Saturday 23rd of September 2017 04:36:54 AM

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৩জুলাই,শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র সহায়তায় শ্রীমঙ্গলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেন এর সভাপতিত্বে সনাকের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্যে সনাকের শিক্ষাখাতের কর্মসূচির ব্যাখ্যা করেন সনাক সভাপতি সৈয়দ নেসার আহমদ । অতপর বরুনা ফয়জুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝড়ে পড়া রোধ শিক্ষকদের শিক্ষার্থীর বাড়ী পরিদর্শন স্কুলের গর্তভরাট, শ্রেণী কক্ষের অপ্রতুলতা/ব্রেঞ্চের স্বল্পতা প্রসঙ্গে স্কুলের সীমানা প্রাচীর স্থাপন, মেইটেইনেন্স খরচ বাবদ (সেফ প্রকল্প) সরকারী অনুদান বরাদ্দ করা এবং টেলিটক মোবাইল এজেন্ট এর কারনে ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তি সময় মত না পাওয়া প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা এবং এই বিষয়গুলো সঠিক বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেন শিক্ষাখাতে সনাকের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানান এবং তিনি বলেন বর্তমানে বরুনা ফয়জুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা নেই এবং সেখানে একজন ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়।

তিনি বলেন স্কুলের সীমানা প্রাচীর স্থাপনের বিষয়টি আমার সাধ্যের বাইরে তবে এটি এসএমসি কমটি যদি উদ্যোগ নেন তাহলে স্থানীয়ভাবে ফান্ড সংগ্রহ করে এটি করা সম্ভব। স্কুলের গর্ত ভরাট এর বিষয়টিও উনার সাধ্যের বাইরে এটি আসলে ফান্ডের অভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। এটিও স্থানীয়ভাবে ফান্ড সংগ্রহ করে ভরাট করা করা সম্ভব যদি ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয় তা হলে একটি সুরাহা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করা করেন।

তিনি আরও বলেন স্কুলের শিক্ষকরা নিয়মিত ছাত্রছাত্রীদের বাড়ী পরিদর্শন করে থাকেন এবং ইদানিং বন্যার কারনে স্কুলে ছাত্রছাত্রিদের উপস্থিতি একটু কম, আশা করছি বন্যার পর উপস্থিতি বাড়বে। ছাত্রছাত্রী ঝরে পড়া রোধে এবং উপস্থিতি বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি আরও বলেন সরকার বর্তমানে ১০০% উপবৃত্তি দিচ্ছে সে জন্য উপস্থিতি বাড়বে এবং আগামী ৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে কোন স্কুলে ঝড়ে পড়া থাকবেনা বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সিউর ক্যাশের মাধ্যমে স্কুলের উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে বলেন এটি আসলে সরকারের একটি নতুন ইনোভেটিভ প্রকল্প এবং এতে লোকজন অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগবে। দুর্নীতি যাতে কমে আসে সেজন্যই সরকার এই নতুন প্রকল্পটি হাত নিয়েছেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, মোঃ সাইফুল ইসলাম, সনাক সদস্য জহর তরফদার, স্বজন সমন্বয়ক সৈয়দ ছায়েদ আহমদ, সদস্য রহিমা বেগম, টিআইরিব এরিয়া ম্যানেজার জনাব পারভেজ কৈরী প্রমুখ।

তাছাড়ও সনাক শ্রীমঙ্গল এর ইয়েস সদস্যবৃন্দরাও উপস্থিত ছিলেন। সনাকের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে সর্বদা সহযোগিতা করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৩জুলাই,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) থেকেঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে গত ২০১৫ সালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণের ফলে উপজেলার ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী ফুলবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার র্দীঘ দু“বছরেও মেরামত হয়নি। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জলবদ্ধতার স্বীকার হচ্ছে ফুলবাড়ী ও পূর্বমিরাপুরের অসংখ্য পরিবার।

যাতায়াতের জন্য নৌকায় হচ্ছে তাদের এক মাত্র অবলম্বন। বর্তমানে ওই এলাকার হাজার হাজার জনগন তাদের আবাদি ফসল নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে।

তথ্যঅনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট ভোর রাতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আত্রাইয়ের ফুরবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভাঙ্গার পর মির্জাপুর নামক স্থানে আত্রাই-নওগাঁ আ লিক সড়ক ভেঙে আশেপাশের এলাকার সমুদয় ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেই সাথে এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে। এতে আত্রাই-রাণীনগর উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। প্রায় ২ মাস পরে বন্যার পানি নেমে যায়।

এদিকে বন্যার পানি শুকিয়ে যাওয়ার দু‘বছর হলেও আজও ভাঙ্গন মেরামত করা হয়নি। এ ভাঙ্গন মেরামত না করায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাইপুর, ডাঙ্গাপাড়া, ফুলবাড়ি, উদনপৈয়, মিরাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে সপ্তাহে দুইদিন শনিবার ও মঙ্গলবার ভবানীপুর-মির্জাপুর হাটে যাবার জন্য এ পথ ব্যবহার করতে হয়। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এ পথ দিয়েই হাটে বাজারজাত করতে হয়। বন্যায় বাঁধ বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে তারা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছে না।

এদিকে এ বাঁধ মেরামত না করার ফলে আগামী বন্যা মৌসুমে আত্রাই-নওগাঁ আ লিক সড়ক হুমকির সম্মুখিন হয়ে পরবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল। বর্তমানে এলাকার হাজার হাজার কৃষক তাদের আবাদি ফসল নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে।
এ বিষয়ে মিরাপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল কুদ্দুস জানান, আমরা এ ভাঙ্গন মেরামতের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারসহ অনেকের কাছেই ধর্না দিয়েছি। সকলেই আশ্বস্ত করেন কিন্তু আজও মেরামত না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমের আগেই সেখানে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। বর্তমানে বাঁধটি মেরামত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে ফলে আমরা আমাদের কষ্টের ফসল নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছি।
এ ব্যাপারে ভবানীপুর জি এস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন, গত ২০১৫ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ফুরবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভাঙ্গার ফলে এ রাস্তার উপর দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীর চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এখন সেখানে নৌকা ছাড়া পারাপার হওয়া যায় না। রাস্তাটি সংস্কার করা অতিব জরুরী।
ফুলবাড়ী গ্রামের মোঃ তরিকুল ইসলাম ইসলাম বলেন, আসন্ন বন্যা মৌসুমের আগে বাঁধটি মেরামত না করার ফলে আমাদের মাঠে কোন আবাদ করতে পারিনি। কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা ও জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দিন দিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। তিনি দ্রুত বাঁধটি নির্মাণের জন্য উর্ধ্বোতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমান বলেন, বন্যায় বাঁধটি বিধ্বস্ত হওয়ার ফলে এলাকার জনগণকে দীর্ঘ দিন থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বাঁধটি সংস্কার করার জন্য রোড এ্যান্ড হাইওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশাকরি কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কার পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৩জুলাই,এম এস জিলানী আখনজী, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) থেকেঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যের ধারক সু-প্রাচীন বিদ্যাপীঠ রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। ১’শ ৫০ বছর যাবৎ জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি।

এ বিদ্যালয়টির আশপাশে গড়ে উঠে শতাধিক গ্রামগঞ্জ, হাট বাজার, মসজিদ, মক্তব, খানকাহ্ ও অগনিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব অগনিত প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে জীবন্ত কিংবদন্তীরূপে কালের স্বাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আজো জ্ঞানের আলো বিতরণ করে চলছে ঐতিহ্যবাহী রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা বীর বিক্রম মানিক্য লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে বিশেষ ভাবে আকর্ষণ করতো বর্তমান রাজার বাজার ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সমূহ। অবসর সময় তার কাটতো এই অ লে। রাজার বাজারের গোড়াপত্তন হয় তার হাতেই। এর সূত্র ধরে কালে-কালে বিকশিত হতে থাকে এই অ ল। ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ব্রিটিশ সরকার শিক্ষার উন্নয়নের জন্য সমগ্র ভারত বর্ষের বিভিন্ন এলাকার প্রয়োজন অনুসারে বিদ্যালয় স্থাপন করে।

এরই অংশ হিসেবে ১৮৩২ সালে আসাম সরকার তৎকালীন সিলেট জেলায় পাঁচটি বিদ্যালয় স্থাপন করে। এ গুলোকে বলা হতো এম ভি স্কুল বা মধ্যবঙ্গ ভার্নাকুলার স্কুল। এই পাঁচটির একটি স্থাপিত হয় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রাজার বাজারে। এই বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার সন নিয়ে এক বিষ্ময়কর তথ্য দিলেন রাজার বাজারের প্রবীন মানুষ হরি গোপাল ঘোষ (বেনু মহাজন) একবার তার মুদি দোকানে বিদ্যালয়ের কিছু পুরাতন কাগজপত্র বিক্রি করা হয়। হঠাৎ একটি কাগজে তার চোখ পড়ে। যেখানে ১৮৬৭ প্রতিষ্ঠা সাল লেখা ছিল।

রাজার বাজারের দা-মদরপুর গ্রামের জমিদার দানবীর উমেশ চন্দ্র দাস গুপ্ত বর্তমান বিদ্যালয়টির জমি দান করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে এ অ লের মানুষ শিক্ষার ছোঁয়া থেকে বি ত ছিলেন। আর এ জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আলো দিতেই তিনি প্রায় ৩ একর জমি দান করেন বিদ্যালয় স্থাপনার জন্য। এর মাধ্যমে দানবীর উমেশ চন্দ্র দাস গুপ্ত রাজার বাজার তথা চুনারুঘাটে শিক্ষার আলোকবর্তিকা জ্বালান। প্রতিষ্ঠানটি রাজার বাজার উচ্চ বিদ্যালয় নামে নামকরণ করা হয়। নয়ন জুরানো বিশাল অট্রালিকার পাশেই রাজার বাজার উপ-সাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য জমি দান করেন।

এলাকার প্রবীন মুরুব্বী সূত্রে জানা যায়, সর্ব প্রথম মধ্যবঙ্গ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন স্নানঘাটের আফসর উদ্দিন, পরবর্তীতে হেড মাস্টার কামিনি পন্ডিত, হেড মাস্টার আব্দুস সত্তার পন্ডিত সহ পর্য্যায়ক্রমে নাম না জানা আরো অনেকেই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬০ সালে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপিঠখানী সরকারি জুনিয়র স্কুলে রূপান্তরীত হয়। পরে ১৯৬৬ সালে নবম ও দশম শ্রেণীর একটি পাবলিক হাইস্কুল গড়ে তোলা হয়। শিক্ষানুরাগী আব্দুল লতিফ চৌধুরীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্ঠায়, বুয়েটের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর ড. এম এ রশীদ এর সহযোগীতায় পহেলা সেপ্টেম্বর ১৯৭৭ সালে সরকারি হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে স্বীকৃতি পায়।

এ উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্নে অনেক গুনী ব্যক্তিদের অবদানও কোন অংশে কম ছিল না। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন এলাকার বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিত্ব মরহুম আব্দুল লতিফ চৌধুরী, মরহুম ড. এম এ রশীদ, মরহুম মোবারক হোসেন, স্বর্গীয় রাজেন্দ্র দাস, স্বর্গীয় শ্রী দেব রায়, হীরন কুমার দাস গুপ্ত, মরহুম জমরুত চৌধুরী সহ নাম না জানা আরো অনেকেই। মরহুম আব্দুল লতিফ চৌধুরী তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ, শ্রম ও মেধা দিয়ে তিনি তিলে-তিলে প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করে গেছেন।

বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন বালিয়ারি নিবাসী আব্দুল আউয়াল, বি এস সি। ১৯৭৬ সালে নিজ এলাকা শ্রীকুটায় একটি নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে তিনি স্ব-সম্মানে বিদায় গ্রহন করেন এবং শ্রীকুটা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন পরবর্তীতে, ঐ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি আরেকটি চাটপাড়া এলাকায় আইডিয়াল নামে একটি হাইস্কুল করেন। (তথ্যসূত্র- ২০১৪ইং সালের সাহিত্য ম্যাগাজিন “আলোড়ণ”)।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন, মো: মনিরুল হক, এরই ধারাবাহিকতায় মো: শাহাবুদ্দিন, আব্দুল জব্বার, গোলাম হোসেন, মসয়ূদুল হাসান, মোহাম্মদ সাইদ, গফফার আহমেদ, আব্দুল মুছাব্বির, অমিয়াংশু শেখর ভট্রাচার্য, গাজীউর রহমান সহ নাম না জানা আরো অনেকেই এবং বর্তমানে ২০১৭ ইং সালের ২০ই মার্চ থেকে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন, মো: বদিউজ্জামান, বি এস এস সম্মান এম এস এস, বি এট।

১৯৯৫ সালে রাজার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সেন্টারের অনুমোদন আনতে ব্যাপক ভূমিকায় ছিলেন, মরহুম সাবু চৌধুরী, আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ, মিরাশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, মো: ওয়াহিদ ভূইঁয়া, মোতাব্বির হোসেন সহ নাম না জানা গন্যমান্যব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।

এ প্রতিষ্ঠানের অনেক ছাত্র/ছাত্রী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তৎকালে বিদ্যালয়টি এতটাই প্রসিদ্ধ ছিল যে, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রাজার বাজার এলাকার বাইরে থেকেও অনেক শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে পড়তে আসতো। আগে এ অ লের রাস্তা ভালো ছিল না। যাতায়াতের জন্য গাড়ি কিংবা রিক্সাও ছিল না। ফলে দূর দূরান্ত থেকে এমনকি ১৫/২০ মাইল দূর থেকেও পায়ে হেঁটে চাত্র/ছাত্রীরা এ বিদ্যালয়ে পড়তে আসতো। কম সংখ্যক ছাত্ররা বাইসাইকেল যোগে আসতো। তবে আমু-নালুয়া চা বাগানের ছাত্র/ছাত্রীরা শুধু ইঞ্জিল চালিত ট্রাক্টর দিয়ে আসতো, বর্তমানেও তারা আসে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি এক শিফটে পাঠদান হয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক হাজার। বিদ্যালয়ের সামনে রয়েছে সুবিশাল খেলার মাঠ।

বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো: বদিউজ্জামান জানান. এখনো এ এলাকায় শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে। শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে যে দানবীররা প্রতিষ্ঠানটি করে গেছেন ও যাদের অবদানের ফলে প্রতিষ্ঠানটি হয়েছে তারা প্রয়াত হলেও যুগ-যুগ ধরে তারা অমর এবং চির স্বরণীয় হয়ে থাকবেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটবাসী তথা সারাবাংলার দেশ বাসীর হৃদয়ে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৩জুলাই,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পৌরসভার ৩টি বাজার উত্তর বাজার, দক্ষিণ বাজার, মধ্য বাজারে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়ে।

উল্লেখিত বাজারের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় পৌরবাসীকে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হয়। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এই দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করলেও স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন কল্পে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। সড়কের উপর পানি জমে থাকায় এই ভোগান্তি দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। পৌর শহরের ৩টি বাজারের সড়কগুলোতে আস্তর ও ইটগুলো উঠে যাওয়ায় ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমে যায়। একই সাথে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ না করায় কাঁদা পানিতে একাকার হয়ে পড়ে।

এ পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা পর্যান্ত নয়। সড়কের যে পাশে ড্রেন রয়েছে তার বেশির ভাগ ময়লা-আবর্জনায় আটকে গিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রতিবন্ধকতা থাকায় জলাবদ্ধতা বেশি সৃষ্টি হয়। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী সহ পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
দীর্ঘ বছর ধরে এই জলাবদ্ধতার দূর্ভোগ বিরাজ করলেও প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। এক দিকে ময়লা পানি আবার অন্যদিকে বৃষ্টির পানি মিশে গিয়ে দূর্গন্ধ সৃষ্টি করছে। ফলে পঁচা পানির গন্ধে বাজারে টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুনারুঘাট পৌর মেয়র নাজিম উদ্দিন শামছু বলেন, চুনারুঘাটের উত্তর বাজারে ড্রেনেজ নির্মাণ করা যাচ্ছে না।কারণ রাস্তার উভয় পাশের জমি দাতারা পানি বন্ধ করে দিয়েছেন। আমি অনেকবার তাদেরকে নোটিশ করার পরও তারা পানি যাওয়ার পথ খুলে দিচ্ছেন না। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমি স্থানীয় সরকার মন্তণালয়ে জানিয়েছি।

“সরকারী,বেসরকারী ত্রান ও সহায়তা কমে আসছে,বন্ধ হয়ে গেছে খোলা বাজারে চাল বিক্রি”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৩জুলাই,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  জেলার হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবার গুলোর মাঝে আতংক বিরাজ করছে। এক ফলসী বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাবার পর থেকেই জেলার তাহিরপুর,দিরাই,শাল্লা,জগন্নাথপুর,ধর্মপাশা,জামালগঞ্জ,বিশ্বম্ভরপুরসহ ১১টি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে সরকারী ও বেসরকারী সহযোগীতা দিয়ে আসছে যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। সেই সহায়তাও এখন শেষের পথে। ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে খোলা বাজারে চাল বিক্রির কার্যক্রম।

জুলাই মাসের শেষে হবে প্রান্তিক,দরিদ্র ও ক্ষুদ্র চাষীদের জন্য নেওয়া সরকারের বিশেষ বরাদ্ধ ভিজিএফ কার্ডের কার্যক্রম। সরকারী সহায়তার পাশা পাশি বেসরকারী ত্রান সহায়তাও দিন দিন কমে আসায় উৎবেগ আর উৎকণ্ঠায় আছে ক্ষতিগ্রস্থ হাওরাবাসী।

সহয়াতা বন্ধ হলে হাওরপাড়ে অভাব আরো প্রকট আকার ধারন করবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। জানাযায়,অকাল বন্যায় জেলায় ৯০শতাংশ বোরো ধান পানিতে তুলিয়ে যাওয়ার পর সরকার ভাবে গত ১০এপ্রিল ৪২টি পয়েন্টে ১৫টাকা কেজি ধরে চাল বিক্রিয় শুরু হয়। ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার জন্য এর আরো ৬৮টি ওএমএস কেন্দ্র চালু করা হয়।

এসব কেন্দ্রে সাপ্তাহে ৬দিন শনিবার ছাড়া প্রতিদিন ১৫টাকা কেজিতে ২শত মানুষের মধ্যে ১টন চাল বিক্রি করা হয়। ৩০জুন ওএমএস চাল বন্ধ হয়ে গেছে। গত এপ্রিল মাসের ২৩তারিখে ৩মাসের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ ঐসব কৃষকদের জন্য সরকারের বিশেষ বরাদ্ধ ভিজিএফ কার্ড চালু হয়। এতে প্রতিটি পরিবার ৫শত টাকা ও ৩০কেজি চাল সহায়তা পাচ্ছে।

এই সহায়তাও বন্ধ হবে ৩০জুলাই। জেলার তাহিরপুর উপজেলার বীরনগড় গ্রামের সাদেক আলী,শফিক,সবুজ,সোহাগ মিয়া জানান,সরকার যে সাহায্য দিছে তার মধ্যেও চেয়ারম্যান ও মেম্ভারগন করেছে চরম দূর্নীতি। এর পরেও আমরা সরকারী সাহায্য পাইয়া কোন রখমে জীবন চলাইছি। এই সাহায্য বন্ধ হইলে সামনের দিন গুলো কিভাবে পার করবো এই দুশচিন্তায় আছি।

আগামী ফসল রোপন ও উঠার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত সরকারী সহায়তা বাড়ানোর দাবী করতাছি। দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের দুমাল গ্রামের ইসলাম উদ্দিন,রামসিমপুর গ্রামের তারা মিয়া,আলী আজগড় জানান,এই বার চৈত্র মাসেই বানের পানিতে কষ্টের ফলানো বোরো ধান ডুবাইয়া সব শেষ করে দিছে। এরপর থেইকা আর কাজের ব্যবস্থা নাই। সরকারী যে চাল দেয় তাও এক বারেই বাজে গন্ধ করে তার পরও কোন রখমে খাইয়া না খাইয়া দিন পার করতাছি। না পাইলে খাইমো কি। এখন সরকারী সহযোগীতা না হইলে আমরা চলমো কেমনে। সাহায়্য বাড়াইতে হইব নাইলে বাচঁমু না। অপু,সাজিদ মিয়া,করিম মিয়া সহ জেলার বিভিন্ন হাওরপাড়ের লোকজন জানান-আমরার চাষাবাদের গরু আর গোলা (ধান রাখার পাত্র) এখন শূন্য।

সরকারী সাহায্য যা পাইছি তা কোন রখমে চলছি। ওএমএস বন্ধ হইয়া গেছে। শুনতাছি সামনে নাকি ভিজিএফ কার্ড বন্ধ হইয়া যাইব তাইলে কেমনে চলমো। এই বার হাওরে মাছও নাই যে জাল দিয়া মাছ ধইরা-বেইচ্ছা খাবার যোগার করমু। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুস পুরকাস্থ টিটু সহ জেলার সচেতন মহল মনে করেন-সরকারী সহযোগীতা বন্ধ না করে সময় ও সহায়তা বাড়ানো খুবেই প্রয়োজন। সাথে সাথে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার। হাওরে এখন ত কোন কাজ নাই,কাজ না থাকলে ঐসব ক্ষতিগ্রস্থরা তাদের জীবন চালাবে কি ভাবে। আগামী বোরো ধান রোপন ও কাটার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। তা না হলে ক্ষতিগ্রস্থদের কষ্টের শেষ থাকবে না।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান-সরকারী ভাবে দেওয়া ওএমএস চাল বন্ধ ও ভিজিএফ কার্ডের সময়ও শেষের পথে এই সুবিধা বন্ধ হলে চরম দূভোর্গে পড়বে হাওরবাসী। কারন হাওরে লাখ লাখ কৃষক পরিবার এমনিতেই এখন বেকার সময় পার করছে। কাজ না করলে টাকা আসবে কোথা থেকে।

আর টাকা না থাকলে খাবারও জোটবে না। ওএমএস ও ভিজিএফ কার্ডের সময় ও সহায়তা বাড়ানো খুবেই প্রয়োজন। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম জানান,সরকারী সহায়তার মেয়াদ শেষ হলেও আমরা সহায়তা বাড়ানোর জন্য আবেদন জানিয়েছি। আমরা সবাই সব সময় হাওরে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পাশে আছি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৩জুলাই,ডেস্ক নিউজঃ সৌদির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নাজরান প্রদেশে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের সবাই ভারত এবং বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক। তবে এদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি সে বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত হয়েছে আরো কমপক্ষে ৬ জন।

বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৪ টার দিকে দেশটির নাজরানে একটি জানালাবিহীন বাড়িতে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে।

সৌদির নাজরান সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অগ্নি নির্বাপন কর্মীরা একটি পুরনো বাড়ির আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বাড়িতে বাতাস চলাচলের জন্য কোনো জানালা ছিল না। ভবনটিতে দমবন্ধ হয়ে ১১ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরো ছয়জন। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতরা সবাই ভারত এবং বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক।তাৎক্ষনিক  নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করার কথা ঘোষণা করেছেন প্রদেশিক গভর্নর প্রিন্স জেলুবি বিন আবডেল আজিজ বিন মুসায়েদ। কমিটিতে মিউনিসিপালটি, দমকল বাহিনী,শ্রম মন্ত্রণালয় ও সমাজ কল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তাদের রাখা হবে বলে জানান প্রদেশিক গভর্নর।

এদিকে, একই দিনে তাবুকের একটি ফার্মে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ১০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের ওই ফার্মের আগুন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তাবুকের মুখপাত্র লেফট্যানেন্ট হুসাম আল মাসুদি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৩জুলাই,চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ  চুনারুঘাটে নিখোঁজের ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি স্কুলছাত্র ইকরামুল আলম (১৪)। জানা যায়, চুনারুঘাট পৌরসভার পূর্ব বড়াইল গ্রামের খুর্শেদ আলমের পুত্র ইকরামুল আলম (১৪) গত ০৭ জুলাই শুক্রবার রাত ৮টায় পার্শ্ববতী বাসায় যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বাহির হয়ে আর বাসায় ফিরে নি।

তার মাতা চুনারুঘাট আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক শিউলী আক্তার জানান, তার একমাত্র ছেলে ইকরামুল আলম ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। সে শায়েস্তাগঞ্জে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করত। গত ৭ জুলাই শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সে পার্শ্ববতী বাসায় যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বাহির হয়ে আর বাসায় ফিরেনি। রাত অনেক পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করে কোথাও তাকে না পেয়ে তার মাতা চুনারুঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার ডায়েরী নং- ৫২৮/১৭, তারিখ- ০৯/০৭/২০১৭।

সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মা সহ পরিবারের লোকজন পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন। নিখোঁজ ইকরামুল আলমের গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা অনুমান ৫ ফুট ৪ ইি , হালকা পাতলা গড়নের অধিকারী, মাথার চুল কালো ছোট, মুখমন্ডল গোলাকার, পরনে ছিল হাফহাতা কালো গেঞ্জি ও জিন্সের প্যান্ট। কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি তার সন্ধান পেলে মাতা শিউলী আক্তার- ০১৭২১-৯০৬৭১১ নম্বর মোবাইলে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তার মাতা।

বুধবার দেশের জাতীয় সংসদ ভবনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৩জুলাই,ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চীন থেকে সাবমেরিন ক্রয় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক একটি সিদ্ধান্ত। এর ফলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে না।

বুধবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবমেরিন দুটি নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে-যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও উন্নত করেছে।

সরকার দলের মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে দেশে আইনশৃঙ্খলার যথেষ্ট উন্নয়ন ঘটেছে এবং দেশের জনগণ সুফল পেতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে পুলিশের আলাদা উপযোগী ইউনিট গঠন করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও  জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশ ও দেশের জনগণের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে তিনি প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা আমার কাছে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নয়। মানুষের কল্যাণের জন্য যেকোনো অবস্থা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। আমি নিজের ভাগ্য কী করে গড়ব, সেই চিন্তা কখনো করিনি।

সরকারি দলের সদস্য মো. আয়েন উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মোট ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার ২২৯ জন কর্মী বিদেশ গমন করেছে। এ খাতের গুরুত্ব অপরিসীম বিবেচনায় বিদ্যমান শ্রম বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন নতুন শ্রম বাজার সৃষ্টির ওপর জোর দেয়া হয়েছে।