Sunday 27th of September 2020 09:57:55 AM
Friday 17th of January 2014 10:40:54 AM

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণকারী সুচিত্রা সেন মারা গেছেন

শেষ দিন ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
বাংলাদেশের জন্মগ্রহণকারী সুচিত্রা সেন মারা গেছেন

আমারসিলেট24ডটকম,১জানুয়ারীঃ ভারতের কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী বাংলাদেশের পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণকারী সুচিত্রা সেন মারা গেছেন। মৃত্যুকালে সুচিত্রার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।খবর জি নিউজ।গত ২৬ দিন ধরে ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। শুক্রবার সকাল ৮টা ২৫ নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন মহানায়িকা।তবে তিনি কিছুদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন।
ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত হন তিনি।এ ছাড়া সম্মানজনক বঙ্গ বিভূষণ পদকে ভূষিত হন ভারতের অন্যতম বিখ্যাত এ অভিনেত্রী। ভারতের বাইরে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিনি।১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন সুচিত্রা। ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত অভিনয় করেন তিনি। সাত পাকে বাঁধা, সাপমোচন, হারানো সুর ও দ্বীপ জ্বেলে যাই তাঁর বিখ্যাত সিনেমা।

সুচিত্রা সেন পাবনার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত এবং মা ইন্দিরা দাশগুপ্ত। তিনি আজ সুচিত্রা সেন নামে পরিচিত হলেও শৈশবে তার নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। রমা ছিলেন সংসারের পঞ্চম সন্তান এবং তৃতীয় কন্যা। ১৯৪৭ সনে তার বিয়ে হয় দিবানাথ সেনের সাথে। শ্বশুরবাড়ি থেকেই তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয় ‘সেন’ উপাধি। রমা দাশগুপ্ত হয়ে যান রমা সেন।

১৯৭৮ সালে ‘প্রণয়পাশা’ ছবি মুক্তির পরই আড়ালে চলে যান মহানায়িকা। এরপরই ১৯৮০-তে কোনও এক নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এসে কলকাতার এক চিত্র সাংবাদিকদের ক্যামেরাবন্দি হয়ে যান। ওই শেষ। এরপরই আর কোন ক্যামেরা সুচিত্রার ছবি তুলতে পারেনি।২৩ ডিসেম্বর আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি হন রমা সেন ওরফে সুচিত্রা। এরপর কখনেও ভালো আবার কখনও খারাপ, এভাবেই চলেছে তাঁর অবস্থা। এরই মধ্যে চোখেও ছানি পড়ে সুচিত্রার।
১৯৭৮ সালে দীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর তিনি চলচ্চিত্র থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি লোকচক্ষু থেকে আত্মগোপন করেন এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায় ব্রতী হন। ২০০৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য সুচিত্রা সেন মনোনীত হন। কিন্তু ভারতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সশরীরে পুরস্কার নিতে দিল্লী যাওয়ায় আপত্তি জানানোর কারণে তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি।

অসুস্থতার পর সাড়ে তিন দশক পর্দার অন্তরালে থাকা উত্তম-নায়িকার সঙ্গে দেখা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। প্রায় ২৫ মিনিট কথা বলেন তাঁরা। সুচিত্রাকে দেখে মুগ্ধ অভিভূত মমতা রাতেই তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, সেনকে দেখে তিনি মুগ্ধ, ভাগ্যবতি মনে করছেন।
১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ ছবির মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় কিন্তু সে ছবিটি মুক্তি পায়নি। পরবর্তী বছর উত্তম কুমারের বিপরীতে সাড়ে চুয়াত্তর ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য লাভ করে এবং উত্তম-সুচিত্রা জুটি উপহারের কারণে আজও স্মরনীয় হয়ে আছেন তাঁরা। বাংলা ছবির এই অবিসংবাদিত জুটি পরবর্তী ২০ বছরে ছিলেন আইকন স্বরূপ।
সুচিত্রা সেন অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র, সাড়ে চুয়াত্তর (১৯৫৩, ওরা থাকে ওধারে (১৯৫৪), অগ্নিপরীক্ষা (১৯৫৪), শাপমোচন (১৯৫৫), সবার উপরে (১৯৫৫), সাগরিকা (১৯৫৬), পথে হল দেরি (১৯৫৭), হারানো সুর (১৯৫৭), দীপ জ্বেলে যাই (১৯৫৯), সপ্তপদী (১৯৬১), বিপাশা (১৯৬২), চাওয়া-পাওয়া, সাত-পাকে বাঁধা (১৯৬৩), হসপিটাল, শিল্পী (১৯৬৫), ইন্দ্রাণী (১৯৫৮), রাজলক্ষী ও শ্রীকান্ত (১৯৫৮), সূর্য তোরণ (১৯৫৮), উত্তর ফাল্গুনি (১৯৬৩), গৃহদাহ (১৯৬৭), ফরিয়াদ, দেবী চৌধুরানী (১৯৭৪), দত্তা (১৯৭৬), প্রণয় পাশা ও প্রিয় বান্ধবী।


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc