শ্রীমঙ্গলে আজ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৭ টায় বন্ধ

0
43

জহিরুল ইসলামঃ  করোনা মহামারী প্রতিরোধে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সন্ধ্যা ৭ টা থেকে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশনা জারি করেছেন,এই নির্দেশ অমান্য কারীদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ সকল প্রকার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।
মৌলভীবাজারসহ সারা দেশে করোনা ভাইরাস নতুন করে সর্বোচ্ছ হাড়ে গত তিন দিন ধরে বেড়ে চলেছে এতে প্রশাসন কঠোর হতে যাচ্ছে।যারা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন। জরুরি প্রয়োজনে ফার্মেসি বা এ জাতীয় প্রতিষ্টান শিথিল থাকবে। হোটেল রেস্তোরা সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা সাতটায় বন্ধ করতে হবে।করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পরবর্তি নির্দেশনা মৌলভীবাজার জেলার সব পর্যটন কেন্দ্রও বন্ধ ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় এতে স্বাস্থ্যবিধি অমান্যের অভিযোগে ২০ টি মামলায় ২৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবার্হী কর্মকতা নজরুল ইসলাম,উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, সহকারী ভূমি (কমিশনার) নেছার আহম্মদ, শ্রীমঙ্গল থানার অপারেশন ওসি নয়ন কারকুন, পুলিশ উপি-পরিদর্শক কামরুল , ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ।
নিবার্হী কর্মর্কতা বলেন, ১ এপ্রিল ২০২১ থেকে ১৫ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত ঔষধের দোকান ও জরুরী সেবা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এ আইন যারা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরোও বলেন,আপনারা নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে আপনাদের দোকানপাট সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বন্ধ করবেন । গতবার আমরা অভিযান করতে আসলে দোকানপাট বন্ধ করতে দেখেছি এটি এবার করা যাবে না। এ কদিনে লক্ষ্য করেছি বেশির ভাগই তরুণ- তরুনীরা মাস্ক পড়তে উৎসাহীত নয়,তারা অবাধে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করছে এটি খুবই দু;খজনক ।

প্রসঙ্গত, টানা তিন দিন ধরে দেশে করোনায় সংক্রমিত ৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আজও করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৩৫৮ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত) করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে । গত সাত মাসের মধ্যে করোনায় একদিনে এটিই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু। এর আগে গত বছরের ২৬ আগস্ট করোনায় ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারও দেশে করোনায় সংক্রমিত হয়ে ৪৫ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর করোনায় সংক্রমিত ৫ হাজার ৪২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল গতকাল। তার আগের দিন সোমবার ৫ হাজার ১৮১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

এ পর্যন্ত দেশে মোট ৬ লাখ ১১ হাজার ২৯৫ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ হাজার ৪৬ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ হাজার ৯৩১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চূড়ায় (পিক) উঠেছিল গত বছরের জুন-জুলাই মাসে। ওই সময়ে, বিশেষ করে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী শনাক্ত হতো। বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকার পর এক মাসের বেশি সময় ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে ছয় দিন ধরে সাড়ে তিন হাজারের বেশি রোগী (প্রতিদিন) শনাক্ত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরেকটি চূড়ার (পিক) দিকে যাচ্ছে দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতি। ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে। দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা আসে ১৮ মার্চ।