সাভার ট্রাজেডির পরিস্থিতিতে বিকেলে বিজিএমইএর সংবাদ সম্মেলন

    0
    4

    ঢাকা, ২৬ এপ্রিল : সাভারে ভবন ধসে শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় রানা প্লাজার মালিক এবং ওই ভবনে থাকা গার্মেন্টস মালিকদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ শুক্রবার রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাঙচুর এবং সড়ক অবরোধ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। বিশেষ করে রাজধানীর পল্লবী, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১৪, শ্যামলী, কল্যাণপুর, কলেজগেইট, গাবতলী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা, কারওয়ানবাজার, মহাখালী, গুলশান, রামপুরা, বাড্ডা ও মালিবাগ এলাকার পোশাক শ্রমিকরা সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে আসে। কয়েকটি পোশাক কারখানার পাশাপাশি শতাধিক গাড়ি ভাংচুর করে তারা। এদিকে সাভার ট্রাজেডির সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে আজ বিকাল ৫টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বিজিএমইএ। এতে আগামীকাল সারা দেশে গার্মেন্টস কারখানায় বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
    এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিক বিক্ষোভ ও অবরোধের কারণে এসব এলাকায় সকাল থেকেই যান চলাচল দারুণভাবে বিঘিœত হচ্ছে। মিরপুর, রামপুরা, বাড্ডা, শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। পল্লবী থানার ওসি আব্দুল লতিফ শেখ জানান, আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুরের পল্লবী ও ১১ নম্বর সেকশনের বেশ কয়েকটি গার্মেন্টের শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসে।
    তারা ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা এবং ওই ভবনে থাকা পাঁচটি পোশাক কারখানার মালিকদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে মিরপুর এলাকার বেশ কিছু পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে মিরপুর ১৪ এবং ১০, শ্যাওড়া পাড়া-কাজীপাড়া এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্টের শ্রমিকরাও বিক্ষোভে যোগ দেয়। শ্রমিক বিক্ষোভে আগারগাঁও থেকে রোকেয়া সরণীতে যান চলাচল বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে।
    সকালে কাজ শুরুর পরপরই শ্রমিকরা দল বেঁধে কারখানা থেকে বেরিয়ে যায় এবং বিক্ষোভ শুরু করে। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ কারখানা শুক্রবারের জন্য ছুটি ঘোষণা করে। পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে ফিরে যাওয়ার সময় শ্রমিকরা আশেপাশের বিভিন্ন কারখানায় ঢিল ছোড়ে এবং ভাংচুর চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূরবী এলাকার রিনি এন্ড শেলি, শিহা ডিজাইন ও কালসিতে স্ট্যান্ডার্ড গ্র“পের ২২ তলা ভবনসহ বিভিন্ন কারখানার কাচ ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর সেক্টরের কয়েকটি কারখানার কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেখানে তারা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন বলে জানান স্থানীয়রা। বিক্ষোভ-ভাঙচুরের কারণে মিরপুর সড়কে ঘণ্টা খানেক যান চলাচল বন্ধ থাকে।
    এদিকে রামপুরা, গুলশান ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরাও সকাল ১০টার দিকে রাস্তায় বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। রামপুরা থানার ওসি দোলোয়ার হোসেন খান বলেন, সাভারে ভবন ধসে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর পরও কেন গার্মেন্ট বন্ধ করা হবে না- তার দাবিতে তারা স্লোগান দিচ্ছিল।বিক্ষোভকারীরা এ সময় রামপুরায় ১০-১৫টি গাড়ি ভাংচুর করে বলে ওসি জানান। বেলা ১২টার দিকে মহাখালী এলাকায় শ্রমিকরা লাঠি নিয়ে মিছিল বের করে। এ সময় তারা আশেপাশের দোকানপাটেও হামলার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে। এছাড়া তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা বিজিএমই ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন । বেলা ১২টার দিকে গার্মেন্ট শ্রমিকরা শ্যামলীতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। বিক্ষোভকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের একটি গাড়িও শ্রমিকদের ভাঙচুরের কবলে পড়ে। শ্যামলী এলাকায় ৭-৮ জন পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের নিরব থাকতে দেখা যায়।
    এছাড়া কলেজগেট এলাকায়ও পোশাক শ্রমিকদের মিছিল থেকে কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্রতক্ষদর্শীরা জানায় কল্যাণপুরের ইবনেসিনা মেডিকেলের সামনে ক্রিয়েটিভ গার্মেন্টের কর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে গাবতলীর দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
    এছাড়া সাভারের রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবিতে আজ সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে হাজার হাজার শ্রমিক। তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়িতে এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় রাস্তায় জড়ো হয়ে মিছিল করছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় ছিল।
    এদিকে ভবন ধসে হতাহতের ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় পোশাক শ্রমিকরা। সাভার, আশুলিয়ায় শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে ভাঙচুর শুরু করলে ওই এলাকার সব কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। গাজীপুরেও শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর করে।
    প্রসঙ্গত সাভার বাসস্ট্যান্ডে ৫৬ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠা ৯তলা ভবন রানা প্লাজা বুধবার সকালে ধসে পড়ে। এতে দোতলা পর্যন্ত দোকান ছিল। ওপরে ছিল পাঁচটি পোশাক কারখানা। আগের দিন ওই ভবনে ফাটল দেখা দিলে শিল্প পুলিশ ভবনে কাজ বন্ধ করতে বললেও বুধবার সকালে কারখানাগুলোতে কাজ শুরু হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের কারখানায় ঢুকতে বাধ্য করা হয়।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here