শামছুন্নাহার একাত্তরের এক নারী শরণার্থীর নাম

0
99
শামছুন্নাহার একাত্তরের এক নারী শরণার্থীর নাম

শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জ,মৌলভীবাজারঃ ছবিতে যাকে দেখছেন,তিনি শামছুন নাহার। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের এক প্রান্তিক নারী। একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামে নিজের বসতবাড়ী ছেড়ে দুই শিশু সন্তান নিয়ে ভারতের বিভিন্ন শরর্ণাথী শিবিরে যুদ্ধকালীন পুরোটা সময় জীবনের ঝূঁকি নিয়ে কাটিয়েছেন। স্বামী প্রয়াত আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি এম,এ,সবুর যুদ্ধের পুরো নয়টি মাস ভারতে এককোটি বাঙালীর আশ্রয়স্থল শরর্ণাথী শিবিরে ঘুরে ঘুরে তাদের খাদ্য ও রসদ সরবরাহ করেছেন।
মৃত্যুকে মাথায় করে পাকিস্তানী বন্দুকের গুলির সম্মুখে এপার ওপার করে মুক্তিযোদ্ধাদরে তথ্য সরবরাহ করেছেন বিশ্বস্ততার সাথে। এ অপরাধে এদেশীয় রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্যরা তাদের বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিলো। ক্ষেতের পাকা ধান কেটে নিয়েছিলো।
একাত্তরে ভারতের হালাহালি শহরের কাছে কমলপুর গ্রামে শত্রুর র্মটার বিষ্ফোরণের শব্দে আড়াই মাস বয়সী সন্তান শোয়েব এলাহীর কান ফেটে গিয়েছিলো। সে থেকে আজ অবধি সে মূক ও বধির হয়ে জীবন কাটাচ্ছে।পৃথিবীর সমস্ত শব্দ স্বাধীন বাংলার কোন বিজয় উল্লাস, কোন সুসংবাদ-দুঃসংবাদ তার কানে আজ ও পৌছে না।
আজও মা বলে ডাকতে পারছে না,সে তার র্গভধারিনিকে।শামছুন্নাহারের বড় ভাই বায়ান্নের ভাষা সৈনিক,বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য,বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক,মৌলভীবাজারের এমএনএ মোহাম্মদ ইলিয়াছ এমপি ৪নং সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেছেন,ভারতে শরর্ণাথী শিবিরে ঘুরে ঘুরে তাদের খাদ্য ও রসদ সরবরাহ করেছেন।


তিনি বলেন,জীবনভর বঙ্গবন্ধুর আর্দশ,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেমন নিজের হৃদয়ে লালন করে আসছি। তেমনি আমার ৫ ছেলে ও ২ মেয়েকে আমার আর্দশে গড়ে তুলেছি। কোন ক্রান্তিকালে সে আর্দশ থেকে বিচ্যুত হয়নি যারা।
মুক্তিযোদ্ধা হওয়া না হওয়া নিয়ে তার কোন আক্ষেপ নেই। তিনি মনে করেন, সার্টিফিকেট বা সূবিধা নেওয়ার জন্য তার সন্তান,স্বামী,ভাই বা দেশের আপামর সাহসী র্সূযসন্তানেরা অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেনি। ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দু লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে লাল সবুজের পতাকায় বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের যে সোনার বাংলা এনে দিয়েছেন তাঁর সূযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার সুচারু নেতৃত্বে সে সোনার বাংলা আজ ধন-ধান্যে পুষ্পে ভরা। বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল আমার সোনার বাংলায় স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পরে হলেও স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীর বিচার হচ্ছে।তবু সোনালী শস্যভরা উর্বর জমিনের আগাছার মতো কিছু আগাছা আর্বজনা এখনো মাথা তুলছে বীর তিতুমীর শরীয়ত উল্যাহ্, মাস্টারদা র্সূযসেন,প্রীতিলতা, ক্ষুদিরাম, শেরে বাংলা,মাওলানা ভাসানীর এ বাংলায়।
যতোদিন আগাছামুক্ত বা রাজাকার যুদ্ধাপরাধীমুক্ত হবে না বাংলাদেশ, ততোদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে আমাদের উত্তর প্রজন্মকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here