শ্রীমঙ্গলে কমছেনা পেঁয়াজ ও মৌসুমী সবজির দাম

    0
    36
    সোলেমান আহমেদ মানিক, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কমছেনা পেঁয়াজ ও মৌসুমী সবজির দাম। অভিযান ও সরকারের বড় বড় আশ্বাসে কোন কিছুতে থামছে এসব দ্রব্যমুল্যের ঊর্ধ্বগতী। এনিয়ে সাধারণ ও মধ্যেবিত্ত ক্রেতাদের মাঝে সাংসারি ব্যয় বহণে হিমশিম খাচ্ছেন।
    আজ রবিবার (১ ডিসেম্বর) শ্রীমঙ্গলে পাইকারী ও খুচরা সবজি বাজারে সরজমিনে  গিয়ে দেখাযায়, দেশী পেঁয়াজ না থাকায় বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিশর থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ। সাপ্তাহ জুড়েও তেমন পেঁয়াজের দাম কমতে দেখা যায়নি। পেঁয়াজের এমন চরম মুল্য দেশে এই প্রথম।
    শুধু পিঁয়াজই নয়, বাজারের মৌসুমী সবজিও যা সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয় সীমা ঊর্ধ্বে।
    বাজার ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমি সবজির মুল্য কেজি প্রতি পেঁপে ৪০-৫০ টাকা  কাঁচা মরিচ ৮০-১০০ টাকা, ফুল কপি ৭০-৮০, বাধাঁ কপি ৪০-৫০, মুলা ৩০-৪০, বেগুণ ৪০-৫০ সীম ৬০-৮০, শসা ৮০-১০০, ধনিয়া পাতা ৮০-১২০, জিংগা ৭০-৮০ ও টমেটো ৮০-৯০ টাকার মধ্যে বিক্রয় হচ্ছে। এছাড়া প্রকার ভেদে ১৭০ থেকে ২শ টাকা কেটি দরে বিক্রয় হচ্ছে।
    এসময় বাজার করতে আসা ক্রেতা শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিরাইমপুর এলাকার গৃহিনী ফারহানা আহমেদ এই প্রতিবেদককে জানান, বাজারের তলেই সাংসারিক ব্যয়ের সব টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। বাজারের শাক-সবজির মূল্য অনেক বেশী। কিন্তুু কি আর করা বেঁচে থাকার তাগিদেতো কিনতে হবে।
    সারাদেশে জেলা ও উপজেলাসহ সকল বাজারে প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকারের অভিযান, সরকার পক্ষের আশ্বাস,বড় বড় চালান আসার খবর কোনো কিছুই থামাতে পারছে না পেঁয়াজসহ মৌসুমী সবজির মূল্য বৃদ্ধিকে।
    এদিকে একাধিক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার ও সংবাদকর্মীরা বাজার পরিদর্শনে এলে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা মূল্য কমিয়ে ফেলে। তারা চলে যাওয়ার পরপরই আবার পূর্বের ন্যায় অধিক মূল্যে বিক্রয় করে।
    এছাড়া পেঁয়াজ বিক্রতেরা জানান, ক্রেতারা দোকানে এসে আগে দাম জিজ্ঞেস করে পরে বলে ভাই আধা কেজি পেঁয়াজ দিন। শ্রীমঙ্গল ভানুগাছ সড়কের ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর জানান, বাজারে এসেছি পেঁয়াজ কিনতে। দুই সাপ্তাহ পেঁয়াজ কিনি নি। ঘরে একেবারেই পেঁয়াজ নেই। এখনও দাম কমেনি। তবে কমার আশায় ১ কেজি মিশরি পেঁয়াজ ক্রয় করেছি ১৭০ টাকায়। পেঁয়াজসহ মৌসুমী সবজির আকাশচুম্বী দামের কারণে আমার মতো নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ ব্যাপক চাপে পড়েছে।
    তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের মাইকিং করা হয়েছে ন্যায্য মূল্যের অতিরিক্ত মূল্য দাবী করলে স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে। অথবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে অভিযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।