Saturday 22nd of July 2017 10:39:50 PM

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২জুলাই,ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে প্রবাসির বাসার কেয়ারটেকার এক মহিলাকে ধর্ষণের ও লক্ষাধিক টাকা লুঠের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। রোববার উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের সুহিতপুর (সিঙ্গুয়া) গ্রামে এঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুহিতপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসি মনাফ মিয়ার বাড়ির দীর্ঘদিন থেকে স্ব-পরিবারে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করছে জগন্নাথপুরের ঈশাখপুর গ্রামের আলী হোসেন। এসুবাদে তার স্ত্রী নাজমা আক্তার নাজমীন (৩০) কে স্থানীয় কতিপয় অসাধু লোক  অসামাজিকতায় লিপ্ত হওয়ায় প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

ঘটনার দিন সকাল ১১টায় নাজমা আক্তার প্রবাসির দেয়া ১লক্ষ টাকা গোবিন্দগঞ্জ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে ঘরে প্রবেশ করেন। এসময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুন্দর আলীর নির্দেশে জনৈক আবুল ফজল আলিম, ফয়জুল হক, আনকার আলী, তাজুল ইসলাম, শামিম আহমদ, রহমত আলী ফয়ছল আহমদসহ ১০/১২জন লোকজন ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ ও নগদ ১লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

এসময় নাজমা বেগমের শোর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এব্যাপারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাজি সুন্দর আলী জানান, “লন্ডনীর বাসার কেয়ারটেকার নাজমা বেগমের বাসায় বহিরাগতদের আসা-যাওয়ায় বাঁধা দেয়ায় তার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ উত্তাপন করছে।”

হাসপাতালে চিকিৎসাধিন নাজমা বেগম জানায়, সাবেক চেয়ারম্যান সুন্দর আলী ও আবুল ফজল আলিমসহ তাদের কতিপয় সহযোগি দীর্ঘদিন থেকে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে রাজি না হওয়ায় ঘটনার সময় তারা জোর পূর্বক ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণসহ তার কাছ থেকে ১লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ছাতক থানার অফিসার্স ইনচার্জ আতিকুর রহমান জানান, ঘটনাটি ধর্ষণ কিনা তা- এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওসমানী মেডিকেলের ওসিসিতে ভর্তি হলে অবশ্যই এধরনের ঘটনায় মামলা রেকর্ড এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে-আ’লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২জুলাই,শিমুল তরফদারঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমান খাদ্য মজুদ আছে। হাওর পাড়ের বন্যাদূর্গত মানুষদের অনহারে কিংবা অর্ধাহারে থাকতে হবে না। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের পাঠিয়েছেন আপনারা কেমন আছেন দেখে যাওয়ার জন্য।

আপনারা কোন চিন্তা করবেন না বন্যা দূর্গত মানুষদের মাঝে আওয়ামী লীগ অতীতেও ছিলো, বর্তমানে আছে এবং আগামীতেও থাকবে। আগামী ফসল না উঠা পর্যন্ত দুর্গতদের সরকার থেকে চাল ও নগদ টাকা বিতরন অব্যাহত রাখবে।

রোববার দলের কেন্দ্রীয় ত্রান কমিটির হাকালুকি হাওর তীরের বন্যা কবলিত কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এলাকা পরিদর্শণ ও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথাগুলো বলেন।

তিনি বিরোধীদলের সমালোচনা করে আরও বলেন, যারা ঢাকায় বসে প্রেস কনফারেন্স করে তারা জনগনের পাশে দাড়ায় না। অথচ নেত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামীলীগ যখনই দুর্যোগ আসে তখনই জনগনের পাশে দাড়িয়ে সহানুভুতি জানায়।

হাওর তীরের জয়চন্ডী ইউনিয়নের পুশাইনগর চৌমোহনী চত্ত্বরে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মতিন এমপির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনুর পরিচলানায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি, কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, প্রতিনিধি দলের সদস্য ও দলের কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান ও রেমন্ড আরেং, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, সাবেক এমপি হুসনেরা ওয়াহিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাউর রহমান, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক রাধাপদ দেব সজল, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, কুলাউড়া পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ, সিলেট বিএমএ’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. রুকন উদ্দিন, কেন্দ্রিয় সেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্ত, জেলা যুবলীগের সভাপতি নাহিদ আহমদ, উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি খুরশেদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক গৌরা পদ দে, জয়চন্ডী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রব মাহবুব প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংঘটনের বিভিন্ন ইউনিটিরে নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২জুলাই,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের হাওরে ফসলরক্ষা বাধ নির্মাণে অনিয়ম- দুর্নীতির দায়ে ৬১জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরখাস্তকৃত নির্বাহি প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনকে।

রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় দুদকের সহকারি পরিচালক ফারুক আহমদ বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ৫(২) ধারা ১০৯, ১৬৬/১০৯/৪০৯/৫১১/১০৯ মামলাটি রজু করা হয়।

মামলা নং ০২/১৯৫ ২০১৭ ইং। মামলায় আফসার উদ্দিন ছাড়াও আসামী করা হয়েছে, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সিলেট পওর সার্কেল মো. নুরুল ইসলাম সরকার, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (উত্তর পূর্বাঞ্চল) আব্দুল হাই, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস, খলিলুর রহমান, সেকশন কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লা, ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ খান, খন্দকার আলী রেজা, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. শাহআলম, মো. বরকত উল্লাহ ভূইঁয়া, মো. মাহমুদুল করিম, মো. মোছাদ্দেক, সজিব পাল, মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ঠিকাদার ও পিআইসির সদস্যদের উপর এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসব কর্মকর্তারা ঠিকাদার ও পিআইসির সদস্যদের সাথে হাত মিলিয়ে উদ্দেশ্য ও প্রণোদিতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। তারা ব্যাক্তিগত লাভের জন্য বাঁধের কাজে এমন দুর্নীতি করেছে। ফলে কাজ না হওয়ায় পাহাড়ী ঢলে জেলার শতভাগ হাওর তলিয়ে যায়।

মামলা দায়েরের পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও পিআইসি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। হাওরে বাধ নির্মাণের নামে লুটপাটের অভিযোগ তদন্তে এর আগে হাওর পরিদর্শন করে দুদকের একটি প্রতিনিধি দল। তারা কৃষকদের নানা অভিযোগ তদন্ত করে দেখেন।

গত এপ্রিল মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও পিআইসিদের দুর্নীতিতে জেলার শতভাগ হাওর অকাল বন্যায় তলিয়ে যায়। হাওরবাসীর দুঃখ দুর্দশার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন বাঁধ নির্মাণের দুর্নীতিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তারা যত বড়ই ক্ষমতাশালী হোক আইনী ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বাঁধ নির্মাণের দুর্নীতি ও গাফিলতির বিষয় নিয়ে দুদকের পরিচালক বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তদন্ত করার জন্য সরজমিনে হাওর পরিদর্শন করেন। কৃষকদের অভিযোগের সাপেক্ষে কয়েকটি তলিয়ে যাওয়া বাঁধও পরিদর্শন করেন দুদক প্রতিনিধি দল। পরে কৃষকের আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন দুদক প্রতিনিধি দল। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় দুদকের সহাকরি পরিচালক সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এবং একই সাথে ১৪ কর্মকর্তার বিরুেেদ্ধ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে দুদক। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান জানান, বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতির দায়ের দমন কমিশন(দুদক) সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করবেন দুদক কর্মকর্তারা। আর দুদক আইনে এই মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২জুলাই,এম.এম সামাছুল ইসলামঃ  মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় অকাল বন্যার কারণে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন রাস্তাঘাট, বাড়ীঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ইত্যাদি।

এ ছাড়াও পেট্রল পাম্পে পানি প্রবেশ করে প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার জ্বালানি তৈল পানিতে ভেসে গেছে। জুড়ী উপজেলার কলেজ রোডস্থ “অপুর্ব এন্টার প্রাইজ এন্ড প্যাক পয়েন্টে” এ ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা যায়, প্রতি দিনের মতো দোকানের মালিক সাইফ উদ্দিন রাতে তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ীতে চলে যান | পরদিন সকালে গিয়ে দেখতে পান বন্যার পানিতে তাঁর দোকান ডুবে গেছে | দোকানের সামনে ও ভিতরে পানি | দোকানের তালা খোলে ভিতর প্রবেশ করে দেখেন ঘরে রাখা জ্বালানী তৈল অকটেন, পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন ও মবিলের ড্রাম বন্যার কারণে ঘরের নিচের মাটি ধেবে গিয়ে ড্রাম গুলো উল্টো-পাল্টে পানিতে পড়ে গেছে।

এতে করে ড্রামে রাখা সবটুকু তৈল পানিতে ভেসে গেছে | এতে তার প্রায় ৬-৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান | ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এ ব্যাবসা শুরু করলেও হঠাৎ এ বন্যায় তাকে একেবারে নিঃস্ব করে ফেলেছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২জুলাই,হাবিবুর রহমান খানঃ  মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী তিন উপজেলার জনসাধারণের এখন একমাত্র ভরসা ট্রাক্টর, পিকআপ আর পাওয়ার টিলার। ভারী বর্ষণে আর পাহাড়ি ঢলে ঈদের ১ সপ্তাহ আগে থেকে এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠা শুরু হয়। এ সড়কের জুড়ী উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্মুখ, চৌমুহনী, উত্তর জাঙ্গীরাই, বাছিরপুর, পশ্চিম হাতলিয়াসহ সড়কের ১০স্পট তলিয়ে যায় পানিতে।কিছু বাস মিনিবাস চলাচল করলেও রাস্তায় পানি বৃদ্ধি ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এতে কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে শ্রমজীবি, ব্যবসায়ী ও চাকুরী জীবিরা পড়েছেন মহা বিপাকে। জরুরী কাজে যাতায়াত কারীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনে জীবনের ঝুকি নিয়ে ট্রাক্টর, পিকআপ আর পাওয়ার টিলারে চলাচল করছেন। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগও রাস্তার মেরামত কাজ করতে পারছে না।

সরেজমিনে সিএন্ডবি সড়কের বড়লেখার উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের পশ্চিম হাতলিয়া, জুড়ী উপজেলার উত্তর জাঙ্গীরাই ও বাছিরপুর এলাকার রাস্তায় দুরদুরান্তের পথচারীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার আর পিকআপ ভ্যানে নিমজ্জিত এলাকা পাড়ি দিচ্ছেন।সাথে ভারা ও নেয়া হচ্ছে বারতি ভারা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, ঈদের আগের দিন তলিয়ে যাওয়া রাস্তায় ইট ও বালু ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু এরপরই ভারী বৃষ্টিপাতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে রাস্তা মেরামতের কাজ অসম্ভব হয়ে পড়ে। পানির উপর দিয়ে কিছু গাড়ি চলাচল করায় গর্তগুলো মারাত্মক গভীর হয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া রাস্তা প্রতিদিন মনিটরিং করা হচ্ছে।সওজের সেকশন অফিসার আব্দুল মান্নান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুনরায় ইট,পাথর ও বালুর বস্তা ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শনিবার থেকে বালুর বস্তা ,ইট ও পাথর ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।

 

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২জুলাই,এম এস জিলানী আখনজীঃ জাকজমকপূর্ণভাবে চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ৪ ঘটিকায় উপজেলা পরিষদ মাঠে পুনর্মিলণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তাহের।

আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রুশন খানের সভাপতিত্বে ও গাজীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি আঃ মালেকের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন-জেলা আওয়ামীলীগ কার্যকরী কমিটির সদস্য ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যরিষ্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, উত্তরা থানার উত্তর পূর্ব আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক মতি, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুুল লতিব, মদরিছ মিয়া মহালদার, যুগ্ন সম্পাদক আনোয়ার আলী, সুজিত কুমার দেব, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব রজব আলী, বাবু সজল দাশ, মোঃ ওয়াহেদ আলী, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক হাছান আলী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক শফিউল আলম মানিক, ত্রান ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আব্দুল হাই, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক আনিস আলী, আওয়ামীলীগ নেতা নোমান চৌধুরী, পৌর আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি আবুল খায়ের, গাজীপুর ইউনিয়নের সভাপতি ও চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির খান, আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের সভাপতি আলাউদ্দিন মাষ্টার, সেক্রেটারি প্রফেসর আবু নাসের, দেওরগাছ ইউনিয়নের সভাপতি মহরম আলী, সেক্রেটারি সত্যেন্দ্র দেব, পাইকপাড়া ইউনিয়নের সভাপতি ময়না মিয়া তালুকদার, সেক্রেটারি মোতাহার হোসেন তালুকার, শানখলা ইউনিয়নের সভাপতি শফিক মিয়া তরফদার, সেক্রেটারি আবুল কালাম চৌধুরী এখলাছ, উবাহাটা ইউনিয়নের সভাপতি আলহাজ্ব আকবর আলী, সেক্রেটারি প্রফেসর আঃ রউফ, সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের সভাপতি ডাঃ হাবিবুর রহমান, সেক্রেটারি মোঃ ফরিদ মিয়া, রানীগাও ইউনিয়নের সভাপতি আঃ জলিল, মিরাশী ইউনিয়নের সভাপতি ইদ্রিছ আলী আলতা মিয়া তালুকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি সাইফুল আলম রুবেল, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

এতে বক্তব্য রাখেন আহমদাবাদ ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, পৌর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আঃ রহমান, পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি আমীর আলী, স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল হাই প্রিন্স, ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদক ইফতেখার আলম রিপনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল মোমিন চৌধুরী ফারুক, মিরাশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ূব আলী তালুকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কাউসার বাহার, সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আঃ জব্বার, আরজু মিয়া মেম্বার, কেরামত আলী মেম্বার, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রানীগাও ইউনিয়নের কাজী হারুন মিয়া, ফরহাদ বখত চৌধুরী, কামাল মিয়া মেম্বার, বাচ্চু মিয়া, লিলু মিয়া, হাজী আঃ ছালাম, হাজী রুশন আলী, আহমদাবাদ ইউনিয়নের সাচ্চু মিয়া, জমরুত আলী, পাইকপাড়া ইউনিয়নের আঃ কাদির ও শামীম মিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জাপাসহ বিভিন্ন দলের ৫ শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।

পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে গান পরিবেশন করেন বাউল শিল্পী প্রাণকৃষ্ণ রায়। এতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়।

“বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫১৫ জনই বাংলাদেশি শ্রমিক।আটকদের মধ্যে ১০১ জন নারী ও তিনটি শিশুও রয়েছে।”

 

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২জুলাই,ডেস্ক নিউজঃ মালয়েশিয়ায় অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের প্রথম দিন বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫১৫ জনই বাংলাদেশি শ্রমিক।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এদের কাছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দেয়া এনফোর্সমেন্ট কার্ড (ই-কার্ড) বা সাময়িক অবস্থানের অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি।শনিবার মালয়েশিয়ার নিউ স্ট্রেইটস টাইমস অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।আটকদের মধ্যে ১০১ জন নারী ও তিনটি শিশুও রয়েছে।
অপরদিকে মুস্তাফার আলী জানান, নিয়ম ভেঙে অবৈধ অভিবাসীদের কাজে রাখায় ১৬ জন চাকরিদাতাকেও তারা আটক করেছেন।
মহাপরিচালককে উদ্ধৃত করে মালয়েশিয়ার সান ডেইলি লিখেছে, আটকরা ই-কার্ডের জন্য আবেদন না করার বিভিন্ন রকম কারণ দেখিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, তারা আবেদনের সময়সীমা জানতেন না। আবার কেউ বলেছেন, ওই সময়সীমা বাড়ানো হবে বলে চাকরিদাতারা তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাগজপত্রহীন শ্রমিকদের বৈধভাবে পুনঃনিয়োগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত চার মাস ধরে ই-কার্ডের আবেদন নেওয়া হয়, যার সময় শেষ হয় ৩০ জুন।
ইমিগ্রেশন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৬ হাজার ৯৫৭টি কোম্পানির মোট একলাখ ৫৫ হাজার ৬৮০ জন কর্মী ই-কার্ডের আবেদন করেন, যারা ১৫টি দেশের নাগরিক।
আবেদনকারীর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ৭১ হাজার ৯০৩; এর পরেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (২৬ হাজার ৭৬৪) ও মিয়ানমারের (১১ হাজার ৮২৫) নাগরিকরা।
বাংলাদেশ হাই কমিশনের শ্রম কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম জানান, এই ই-কার্ডের মেয়াদ আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
ওই সময়ের মধ্যে তাদের নিজ নিজ দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট ও ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে।
তা না হলে নির্ধারিত সময়ের পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।
সান ডেইলি লিখেছে, মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। সেই হিসেবে অবৈধ শ্রমিকদের মাত্র ২৩ শতাংশ ই-কার্ড সংগ্রহ করেছে।
এদিকে, রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে কুয়ালালামপুরের জালান তুন রাজ্জাক এলাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে।
এ সাঁড়াশি অভিযানের ফলে বৈধ-অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই অভিযানের ভয়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন কমিউনিটির নেতারা।
দ্য মাস্টার বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া (এমবিএএম) কর্তৃপক্ষ দেশটির সরকারের কাছে ই-কার্ড করার জন্য আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে।
এমবিএএম জানিয়েছে, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং ধীরগতি প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে সহজে ও দ্রুত ই-কার্ড করতে ইমিগ্রেশন বিভাগকে সহায়তা দেবে তারা।
চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের বৈধকরণ ই-কার্ড প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হওয়ার পর বিদ্যমান অবৈধ শ্রমিক ধরতে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়।

“লাউয়াছড়াতে পর্যটকদের বাড়ছে চাপ,বিড়ম্বনার স্বীকার বন্যপ্রাণী,গাছপালা”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২জুলাই,জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ও আংশিক শ্রীমঙ্গল অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অধিক পরিমানে পর্যটকের ঢল নামছে।এতে করে পর্যটকদের পদাচারণে লাউয়াছড়াতে বন্যপ্রাণীরা বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গাছপালা।

এ বছর পাহাড় ধ্বসে কুলাউড়ার মাধবকুন্ড পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করায় লাউয়াছড়ায় পর্যটকের চাপ বাড়ছে। এই বনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করায় বিশেষত ছুটির সময়ে মাত্রাতিরিক্ত পর্যটক বন্যপ্রাণির বিড়ম্বনার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানবাহনের হুড়োহুড়ি, গাছ চুরি, বনবিভাগের স্বল্প সংখ্যক লোকবল, শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক পানি, খাবার ও নিরাপদ বাসস্থান সংকট, এসব মিলিয়ে উদ্যানের জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সুরক্ষা নিয়ে রীতিমত উৎকণ্ঠা সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে সরকার। উদ্যান ঘোষণার পর থেকে সেখানে পর্যটকদের ঢল নামছে। বনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলতে রেস্ট হাউস, নিসর্গ ও স্কেল সহায়তা প্রকল্পের আওতায় লাউয়াছড়ায় কয়েকটি ইকো-কটেজ, বাঘমারা এলাকায় স্টুডেন্ট ডরমিটরি, ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে প্রকৃতি সহ-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃতি ব্যাখ্যা কেন্দ্র স্থাপনের ফলে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্যানের গাঁ ঘেষে বনজঙ্গল ও মাটি কেটে স্থাপিত হচ্ছে বিভিন্ন কর্টেজ।

যার ফলে বনের ভেতরে দল বেঁধে মানুষের অবাধ বিচরন বন্যপ্রাণীর জন্য খাবার সংগ্রহ ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারনে বন্যপ্রাণীর খাবার ও আবাসস্থল বিনষ্ট হচ্ছে। যে কারণে খাবারের সন্ধানে জঙ্গলের দূর্লভ প্রাণীগুলো জনপদে ছুটে যায় অনেক সময় মানুষের হাতে ধরা পড়ে অথবা গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে। এছাড়াও জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে রয়েছে রেল ও সড়কপথ, বৈদ্যুতিক লাইন, যানবাহনের শব্দ, অধিক পর্যটকের হুড়োহুড়ি বনা লসহ ন্যাশনাল পার্কে অবস্থানরত জীববৈচিত্র্যকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিনিয়ত অধিক পরিমাণে পর্যটকের আগমন, মাইক, হাল্লা-চিৎকার ও যানবাহনের শব্দে জাতীয় উদ্যানের শান্ত নিবিড় পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।

এ অবস্থায় পূর্বের মতো জীবজন্তু ও পশু পাখির দেখা সম্ভব হচ্ছে না বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন। সম্প্রতি সময়ে পাহাড় ধ্বসে কুলাউড়ার মাধবকুন্ড পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করায় লাউয়াছড়ায় পর্যটকের চাপ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারনা করছেন। মাধবকুন্ডে বছর হাজার হাজার পর্যটকের উপস্থিতি ঘটে। তাই এসব পর্যটকেরা লাউয়াছড়া উদ্যানে ভ্রমনে আসছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে রাতের অন্ধকারে গাছ চুরি অব্যাহত হারে চলছে। কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে হাত করে লাউয়াছড়া, কালাপুর, বাঘমারা এবং চাউতলি বিট থেকে একটার পর একটা প্রাচীন গাছ কেটে ফেলে উড়ার করা হচ্ছে এখানকার মূল্যবান বৃক্ষ সম্পদ। বিশালায়তনের এই সকল বৃক্ষরাজি কেটে ফেলার ফলে পৃথিবী ব্যাপী মহাবিপন্ন উলুকসহ বিভিন্ন গাছ নির্ভর প্রাণীদের চলাচল এবং খাদ্য গ্রহণে তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। এভাবে ক্রমাগত গাছ কাটার ফলে এই চির সবুজ বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০০৯ সালের ১ লা নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ৫ লক্ষাধিকেরও উপরে দেশি-বিদেশি পর্যটক লাউয়াছড়া ভ্রমণ করেছেন। যা প্রাকৃতিক এই বন ও বন্যপ্রাণির জন্য হুমকির কারন। লাউয়াছড়ায় ২০০৬ সালে ৬৯টি উল্লুক ছিল, যা কিনা বাংলাদেশের কোনো একটি জায়গায় উল্লুকের সর্বাধিক সংখ্যা। উনিশ’শো আশির দশকেও বাংলাদেশে উল্লুকের সংখ্যা ছিল তিন হাজার, যা ২০০৬ সালে ২০০ তে নেমে এসেছে। লাউয়াছড়াতে উল্লুক ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও পাখির অভয়াশ্রম। বনভূমিটি এক সময়ে বিশালাকৃতির বৃক্ষরাজি সমৃদ্ধ ঘন প্রাকৃতিক বন থাকলেও গাছ চোর চক্রের আগ্রাসী থাবায় প্রকৃতি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্থে।

গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের কমপক্ষে ১০টি মায়া হরিণ লোকালয়ে ধরা পড়ে। অনেক রাতে আধাঁরে মায়া হরিণ ধরে খেয়ে ফেলছে , এর মধ্যে রেলপথে ও সড়ক পথে ৪টি মায়া হরিণ, গুইসাপ, দাঁড়াশ সাপ, বেন্ডেড ক্রেইট, ব্যাঙ, লিজার্ড, সবুজবরা সাপ, গন্ধগোকুল, গোল্ডেন জ্যাকেল, সিভিট, পেরিস ল্যাংঙ্গুর মোট ৪০টি বণ্যপ্রাণী মারা গেছে বলে জানান  শ্রীমঙ্গল বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী গবেষণা কাজে নিয়োজিত একটি দল গত ২০১৫ সালের ও ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে এক পরিসংখ্যান প্রদান করেন। ওই পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে গোল্ডেন জ্যাকেল ১টি, ক্রিকেট ফ্রগ ২৫টি, ইসমিথ লিটিল ফ্রগ ২টি, মাইক্রো হাইলিফ ফ্রগ ৯টি, আনআইডেনটিফাইড ফ্রগ ১৩টি, চিকাল কিলব্যাক ৩টি, ব্লাকক্রেইট ১টি, বেন্ডেড ক্রেইট ১টিসহ মোট ৫৫ বন্যপ্রাণী মারা যায়। একই বছরের অক্টোবর মাসে মোট ৪৪টি মারা যায়। এর মধ্যে ছিল ক্রিকেট ফ্রগ ১৫টি, ইসমিথ লিটিল ফ্রগ ৪টি, মাইক্রো হাইলিফ ফ্রগ ১০টি, কপস ফ্রগ ৬টি, কমনট্রি ফ্রগ ৩টি, আনআইডেনটিফাইড ফ্রগ ৬টি।

মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজসহ স্থানীয় পরিবেশবাদীদের মতে, সংরক্ষিত একটি বনে অধিক পরিমাণে পর্যটক বন্যপ্রাণির অবাধ চলাচল, খাবার ও আবাসস্থলে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হবে। এটি রোধ করা প্রয়োজন। লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ, লেখক-সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জাতীয় উদ্যান ঘোষণা বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষা প্রয়োজন।

লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণি) সাহাব আলী অত্যধিক পর্যটকের কারনে বন্যপ্রাণির বিড়ম্বনার কথা স্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত লোক আসলে নিয়ন্ত্রণে তাদের নিজস্ব লোকবল রয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে পর্যটকদের যেতে দেওয়া হয় না। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিত ট্যুরিজমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বণ্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সীতেশ রঞ্জণ বলেন , আগে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে, তাহলে বন্য প্রাণী রক্ষা হবে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বণ্যপ্রাণী অভয়াশ্রম ? নাকি এটা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ? আনুমানিক ১৮৩৫ সালে সরকার এই বন কে রিজার্ভ ফরেস্ট ও ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষনা করে ।

সেটা যদি বণ্যপ্রাণী রক্ষার জন্য করা হয় তাহলে সেখানে বনের ভিতরে পর্যটকদের বনভোজন ও পর্যটকরা আসা-যাওয়া বন্ধ করা হউক, আর সেটা যদি জাতীয় উদ্যান হয় তাহলে পর্যটক আসুক। পর্যটকদের আসা-যাওয়ার কারনে বনের বন্যপ্রাণীরা বনে থাকতে পারে না। বন উজাড় হবার কারন হিসেবে সীতেশ রঞ্জণ তিনি আরোও বলেন ,কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা ও এনজিও গুলার কারনে  গাছ চোররা বনের ভিতরে গাছ-পালা কেটে নিয়ে যাচ্ছে এতে করে বন ধব্বংস হচ্ছে। আর ক্ষতির সম্মুক্ষিন হচ্ছে বনের বন্যপ্রাণীরা।

ফেব্রয়ারী, মার্চ, এপ্রিল এই তিন বন্যপ্রাণীরা বংশ বিস্তার করে, কিন্ত এই সময় বনের ভিতরে বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত করা যাবে না ।

তাছাড়া উন্নত দেশে বন উন্নয়ের জন্য কমিটি করা হয়। আর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে আইপ্যাক ও নির্সগ  কমিটি করে বনকে আরো ধব্বংস করছে। আর এই কমিটির ৪০ ভাগ সদস্যই গাছ চোরের সাথে জড়িত ,তাহলে বনের উন্নয়ন কিভাবে সম্ভব ? এতে করে বন বিভাগের কর্মকর্তা বন রক্ষা করতে অনিহা প্রকাশ করা করছে। বনের উন্নয়ের জন্য স্কেল ও নির্সগ, এনজিও কাজ করছে, কিন্তু এনজিও গুলো বাস্তবে কোনই কাজ করছে না। এরা বনের বিশাল ক্ষতি করছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২জুলাই,বেনাপোল থেকে এম ওসমান: ঢাকায় আসার টিকিট না পেয়ে শতশত যাত্রী বেনাপোল আটকা পড়েছে। বেনাপোল থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় ভারত থেকে আসা পাসপোর্টযাত্রীসহ ঈদের পর ঢাকামুখী মানুষ পড়েছেন বেকায়দায়। নাড়ির টানে যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে ঈদ করতে এসে আটকা পড়েছেন শত শত কর্মজীবী মানুষও।

ঈগল পরিবহনের বেনাপোল অফিসের ব্যবস্থাপক এম আর রহমান জানান, আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত সকল পরিবহনের টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে।

শুক্রবার বেনাপোলের বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরে দেখা যায়, ঢাকামুখী শত শত যাত্রী বাসের টিকেট না পেয়ে বিকল্প উপায় খুঁজছেন। কেউ মাইক্রোবাস, কেউবা প্রাইভেটকার নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার চেষ্টা করছেন।

বেনাপোলের ‘হানিফ এন্টারপ্রাইজের’ ম্যানেজার নজরুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রী বাসের টিকেট না পেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার রিজার্ভ করে ঢাকা যাচ্ছে।

বেনাপোলে ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে অপেক্ষমাণ ভারত থেকে আসা পাসপোর্টযাত্রী যাত্রাবাড়ির আকতার হোসেন জানান, তারা শুক্রবার সকালে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন কিন্ত টিকেট না পাওয়ায় বাড়ি ফিরতে পারছেন না। আকতার হোসেনের মতো ভারত থেকে ফিরে বেকায়দায় পড়েছেন তাঁতিবাজারের কালিপদ সাহা, সমর কুমার, বাড্ডার আলমগীর হোসেন ও তার স্ত্রী সাফিয়া সুলতানাসহ অসংখ্য পাসপোর্টযাত্রী।

ঢাকার সিদ্দিক বাজারের আবু তাহের বলেন, বহুবার ভারত গিয়েছি কিন্তু বেনাপোলে এসে এমন সমস্যায় কখনো পড়েনি। সবগুলো কাউন্টার ঘুরেছি কোথাও কোনো টিকেট পেলাম না।

ঢাকার একটি ব্যাংকে চাকুরি করা বেনাপোলের ছোট আঁচড়া প্রামের সাইফুল আলম বলেন, ঢাকার যানজট, কর্মব্যস্ততা সব মিলিয়ে এই যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জন্যই ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসেছিলাম। চাকরির তাড়া খেয়ে আগে ভাগেই ফেরার জন্য দুদিন ঘুরেও কোনো টিকেট পাইনি। তারপরও ফিরতে হবে কর্মস্থলে।

সোহাগ পরিবহনের বেনাপোল কাউন্টারের ম্যানেজার সহিদুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকায় অতিরিক্ত গাড়ি দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশ্বাসও পেয়েছি। গাড়ি বাড়ালে যাত্রীদের সেবা একটু বেশি দেওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর শরীফ জানান, আগে গড়ে যেখানে ২ থেকে আড়াই হাজারের মতো পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত করত এখন তা বেড়ে ৬/৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তবে এখন ভারত থেকে দেশে ফেরা যাত্রীর সংখ্যাই বেশি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০১জুলাই,ডেস্ক নিউজঃ কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় মূল অভিযান চলাকালে আবারো বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। এ নিয়ে চারটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটে এ অভিযান শুরু হয়। অভিযান শুরুর পর ৬টা ৮ মিনিটে একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর পরে ৬টা ৪৬ মিনিটে আরো একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর পরে ৮টা ৩৬ মিনিটে তৃতীয় বোমা এবং ৮ টা ৫০ মিনিটে চতুর্থ বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এডিসি আব্দুল মান্নান  সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা থেকে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেছে। শনিবার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে এই অভিযান শুরু হয়।
অভিযানের শুরুতেই ৫টা ৪৫ মিনিটে ঘিরে রাখা বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তারপর ৬টা ৮ মিনিটে একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর পর বেশ কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।