Wednesday 23rd of October 2019 06:23:17 AM
Saturday 5th of October 2019 12:32:06 AM

সেটেলমেন্ট অফিসারের ঘুষ-বাণিজ্যের অপকীর্তি প্রমানে

বিশেষ খবর, বৃহত্তর সিলেট ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
সেটেলমেন্ট অফিসারের ঘুষ-বাণিজ্যের অপকীর্তি প্রমানে

বিভাগীয় তদন্তে ৩ জনের বিরুদ্ধে আরো ৫টি অভিযোগ দাখিল 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ  হবিগঞ্জের “চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ বাণিজ্যে, লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও মফিজ” সহ বিভিন্ন শিরোনামে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিভাগীয় তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস, আলমপুর সিলেটে এ তদন্ত কার্যক্রম করেন জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (উপ-সচিব) সৈয়দ ফারুক আহাম্মদ এর নেতৃত্বে একটি বোর্ড।

তদন্তে ভুক্তভোগীরা আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহমেদের যোগসাজসে সার্ভেয়ার রাখাল চন্দ্র দাশ ও কথিত পেশকার মফিজুল ইসলাম তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার স্বাক্ষরিত এক পত্রে সংশ্লিষ্টদের স্বশরীরে হাজির হয়ে স্বাক্ষ্য প্রমান দেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেন।

“চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ বানিজ্য লাখ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে পেশকার” শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয় সেটেলমেন্ট বিভাগসহ সাধারণ মানুষের মাঝে। তা নজরে আসে সেটেলমেন্ট জোনাল কার্যালয়ের।

এক পর্যায়ে কথিত পেশকার মফিজের ঘুষ লেনদেনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, মফিজ পৌনে তিন লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

এছাড়া আরো বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার সৈয়দ ফারুক আহাম্মদ বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি নোটিশ জারি করেন। নোটিশে ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ ঘটিকায় তার কার্যালয়ে অভিযুক্ত আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদ, সার্ভেয়ার রাখাল চন্দ্র দাস ও কথিত পেশকার মফিজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকার জন্য পত্রে উল্লেখ করা হয়।

এর প্রেক্ষিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসের ঘুষ-বাণিজ্যের ঘটনার তদন্ত সিলেট শহরের আলমপুরস্থ জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে অনুষ্ঠিত হয়। তদন্ত বোর্ডে নোটিশপ্রাপ্ত ভুক্তভোগী সাতপাইকা মৌজার ফারুক মিয়া, দিলীপ সিং, পারকুল মৌজার কানু শুক্ল বৈদ্য, নুর হোসেন, অজিত ছাড়াও মফিজের নিকট টাকা পাওনাদার ফারুক মাহমুদ, পর্চা নিতে টাকা প্রদানকারী সাতপাইকা মৌজার ফুল মিয়া, মিহির লাল কানু, তফসির মিয়া, সফর আলী, রুদ্রপুর মৌজার হাবিবুর রহমান সহ আরো ১০/১২ জন স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।

কথিত পেশকার মফিজ, সার্ভেয়ার রাখাল চন্দ্র দাস ও আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদ এর বিরুদ্ধে তাদের কাছ থেকে পর্চা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার কথা জানান এবং ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করেন। তদন্তে তাদের নির্ধারিত নোটিশ জারিকারক থাকলেও মফিজকে দিয়ে কেন নোটিশ জারি করা হয়েছে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কেউই উত্তর দিতে পারেননি। ভুক্তভোগীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

নোটিশ না পেয়েও যারা তদন্ত বোর্ডের কাছে তদন্তকালে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নির্দেশ দেন। ফারুক মাহমুদ জানান, আমি তদন্ত বোর্ডে উপস্থিত সকলের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছি। সার্ভেয়ার রাখাল চন্দ্র দাস ও কথিত পেশকার মফিজ আমার পাশের একটি রুম ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস বসবাস করেছেন এবং অফিসে গিয়ে কাজ করতেন। এ সুবাদে আমার সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক তৈরী করে বিপদের কথা বলে মফিজ আমার কাছ থেকে হাওলাদ হিসেবে ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার দিন রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। আমার টাকাগুলো পাওয়ার জন্য আমি উপস্থিত সকলের সম্মুখে তদন্ত বোর্ডের সদয় দৃষ্টি কামনা করে পাওনা টাকা আদায়ে জোর দাবি জানাই।

তদন্তে এসময় উপস্থিত ছিলেন- তদন্ত বোর্ডের প্রধান সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (উপ-সচিব) সৈয়দ ফারুক আহাম্মদ, কারিগরি উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির-২ সহ আরো ২ জন কর্মকর্তা এবং চুনারুঘাট সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার অসীম ভূষণ সাহা, অভিযুক্ত আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহমেদ, সার্ভেয়ার রাখাল চন্দ্র দাশ সহ ভুক্তভোগী ১৪/১৫ জন।

এদিকে আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহমেদ সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন সহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে গত ১ অক্টোবর সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার বরাবরে ভুক্তভোগী রুদ্রপুর মৌজার হাবিবুর রহমান, সাতপাইকা মৌজার ছালেহ আহমদ, মানিক মিয়া, ফুল মিয়া সহ ৫ জন বাদী হয়ে বিভাগীয় তদন্তে আরো ৫টি লিখিত দাখিল করেছেন।  শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগীরা এ প্রতিবেদকের হাতে দাখিলকৃত অভিযোগের কপি দিয়ে বলেন, বিভাগীয় তদন্ত ধামাচাপা না দিয়ে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমারা জোর দাবি জানাচ্ছি।


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc