Saturday 22nd of July 2017 10:38:46 PM

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০জুলাই,ডেস্ক নিউজঃ জম্মু-কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর জিপের সামনে যে যুবককে মানব ঢাল করে বেঁধে ঘোরানো হয়েছিল তাকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন।

আজ সোমবার গণমাধ্যমে প্রকাশ, কমিশনের পক্ষ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে ওই অর্থ ফারুক আহমেদ দার নামে নিগৃহীত যুবকের হাতে তুলে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিলাল নাজকি বলেছেন, ‘ফারুক আহমেদ দারকে ‘মানব ঢাল’ তৈরি করে তার প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ওই ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। সেজন্য জম্মু-কাশ্মির সরকারকে ওই আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে।’

বিচারপতি বিলাল নাজকি বলেন, ‘ফারুকের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে সারা জীবনে তিনি তা ভুলতে পারবেন না। দেশীয়, আন্তর্জাতিক আইনে একজন অপরাধীর সঙ্গেও এমন ব্যবহার করার অধিকার নেই। সভ্য সমাজ মানুষের প্রতি এমন আচরণ মেনে নিতে পারে না।’ এটা এক ধরণের মানসিক নির্যাতন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর জাস্টিস অ্যান্ড প্রোটেকশন অব হিউম্যান রাইটস সংগঠনের চেয়ারম্যান আহসান অন্তুর আাবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন ওই নির্দেশ দিয়েছে।

কাশ্মিরে পাথর ছোঁড়া বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে গত ৯ এপ্রিল সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় ফারুক আহমেদ দার (২৬)কে।

বাডগামের সিতাহরন গ্রামের বাসিন্দা ফারুক আহমেদ দারকে সেনাবাহিনীর জিপের বনেটে বেঁধে ৯টি গ্রামে ঘোরানোসহ মারধর করা হয়।

বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মেজর লিতুল গগৈ সাফাই দিয়ে বলেছিলেন, সে সময় তার দায়িত্ব ছিল উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তার দলের সদস্যদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা।

পরে মানব ঢাল করে বেঁধে ঘোরানো কর্মকর্তা লিতুল গগৈকে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত ‘কমেন্ডেশন কার্ড’ দিয়ে পুরস্কৃত করেন।পার্সটুডে

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০জুলাই,বেনাপোল প্রতিনিধি : গ্রীণলাইন পরিবহনের ঢাকা কোলকাতা দু’টি সৌহার্দ যাত্রীবাহী বাসের সরাসরি চলাচলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার বেলা ১২ টার সময় ভারতীয় গ্রীণলাইন পরিবহনের দুটি বাস হরিদাসপুর চেকপোষ্ট দিয়ে বেনাপোল চেকপোষ্টে প্রবেশ করে। ভারতীয় শ্যামলী-সৌহার্দ্য পরিবহনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন চুক্তি হয়েছে গ্রীণলাইন পরিবহনের সাথে।
ভারতীয় গ্রীণলাইন পরিবহনের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর সঞ্জয় দত্ত ও তার সহোযোগী পার্টনার আলী হোসেন বাস দুটিতে ২২ জনের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে কোলকাতা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে। বেনাপোল চেকপোষ্টে গাড়ি দু‘টি বেলা ১২ টার সময় প্রবেশ করলে বাংলাদেশ গ্রীণলাইন পরিবহনের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আলাউদ্দিন, বেনাপোল বাজার গ্রীণলাইন পরিবহনের ব্যবস্থাপক রবীন্দ্রনাথ ও চেকপোষ্ট কাউন্টারের ম্যানেজার জসিম উদ্দিনের নের্তৃত্বে গাড়ি দু‘টিতে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেয়।
নতুন এ সৌহার্দ্য বাস দু’টিতে কোলকাতা থেকে ঢাকার ভাড়া ধার্য্য করা হয়েছে ভারতীয় এক হাজার চার শত (১৪০০) টাকা এবং ঢাকা থেকে কোলকাতার ভাড়া ধার্য করা হয়েছে বাংলাদেশী এক হাজার সাত শত (১৭০০) টাকা
বাংলাদেশের গাড়ির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হাজী আলাউদ্দিন জানান, ভারতের করুণাময় সল্টলেক থেকে গাড়ি দু‘টি সোমবার বুধবার ও শুক্রবার সপ্তাহে তিন দিন ছেড়ে আসবে। বাংলাদেশের ঢাকা কমলাপুর থেকে শনি, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার ছেড়ে যাবে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০জুলাই,নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল জেলা পরিষদের ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের প্রায় ২৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১০ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সোহরাব হোসেন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বাজেট উপস্থাপন করেন জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী মোঃ কামরুল আরিফ। এসময় জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত নারী ও সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে আয় দেখানো হয়েছে ২৪কোটি ৪৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯৮৭ টাকা এবং ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৯৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ঘাটতি রয়েছে ১কোটি ৪৮ লাখ ৬৫ হাজার ১২ টাকা।

বাজেটে আয়ের খাত ধরা হয়েছে বিভিন্ন খাতের নিজস্ব তহবিল ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা,  সরকারী অনুদান ১৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, বিভিন্ন খাতে আয় ৪৭ লাখ টাকা, প্রারম্ভিক স্থিতি ৫ কোটি ৩০ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৭ টাকা।

ব্যায়ের খাত ধরা হয়েছে সাধারণ সংস্থাপন ও অন্যান্য সংস্থাপন ব্যয় ৪ কোটি ৬২ লাখ ২৫ হাজার টাকা,  উন্নয়ন খাতে ব্যয় (সরকারী অনুদান) ১৫ কোটি ৫লাখ টাকা ও বিভিন্ন খাতে ব্যয় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি ১কোটি ৪৮ লাখ ৬৫ হাজার ১২ টাকা।

বাজেট সভায় চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সোহরাব হোসেন বিশ্বাস বলেন,  নির্বাচিত জেলা পরিষদের সদস্যদের সম্মানী ও অন্যান্য ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারী বরাদ্দ আরো বাড়ানো প্রয়োজন।

বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কাজের সাথে সদস্যদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য জেলা পরিষদে বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০জুলাই,সদেরা সুজন,সিবিএনএ কানাডা থেকেঃ গতকাল শনিবার মধ্যরাতে সমাপ্তি ঘটেছে মন্ট্রিয়লের সবচেয়ে বৃহৎ উৎসব, পর্দা নামলো  আন্তর্জাতিক জ্যাজ ফেস্টিভ্যালের। দশদিন ব্যাপী ৩৮তম জ্যাজের দশম দিন শনিবার, উইক এন্ডে  আবাহাওয়া খুবই সুন্দর থাকায় জ্যাজ ফেস্টিভ্যালে মন্ট্রিয়লের প্লাস দ্যা আটসের মঞ্চগুলো ছিলো সঙ্গীত পিপাষু লাখো মানুষের আনন্দ উচ্ছ্বাস।

গত ২৮ জুন থেকে শুরু হয়েছিলো এই বিশাল ফেস্টিভ্যালটি চলছে গতকাল  মধ্যরাত পর্যন্ত। প্রায় ছয় শতাধীক কনসার্ট  অনুষ্ঠিত হয়েছে উৎসব স্থলের বিশটি  বিশাল বিশাল মঞ্চ থেকে। নামি-দামি খ্যাতিনামা শিল্পীদের শোগুলো বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি ইনডোরের বিশাল হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গীতানুষ্ঠান।

দশদিন ব্যাপী এই ফেস্টিভ্যালে দু/তিনদিন আবহাওয়া অনকুলে না থাকায় এবং বৃষ্টি হওয়াতে কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে। তার পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪৬১  নামকরা ব্যান্ড দলের শিল্পীরা উপস্থিত হয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন ঠিক তেমনি বিভিন্ন দেশ ও শহর থেকে হাজার হাজার সঙ্গীত পিপাষুরা উপস্থিত হয়ে সঙ্গীতের তালে তালে নেচেছেন, সঙ্গীত আর যন্ত্রের যাদুকরী স্পর্শে মুগ্ধ হয়েছেন শ্রোতাদর্শকরা।

এববছর প্রতিদিনই মানুষের ঢল নেমেছে উৎসবে, বিশেষ করে ১ জুলাই কানাডার ১৫০তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে উৎসব এলাকা রঙিন সাজে সাজানো হয়েছিলো। কানাডার আদিবাসীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশেষ আদিবাসী নৃত্য ও কর্নসাটের আয়োজন করা হয়। পুরো সপ্তাহেই রাত সাড়ে ন’টায় মূল মঞ্চ থেকে Discotheque,  Betty Bonifassi, Valaire, Bixiga 70, Walk off the Earth, Pokey Lafarge, The Brooks, Pat Thmas & Kwashibu Area Band, Anderson Paak  কনসার্টগুলোতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিলো।

এই শো চলাকালে পাশের সব ক’টি মঞ্চতে বড় বড় স্ক্রীনে তা পরিবেশন করা হয়। লাখ লাখ সঙ্গীত পিপাষুদের মিলনমেলায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শত শত সদস্যরা হিমশিম খেতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতিদিন বিকাল থেকে বিভিন্ন মঞ্চ থেকে বিভিন্ন দেশের বেন্ড শিল্পীরা গান পরিবেশন করে।

 সবাই অপেক্ষায় থাকবে আগামী বছরের জন্য। এবছর ফেস্টিভ্যালে বিশ লাখেরও বেশী মানুষের সমাগম হয়েছে বলে কতৃপক্ষ বলেছেন। গতকাল ৩৮ তম জ্যাজ ফেস্টিভ্যালে ৮টি অ্যাওয়ার্ড  দেওয়া হয়েছে। ২০০৬ সালে ২৭ তম জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল থেকে এই অ্যাওয়ার্ড  দেওয়া শুরু হয়। বিশ্বের নামিদামি খ্যাতিনামা শিল্পদেরকে এই  অ্যাওয়ার্ড  দেওয়া হয়।

এবছরের জ্যাজ ফেস্টিভ্যালে ইনডোর-আউটডোরে একুশটি ছোট-বড় মঞ্চে ছয় শতাধীক  ইভেন্ট হয়েছে।  ত্রিশটি দেশ থেকে খ্যাতিনামা সঙ্গীত শিল্পীরা উপস্থিত হয়েছিলেন মন্ট্রিয়লের আন্তর্জাতিক জ্যাজ ফেস্টিভ্যালে। ৩০০০ জন শিল্পী-সহ শিল্পী এবং পাঁচ শতাধীক জন যন্ত্রশিল্পী অংশগ্রহণ করেছিলো। ছয়টি প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে ফেস্ট চলাকালীন সময়ে। ৩১টি কর্নসাটের টিকিট নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বিক্রি হয়ে যায়!  ৩৭০ জন অনুমোদিত সাংবাদিক এবং ১৬ টি দেশের ১০০ জন বিদেশী সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন এ ফেস্টিভ্যালে।

উত্তর আমেরিকা,যুক্তরাজ্য ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ  media coverage  করেছে। সেই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে  Brazil, Germany, Indonesia, Belgium, India, Turkey, Switzerland, Pakistan, Italy, Peru, Romania, Serbia, Lebanon, Poland, Argentina, New Zealand, Haiti, Africa, the Netherlands, China, Japan, Bangladesh, Israel, Spain, Russia and Nicaragua. বিভিন্ন দেশের মিডিয়াগুলোতে আড়াই হাজার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংগীত উতসব হিসেবে গীনিজ বুক অফ রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে।

এবছর ফেস্টিভ্যালে ৫৫ হাজার লিটার বিয়ার,  বিশহাজারের বেশী জ্যাজ আইটেম  বিক্রি হয়েছে। ৯৬৩ জন অস্থায়ী কর্মচারীরা কাজ করেছেন।

গতকাল  মন্ট্রিয়লের এই বিশাল গানের আসর শেষ হলেও মন খারাপের কিছু নেই। আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে জাস্ট ফর লাফস উৎসব। এই হাসির উৎসবটি দেখার মতো। তিন সপ্তাহব্যাপী চলবে এই ফেস্টটি। মন্ট্রিয়লের ডাউন টাউনের প্লেস দ্যা আটসের উৎসবস্থলে। রকমারি আয়োজনে দমফাঁটা হাসির রাজ্যে একবার ঘুরে আসার জন্য মন্ট্রিয়ল প্রবাসীদেরকে অনুরোধ করছি। ভালো লাগবে। দেখা হবে ফের উৎসবস্থলে। ​

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০জুলাই,এম এম সামছুল ইসলাম,জুড়ী (মৌলভীবাজার) থেকেঃ অকাল বন্যায় মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়লেও এখন আস্তে আস্তে পানি কমতে শুরু করেছে। প্রথমে ত্রানের জন্য হাহাকার করলেও এখন বিভিন্ন রোগ বালাইসহ দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। এ সংকটরে কারণে পরিবারের খাবার রান্নাসহ পানি পান করতে হাকালুকি হাওর পাড়ের মানুষ এখন মহা সমস্যায় পড়েছেন।

তাদের মধ্যে সচেতনরা কষ্ট করে হলেও নৌকাযোগে  অনেক দূর (টিলা বাড়ি) থেকে তা সংগ্রহ করতে হিমশিম  খেতে হচ্ছে। তা থেকে পরিত্রাণ পেতে কতদিন যে সময় লাগবে এখন তাদের একমাত্র অপেক্ষার পালা। পানি কমার পরপরই শুরু  হয়েছে মানুষের মধ্যে প্রচন্ড জ্বর,নিউমোনিয়া, বসন্ত, কাশি, হাপানী, ডায়রিয়া, চর্মসহ পানিবাহিত নানা রোগেআক্রান্ত হচ্ছে। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হওয়ায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এ সমস্যায় পড়েছেন।

সরেজমিন হাকালুকি পাড়ের সোনাপুর গ্রামের বজলু মিয়া (৬৫), শাহাপুর গ্রামের নাজমুন নাহার  ছকিনা (৪৫), নিশ্চিন্তপুরের সামছুল মিয়া (৬০), বেলাগাঁও গ্রামের শাহীন মিয়া (৩৫), ভূয়াই গ্রামের নূরুল মিয়া (৭০), বাছিরপুর গ্রামের ছগর আলী (৫৫), জাঙ্গিরাই গ্রামের আব্দুল ছফর (৮১), শাহগঞ্জ গ্রামের স্কুল ছাত্র আশরাফুল ইসলাম (১৪) সহ অনেকই তাদের কন্ঠে বলেন, “আখতা মেঘ দেওয়ায় আমরার বাড়িঘরসহ আশপাশ পানিত ডুবি গেছে। তুড়া তুড়া ফয় ফসল ক্ষেত করছিলাম, ইতাও সব পানিয়ে খাইলিছে।

এখন আমরা কিতা খরতাম, আখতা আখতা বাড়িত নৌকা লইয়া কেউ কেউ তোড়া তোড়া চাউল,তেল দেইন। ইতা আমরা খান রান্দিয়া খাইতাম, খাইয়া না খাইয়া কুনো মতে দিন কাটলেও এখন তাফ, ডায়রিয়াসহ হকলজাত বেমারে দেখা দিছে। টেকা-পয়সা নাই, কিতা দিয়া ডাক্তর দেখাইমু ও দোয়াই লইমু, কেউত আমরারে টেকা দেয়না। আর পানির কতা আর কিতা খইতাম, ভালা পানি খাইতে অইলে বহুত দূরই যাওয়া লাগে।আমরার তো নৌকাও নাই। কলাগাছ দিয়া বোর বানাইছি।

এ ব্যাপারে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু চৌধূরী বলেন, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১টি করে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল টিমটি বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও উপজেলায় একটি টিম সার্বক্ষনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে জুড়ীতে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন জুড়ী উপজেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

মদ, গাজাঁ, জুয়াসহ অপরাধ প্রবণতা কঠোর হস্তে দমনের আহবান

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০জুলাই,নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:নবীগঞ্জ উপজেলার আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা আজ সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদের হল রুমে  অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জীতেন্দ্র কুমার নাথ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা, নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ইকবাল হোসেন, উপজেলা জাসদের সভাপতি আব্দুর রউফ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুর উদ্দিন (বীর প্রতিক), উপজেলা জাপা সভাপতি ডাঃ আবুল খয়ের, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ মিলু, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নারায়ন রায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক,পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আব্দুল বারী, ইউপি চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান, জাবেদ আলী, আশিক মিয়া, সত্যজিৎ দাশ, আবু সাঈদ এওলা, বজলুর রশিদ, ছাইম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, আবু সিদ্দিক, সাজু আহমদ চৌধুরী, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান মুন্না, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল, মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী সইফা রহমান কাকলী  প্রমূখ।

সভায় নবীগঞ্জের কানাইপুর গ্রামে একটি হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে বারিক বাহিনীর হামলা, লুটতরাজসহ বিভিন্ন অপকর্ম বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া, উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে মাদক, জুয়া, চুরি, ডাকাতি, খুন, অপহরন, মিথ্যা মামলা প্রবণতাসহ যে কোন অপরাধ ও অপরাধ প্রবণতা হ্রাস করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া নবীগঞ্জ শহরের যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং উপজেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা, দিনারপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মদ, গাজাঁ, জুয়া কঠোর হস্তে দমনের জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি আহবান জানানো হয়।

এছাড়াও নবীগঞ্জ- রুদ্রগাম সড়কের সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের বিরোধ নিরসনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০জুলাই,মতিউর রহমান মুন্না,নবীগঞ্জ থেকেঃহবিগঞ্জের নবীগঞ্জ শহরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবতী সন্তান প্রসব করেছে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ পুরো উপজেলা জুড়ে বেশ তোলপাড় চলছে। নবজাতকটির পিতৃ পরিচয় পাওয়া যায়নি। ভারসাম্যহীন এই যুবতীর ইজ্জত নষ্ট করায় অনেকেই লম্পটকে ধিক্কার জানিয়েছেন এবং এ ঘটনায় অসুস্থ মস্তিস্কের পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, অনেক দিন ধরেই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান নাম-পরিচয়হীন ওই যুবতী, যাকে সবাই ‘পাগলী’ নামেই ডাকে। কেউ জানে না তার কোন নাম ঠিকানা। গত ৬ জুলাই ভোরে নবীগঞ্জ শহরের ওমর ফারুক মসজিদের পাশে হঠাৎ পাগলী’র চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যান। সকাল ৬ টার দিকে পাগলী যুবতীর গর্ভ থেকে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক ছেলে সন্তান। এসময় যুবতীর শারিরিক অবস্থা খারাপ দেখে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

পরে পাগলীর সন্তান প্রসবের খবর ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ভিড় জমায় পাগলীকে দেখার জন্য। এ অবস্থায় হবিগঞ্জের নিঃসন্তান এক দম্পত্তি এই নবজাতককে দত্তক নেন। তবে মানসিক ভারসাম্যহীন এই যুবতী কোন লম্পটের লালসার শিকার হয়েছেন তা কেউই জানেন না এমনকি সবাই শুধু ধিক্কারই জানিয়েছেন।

এদিকে, এক পথ শিশু জানিয়েছে কয়েকদিন পূর্বে স্বাস্থ্যবান ও কম বয়সী ফর্সা রঙ্গের এক ছেলে ওই যুবতীকে ফুসলিয়ে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে দেখেছেন তিনি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০জুলাই,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার বশিনা নামকস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় সেমকো কোম্পানির সেলস অফিসার মোজ্জামেল হোসেন (২৫) নিহত হয়েছেন। এঘটনায় স্থানীয় জনতা তাৎক্ষনিক ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। সোমবার (১০ জুলাই) সকাল ৯ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের বাড়ী সিলেটের শাহপরান বলে জানা গেছে। তিনি সেমকো কোম্পানীতে হবিগঞ্জে কর্মরত ছিলেন।
সকালে কোম্পানীর কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে বাহুবল যাচ্ছিলেন। স্থানীয় সুত্র ও পুলিশ জানায়, হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর সার্কেল) এস এম রাজু আহমেদ সকালে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে একটি প্রোগ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে বশিনা নামকস্থানে মোটরসাইকেলটি একটি অারএফএল গাড়ীর সঙ্গে ধাক্কা লেগে পুলিশের পিকঅাপে পড়লে এতে মোটর সাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। তাকে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গাড়ী করে হবিগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ- অন্য গাড়ীর সঙ্গে নয়, পুলিশের গাড়ীর সঙ্গে ধাক্কা লেগে যুবকটি মারা গেছে। এঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা দুই ঘন্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে রাখে। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যান বাহন আটকা পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসিম উদ্দিন, শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জসিম উদ্দিন, স্থানীয় ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল, শ্রমিক নেতা আসকর আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তারপর সকাল ১১টায় মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান নিহতের বিষয়টি  নিশ্চিত করে বলেছেন,উত্তেজিত জনতা মহাসড়ক বন্ধ করে রাখলে পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান উত্তেজিত জনতা শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০জুলাই,জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,সুনামগঞ্জঃ অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাঁচার তাগিদে সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে ভাসান পানিতে জলাশয় উন্মুক্ত করার দাবী জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। রবিবার দুপুরে  সুনামগঞ্জ আব্দুস জহুর সেতু চত্ত্বরে বাঁচার উপায় নাই, মাছ ধরেই বাঁচতে চাই এই স্লোগানে মানববন্ধন পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও  কমিউনিস্ট পার্টির সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাস, আ্যাডভোকেট এনামুল হক, কৃষক আব্দুল গণি, ধর্মপাশা উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বিপ্লব ভৌমিকপ্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অকাল বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও চেয়ারম্যান মেম্বাররা ত্রাণ নিয়ে না নাটকীয়তা করছে। তাদের দুর্নীতির ফলে ত্রাণ সহায়তা থেকে প্রকৃত কৃষকেরা বি ত।

ওইসব চেয়ারম্যান মেম্বারদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দেয়া হলেও অভিযোগগুলো আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও হাওরের জলমহালগুলোতে মাছ ধরতে নিষেধ করছে ইজারাদাররা। তাদের নির্ধারিত সীমানার বাহিরেও এলাকার জেলে সম্প্রদায় লোকসহ সাধারণ মানুষকে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখছে।

তাই হাওরপাড়ের কৃষকের একমাত্র বাঁচার উপায় রয়েছে জলমহালের মাধ্যমে। হাওরের জলমহালগুলো ইজারা না দিয়ে উন্মুক্ত করে দিলে জেলে সম্প্রদায় লোকসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরাও বাঁচার উপায় খুঁজে পাবে। এজন্য জলমহালগুলোর ইজারা বাতিল করে উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবী জানানো হয় মানববন্ধনে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০জুলাই,চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ চুনারুঘাট উপজেলার ৫নং শানখলা ইউনিয়নের রঘুনন্দন বস্তি এলাকার আব্দুল শহীদের পুত্র আবুল কালাম (৩০) কে সিআর  ২৩৫/০৬ এর মামলার পলাতক ওয়ারেন্ট আসামী ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্তকে গ্রেফতার করেছে চুনারুঘাট থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রঘুনন্দন বস্তি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে আসে।

গতকাল রবিবার রাত ৮টার দিকে চুনারুঘাট থানার এএসআই আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ৬মাসের সাজাপ্রাপ্ত আবুল কালামকে গ্রেফতার করে।

অন্যদিকে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী উপজেলার একই ইউনিয়নের পঞ্চাশ গ্রামের অলি মিয়ার পুত্র নাজিউর রহমান কিবরিয়া (৩৫) কে গ্রেফতার করে এএসআই আব্দুল্লাহ।তার মামলা  নম্বার জিআর-নং ১৭/০৯।

গ্রেপ্তার আবুল কালাম

অপরদিকে চুনারুঘাট উপজেলার ৫নং শানখলা ইউনিয়নের ছাদেকপুর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেন ওরপে ইয়াকুব আলীর পুত্র সফিক মিয়া (২৮) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

চুনারুঘাট থানার এএসআই মোস্তফা ও এএসআই আলমাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাকির মোহাম্মদ বাজার থেকে রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শফিক মিয়াকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শফিক মিয়ার বিরুদ্ধে সিআর ২/২০০০ সালের বন মামলার ৬মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামী ছিল। এতদিন পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। চুনারুঘাট থানার ওসি কে এম আজমিরুজ্জামান সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের  গ্রেপ্তারের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।