শ্রীমঙ্গল কলেজের ছাত্রী ও সিরাজনগরের তাসনিম ইবনাত’র মেডিক্যালে ভর্তির গল্প

0
246
ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার, সাদা এপ্রোন গায়ে জড়ানোর। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে শ্রীমঙ্গলের সিরাজনগর গ্রামের ওয়াহিদুজ্জামান ফুলন ও সালমা খাতুনের মেয়ে তাসনীম ইবনাতের।
ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার, সাদা এপ্রোন গায়ে জড়ানোর। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে শ্রীমঙ্গলের সিরাজনগর গ্রামের ওয়াহিদুজ্জামান ফুলন ও সালমা খাতুনের মেয়ে তাসনীম ইবনাতের।

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার, সাদা এপ্রোন গায়ে জড়ানোর। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে শ্রীমঙ্গলের সিরাজনগর গ্রামের ওয়াহিদুজ্জামান ফুলন ও সালমা খাতুনের মেয়ে তাসনীম ইবনাতের।   তার নিজের বলা গল্প থেকে জানা যায়, তিনি বলেন- “ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখা করতে ভালোবাসতাম।  কাকিয়া বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন এ+ ও বৃত্তি পেয়ে পিএসসি পাশ করি। স্কুলের ইতিহাসে আমিই প্রথম এ+ পাই। প্রতি ক্লাসে প্রথম হতাম। সবার আদরের মেয়েকে আম্মু আব্বু এবার শহরে পাঠালেন। শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসি উভয় পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ ও বৃত্তি পাই। স্কুলের সব প্রতিযোগিতা, অনুষ্ঠান, গার্লস গাইড সবকিছুতেই ছিল অবাধ বিচরণ। স্কুলের সবাই একনামে চিনতো। স্যার ম্যামদের প্রিয় তাসনিম ইবনাত, জুনিয়রদের জামি আপু। তারপর ভর্তি হলাম শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে। স্কুল কলেজের সবচেয়ে দূরের ছাত্রী ছিলাম। আধঘন্টা মাটির রাস্তায় হেঁটে আরও আধঘন্টা গাড়িতে চড়ে শ্রীমঙ্গলে আসতে হতো প্রতিদিন।কিন্তু স্যার ম্যাম আর বান্ধবীদের আদর ভালোবাসায় কোনো কষ্টই মনে হতো না। প্লাস পয়েন্ট ছিল শ্রীমঙ্গলে নানুবাসা থাকা। সেখানে দুপুরে বিশ্রাম নিতে পারায় কষ্ট একটু কম হতো।

প্রিয় বিষয় ছিল গণিত। স্যাররা বোর্ডে একদিকে প্রশ্ন লিখতেন আর অন্যদিকে আমার অংক করা শেষ হয়ে যেত। একদিন তো এক বান্ধবী স্যারকে জিজ্ঞাসা করে ফেলসিল স্যার তাসনিম এতো তাড়াতাড়ি লিখে ফেলে কিভাবে। স্কুল কলেজে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, লয়ার, প্রোগ্রামার, ম্যাথমেটিশিয়ান আরও কতো কিছুই হতাম। তবে সাদা এপ্রোনের মায়া উপেক্ষা করতে পারিনি।আমার কলেজ থেকে অনেক কম মানুষই মেডিকেল চান্স পায়, বছরে ২/৩ জন। ঢাকার কোনো মেডিকেলে কেউ আছেন বলেও জানি না। তাই চান্স পাবো কিনা এই ভয়টা কলেজের সবার মতো আমারও হতো  না এমন না।

কলেজ লাইফটা ছিল স্বপ্নের মতো। কলেজের প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া, বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, কম্পিটিশনে প্রথম হওয়া, বিশেষ করে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপুমনির থেকে প্রাইজ পাওয়া সবকিছু মিলিয়ে লাইফটা অনেক সুন্দর ছিল। গ্রুপ লিডার ছিলাম কলেজ রেড ক্রিসেন্টেরও। কলেজের সবাই একনামে চিনতো। প্রিন্সিপাল স্যার থেকে শুরু করে সব স্যার ম্যামরা, বান্ধবীরা অনেক অনেক বেশি আদর করতেন। সবসময় মোটিভেট করতেন।আমার এখনও মনে পড়ে, আমি কোনোদিন মন খারাপ করে থাকলেও স্যার ম্যামরা জিজ্ঞাসা করতেন, “কি হয়েছে তাসনিম মন খারাপ কেনো? তুমি কি অসুস্থ?” এই জিনিসগুলো যে কতো বড় পাওয়া!

আম্মু আব্বুর একমাত্র আদরের মেয়ে। কখনো পড়ালেখা করতে চাপ দেননি। ইন ফ্যাক্ট আম্মু আব্বু বলতেন এতো পড়তে হবে না। মেডিকেলে না হলে আরও অনেক ভার্সিটি আছে। কোনো চাপ নেয়ার দরকার নেই। রেজাল্টের আগের দিন রাতেও বুঝিয়ে বলেছেন অন্য কোথাও পড়াবেন সমস্যা নাই। সবসময় সাপোর্ট করতেন আমাকে। যা চাইতাম উনাদের কাছে তার চেয়েও বেশি দিতেন।

আমি মনে করি কলেজ লাইফেই এডমিশনের রুট গড়ে নেওয়া উচিত। আর এতে আমার টিচাররা, আম্মু আব্বু আমাকে সর্বোচ্চ সাহায্য করেছেন। উনাদের দোয়ায়ই আমি মেডিকেলে চান্স পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ।

সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আমি একজন ভালো ডাক্তার হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে সবার সেবা করতে পারি।“

প্রসঙ্গত,তাসনীম ইবনাত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে,তিনি শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পাশ করেন।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here