আজ নতুন সূর্যের আলোকের মতো প্রকাশিত হয়েছে সত্য।

আসলে হত্যাকারীরা এবং তাদের দোসররা চেয়েছিল পাকিস্তান ভাঙ্গার প্রতিশোধ নিতে, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশটিকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের আবর্তে নিক্ষেপ করতে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিকতার পথ থেকে সদ্য স্বাধীন দেশটিকে বিচ্যুত করা এবং বাংলাদেশের মধ্য থেকে একটি মিনি পাকিস্তান সৃষ্টি করা। এখানেই শেষ হয়নি স্বাধীনতার শত্রুদের ষড়যন্ত্র। ’৭৫-এর পর থেকে বছরের পর বছর বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা চলেছে। বঙ্গবন্ধু ও জেল হত্যাকা-ের নেপথ্যের কুশীলব হিসেবে জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জড়িত থাকার প্রমাণ আত্মস্বীকৃত ঘাতকদের মুখ থেকেই বেরিয়ে এসেছে।

জেল হত্যাকা-ের পর ওই সময়ই লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর এ হত্যাকা-ের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার জেলহত্যা মামলার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। এরপর দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় বিচারকাজ চলার পর বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করে। রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অপর ৫ জনকে খালাস দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক তিন আসামির মৃত্যুদ- এবং অপর ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদ- হয়।

মৃত্যুদ-প্রাপ্তরা হলো দফাদার মারফত আলী শাহ, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান ও এলডি দফাদার মোঃ আবুল হাসেম মৃধা। যাদের যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয় তারা হলো- কর্নেল (অব) সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব) সৈয়দ শাহরিয়ার রশীদ, মেজর (অব) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদ (বরখাস্ত), লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব) এমএইচএম বি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, লে. কর্নেল (অব) এএম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) আহম্মদ শরিফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব) আবদুল মাজেদ, ক্যাপ্টেন (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) মোঃ কিসমত হোসেন এবং ক্যাপ্টেন (অব) নাজমুল হোসেন আনসার। খালাসপ্রাপ্তরা হলো বিএনপি নেতা মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান, জাতীয় পার্টি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক মন্ত্রী মরহুম তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, নুরুর ইসলাম মঞ্জুর এবং মেজর (অব) খায়রুজ্জামান।

২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে কেবল রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুদ- বহাল রেখে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার মোঃ আবুল হাসেম মৃধা এবং যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত অপর চার আসামি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব) শাহরিয়ার রশীদ খান, মেজর (অব) বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল (অব) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ওই চার আসামির চারটি আপীল ও রাষ্ট্রপক্ষের ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় দেয়।

তবে জেল হত্যাকা-ের সুদীর্ঘ সময় পর এর বিচারের রায় হলেও জাতীয় নেতার পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন মহল থেকে ওই সময়ই রায়টিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘প্রহসনের রায়’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। একই সঙ্গে রায়টি প্রত্যাখ্যানও করা হয়। তাদের অভিযোগ, জেল হত্যার ষড়যন্ত্রের দায়ে কাউকে শাস্তি দেয়া হয়নি। জাতির ইতিহাসের নৃশংসতম এই হত্যাকা-ের পুনঃতদন্ত ও পুনঃবিচার দাবি করেন তারা।

অবশ্য জেলহত্যা মামলায় খালাস পেলেও লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব) শাহরিয়ার রশীদ খান, মেজর (অব) বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল (অব) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ- এই চারজন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত হওয়ায় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি এদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে পলাতক অপর আট যাবজ্জীবন কারাদ- পাওয়া আসামি সম্পর্কে কোন মতামত না দেয়ায় তাদের দ- বহাল আছে বলে আইনজীবীরা ব্যাখ্যা দেন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতাসীন হওয়ায় জেল হত্যাকা-ের পুনঃবিচারের সুযোগ আসে। ২০১২ সালের ১ নবেম্বর সরকারপক্ষ জেলহত্যা মামলার আপীল বিষয়ে সারসংক্ষেপ সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে জমা দিলে পুনঃবিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল আপীল বিভাগের চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত রায়ে ২০০৮ সালের হাইকোর্টের রায় বাতিল করে ২০০৪ সালের নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখা হয়। অর্থাৎ পলাতক তিন আসামি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান, দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার মোঃ আবুল হাসেম মৃধাকে মৃত্যুদ- এবং অন্য ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়। সুদীর্ঘ বছর পর বাঙালী জাতি পায় কাক্সিক্ষত বিচার।

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে চার জাতীয় নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বাঙালী জাতির ইতিহাসে জাতীয় চার নেতার অবদান চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুজিবনগর সরকার গঠন, রণনীতি ও রণকৌশল প্রণয়ন, প্রশাসনিক কর্মকা-, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও দেশবাসীর সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য জাতি তাদের চিরদিন স্মরণ করবে।

দিনের কর্মসূচী ॥ যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন ঢাকাসহ সারাদেশে বিস্তারিত কর্মসূচী পালন করবে।কর্মসূচীতে রয়েছে সকাল ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলের শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ, ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ৮টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ও জাতীয় তিন নেতার কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত, রাজশাহীতে জাতীয় নেতা শহীদ কামরুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩নভেম্বর,ছাতক প্রতিনিধি:  ছাতক সিমেন্ট কারখানার দু’টি পাওয়া প্ল্যন্ট বিক্রয়ের যাচাই-বাছাই ও জমা দানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই জমা গ্রহণ বন্ধ করে নিজেদের পরিচিত প্রতিষ্ঠানের দরপত্র নির্বাচন করতে সর্বোচ্চ দরদাতাদের জমা দিতে বাঁধা দেয়া হয়েছে। এমনকি দরপত্র জমা দেয়ার ৩টি বক্স একত্রিত না করেই যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তাকর্মি ও আনসার সদস্যদের বাঁধার মূখে নির্ধারিত সময়ের আগে এসেও প্রধান ফটকে আটকে দেয়া হয় আগ্রহি ১৫টি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারদের। ফলে জমা দিতে আসা পে-অর্ডার ফেরত নিয়ে ফেরত নিয়ে চলে যান অনেকে।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে এসেও জমা দিতে না পারায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারদের তোপের মূখে পড়েন কোম্পানীর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নেপাল কৃষ্ণ হাওলাদার। সূত্র জানায়, সিডিউল অনুযায়ি গত বুধবার চট্টগ্রামের সাগরিকা নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ২কোটি ৫১লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচন করেন কর্তৃপক্ষ। অথচ সকাল সাড়ে ১১টা থেকে অপেক্ষা করেও এর চেয়ে বেশি মূল্যের ২কোটি ৭১লাখ টাকার দরপত্র জমা দিতে পারেনি একটি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া এর কাছাকাছি মূল্যের আরো কয়েকটি সিডিউল জমা দিতে ব্যর্থ হন আরো একাধিক প্রতিষ্ঠান। কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে কোম্পানীর নিরাপত্তা কর্মি ও আনসার সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করতে না দেয়ায় ক্ষোব্ধ হন দরপত্র দাখিল করতে আসা একাধিক প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদাররা।

এঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। জানা গেছে, গত ১৬অক্টোবর ছাতক সিমেন্ট কারখানা কর্তৃক আহবানকৃত দরপত্র (সূত্র নং-সিসিসিএল/এমপিআইসি-৬০/২০১৭-১৮/২১৩, তাং ১৬.০৬.২০১৭) স্মারকে কোম্পানীর ২দশমিক ৪ ও ৪দশমিক ৫ মেঘাওয়াটের দু’টি অকেজো পাওয়ার প্ল্যান্ট বিক্রয়ের জন্যে দরপত্র আহবান করেন। গত ৩১অক্টোবর সিডিউল ক্রয় ও ১নভেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে দরপত্র জমাদানের শেষ সময় ছিল। এছাড়া দরপত্র সিলেটের জেলা প্রশাসকের নেজারত শাখা, গণপূর্ত অফিস ও কোম্পানীর ভেতরে একটি উন্মুক্ত বক্সে জমা দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। সূত্র জানায়, ১নভেম্বর নির্ধারিত সময় দুপুর ১২টার আগেই জমা নেয়া বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ৩টি স্থানে জমাকৃত দরপত্র একত্রিত না করেই শুধু মাত্র ফ্যাক্টরির ভেতরের বক্সে জমা হওয়া দরপত্রগুলো থেকে বাছাই করেন তারা।

আরো জানা গেছে, যে দরপত্রটি বাছাই করা হয়েছে, তার বেশি দামের দরপত্র জমাদানকারি প্রতিষ্ঠানকে কোম্পানীর বাইরে নিরাপত্তাকর্মিরা আটকে দেন। ফলে তারা পে-অর্ডার নিয়েই ফেরত যেতে হয়েছে। জানা গেছে, মেসার্স রুবেল এন্টারপ্রাইজ, রেজা ইলেক্ট্রিক, চিশতি এন্টারপ্রাইজ ও গোবিন্দগঞ্জ ট্রেডিংসহ ১৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় দরপত্র জমা দিতে আসেন। কিন্তু গেইটের নিরাপত্তাকর্মিরা জমা নেয়ার সময় শেষ বলে তাদেরকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। রুবেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারি রিমাদ আহমদ রুবেল জানান, সাড়ে ১১টার সময় তারা কোম্পানীর ভেতরে গিয়ে দরপত্র জমা দিতে চাইলে প্রধান ফটকের নিরাপত্তাকর্মিরা তাকে বাঁধা দেন। এসময় তিনি অনেক চেষ্ঠা করেও জমা দিতে পারেননি। এতে বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।

মাহি আয়রন এর স্বত্বাধিকারি দুলাল আহমদ জানান, কর্তৃপক্ষ যে ২কোটি ৫১লাখ টাকার দরপত্র বাছাই করেছে। এর চেয়ে তার প্রতিষ্ঠান অনেক বেশি মূল্যের পে-অর্ডার করেছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে এসেও তিনি জমা দিতে পারেননি বলে জানান। একইভাবে রেজা ইলেক্টিকসের স্বত্বাধিকারি কামাল উদ্দিন বিপ্লব বলেন, তাদের ১০/১৫টি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের পূর্বে দরপত্র জমা দিতে চাইলে তাদেরকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

কারখানার এমডি নেপাল হাওলাদার বলেন, আমি এব্যাপারে তেমন কিছু জানিনা। টেন্ডার নিরিক্ষণ কমিটির প্রধান কোম্পানীর ডেপুটি ম্যানেজার নার্গিস মোমেনা সব কিছু দেখাশুনা করেছেন। তবে চট্টগ্রামের সাগরিকা নামে একটি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার নির্বাচন করা হয়েছে। আর কোন সূযোগ নেই। যারা দিয়েছেন, তাদের থেকে আমরা বাছাই করেছি। তবে সময়ের আগে দাখিলকারি কোন প্রতিষ্ঠানকে ঢুকতে বাঁধা দেয়া হয়নি বলে তিনি জানান। তবে আবেদনকারিদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।