সরকারের ওপর ক্ষোভের প্রশমন হয়েছে এরশাদের

    0
    3

    আমারসিলেট24ডটকম,০ডিসেম্বরঃ জাপার নির্বাচনে আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সাথে বৈঠকের পর এই সম্ভবনা দেখা দিয়েছে বলে জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও এরশাদকে নিয়ে নির্বাচন করতে আশাবাদী বলে দলীয় সূত্রগুলো স্বীকার করেছে। এজন্য আওয়ামী লীগ তার কৌশল অনুযায়ী কাজ করছে বলে একটি সূত্রে জানা যায় ।
    সূত্র জানায়, নির্বাচনে যেতে এরশাদ কিছু শর্ত দিয়েছেন। নির্বাচনের তফসিল ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়া তার প্রধান শর্ত। অবরোধের কারণে জাপার ৩৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। এরশাদ তাদের নির্বাচনে আনতে চান। অন্যদিকে, এরশাদের নির্দেশে শতাধিক প্রার্থী এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বর্তমান তফসিলে তারা আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল বাতিল করে, নতুন তফসিল ঘোষণা করলে তারা নতুন করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। এরশাদ যেসব আসন চান, সেসব আসনে তার পছন্দের প্রার্থী দিতে পারবেন। আওয়ামী লীগ কোন আসনগুলো ছেড়ে দেবে, তা নতুন করে ঠিক করতে পারবে। তাই নতুন করে তফসিল ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথেই জাতীয় পার্টির নির্বাচনে আসার ঘোষণা আসতে পারে।
    সুত্র মতে নানা নাটকের পর জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বরফ গলেছে। তাই আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তার দল। সরকারের ওপর ক্ষোভের প্রশমন হয়েছে এরশাদের। সরকার এবং এরশাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র জাপার নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা যায়।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা তা বোর্ডে টানিয়ে দেন। বোর্ডে টানিয়ে দেয়ার পর তার প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যায়। তাই কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলে তার আর নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া জাতীয় পার্টির শতাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জাপা সূত্র জানায়, এরশাদ এই তফসিলে নির্বাচনে যেতে চান না। এটি ঠিক। কিন্তু, এর সঙ্গে সব দল অংশ গ্রহণের যে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, তা তার মনের কথা নয়। নতুন তফসিল ঘোষণাই হচ্ছে তার মূল দাবি।
    এরশাদ হঠাৎ গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে যেতে অস্বীকার করায় চিন্তায় পড়ে যায় সরকার। এরশাদকে নির্বাচনে আনতে সরকার নানাভাবে চেষ্টা চালায়।
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরশাদকে টেলিফোন করেন বলে জানায় সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র। তাতেও নমনীয় হননি এইচ এম এরশাদ।
    গত কয়েক দিন ধরেই সরকারের সঙ্গে জাতীয় পার্টির নেতাদের বৈঠক চলছে।গত শুক্রবার দিনভর জাতীয় পার্টির দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনের দীর্ঘ বৈঠক হয়। কী কারণে এরশাদ ক্ষুব্ধ হয়েছেন, সরকারের প্রতিনিধিদের তা জানানো হয় ওই বৈঠকে। সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে জাপার ওই দুই নেতা এরশাদের সঙ্গে বেঠক করেন। তাদের মাধ্যমে এরশাদ সরকারকে কিছু শর্ত দেন। শর্তগুলো মানলে তিনি নির্বাচনে যেতে রাজি আছেন বলে ওই দুই নেতাকে জানান।
    এরশাদের দেওয়া শর্তের আলোকে শুক্রবার বিকেলে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন জাপার দুই নেতা। আলোচনায় জাপা নেতারা এরশাদের দাবি উত্থাপন করেন। জাপা নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় সরকার এরশাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে সূত্র জানায়। সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সার-সংক্ষেপ এরশাদকে জানান জাপা নেতারা। সরকার তার দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়ায় এরশাদ আবারো তার অবস্থান থেকে সরে আসেন।
    এরপর এরশাদ শুক্রবার রাতে তার বারিধারার বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে সব দল অংশ নিলে এবং নির্বাচনের তফসিল ১০ দিন পেছালে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।  সরকার এরশাদের দাবি মেনে নিলে আগামী ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরশাদের দাবি অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল পেছাতে নির্বাচন কমিশনকে সরকার অনুরোধ জানাবে কী না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ ব্যাপারে সরকারের মনোভাব এখন অনেকটাই নমনীয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এরশাদকে নির্বাচনে আনতে বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে বোঝানো হচ্ছে। প্রয়োজনে সরকার সর্বোচ্চ ছাড় দিতেও রাজী আছে বলে এরশাদকে জানানো হয়েছে বলে সূত্র থেকে জানা যায়।
    জাতীয় পার্টির সূত্র জানায়, এরশাদ তার দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও অবরোধের কারণে দেড় শতাধিক প্রার্থী এখনো মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। তবে এখনো যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করতে নির্দেশ দিয়েছেন এরশাদ।
    এরশাদের এই নির্দেশের ব্যাপারে জাপা নেতারা কেউ মুখ খুলছেন না। জাপার এক শীর্ষ নেতা জানান, কৌশলগত কারণে এ ব্যাপারে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ, সরকারের সঙ্গে এখনো দর কষাকষি চলছে। তাই সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বাকিদের মনোয়নপত্র প্রত্যাহার না করতে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
    সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে সরকার এখনো অটল রয়েছে। তাই জাতীয়  পার্টির যে দেড় শতাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র এখনো প্রত্যাহার করেননি, তাদের মধ্যেই আসন বন্টন করতে সরকার আগ্রহী। এতে চুক্তির কোনো নড়চড় হবে না বলেও এরশাদকে জানানো হয়েছে বলে জানা যায়।
    সরকারের এই প্রস্তাবে রাজী নন এরশাদ। এরশাদের পছন্দের বেশ কিছু প্রার্থী ইতোমধ্যেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এরশাদ তাদের সংসদে দেখতে চান। তাছাড়া এরশাদ কিছু নিশ্চিত আসনও চান। সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছু আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।
    তাই ঘোষিত তফসিল বাতিল হলে এরশাদ পছন্দ মতো আসন চেয়ে নিতে পারেন।
    তবে সরকার সব দাবি মানলে এই তফসিলেও নির্বাচনে যেতে এরশাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানায় জাপার নির্ভরযোগ্য সূত্র। তাই সরকার এরশাদের দাবি মেনে নিতে আশ্বাস দেওয়ায় এরশাদ নির্বাচনে যাচ্ছেন-তা এখন অনেকটাই নিশ্চিত।  অবশ্য এরশাদ ও সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
    তবে এরশাদের দাবি সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও চূড়ান্ত ফায়সালা চান এরশাদ। তিনি ঝুলে থাকতে চান না। তাই শনিবার জাপার মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে সরকারের ওপর আরেকটি নতুন চাপ দিতে পারেন সাবেক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here