সংবাদ সম্মেলন থেকে কাস্টম হাউজ ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা

0
99
সংবাদ সম্মেলন থেকে কাস্টম হাউজ ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা
দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কমিশনার ও কাস্টম গোয়েন্দা কর্মকর্তা আব্দুল আহাদের বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এম এ মতিন।

“দুর্নীতির গডফাদার কাস্টমস কমিশনারের স্বেচ্ছাচারিতার বিচার দাবি,২৪ ঘন্টার মধ্যে দুর্নীতিবাজ  কাস্টম গোয়েন্দা কর্মকর্তা আব্দুল আহাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কাস্টম হাউজ ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা”

“বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিবকে নিয়ে ভিত্তিহীন কাল্পনিক নিউজ প্রকাশের প্রতিবাদ,জব্দকৃত গাড়ির ক্ষতিপূরণ দাবি”

সংবাদ সম্মেলন থেকে কাস্টম হাউজ ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা
দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কমিশনার ও কাস্টম গোয়েন্দা কর্মকর্তা আব্দুল আহাদের বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ স উ ম সামাদ।

৫০ লক্ষ টাকার শুল্ককর ফাঁকির কাল্পনিক অভিযোগ এনে গাড়ি জব্দ করাসহ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিনকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার প্রতিবাদ, দোষী কাস্টম গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিচার দাবিতে সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন আজ ৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ১১ টায় কাস্টম হাউজ গেইটে অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদ বলেন- সুফিবাদি জনতার জাতীয় রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠার পর হতে এদেশে আদর্শিক রাজনীতি চর্চা করে আসছে।

এ সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন।তিনি দেশবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ভূমিকা রেখে আসছেন।তার নেতৃত্বে ২০১৩ সালের ২০ এপ্রিল লালদীঘি ময়দানে দশ লক্ষাধিক সুফিবাদি জনতার অংশগ্রহণে জঙ্গিবাদ বিরোধী মহাসমাবেশ সফল হওয়ার পর হতে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা জঙ্গিবাদি অপশক্তির দোসর কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার টার্গেটে পরিণত হন মাওলানা এম এ মতিন।

সর্বশেষ  গত  ১০/২/২০২০ তারিখে তার ব্যবহৃত বৈধ গাড়ী চেরাগি পাহাড় বাসা হতে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে আটক করে জঙ্গিবাদি অপশক্তির দোসর গোয়েন্দা কর্মকর্তা আবু হানিফ মুহাম্মদ আব্দুল আহাদের নেতৃত্বে একটি গোয়েন্দা টিম। নিলাম হতে ক্রয়কৃত গাড়িটির কাগজপত্র-ডকুমেন্টস সবকিছু ঠিক থাকলেও সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে গাড়িটিকে চোরাচালানের মাধ্যমে আমদানিকৃত গাড়ি এবং ৫০ লক্ষ টাকার শুল্ককর ফাঁকি দেয়ার ভিত্তিহীন তথ্য উল্লেখ করে প্রেসব্রিফিং করে উক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।এ কর্মকর্তা অন্যায়ভাবে অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে  বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিনকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করতে অপকৌশলের আশ্রয় নেয় এবং দামি গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়। অথচ গাড়িটি  আটককালীন সময়ে ৪র্থ মালিক হিসেবে তথ্য সংক্রান্ত স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় জনাব এম এ মতিন গাড়িটি কাস্টম গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিকট হস্তান্তর করলেও পরবর্তীতে তিনি তথ্য অনুসন্ধান করে গাড়ির দলিলাদি কমিশনার অব কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করে প্রমাণ করেন- গাড়িটি কাস্টম নিলাম শাখা হতে ক্রয়কৃত।

তিনি বলেন- ২০২০ সালে আটককালীন সময়ে শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে  চোরাচালানের মাধ্যমে আমদানির অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলেও আব্দুল আহাদ গং বর্তমানে বিষয়টি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।তারা মামলার আরজি হতে সরে গিয়ে এখন বলছে চেসিস নম্বরে ভিন্নতার কারণে আটক করা হয়েছে।যা আইন মতে অপরাধের শামিল।

ভুক্তভোগী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব  এম এ মতিন  সাহেব বিষয়টি নিয়ে দৃঢ়ভাবে চ্যালেঞ্জ করলে কমিশনার অব কাস্টমসের পক্ষে   ২৬/৭/২০২১ সালে ইস্যু করা পত্রে  কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, কাস্টম নিলাম শাখা ও বিআরটিএর তথ্যের মধ্যে অমিল হওয়ায় নিলাম শাখার প্রতিনিধিকে সরেজমিন পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।তদন্তে চেসিস নাম্বার বিষয়ে  নিলাম শাখার গাফিলতির প্রমাণসহ এ যাবৎ গাড়িটি নিয়ে  যে সব অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিটি অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এম এ মতিন বলেন- এ পরিস্থিতির জন্য আব্দুল আহাদ গংয়ের সহযোগী হিসেবে আমরা কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, কাস্টম নিলাম শাখা ও বিআরটিএকে দায়ী করছি।বারবার যোগাযোগ করেও এ তিন দপ্তরের পক্ষ হতে কোনো সদুত্তর আসেনি।। কমিশনার অব কাস্টমস এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে  নিজের অপারগতা প্রকাশ করায় আমরা তার ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদ আরো বলেন-দুই বছর পূর্বে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আটক করা গাড়িটি খোলা আকাশের নিচে থাকায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমাদের প্রশ্ন-সবকিছু ঠিক থাকার পরও কার নির্দেশে কাস্টম গোয়েন্দা কর্মকর্তা আবু হানিফ মুহাম্মদ আব্দুল আহাদ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব জননেতা এম এ মতিনের ব্যবহৃত গাড়িটি চোরাচালানের গাড়ি উল্লেখ করে প্রেসব্রিফিং করলেন ?

তিনি কার নির্দেশে একজন আলেমের কাছে ঘুষ দাবি করলেন ? তার এ রাষ্টীয় ক্ষমতার অপব্যবহার-দুর্নীতির বিচার দাবি, গাড়ির ক্ষতিপূরনসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। মাওলানা এম এ মতিন হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন-আমরা দ্রুত

বিচারবিভাগীয় তদন্তপূর্বক দোষী কর্মকর্তাদের অপসারণ ও গাড়িটির ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দাবি মেনে না নিলে,কোনো কার্যকর সুরাহা না হলে দেশের সুফিবাদি জনতাকে সাথে নিয়ে প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ কাস্টমস ভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায়ভার কমিশনার অব কাস্টমস বহন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ সভাপতি নুরুল ইসলাম জিহাদি,চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি ওবাইদুল মুস্তফা কদমরসুলি,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি অধ্যাপক আবুল মনছুর দৌলতি,চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর আহবায়ক আব্দুন নবী কাদেরী,মাও.ইউনুস তৈয়বি,নগর দক্ষিন সাধারণ সম্পাদক  মাও. আশরাফ হোসাইন, যুবসেনা কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ নুরুল্লাহ রায়হান খান,সংগঠক মাও. এনাম রেজা কাদেরি,মাও.নুরুল কবির রিজভি, নগর দক্ষিণ ইসলামী ফ্রন্ট সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর বঈদি,নাদিমুল হক রানা,আবু তৈযব,রিদওয়ান সাজ্জাদ,নেজাম উদ্দীন,রাজিব রিফাত,জামশেদ,মিসবাহ প্রমূখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here