শেষ ব্যক্তি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালাতে হবে : বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও

    0
    3

    ঢাকা, ২৮ এপ্রিল : সাভারে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে জীবিত শেষ ব্যক্তি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সর্বস্তরের ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক পেশাজীবী জনতা ও গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক ফোরামের নেতারা। সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ চার দফা দাবিতে আজ রবিবার সকালে রাজধানীর হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও এবং প্রতিবাদ সমাবেশে তারা এ আহ্বান জানান।  প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মনজুরুল হক, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সামিউল আলম, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি আবদুর রউফ, কাজী রোকসানা পারভীন, জামাল হোসেন প্রমুখ। এ ছাড়া রানা প্লাজা ধসে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে বিজিএমইএ ভবনের সামনে পৃথক প্রতিবাদী মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ যুব মৈত্রী। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আলমগীর রতন।

    শেষ ব্যক্তি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালাতে হবে : বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও
    শেষ ব্যক্তি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালাতে হবে : বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও

    এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান বলেন, আজ শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না। নির্বিচারে মরছে শত শত শ্রমিক। এটাকে নাকি মাওলানারা বলছে আল্লাহর গজব। আল্লাহর গজব কেন গরিব শ্রমিকদের ওপর পড়ে? মুনাফাখোর মালিকদের ওপর কেন পড়ে না? তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ের পরও বিজিএমইএ ভবন দাঁড়িয়ে আছে। রাষ্ট্র ভাঙ্গতে পারছে না। তার মানে কি রাষ্ট্র বিক্রি হয়ে গেছে? এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না। যে শ্রমিকদের রক্তের টাকায় মালিক মুনাফার পাহাড় গড়ছে, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
    সংগঠন দুটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, সব খুনি মালিককে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, নিহত শ্রমিক পরিবারপ্রতি ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ৩০ লাখ টাকা করে প্রদান। এসময় সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাজরীনের খুনি মালিককে আজ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি। রানা প্লাজা ধসে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। একইসঙ্গে খুনি মালিক রানাকে রাষ্ট্র নিজ নিরাপত্তায় পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। প্রতিবারই গুম করা হয় নিহত শ্রমিকদের। আর অপরাধী মালিকের বিচার করে না রাষ্ট্র। এদিকে ওই দুই সংগঠনের অবরোধ এবং মানববন্ধন কর্মসূচী উপলক্ষে পুলিশ বিজিএমইএ ভবনকে ঘিরে সতর্ক অবস্থান নিয়ে আছে।
    প্রসঙ্গত, গত বুধবার  সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামে বহুতল ভবনটি ধসে পড়ে। আজ রবিবার শেষ খবর পাওয়া  ৩৯৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪৮ জনের লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য লাশগুলো হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে। ছয় তলা ভবন নির্মাণের অনুমতি নিয়ে নয় তলা ভবন তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here