সংবিধান সংশোধন করুন : খালেদা জিয়া

    0
    8

    আমার সিলেট  24 ডটকম,২০অক্টোবর সর্বদলীয় সরকার গঠনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সময় থাকতে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবি পুনর্ব্যক্ত করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, দিন যতোই বাড়ছে, ততোই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন। এখনও সময় আছে। সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। সংবিধান সংশোধন করুন। যদি মনে করেন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি দিয়ে ইলেকশন করাবেন, সেটা ভুল। সেটা হতে দেয়া হবে না এদেশে। এ বাংলাদেশে নির্বাচন হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। গণতান্ত্রিক সরকারই এদেশে আসবে। আজ রবিবার সন্ধ্যায় সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
    এর আগে আজ বেলা সাড়ে তিনটার কিছু আগে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) হল অব ফেমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের জাতীয় কনভেনশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ। তারও আগে এ হলের বরাদ্দ বাতিল হওয়ার পর ১৪টি শর্তে এ সম্মেলন করার অনুমতি পায় আয়োজকেরা। বিকেল সোয়া চারটায় সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হন খালেদা জিয়া। সম্মেলন শুরু হওয়ার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মিলনায়তন। অনুষ্ঠান পরিচলনা করছেন পেশাজীবী পরিষদের সদস্যসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নেতারা বক্তৃতা করেন।
    সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, সাংবাদিক নেতা ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের শিক্ষকদের আহ্বায়ক সদরুল আমিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, চলচ্চিত্রনির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ কে এম নাজির আহমদ, ড্যাবের সভাপতি আজিজুল হক প্রমুখ।
    খালেদা জিয়া বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বারবার আগান পিছান। ঢাকায় হারা যাবে না এই ভয়ে এ নির্বাচন দেননি। বারবার সংবিধানের কথা বলেন। আমাদের তো নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিল। কিন্তু তাকে সরিয়ে দিয়ে অনির্বাচিত প্রশাসক কেন বসিয়েছেন? আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০০৭ সালে ২২ জানুয়ারি যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল সেটাও সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছিল। আপনারা যদি সে নির্বাচনে অংশ না নেন, তাহলে আপনাদের অধীনে কেন নির্বাচন হবে? তা হতে পারে না।
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বেগম জিয়া বলেন, আপনি স্বৈরশাসকের কথা বলেন। আপনার মুখে তা মানায় না। স্বৈরশাসককে আপনি অভিনন্দন জানিয়েছেন। মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনকে আপনি ওয়েলকাম করলেন। মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে পার্থক্য টেনে তিনি বলেন, আপনারা শুধু এ দেশ থেকে অন্য দেশের সীমান্তে পাড়ি দিয়েছেন, যুদ্ধ কিন্তু আপনারা করেননি। তারা মুক্তিবাহিনী হতে পারে, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা না, মুক্তিযোদ্ধা বললে জিয়াউর রহমানের দলই হলো আসল মুক্তিযোদ্ধার দল।
    আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে বিএনপি অনেক বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করেছে দাবি করে বিএনপি নেত্রী বলেন, যা কাজ আমরা করেছি, আপনারা ততো কাজ করতে পারেননি। উন্নয়ন ও নারী শিক্ষার জন্য আমরাই সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি। ফুড ফর এডুকেশন প্রোগ্রাম আমরাই শুরু করেছি। পাকিস্তানি মালালাকে আপনারা সমর্থন দিয়ে আসতে পারেন, কিন্তু আমাদের হাতে দেশের উন্নয়নকে সমর্থন দিতে পারেন না। এই সরকার এতো ছোট মনের, হিংসুক!
    বিএনপি ক্ষমতায় এলে যে কোনো মূলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা হবে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকার মাদক খাইয়ে যুব সমাজকে ধ্বংস করতে চায়। মাদক বন্ধ করবো ক্ষমতায় এলে। যতো হোমড়া, চোমড়া পুলিশই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ইয়াংদের বাঁচাতে হবে। তারাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সময় দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হাত থেকে দেশ বাঁচানোর সময় এসেছে। আওয়ামী লীগ হটান, দেশ বাঁচান। গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন।’
    আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, তার দোষ কী? সে সত্যি কথা লিখতো। এভাবে জেলে না ভরে তাকে মুক্তি দিন। অন্যায় সে করেনি। আপনারা করেছেন। উপরে আল্লাহ আছে, নিচে বিচারকদের বলবো, আপনারা সত্য ন্যায়ের পক্ষে থাকুন। নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোথায় আজকে? এ সরকার এখনও উত্তর দেয়নি। তাকে ফেরত চাই। কেন চৌধুরী আলমকে গুম করা হয়েছে। শিবিরের এক ছেলে যে সংগঠনটির সভাপতি, কীভাবে তাকে জেলে নির্যাতন চালাচ্ছে!
    প্রসঙ্গত নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কটূক্তি, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে আজকের এ জাতীয় কনভেনশনের আয়োজন করা হয়।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here