শ্রীমঙ্গলে ব্যাপক ফসলি জমির মাটি উত্তোলনে কমছে কৃষি জমি

    0
    9

    শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালীরা  নির্ভিঘ্নে উর্বর কৃষি জমি নষ্ট করে ব্যাপক হারে মাটি উত্তোলন করছে। এতে হাজার হাজার হেক্টর দু’ফসলি কৃষি জমি থেকে উর্বর মাটি কেটে নেয়ায় নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন এলাকার উর্বরতা। এসব ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার পর তা পরিবহনের জন্য পাকা ও কাঁচা সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। মাটি বোঝাই যন্ত্রদানব ট্রাক্টর ও ট্রাক চলাচল করার কারণে রাস্তায় মাটি পড়ে তা অন্যান্য যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আর গ্রামীণ সড়কগুলো নষ্ট হওয়ায় অবকাঠামোর বিরাট ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ও তেমন কোন ধারাবাহিক অভিযান দেখা যায়না।
    কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি জমির উর্বর মাটি ৬ ইঞ্চি পরিমাণ গভীরতা চাষাবাদ উপযোগী। এই মাটি সরিয়ে ফেলা হলে পরের ৪-৫ বছর এ জমিতে ভালো ফসল হয় না। প্রচুর গোবর ও জৈবসার দিয়ে মাটিকে উৎপাদনের উপযোগী করতে কোন কোন ক্ষেত্রে আট দশ বছর লেগে যায়। যা শুধু কৃষকেরই ক্ষতি হচ্ছে না এতে গোটা দেশের কৃষিজ উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে যা অপূরনীয়। এই জমিকে উপযোগী করতে প্রচুরপরিমাণ কৃত্রিম ও জৈবসার জমিতে দিতে হয়।
    সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর, ভূনবীর, সিন্দুরখান, আশিদ্রোন, কালাপুর, শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকা হইতে কৃষি জমির কেটে মাটি নেয়া হচ্ছে। এইসব মাটি ট্রাক ও ট্রাষ্টর বুঝাই করে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। এতে দিন দিন কমে আসছে আবাদি জমি। বিশেষ করে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করায় খাদ্য ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে যাচ্ছে।
    শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের রূপশপুর গ্রামের কৃষক মো. রাজু মিয়া জানান, উঁচু ফসলের জমিতে পানি না উঠায় আমাদের ফসলি জমির মাটি বিক্রি করতে হয়। তাছাড়া আমরা জানতাম না মাটি কাটলে ফসলে উর্বরতা কমে। আজ জানলাম আর কোন দিন জমির মাটি বিক্রয় করব না।
    সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের দরবেশনগর গ্রামের কৃষক মো সাজ্জাদ মিয়া জানান, আমাদের এলাকায় যেসব জমি উচু, পানি থাকে না সেসব জমি কেটে মাটি বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করা হয়। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আমাদের জমি থেকে যারা মাটি কেটে নেন তারা পরবর্তীতে আমাদের জৈবসার গোবর ও নানা ধরণের সার দিয়ে সহায়তা করেন। মাটি কেটে নেয়ার ফলে জমির উর্বরতার যে ঘাটতি হয় তা গোবর ও সারে পূর্ণ হয়ে যায়। তিনি ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে নেয়ায় ফসলী জমির যে উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে তা জানেন না বলে জানান।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, কৃষি জমির উর্বর মাটি ৬ ইঞ্চি পরিমাণ গভীরতা হলে। এই জমিতে প্রচুর গোবর ও জৈবসার দিয়ে মাটিকে উৎপাদনের উপযোগী করতে আট দশ বছর লেগে যায়। যা শুধু কৃষকেরই ক্ষতি হচ্ছে না এতে গোটা দেশের কৃষিজ উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে যা অপূরনীয়। এই জমিকে উপযোগী করতে প্রচুর পরিমাণ কৃত্রিম ও জৈবসার জমিতে দিতে হয়। কৃষকদের সাথে আমরা মাঠ পর্যায়ে এবিষয়ে আলোচনা করে থাকি।
    মৌলভীবাজার মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো.সাইফুল ইসলাম বলেন, জমির মাটি যদি নেয়া হয়। এই জমিকে উপযোগী করতে প্রচুর পরিমাণ কৃত্রিম ও জৈবসার জমিতে দিতে হয়। আমরা প্রতি মিটিংয়ে এনিয়ে আলোচনা করে থাকি। এবিষয় শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।