শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে নাঃ খালেদা জিয়া

    0
    5

    আমারসিলেট 24ডটকম , সেপ্টেম্বর  : নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে বলে আবারো জানিয়ে দিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, দেশে নির্বাচন চাই। আর নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই। আজ রবিবার বিকেলে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে ১৮ দলীয় জোটের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিকেল পৌনে ৫টায় তিনি তার ভাষণ শুরু করেন। খালেদার বক্তব্য শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। স্কুল মাঠে সমবেত লাখো জনতা বৃষ্টি উপেক্ষা করে তার বক্তব্য শোনেন।
    খালেদা জিয়া বলেন, হাসিনা বলেছিলো বিএনপির অধীনে নির্বাচন করবো না। তখন আবার জামায়াতকেও সঙ্গে নিয়েছিলো। তারা ১৭৩দিন হরতাল দিয়েছিলো। মানুষ খুন করেছিলো। আমরা নিরপেক্ষ সরকার দিয়েছিলাম। কিন্তু এবার ক্ষমতায় এসে তারা ওই সরকার ব্যবস্থা তুলে দিয়েছে। দোহাই দিচ্ছে আদালতের রায়ের। শেখ হাসিনার অধিনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
    বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া বলেন, গত বিএনপির শাসনামলে সারের দাম ছিলো ২৮০ টাকা বস্ত অথচ আওয়ামী লীগ আমলে সারে দাম হাজার টাকারও উপরে। তাই মানুষ আর আওয়ামীলীগকে বিশ্বাস করে না। আমরা এ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না। মহাজোট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের আগে বলেছিলো দশ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। তারা কৃষকদের বিনামূল্যে সার দিতে চেয়েছিলো।
    এ সময় প্রশ্ন করে খালেদা জিয়া বলেন, ঘরে ঘরে কি চাকরি দিয়েছে, বিনামূল্যে সার দিয়েছে, চালের দাম কি দশ টাকা ? ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গ টেনে খালেদা বলেন, তৎকালীন সিইসি কেএম হাসানের অধীনে নিবাচনে অংশ নেয়নি শেখ হাসিনা। অথচ তিনি ছিলেন নিরপেক্ষ। তবে হাসিনার অধীনে কিভাবে নির্বাচন সম্ভব। শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন হবে না। কারণ তারা চুরি করে, জোর করে আবারও ক্ষমতায় যেতে চায়।
    বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া না হলে অবরোধসহ বড় কর্মসূচি দেয়া হবে। সরকারি দলকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, আপনি যদি ভাল কাজ করেন তাহলে জনগণ আপনাকে নির্বাচিত করবে। আর যদি খুন, দুর্নীতি, লুটপাট করেন তাহলে ভোট দিবে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকারের সাড়ে ৪ বছরে ৩০ হাজার মানুষ খুন হয়েছে। মানুষ খুন করে কি ভাল কাজ হয়? তিনি আরো বলেন, সরকার নির্যাতন করে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। আমার দেশ, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টেলিভিশন বন্ধ করেছে। মাহমুদুর রহমানকে বিনা কারণে আটক রাখা হয়েছে। অধিকারের সেক্রেটারী আদিলুরকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
    দুপুর ২টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোজাফ্ফর হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসনে, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবীব দুলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, জামায়াতের শামসুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামি, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসহাক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, জেবেল রহমান গানি, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।
    এর আগে বেলা পৌনে ১২টায় বগুড়া সার্কিট হাউস থেকে রওয়ানা হয়ে তিন ঘণ্টা পর রংপুর পৌঁছে খালেদার গাড়িবহর। পথের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

    খালেদা জিয়ার গাড়িবহর রংপুর পর্যটন মোড়ে এলে কয়েকশ’ মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানায়। সেখান থেকে রংপুর সার্কিট হাউসে পৌঁছে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন বিরোধীদলীয় নেত্রী। জনসভায় রংপুর ছাড়াও রংপুর বিভাগের আটজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বগুড়া ও জয়পুরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা জনসভায় অংশ নেন। জনসভাস্থল পরিণত হয় বিশাল জনসমুদ্রে।
    সকাল ১০টা থেকেই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক ও বাসে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দেন নেতাকর্মীরা। দলের চেয়ারপারসনের আগমনকে কেন্দ্র করে রংপুরবাসীর মধ্যে উৎফুল্লতা দেখা দেয়। এছাড়া সমাবেশকে ঘিরে যে কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে শহরের মোড়ে মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে দুপুর ১২টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে স্থানীয় জাসাস শিল্পীরা। এরপর কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন ওকি গাড়িয়াল ভাই…আঞ্চলিক গান গেয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here