শ্রীমঙ্গলে রাজলক্ষী নামধারী হাতিটি ৭ দিনেও সুস্থ হয়নি

    0
    16

    আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২০জুলাই,জহিরুল ইসলামঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গত ৭ দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছে কমলঞ্জ উপজেলার সিরাজুল ইসলামের পোষা মাদি হাতি যার নাম রাজলক্ষী।
    গত শুক্রবার রাত ১০টায় ব্রাম্মনবাড়িয়া থেকে শ্রীমঙ্গলের মৌলভীবাজার সড়কের ৫ নং ব্রীজের পাশে হাতিটিকে একটি ট্রাক থেকে নামানোর সময় হাতিটির কোমরে আঘাত পাপ্ত হয়ে ৭দিন ধরে এক জায়গায় পড়ে আছে বলে জানান হাতির মালিক সিরাজুল ইসলাম।
    হাতির মালিক সিরাজুল ইসলাম এই প্রতিবেদক কে জানান, বিভিন্ন কাজের জন্য হাতিটিকে ভাড়া দেয়া হয়। কয়েক মাস আগে ব্রাম্মনবাড়িয়ার এক লোক ভাড়া নেয়। দুই মাস কাজ বন্ধ থাকায় খাওয়ানোর জন্য তাকে কমলগঞ্জ নিয়ে আসছিলো। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে শ্রীমঙ্গল নামাতে গিয়ে হাতিটি আঘাত প্রাপ্ত হয়। এর পর থেকে হাতিটিকে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন শ্রীমঙ্গল প্রাণী সম্পদ হাসপাতালের কর্মকর্তারা।
    এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল প্রাণী সম্পদ বিভাগের ভ্যাটেনারী সার্জন ডা: আরিফুর রহমান জানান, তিনি ৭ দিন ধরে হাতিটিকে ঢাকা চিড়িয়াখানা ও ডুলুহাজরা সাফারী পার্কের চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।
    বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে রাজলক্ষী হাতিটি খাবার বন্ধ করে দিলে হাতিটিকে খাবারের যোগান হিসেবে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। তিনি আরোও জানান, ধারনা করা হচ্ছে হাতিটির মেরুদন্ডে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। তার পেছনের ডান পা টি উঠাতে পারছেনা।
    এদিকে শ্রীমঙ্গল প্রাণী সম্পদ হাসপাতাল ছাড়াও হাতিটির সার্বক্ষনিক খবর রাখছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোবাশশেরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান ও হাতির পরিবারের লোকজন।
    এদিকে হাতিটি একটি পরিত্যাক্ত জমিতে পড়ে আছে। খাবার দিলে খাবার নিচ্ছেনা। হাতিটি দেখতে শত শত লোক দাঁড়িয়ে তার সুস্থ্যতার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছে ।

    হাতির মালিক সিরাজুল ইসলাম জানান, তার দাদার আমল থেকেই তারা হাতি পালন করে আসছেন। একসময় তাদের ৮টি হাতি ছিলো এখন মাত্র ২টি। অপর একটি হাতি তাদের এক চাচার বাটে পড়েছে। আর এই রাজলক্ষির মা পড়ে ছিলো তাদের অংশে। তিনি জানান, এই রাজলক্ষিই তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। এই হাতিটির কিছু হলে তাদের পরিবার পথে বসে যাবে।
    তিনি জানান গত ৬দিন হাতিটি এক জায়গায় পড়ে ছিলো। যে খানে পড়েছিলো সে জায়গা গর্ত হয়ে কাঁদা পরিণত হয়েছিলো। বুধবার বিকেলে আরেকটি  হাতি দিয়ে টেনে তার স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here