সাব-রেজিষ্টার অফিস কর্তৃক টাউট হিসেবে চিহ্নিত এই ব্যক্তি

    0
    47

    জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিস দালাল মুক্ত চায় সচেতন এলাকাবাসী। এদিকে দালাল মুক্ত রাখতে ইতোমধ্যে দালাল চিহ্নিত করে অফিস প্রাঙ্গনে সাটানো হয়েছে “টাউট” লেখা নোটিশ।
    জৈন্তাপুর সাব-রেজিষ্ঠার অফিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে একশ্রেনীর ভূমি খেকু দালাল চক্র সাধারণ দলির গ্রহিতাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে আসছে। আর তাদের খপ্পরে পড়ে ভূমির প্রকৃত পরিবর্তন করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দলিল সম্পাদন করে আসছে। যার কারনে বিভিন্ন সময় ভিবিন্ন ভাবে জমি ক্রেতা বিক্রেতারা নানা হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে এক ব্যক্তি প্রকৃত দলিল লিখকের সহকারী হতে ভূয়া তথ্য উপস্থাপন করে নিজ নামে একটি দলিলের যাবতীয় কাগজাত তৈরী করে সম্পাদনের জন্য উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিসে জমাদেন। দলিলটি সম্পাদনের প্রক্কালে উপজেলা সাব-রেজিষ্টার হাফিজুর রহমান অসংগতি লক্ষ করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দলিলটি নথি পত্র যাচাই করেন। নথি পর্যালোচনা করে দেখতে পান ভূমির প্রকৃত রূপ পরিবর্তন করা সহ দস্তাবেজ নানা জালিয়াতি করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে তিনি দলিরটি নথিভূক্ত করেন। সেই সাথে দালাল চক্রের সদস্য উপজেলার ৫নং ফতেপুর (হরিপুর) ইউপির নয়াগ্রাম দক্ষিণ গ্রামের আলা উদ্দিনের ছেলে ইউসুফ আলী (৫০) কে দালাল চিহ্নিত করে রেজিষ্ট্রেশন আইনের ধারা ৮০ক, ৮০খ এবং ৮০গ অনুসরন করে নি¤েœ টাউট তালিকা প্রকাশে করে উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিসের নোটিশ বোর্ড সহ অফিসের বিভিন্ন স্থানে নোটিশটি জারী করা হয়। নেটিশে আরও বলা হয় টাউট তালিকা ভূক্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে কোন দলিলের সাথে সংশ্লিষ্টতা (সঙ্গী বা সনাক্তকারী) থাকিতে পারিবেনা। উহাকে অত্র কার্যালয়ে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা হইতে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া গেল অন্যতায় তাহার বিরুদ্ধে রেজিষ্টেশন আইনের ৮০চ ধারা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হইবে। এছাড়া দলিলের সেবা গ্রহিতাদের টাউট তালিকাভূক্ত ব্যক্তিদের থেকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হলে।
    সরজমিনে সাবরেজিষ্ঠার অফিসে গিয়ে দেখা মিলে চিহ্নিত দালাল ইউসুফকে। তবে এসময় তাকে কোন রেজিষ্টার দলিল লিখকদের টেবিলে পাওয়া যায়নি। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমি নিজের একটি দলিল প্রস্তুত করে সম্পাদনের জন্য দিলে স্যার তা বাতিল করেন। কিন্তু পরে আমার নামে নোটিশ টানানো হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি শেষ করা হয়ে গেছে তাই আমি কার্যালয় এলাকায় এসেছি। প্রয়োজনে আপনি আমার সম্মুখে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।
    এবিষয়ে উপজেলা সাব-রেজিষ্টার হাফিজুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, “বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে অপরাধী ব্যক্তি আমার সাব-রেজিষ্ঠার অফিসের তালিকা ভূক্ত কিংবা সনদ প্রাপ্ত দলিল লিখক নন। তাই তাহাকে অত্র কার্যালয় এলাকায় নিষেদাজ্ঞা জারী করা হয়েছে। এছাড়া তার দাখিল কৃত দলিলটি নথি ভূক্ত করা হয়েছে। অফিসটিকে দালাল ও টাউট মুক্ত রাখার চেষ্টা অব্যহৃত রয়েছে।”
    এবিষয়ে জৈন্তাপুর দলিল লিখক সমিতির সভাপতি মোঃ সাব উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আফতাব উদ্দিন প্রতিবেদককে জানান, সাব-রেজিষ্টার অফিসের নির্দেশনা জারী করার পর পর আমাদের দলিল লিখক সমিতি রেজুলেশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে চিহ্নিত টাউট, দালালদের কোন স্থান না দেওয়ার জন্য।