শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা কসাই স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

0
52

জহিরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে স্ত্রী খুনের অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলার সুলতানসী গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম এর ছেলে মাসুম মিয়াকে (২৪) আটক করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম শাহীমা আক্তার (১৯), সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার মৃত আজিজুর রহমানের মেয়ে।
এই দম্পতি গত সপ্তাহ ধরে শহরের সুরভী আবাসিক এলাকার লন্ডন প্রবাসী কাওসার আহমেদ এর বাসায় ভাড়াটিয়াা থাকা বড় বোনের কাছে বেড়াতে এসেছিলেন।

নিহতের বড় বোন হালিমা আক্তার জানায়, হবিগঞ্জ জেলার সদর থানার সুলতানসী গ্রামের আঃ কাইয়ূম এর ছেলে মাসুম মিয়া’র (২৪) চার বছর পূর্বে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার শাল্লা গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের ছোট মেয়ে শাহীমা আক্তারের সাথে বিবাহে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর হতেই মাসুমের সাথে শাহীমার ঝগড়া হতো। পুর্বে শাহীমা আক্তার তার বড় বোন হালিমা আক্তারের সাথে হবিগঞ্জে বসবাস করত। বড় বোন সিসিডিএ সমিতিতে চাকুরী করেন এবং তার স্বামী প্রবাসে থাকেন বলে জানান তিনি।

হবিগঞ্জ থাকাকালীন সময়ে শাহীমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে শাহীমাকে বিয়ে করে ৪ বছর আগে মাসুম। গত শনিবার ২৭ মার্চ মাসুম শাহীমাকে নিয়ে শ্রীমঙ্গল শহরতলীর সুরভীপাড়ায় বড় বোন হালিমার বাসায় বেড়াতে আসে। গত ৩১ মার্চ মাসুম কসাইর কাজে মিরপুরে যায়। পরদিন ভোরে মাসুম পুনরায় হালিমার বাসায় আসে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শাহীমার সাথে মাসুমের কথাকাটি হয়। মাসুম রাতেই শাহীমাকে নিয়ে তার বাড়িতে চলে যেতে চাইলে শাহীমা ও তার বড় বোন হালিমা বলে,রাতে না গিয়ে পরদিন ভোরে যাওয়ার জন্য। কিন্ত স্বামী মাসুম রাত আনুমানিক ৩ ঘটিকার সময় তার কথা মত না যাওয়ায় শাহীমাকে কসাইর কাজে ব্যবহৃত ছুড়ি দিয়ে শাহীমার বুকে ও হাতে আঘাত করে এতে ঘটনাস্থলেই শাহীমার মৃত্যু হয়।

শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কারকুন বলেন, রাতেই খবর পেয়ে এএসআই সারোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে আজ শুক্রবার ২ এপ্রিল সকালে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরন করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়,ঘটনার পর অভিযুক্ত মাসুম মিয়া পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।আটক মাসুম আঘাত করার কথা স্বীকার করেছে তবে হত্যা করার কথা বলেনি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল থানায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।