Saturday 23rd of September 2017 04:36:14 AM

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃসুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এনজিও সংস্থার ইরার ত্রানের টুকেন দেওয়া কে কেন্দ্র করে দু-গ্রুপের সংর্ঘষে মহিলা সহ আহত ২০জন। গুরুত্বর আহতদের মধ্যে দু-পক্ষের বাবলু তালুকদার (২৫),নির্মল তালুকদার (৩০) ও স্মৃতি তালুকদার (২৫) ও মেহেদী (১৮) কে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য গুরুত্বর আহত জুনায়েদ মিয়া (২০) কে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রের্ফাড করা হয়েছে।

অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়,গত বৃহস্পাতিবার বিকালে উপজেলায় দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ডালিম মেম্বার তার ওয়ার্ডে এনজিও সংস্থার ইরার ত্রানের ১০টি টুকেন দেওয়ার জন্য এই ইউনিয়নের শাহগঞ্জ শ্রীপুর গ্রামের মাজেদ মিয়া কে দায়িত্ব দেয়। মাজেদ মিয়া এই ১০টি টুকেন বিলি করে।

এ নিয়ে একেই গ্রামের অমল তালুকদারের সাথে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তাহিরপুর বাজারে কথা কাটাকাটি হয়। এক প্রর্যায়ে জনের মধ্যে হাতাতির ঘটনা গঠে। এই পর স্থানীয় কয়েকজন মিলে বাজারেই মিমাংশা করে দেয়। এই ঘটনার সূত্র ধরেই দু-পক্ষের লোকজন শুক্রবার সকাল ৯টায় দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে শাহগঞ্জ গ্রামে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের চেষ্টায় ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আসে। এতে ২০জন আহত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাহিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান হাওলাদার এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,এখনো কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে আসে নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,হাবিবুর রহমান খানঃ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া- জুড়ী-বড়লেখা আঞ্চলিক মহা-সড়কের ১০ স্থান বন্যা তলিয়ে যাওয়ায় ৩০ জুন থেকে এ রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে এই ৩ উপজেলার জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হু হু করে বাড়তে থাকে জিনিসপত্রের দাম। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা জীবনের ঝুকি নিয়ে ২০ টাকা ভাড়ার দুরত্ব ১০০-১৫০ টাকায় ট্রাক্টর, পিকআপ ও পাওয়ার টিলারে ফাড়ি দিচ্ছেন।দীর্ঘদিন ধরে জানসাধারণ চরম দুর্ভোগের শিকার হলেও সড়ক মেরামতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চরম উদাসীন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে ২১ জুন থেকে কুলাউড়া- জুড়ী-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের জুড়ী উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্মুখ, নাইট চৌমুহনী,জুড়ী বাজারের প্রভেশ বোড, উত্তর জাঙ্গীরাই, নবনির্মিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখ, বাছিরপুর, কুইয়াছড়া, পশ্চিম হাতলিয়াসহ ১০টি স্থানে পানি রাস্তার উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হতে থাকে। পানির উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় পিচ ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে একোন।

অব্যাহত বর্ষণে সড়কের কোন কোন স্থান ৩-৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ৩০ জুন থেকে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে কুলাউড়া,জুড়ী, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার জনসাধারণ মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েন। তারা ২০ টাকা ভাড়ার দুরত্বে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় যাতায়াত করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের উপর থেকে মাত্র ১ ইঞ্চি পানি কমতে দেখা গেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের শ্রমিকরা পানির নিচে তলিয়ে থাকা রাস্তায় সৃষ্ট গর্তে খোয়া ফেলার কাজ করলেও সরাসরি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে পারেনি। ভুক্তভোগী বশির উদ্দিন, আজিম উদ্দিন, লাল মিয়া, জয়নাল আবেদিন প্রমূখ অভিযোগ করেন রাস্তা মেরামতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের চরম উদাসীনতায় হাজার মানুষকে ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

তারা বলেন, ১০ বছর আগে থেকেই অতিবৃষ্টি হলেই এ স্থানগুলো তলিয়ে যায়। সব স্থান মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১ কিলোমিটারেরও কম রাস্তা মাত্র দুই ফুট উচু করলে বন্যার পানিতে তলিয়ে যেত না। যানবাহন, মালিক, চালক, যাত্রীসহ এলাকাবাসী গুরুত্বপুর্ণ এ সড়কের নিচু স্থানগুলো অবিলম্বে উচু করার দাবী জানিয়েছেন।

সিএন্ডবি’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, কয়েকদিন পূর্ব থেকেই গর্ত ভরাটের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা শুরু করা যায়নি। কিছু পানি কমায় খোয়া ও ইট ফেলে গর্ত ভরাটের চেষ্টা চলছে। এ সড়কের নিচু স্থানগুলো উচু করার ব্যাপারে সওজ পরিকল্পনা করছে।

 “খানাখন্দ সড়কে সামান্য বৃষ্টিতে জমে পানি ভোগান্তিতে হাজার হাজার মানুষ”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,এম এস জিলানী আখনজী: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের সুন্দরপুর হইতে ঘনশ্যামপুর, কালিশিরি, বেলাবিল ভায়া চন্ডিছড়া চা বাগান পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটি বিস্তৃত। স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি পর্যন্ত এই মাটির কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরন করা হয়নি।

বর্ষা মৌসুম শুরু হলে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী উল্লেখিত গ্রামগুলির হাজার হাজার মানুষ চলাচল করতে পারেনা। অতিরিক্ত কাঁদা সৃষ্টি হওয়ায় রাস্তার পার্শ্ববর্তী সুন্নিয়া মাদ্রাসা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, একাদিক প্রতিষ্ঠানের শত-শত শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসীদের চলাচলে মারাত্বক বিঘœঘটে। বই খাতা, পোষাক ভিজিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌছতে হয়।

মানুষের রিক্সা, সাইকেল, মোটর বাইক, পিকআপ চলাচল’তো দুরের কথা, পায়ে হাটা পর্যন্ত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এলাকার সাধারন জনগনের প্রাণেরদাবী সরকারের কাছে, অচিরেই রাস্তাটি পাকাকরন করে এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য রাস্তাটি উপযোগী করে দিতে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাইঃ মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির তিন সাইক্লিষ্ট সৌরভ রায় শুভ,লিংকন দাশ রায় ও টিটু চন্দ্র দেব বাইসাইকেল যোগে দেশের এক প্রান্ত তেতুলিয়া থেকে দেশের আরেক প্রান্ত টেকনাফ পর্যন্ত হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন।সাইক্লিং এর ভাষায় এই ধরনের ভ্রমণ কে বলা হয় ক্রস কান্ট্রি রাইড।
তারা তিন জন সফল ভাবে ক্রস কান্ট্রি রাইড সম্পন্ন করায়,মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটি কর্তৃক স্থানীয় একটি রেষ্টুরেন্টে তাদের জন্য এক সংবর্ধনা অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়।
এই সংবর্ধনা অনুষ্টানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩(সদর-রাজনগর)আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন,মৌলভীবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো:মিজানুর রহমান মিজান,মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান,মৌলভীবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মিসবাউর রহমান,মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোশাহিদ আহমদ,মৌলভীবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী,সৈয়দ মহসীন আলী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সানজিদা শারমীন,দেশের স্বনামধন্য সাইক্লিষ্ট ঢাকার সাইকেল সার্জারী বিডির প্রতিষ্টাতা সাজনান মোহাম্মদ নিবিড়,সাংবাদিক হাসনাত কামাল,ক্রিকেট প্লেয়ার্স এসোসিয়েশন মৌলভীবাজারের সভাপতি শাহরিয়ার মোস্তফা তানিম,ফখরুল ইসলাম রাজু,ইমামুল হক রিপন,বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ রাসেল,গাজী আবেদ,জাহেদ চৌধুরী,কবি সূর্যদাশ তপন,সামাজিক সংগঠন উই ফর বাংলাদেশের আজমির আলী মিতু,রিয়াদ কোরেশী,কামরুল ইসলাম ও রূপান্তর ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুজাহিদ উদ্দিন সহ সহ প্রমুখ।এছাড়া,মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির সকল মডারেটর ও এক্টিভিষ্টবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির সিনিয়র মডারেটর ইমন আহমেদের পরিচালনায় উক্ত অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির সিনিয়র মডারেটর আহমদ আলী সায়েম। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন,সু-সাস্থ্যের জন্য সাইক্লিং এর পাশাপাশি মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির সদস্যরা মাদক,সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদে লিপ্ত না হয়ে সমাজের উন্নয়নে অনেক ভুমিকা রাখছে,এর জন্য তারা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির তিন অদম্য সাহসী যুবক অসাধ্য কে সাধন করে সফল ভাবে ক্রস কান্ট্রি রাইড সম্পন্ন করায় তাদের কে অভিনন্দন জানিয়ে,সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারা।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,আশরাফ আলী, মৌলভীবাজার:মৌলভীবাজার শহরের শ্রীমঙ্গল রোডে আইকন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রোগী দেখার সময় মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) ভূয়া ডাক্তারকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যাট জেপি দেওয়ানের নেতৃত্বে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার (৭ জুলাই) বিকাল ৩টায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমান আদালত তাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

শ্রীমঙ্গল র‌্যাব ৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) বিমান চন্দ্র কর্মকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, ভূয়া ডাক্তার গত তিন মাস থেকে আইকন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষজ্ঞ ডা. পরিচয়ে রোগী দেখে আসছিল। তার আসল নাম রাকিবুল ইসলাম। কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিলুখী গ্রামে তার বাড়ি।

আইকন ডায়াগনস্টিক সেন্টার সূত্রে জানা যায়, তার সঠিক নাম রাকিবুল ইসলাম ও তার ভুয়া নাম ডা: মোস্তফিজুর রহমান বলে আইকন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে  দেড় মাস আগে চাকরি নেন । কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কোন সনদপত্র তখন দেননি। রমজান মাসের পরে সনদপত্র দিবেন বলে সময় নেন। কিন্তু রোজার পরেও ওই ডাক্তার সনদপত্র দিতে পারেননি।

আজ শুক্রবার হাসপাতাল মালিক বিষয়টি  র‌্যাব ৯ শ্রীমঙ্গলকে অবগত করলে তারা এসে তাকে গ্রেফতার করেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ  শার্শার নাভারন রেল ষ্টেশন থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ২৫ লাখ টাকা মুল্যের বিপুল পরিমান ভারতীয় চকলেট বোম, আতশবাজী ও জর্দা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার সময় বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ পন্য উদ্ধার করে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের সুবেদার আব্দুল ওহাব জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নায়েক সুবেদার আবুল কাশেমের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা নাভারন রেল ষ্টেশন এলাকা থকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ২০ কার্টন ভারতীয় জর্দা, চকেলট বোম, ও আতশবাজি উদ্ধার করে। যার বাজার মুল্য আনুমনিক ২৫ লাখ টাকা বলে তিনি জানান।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,শংকর শীল,হবিগঞ্জ থেকেঃ “বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই,কুড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই।আমি থাকি মহা সুখে অস্ট্রালিকার পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়েৃ.”। কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী ছড়াটির নায়ক আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি আজ বিলুপ্তির হয়ে যাচ্ছে। হবিগঞ্জ জেলায় আগের মত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা আজ আর তেমন চোঁখে পরে না। হবিগঞ্জ জেলার সবকটি উপজেলায় গ্রামগঞ্জের আনাচে- কানাচে তালগাছের পাতায় পাতায় দেখা যেত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার সেই চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা। খড়ের ফানি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ ও কাঁশবনের লতাপাতা দিয়ে উচ্চু তাল গাছে চমৎকার আকৃতির বাসা তৈরি করত বাবুই পাখিরা। বাবুই পাখির বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়ে বাতাসে টিকে থাকে তাদের বাসা। বাবুই পাখির শক্ত বুননের এ বাসা টেনেও ছেড়া কঠিন। বাবুই পাখি একাধারে শিল্পী, স্থপতি ও সামাজিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি। এরা এক বাসা থেকে আর এক বাসায় যায় পছন্দের সঙ্গি খোঁজতে। সঙ্গি পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুই পাখিকে সাথী বানানোর জন্য কত কিছুই না করে। পরুষ বাবুই নিজের প্রতি আকর্ষন করার জন্য খাল-বিল ও ডোবায় গোসল সেরে ফুর্তিতে নেচে নেচে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে। এর পর উচু তাল গাছ, নারিকেল গাছ বা সুপারি গাছের ডালে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। বাসা তৈরির অর্ধেক কাজ হলে কাংখিত স্ত্রী বাবুইকে ডেকে দেখায়।
বাসা পছন্দ হলেই কেবল পুরো কাজ শেষ করে। বাসা পছন্দ না হলে অর্ধেক কাজ করেই নতুন করে আরেকটি বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। অর্ধেক বাসা তৈরি করতে সময় লাগে ৫/৬দিন। স্ত্রী বাবুই পাখির বাসা পছন্দ হলে বাকিটা শেষ করতে সময় লাগে ৪দিন। কেননা তখন পুরুষ বাবুই মহা আনন্দে বিরামহীন ভাবে কাজ করে। স্ত্রী বাবুই পাখির প্রেরনা পেয়ে পুরুষ বাবুই খুবই শিল্পসম্মত নিপুণ ভাবে বাসা তৈরি করে। স্ত্রী বাবুই ডিম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরুষ বাবুই খোজতে থাকে আরেক সঙ্গিকে।

পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ৬টি পর্যন্ত বাসা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ এরা ঘর সংসার করতে পারে ৬ সঙ্গির সঙ্গে। তাতে স্ত্রী বাবুয়ের না নেই। প্রজন্ম প্রক্রিয়ায় স্ত্রী বাবুই ডিমে তা দেওয়ার ২ সপ্তাহের মধ্যেই বাচ্চা ফুটে। ৩ সপ্তাহ পর বাবুই বাচ্চা বাসা ছেড়ে উড়ে যায়। বাবুই পাখির প্রজন্ম সময় হলো ধান ঘরে উঠার মৌসুম। স্ত্রী বাবুই দুধধান সংগ্রহ করে এনে বাচ্চাদের খাওয়ায়। বাবুই পাখি তাল গাছে বাসা বাধে বেশী।

এদিকে যেমন হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি, অন্যদিকে বিলুপ্ত হচ্ছে বাবুই পাখির দৃষ্টি নন্দন বাসা। অবাধে শিকার ও হচ্ছে এসব বাবুই পাখি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:   মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ছনগাঁও গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক প্রবাসী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত প্রবাসীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। গত বুধবার সকাল ১০ টায় ছনগাঁও গ্রামের মসজিদের সম্মুখের রাস্তার উপর হামলার এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আদমপুর ইউনিয়নের ছনগাঁও গ্রামের বাছন মিয়া (৩০), ছালাত মিয়া (২৫), ফুল মিয়া (২৪) সহ পাঁচ, সাত সদস্যের সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে একই গ্রামের প্রবাসী সাইফুর রহমান এর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। হামলার পর গুরুতর আহত সাইফুর রহমান (২৬)কে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সাইফুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষরা লোহার রডসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। হামলায় হাত, মাথা ও শরীরের কয়েকটি স্থানে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। ফলে মাথায় ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় সাইফুর রহমান এর পিতা তরিক মিয়া বাদি হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বাছন মিয়া, ছালাত মিয়া ও ফুল মিয়াকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য কে মনিন্দ্র সিংহ হামলা ও প্রবাসী আহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমার কাছে কোন পক্ষই আসেনি। তবে শুনেছি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মারামারি হয়েছে। ঘটনায় সাইফুর রহমান আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার এসআই আজিজুর রহমান বলেন, অভিযোগপত্র পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যক্তিকে দেখেছেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের মইদাইল গ্রামের বীরেন্দ্র দেবনাথের মেয়ে হেপী রানী দেবনাথ (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রী গত ১ জুলাই সকাল ৯টায়  বৃন্দাবনপুর হুরুন্নেচ্ছা খাতুন চৌধুরী কলেজে ভর্তি হওয়ার কথা বলে আর বাড়ী ফিরেনি। তার পিতা বীরেন্দ্র দেবনাথ সকল আত্মীয়-স্বজনের বাড়ী ও আশেপাশের সকল গ্রামে এবং কলেজে খোঁজাখুঁজি করে ছয়দিন পার হয়ে গেলেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিলো নীল রঙ্গের সেলোয়ার কামিজ, তার উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট, গায়ের রং শ্যামলা, শারিরীক গঠন মাঝারি, মুখমন্ডল গোলাকৃতি, চোখে চশমা,সে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে।

এদিকে গত ছয় দিনে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কলেজ ছাত্রীর সন্ধ্যান না পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নিখোঁজ ছাত্রীর মা মীরা রানী দেবনাথ কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। কোন সুহৃদয় বান ব্যক্তি তার খোঁজ পেয়ে থাকলে ০১৭৪৯-০১৪৮৪১ এই নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,শিমুল তরফদার,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন নতুন কোন খবর নয়। পত্রিকার পাতা খুললে কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর প্রতি চোখ রাখলে হাজারো শিশু নির্যাতনের চিত্র ভেসে উঠে। আর এবার তেমনি এক ঘটনা ঘটলো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। রিকশার ব্যাটারি চুরির অভিযোগে মুমিন (১৩) নামে এক শিশুকে রিকশার গ্যারেজে পায়ে শিকল পড়িয়ে সারাদিন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর ঘটনাটি জানার পর এলাকাবাসী শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ রোডস্থ ১০ নম্বর  এলাকা নামক স্থানে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, মুকলেসুর রহমানের ছেলে মুমিন ঐ রিকশা গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে মাঝে মধ্যে চালাতো। কয়েকদিন আগে রিকশার ব্যাটারি খুলে নিয়ে গিয়ে আবার সে ব্যাটারিটি ফেরত দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে গ্যারেজের সামনে থেকে ঐ রিকশা গ্যারেজের মালিক ইউসুব তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে তালা মেরে সারাদিন মারপিট করে এবং তাকে পানি পর্যন্ত খেতেও দেয় না।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলকাছ মিয়া জানান, মুমিনকে সারাদিন অমানবিকভাবে নির্যাতন করেছে। শিকল দিয়ে বেধে মেরেছে। আমি খবর পেয়ে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই।
এবিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্য কে এম নজরুল ইসলাম কে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের ক্ষুদে চিত্রশিল্পীরা বিশে^র সব থেকে বড় ব্যতিক্রমী দীর্ঘ ২ হাজার ৯শ ১৬ বর্গফুট (১ হাজার ফুট লম্বা ও ৩৫ ইি চওড়া) ছবি আঁকছেন। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮শ ৯৫ বর্গফুট(সাড়ে ৬শত ফুট লম্বা ও ৩৫ ইি চওড়া) ছবি আঁকা সম্পন্ন হয়েছে। নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে অবস্থিত শিল্পাঞ্জলি ভ্রাম্যমান অবৈতনিক আর্ট স্কুলের দুই শতাধিক শিশু শিল্পী কার্টিস পেপারে এ ছবি আঁকছে। শিশুদের হাতে আকা সম্পূর্ণ নতুন ধারার এবং বৃহৎ এ ছবির উদ্যোক্তা হলেন বিশ্ব  বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস.এম সুলতানের শিষ্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস।

নড়াইল শহরের কুরিগ্রামে বিমানেশ বিশ^াসের নিজ বাড়িসহ হাতে গড়া ৫টি আর্ট স্কুলের শিশু চিত্রশিল্পীরা এ কাজটি করছে। শিল্পী বিমানেশ বিশ^াস এদের ছবি আঁকার খাতা, রং,পেন্সিলসহ বিভিন্ন উপকরণ বিনা পয়সায়্র সরবরাহ করে থাকেন এবং তার পরিবার থেকে শিশুদের খাবার ব্যবস্থাও করা হয়। উল্লেখ্য, এসব শিশুদের অর্ধেকের বেশী আদিবাসি ও অশিক্ষিত পরিবারের ছেলে-মেয়ে।
জানা গেছে, সহকারি অধ্যাপক চিত্রশিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস ২০০৫ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রথমে নড়াইল শহরের শিবশংকর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে দক্ষিন নড়াইল দিঘির পাড় এলাকার আদিবাসী শিশুদের নিয়ে নিয়ে কাজ শুরু করেন। এরপর খুলনা বটিয়াঘাটা হাটবাড়ি মন্দিরে এবং খুলনা খালিসপুর প্রাইমারী স্কুলে কয়েক বছর ছোট ছেলে-মেয়েদের ছবি আঁকা শিখিয়েছেন।

২০১৫ সালের মাঝামাঝি শিশুদের জন্য ‘শিল্পাঞ্জলি ভ্রাম্যমান অবৈতনিক আর্ট স্কুল’ নামে ছবি আঁকার প্রতিষ্ঠান করেছেন। নিজ বাড়ি, সদরের কলোড়া ইউনিয়নের গোবরা বাজার এলাকা, নলদীর চর, বড়েন্দার গ্রাম এবং ভদ্রবিলা ইউনিয়নের চন্ডিতলা পালপাড়া এলাকায় মোট ৫টি স্কুল পরিচালনা করছেন। শিল্পীর নিজের বাসায় ৭০ জন, গোবরা বাজারের পার্শ্বে ৩৫জন, নলদীর চর গ্রামে ৩০জন, বড়েন্দার গ্রামে ৪০জন ও চন্ডিতলা পালপাড়ায় ৪০জন শিশুসহ মোট ২শ ১৫জন শিশু এসব স্কুলে ছবি আঁকা শেখে। এদের মধ্যে ২য় শ্রেণি থেকে ৪র্থ শ্রেণির শিশুরাই বেশী। এর মধ্যে শিল্পীর বাসায় প্রতি শুক্র ও শনিবার এবং অন্যান্য স্কুলে মাসে দু’দিন ক্লাস নেন।
শহরের জমিদারবাড়ীর দিঘির পাড় এলাকার আদিবাসি শিশু ৫ম শ্রেণির ছাত্র অভি সরদার, ইমন সরদার, ৩য় শ্রেণির ছাত্রী শিলা সরদার ও চন্দ্রিমা মালি, শহরের কুরিগ্রাম এলাকার ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্র অর্পন চেীধুরী, নড়াইল শহরের ৩য় শ্রেণির অহনা, মাছিমদিয়া এলাকার ক্লাস ওয়ানের ছাত্র আলিফ ও ৩য় শ্রেণির তাকিয়া জানায়,এ স্কুলে রং, পেন্সিল ও খাতা দেওয়া হয়। প্রতি শুক্র ও শনিবার বিমানেশ স্যারের বাসায় ক্লাস করি এবং কখনও খিচুড়ি, ডিম বা মাংস ভাত বা পরোটা খেয়ে ছবি আঁকি। শিশুদের যতœ করে খাওয়ানোর কাজটি করে থাকেন শিল্পীর স্ত্রী মমতা বিশ্বাস। জানা গেছে, শিশুদের খাওয়া ও তাদের ছবি আঁকার উপকরণের পেছনে প্রতি মাসে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা ব্যয় হয়; যার সমস্ত খরচই শিল্পী নিজে বহন করেন। শিশুদের ছবি আঁকা শেখানোয় সাহায্য করেন একমাত্র কন্যা ভারতের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেইন্টিং বিভাগে মাস্টার্স করা হীরা বিশ্বাস (এখন তিনি পিএইচডি করছেন), নড়াইলের এস.এম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অন্তরা বৈরাগী ও সৌমিত্র মোস্তবী।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক বিমানেশ বিশ্বাস জানান, শিশুরা এক হাজার ফুট লম্বা এবং ৩৫ফুট চওড়া (২ হাজার ৯শ ১৬ বর্গফুট) অ্যামেরিকান কার্টিস পেপারে ২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে এ ছবি আঁকা শুরু করেছে। শিশুরা ওদের ইচ্ছামত নিজের ভাবনায় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ছবি আঁকছে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, গ্রামীন জীবন, মসজিদ-মন্দির, নৌকাবাইচসহ বিভিন্ন লোকজ উৎসব, বর-কনে, পালকি, রাখাল, কৃষক-শ্রমিক, কম্পিউটার, মোবাইল টাওয়ার, মাছ শিকার, ঈদের নামাজ ইত্যাদি। শিল্পীর ইচ্ছা বিশাল এ ছবি ডিজিটাল প্রিন্ট করে বিভিন্ন স্কুলে দেখানোর ব্যবস্থা করবেন, যাতে শিশুরা চারুকলা ও ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ হয়।
শিশুদের নিয়ে বৃহৎ এ ছবি আঁকার ধারনা কিভাবে পেলেন এ প্রশ্নে জবাবে সহকারি অধ্যাপক বিমানেশ বিশ্বাস বলেন,দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ছবি আঁকা শেখাই। ওরা ছোট এ ফোর সাইজের কাগজে ছবি আঁকে। এ ছবি সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সেজন্য ভেবেছি এভাবে বড় ছবি আঁকলে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এ বছরের মধ্যেই এ ছবি আঁকা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ছবি হয়নি। বাংলাদেশ এমনকি বিশ্বে শিশুদের এতো বড় ছবি এই প্রথম বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এটা আমার গুরু শিল্পী এস, এম, সুলতানের আশির্বাদ। তার আশির্বাদ আছে বলেই আমি আজ এত বড় কাজ করার সাহস পেয়েছি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশী গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে তিন সন্তানের জননী সুজানা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধু বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বেলা ৩ টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। সে ওই এলাকার আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী।

পাওয়া তথ্য মতে, প্রায় বেশ কয়েক মাস ধরে আব্দুল আউয়াল তার সুজানা আক্তারের ঠিক মতো দেখা শুনা করছিল না। খুব কষ্টের সাথে জীবন যাপন করে আসছিলেন সুজানা। ৫ জুলাই  বুধবার রাতে আব্দুল আউয়াল বাড়িতে এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মনের দুঃখে ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার উল্লেখিত সময়ে সে বিষপান করে ছটফট করতে থাকেন।

তাৎক্ষনিক স্হানীয় প্রতিবেশী তাকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে সেখান থেকে তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।এদিকে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই সুজানা আক্তারের স্বামী পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্হানীয় লোকজন।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার অমৃতা গ্রামে আরিফা আক্তার (২২) নামের সুন্দরী এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ উঠেছে যে তড়িগড়ি করে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। আরিফা বানিয়াচং উপজেলার হলদারপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর কন্যা। তার মা রূপবান বেগম জানান, ২ বছর আগে বাহুবল উপজেলার অমৃতা গ্রামের সুন্দর আলীর পুত্র মঈন উদ্দিন (২৫) এর সাথে তার বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় সাধ্য অনুযায়ী যৌতুক প্রদান করা হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। সম্প্রতি আরো যৌতুকের জন্য মঈন উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন আরিফার উপর নির্যাতন চালায়। আরিফা নির্যাতনের বিষয়টি তার মাকে বিভিন্ন সময় জানায়।

গত ৪ জুলাই দুপুরে আরিফার উপর তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন নির্যাতন চালায়। এ খবরও সে তার মাকে জানায়। এর কিছুক্ষণ পরেই আরিফার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওই দিন বিকালে আরিফার মাকে জানানো হয় আরিফা বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। লাশ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে রয়েছে।
এ খবর শুনার পর রূপবান বেগম ও তার পরিবারের লোকজন সদর হাসপাতালে এসে লাশ না পেয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জিজ্ঞাসাছকরলে সেখান থেকে জানানো হয় আরিফাকে মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট প্রেরণ করা হয়েছে। তখন তাদের সন্দেহ হয়। এদিকে আরিফার স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় বাহুবল থানায় ছুটে যান তারা।

পুলিশকে বিষয়টি জানালেও তারা পাত্তা দেয়নি। তখন রূপবান বেগমসহ অন্যান্যরা আরিফার স্বামীর বাড়িতে যান এবং সেখানে গিয়ে দেখতে পান তারা আরিফার লাশ দাফনের চেষ্টা করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিয়ে বাহুবল থানায় অভিযোগ দিলে এসআই পারভেজ আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে কবরস্থানের পাশ থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এদিকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্বামীসহ অন্যারা পালিয়ে যায়।বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে রাত ১০টার দিকে আরিফার লাশ তার স্বজনরা বুঝে নিয়ে যান বানিয়াচংয়ের হলদারপুরে।
রূপবান বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে এসআই পারভেজ জানান, মৃত্যুটি রহস্যজনক। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া এ মুহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সহ বিভিন্ন মামলার পরোয়ানা ভুক্ত ৩ আসামী কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জসিম মিয়া (৩৫) ৬ মাসের সাজা সহ ১১ মামলার পরোয়ানা ভুক্ত আসামী কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

৫ জুলাই বুধবার রাত ৯টায় উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের হিমালিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে জসিম মিয়া কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি জসিম মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র। এক বিজ্ঞপ্তিতে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে.এম. আজমিরুজ্জামান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি জসিম মিয়া বিরুদ্ধে সি.আর ৩৬০/০৯ মামলার ৬ মাসের সাজা ও ৬ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড রয়েছে।

এদিকে ১১ মামলার সি.আর ৩৩৮/০৯ (বন), ৩৯/১০, ৬২/১২, ৪১৭/০৯, ৯৬/০৫, ৪১/১২, ১০৯/০৯, ৬/১২, ৬২/১২, ১৬/১১)। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরো জানিয়েছেন,  ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী আঃ কাইয়ুম (৪০) উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের মহিমাউড়া গ্রামের মৃত আঃ জব্বারের পুত্র। আঃ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে সি.আর ২৯/১৪ বন মামলার ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও ৬ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা রয়েছে। এদিকে বাবুল মিয়া (৩৫) উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের কবিলাশপুর গ্রামের মৃত মশ্বব উল্লার পুত্র।

বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে সি.আর ২৫/১৬ (বন), ১৭/১০, ৫০/০৮, সি.আর ১১৭/০৬ বন মামলার ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত ও ৪ মামলার পরোয়ানা ভুক্ত পলাতক আসামী।
৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় তাদের সবাইকে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

“প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা কিংবা আমলাতান্ত্রিক বাহাদুরি এসব প্রমাণ পছন্দও করে না। মানে এরা কৃষক, জেলে, মজুরের উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দিতে চায় না। তাদের মতে, ধান জাত উদ্ভাবন করবেন একজন উদ্ভিদ প্রজননবিদ বা কৃষিবিজ্ঞানী। জুম-জমিনের একজন কৃষক তো ‘চাষা’, সে কেন উদ্ভাবক বা প্রজননবিদ হবে ? বৈষম্যমূলক এমন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত কাঁপিয়ে দিয়ে কৃষকের জ্ঞান ও শ্রমের মজবুত পাটাতন প্রমাণ করে চলেছেন গ্রাম-বাংলার অনেক কৃষক”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জুলাই,পাভেল পার্থঃ  হাজার বছর ধরে কৃষক নারী-পুরুষেরাই উদ্ভাবন করেছেন এবং করে চলেছেন শস্য ফসলের হাজারো জাত। এক এক অঞ্চলে তার এক এক নাম তারাই রেখেছেন। কিন্তু এমন নথি ও দলিল নেই কোন কৃষক বা কোন একদল কৃষক কোন জাতটি উদ্ভাবন করেছেন। যেমন, হাওরাঞ্চলের একটি গভীর পানির ধান রাতা কিংবা রাঙামাটির পাহাড়ি জুমের ধান খবরক। এসব ধান জাত কে উদ্ভাবন করেছে? হয়তো কোনো প্রমাণসাপেক্ষ কোনো উত্তর নেই।

আবার অধিপতি জ্ঞানব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা কিংবা আমলাতান্ত্রিক বাহাদুরি এসব প্রমাণ পছন্দও করে না। মানে এরা কৃষক, জেলে, মজুরের উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দিতে চায় না। তাদের মতে, ধান জাত উদ্ভাবন করবেন একজন উদ্ভিদ প্রজননবিদ বা কৃষিবিজ্ঞানী। জুম-জমিনের একজন কৃষক তো ‘চাষা’, সে কেন উদ্ভাবক বা প্রজননবিদ হবে? বৈষম্যমূলক এমন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত কাঁপিয়ে দিয়ে কৃষকের জ্ঞান ও শ্রমের মজবুত পাটাতন প্রমাণ করে চলেছেন গ্রাম-বাংলার অনেক কৃষক। নিয়ানডার্থাল, জুরাসিক, লোহা যুগ বা মৌর্য আমল নয়। পাল, সেন বা মোঘল সাম্রাজ্য নয়। ব্রিটিশ, পাকিস্থান বা সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশ নয়। এখনো কৃষকদের এই জাত উদ্ভাবনের চর্চা টিকে আছে।

এখনো কৃষকেরা কেবলমাত্র ‘চাষা’ নন, প্রমাণ করে চলেছেন তারা ধানশিল্পী এবং এক একজন বিস্ময়কর বিজ্ঞানী। খাগড়াছড়ির ফকুমার ত্রিপুরা উদ্ভাবন করেছেন ফকুমার ধান, সুনামগঞ্জের নুয়াজ আলী ফকির চুরাক ধান, গাইবান্ধার রঞ্জু মিয়া সোহাগ-৪ ধান, ঝিনাইদহের মকবুল হোসেন মকবুল ধান। তালিকাটি এভাবে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে।

স্মরণে রাখা জরুরি বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখনো পর্যন্ত ১০০টি ধান জাত উদ্ভাবন করেনি। অথচ শত-সহস্র জাত উদ্ভাবন করেও কৃষকেরা উদ্ভাবক ও প্রজননবিদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি।

গ্রাম-বাংলার লাখো-কোটি স্বীকৃতিহীন কৃষকেরই একজন হরিধানের উদ্ভাবক হরিপদ কপালী। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামের এই কৃষক ‘বিশুদ্ধ সারি নির্বাচন প্রক্রিয়ার’ মাধ্যমে হরিধান উদ্ভাবন করেন। জাত উদ্ভাবনে বিশুদ্ধ সারি নির্বাচন একটি বহুল প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। যেখানে কোনো বাছাইকৃত জাতের বীজ আলাদা লাগিয়ে সেখান থেকে বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে কোনো সারি বাছাই করে পরপর কয়েকবছর চাষ করা হয়। এভাবে পর পর কয়েক বছর চাষ করার ভেতর দিয়ে একটি বিশুদ্ধ জাত নির্বাচিত হয়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট অনেক ধান জাত এই পদ্ধতিতে উদ্ভাবন ও ছাড় দিয়েছে। যেমন, ব্রি-ধান-৫ মানে হলো দুলাভোগ নামের এক স্থানীয় ধানের বিশুদ্ধ সারি নির্বাচন। ১৯৭৬ সনে দান জাতটি ছাড় দেয়া হয়। ব্রিধান-২৬ হলো খাসকানি ধানের বিশুদ্ধ সারি নির্বাচন। হরিপদ কপালী তাই করেছিলেন। তবে এতে তার দীর্ঘদিনের ভালবাসা, শ্রম, স্বপ্ন এবং সৃষ্টিময়তার এক প্রবল হাতছানি জড়িয়ে ছিল। মা সুরধনী বিশ্বাস ও বাবা কুঞ্জলাল বিশ্বাস শৈশব থেকেই হরিপদকে শিল্পীর স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাই দেখা যায় বাবলা কাঠ দিয়ে কৈশোরেই হরিপদ তৈরি করেছেন ময়ূর-লাঙ্গল, সর্প-মই, কারুকাজ করা হুক্কা, নকশা পিঁড়িসহ নানা শৈল্পিক কৃষি উপকরণ। হরিপদর আর কোনো ভাই-বোন ছিল না বলে তার শৈশব ও কৈশোর কাটে চারধারের জমি, জলা আর জনজীবনের সাথে খেলায় খেলায়। বাঁশের টুকরির ভেতর পাটের ভেজা বস্তা, তার ভেতর জাগ দিয়ে রাখা হতো ভেজা ধান বীজ। ধীরে ধীরে গম পেয়ে অংকুরিত হতো বীজদানা। প্রকৃতির এমনসব পরিবর্তন তাঁর চিন্তাজগতে নাড়া দিয়েছিল।

হরিপদ দেখেছেন তার দাদু এমনকি বাবার সাথে তিনি কিছুদিন চাষ করেছেন মেঘনাল, বিরবল, সুরথা, খরচামুড়ি, ঘৃত্ত্যকলা, ভইশদল ধান। হরিপদর প্রথম যৌবনে নিজের চোখের সামনে একে একে খুন হয়ে যায় সব দেশি ধানের জাত। মাঠ-ঘাট দখল করে ফেলে উচ্চফলনশীল বীজ। মাটির তলা থেকে জল টেনে তুলে, সার, বিষ দিয়ে এক হুলুস্থুলের কৃষি উন্নয়ন শুরু হয়। হরিপদ দেশি জাত বাঁচাতে নানাসময় তর্কে জড়িয়ে পড়েন কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে। তাদের একটাই হিসাব ধানের ফলন বেশি দরকার, দেশি জাতে ফলন কম। হরিপদ খুঁজে বেড়ান তার আদি ধান জাতদের গুণাবলী, মাঠে-ময়দানে পড়ে থাকেন। খুঁজে খুঁজে কিছু জাত সংগ্রহ করেন, কখনো এক জাতের সাথে আরেক জাতের মিলন ঘটান। কত পরীক্ষা আর কত নিরীক্ষা। ১৯৭০ সনে একবার এমন এক ভিন্ন ধান জাত খুঁজে পান। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বিশাল আখ্যানে সেই ধান যেন কোথায় হারিয়ে যায়। এরপর আরো কয়েকবার কিছু জাত নিয়ে তিনি পরীক্ষা করেন। শেষমেষ সফল হন ১৪০৯ বাংলায়। তাঁর উদ্ভাবিত এক ধান জাতকে কৃষক সমাজ নাম দেয় ‘হরিধান’। ফলন, স্বল্পব্যয়ী ও টিকে থাকার বিস্ময়কর গুণের সমন্বয়ে এই হরিধান খুব সহজেই অল্প সময়ে বাংলাদেশের কৃষিজমিনে পৌঁছে যায়।

যদিও এই ধানবীজ ও ‘হরিধানের’ নামের সুনাম নিয়ে কিছু প্রভাবশালী বীজ ব্যবসায়ী ও কোম্পানি নানা প্রতারণামূলক বাণিজ্য ও একতরফা মুনাফা লুটে চলেছে।

১৪০৫ সালে ভুই (জমিন) এর আগাছা বাছতে গিয়ে এই ধানের চারা খুঁজে পান হরিপদ কপালী। নিজেদের পারিবারিক জমিন রত্নাখালের ধারে কদমতলার কুঁড়ো বিল জমিন বা ভাগারের ভুইয়ের বুনো ঘাসের ভেতর থেকেই পাওয়া গিয়েছিল হরি ধানের আদি রূপকে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিশুদ্ধ সারি নির্বাচনের মাধ্যমে এই জাত সামাজিকভাবে ছাড় পায়। ১৪০৯ সামাজিকভাবে গ্রামের মানুষ এই এর নাম দেয় হরিধান। গ্রামের পর গ্রাম, জেলার পর জেলায় এই ধান ছড়িয়ে পড়ে। দৈনিক জনকন্ঠ, প্রথম আলো, চ্যানেল আইতে হরিধান নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের ভেতর দিয়ে হরিধান নিয়ে একটা সাড়া তৈরি হয়। নারায়ণগঞ্জের শ্রুতি নামের এক সাংস্কৃতিক সংগঠন, ১৪১১ বাংলায় বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক তাঁকে সম্মাননা প্রদান করে। হরিপদ কপালী বারসিক আয়োজিত ‘জাতীয় বীজ সম্মেলন ১৪১১’ উদ্বোধন করেন।

হরিধান গাছের উচ্চতা আড়াই থেকে তিন হাত বা আরো বেশী। ধানের রঙ সাদা (পাকা ধানের রঙ সোনালী), চালের রঙ সাদা ফকফইক্ক্যা। প্রতি বিঘায় ফলন ১৮-১৯ মণ। একটা সময় পর্যন্ত বোরো মওসুম পুরোটাই দখল করেছিল ব্রিধান-১১। কিন্তু এটি বদলে সকল জমি হয়ে ওঠে হরিধানের। বোরো ও আমন উভয় মওসুমে এই ধান চাষ করে নানা নিরীক্ষা করেছেন নানা অঞ্চলের কৃষক। হরিধানের প্রতি কৃষকসমাজের আস্থা, বিশ্বাস ও  ভালবাসা এই প্রথম রাষ্ট্রীয় ধান গবেষণার বাহাদুরিকে একটা প্রশ্ন করতে পারল। একেবারে প্রমাণ ও পাবলিক দলিলসহ। হরিধান নিয়ে রাজনীতিও কম হলো না। ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান হরিধানকে কোনোভাবেই একটি স্বতন্ত্র উদ্ভাবিত জাত হিসেবে মেনে নিতে পারল না।

এ নিয়ে সকল রকমের বৈজ্ঞানিক দলিল প্রমাণ বাদ রেখে তারা পিতা-পুত্রের এক অহেতুক দ্বন্দ্বকে গণমাধ্যমে ‘রটিয়ে’ দিল। প্রতিষ্ঠান প্রমাণ করতে চাইল হরিধানকে পাওয়া গেছে ব্রিধান-১১ এর ধানজমিন থেকে। কিন্তু হরিপদর বিজ্ঞান গবেষণা গুরুত্বহীন হয়েই রইলো। এখন বোঝা দরকার কেন হরিধান ব্রিধান-১১ থেকে আলাদা এবং কেন কৃষক সমাজে এই জাত অল্পদিনেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠল। যেকোন জমিনেই এই ধান চাষ করা যায়। ডেঙ্গা ও ডুব/ডুপ এরকম সব জমিতেই চাষ করা যাচ্ছে। সবচে’ ভালো হয় কুর/কুড় জমিনে। কুর মানে হল এমন জমি যেখানে বর্ষাতে পানি আসে। গড় পড়তা ধান ও খড়ের ফলন ভালো। দেশীয় পদ্ধতিতে চাষ করা যায়, চাষে সময় ও কষ্ট কম লাগে। রোগবালাই নেই। চাষের খরচ অনেক কম। ভাত সুস্বাদু। বিলের জমিনে সব ধান তলিয়ে গেলেও এই ধান টিকে থাকতে পারে।

রাষ্ট্র হরিপদ কপালীকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাই বলে জাত ও বীজের বিশুদ্ধতা রক্ষা করবে না। হরিধানের নিরাপত্তা দেবে না? একতরফাভাবে আজ ‘হরিধান’ নামে দেশের যেকোনো জায়গায় ধান বীজ বিক্রি হয়। কিন্তু ‘হরিধান’ নামে বিক্রি হওয়া সব বীজ ও জাত হরিপদ কপালী উদ্ভাবিত ‘হরিধান’ নয়। হরিধান বীজের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে কোনো নজরদারি নেই।

খারাপ বীজ ও ভিন্ন জাতকে ‘হরিধান’ হিসেবে বিক্রি করার ভেতর দিয়ে অন্য ক্ষতির পাশাপাশি উদ্ভাবক হরিপদ কপালীরও যে সুনাম ক্ষুন্ন হয় তা কী রাষ্ট্র বিবেচনা করবে না?

বিরল কৃষিজ্ঞানের অধিকারী হরিপদ কপালী ৬ জুলাই ২০১৭ ভোরে তাঁর নিজ বাড়ি আসাননগরে মহাপ্রয়াণের পথে যাত্র করেছেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, পুত্র, আত্মীয়-স্বজন পাশাপাশি হরিধানের মতো এক আশা জাগানিয়া ধানজাত রেখে গেছেন তিনি। পারিবারিক নাম হরিপদ বিশ্বাস হলেও, গণমাধ্যম তাকে পরিচিত করায় ‘হরিপদ কপালী’ হিসেবে। হরিধান উদ্ভাবনের দীর্ঘ ১৮ বছর পাড়ি দিলেও রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক মনস্তত্ব বদলায়নি। একজন কৃষককে ‘উদ্ভাবক’ ও বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতিদানে আমাদের কি কি বদলাতে হবে? কেন আমরা সেসব বদলাচ্ছি না? লেখকঃপ্রাণবৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ বিষয়ক গবেষক।