শাবিপ্রবি ও যবিপ্রবির গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা প্রসঙ্গে

    0
    42

    আমারসিলেট24ডটকম,২৯নভেম্বরঃ  গত মঙ্গলবার থেকে সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে এবারের ভর্তি পরীক্ষাটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু সিলেটবাসী এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধীতা করছেন। প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই বিরোধীতা?
    সিলেটের মানুষ সবসময় নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও স্বকীয়তা ব্যাপারে খুব সচেতন। তাই তাদের সংস্কৃতি ও স্বকীয়তা বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেও নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
    এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িয়ে আছে সিলেটেবাসীর অনেক আবেগ আর ভালোবাসা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাই হয়েছিল অত্রাঞ্চলের মানুষের আন্দোলন আর দাবির প্রেক্ষিতে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে সিলেবাসী কয়েকবার আন্দোলন করেছে এর স্বকীয়তা রক্ষার জন্য। ২০০০ সালে হলের নামকরণ এবং নিকট অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য স্থাপনের প্রতিবাদে তুমুল আন্দোলন করেছিল সিলেটবাসী। যার প্রেক্ষিতে স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হয়েও নিজ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত কোনভাবেই অযৌক্তিক নয়। মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের মতো গুচ্ছ পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা অনেক হয়রানি এবং ব্যয় থেকে বাঁচতে পারেন। কিন্তু এখানে কথা হচ্ছে, এ উদ্যোগ ছিল সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একসাথে পরীক্ষা নেয়ার। সবাই নিজেদের বিভিন্ন দিক চিন্তা করে এ প্রস্তাব মেনে নেয়নি। তাহলে যবিপ্রবির মতো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কেন শাবিপ্রবির সমন্বিত পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হল? যেখানে যবিপ্রবির সাথে শাবিপ্রবির বেশ কয়েকটি পার্থক্য বিদ্যমান।
    শাবিপ্রবি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৮৭ সালে আর যবিপ্রবি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ২০০৭ সালে। যবিপ্রবির যাত্রা শুরু হয়েছে মাত্র, আর শাবিপ্রবি দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সবদিক থেকে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি এটি। ২৬ বছর বয়সের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ৬ বছর বয়সের বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল আসে কোথা থেকে? এরপর শাবিপ্রবির বেশ কয়েকটি সাবজেক্ট যবিপ্রবিতে নেই। যেমন: বাংলা, ‘বি’ ইউনিটে আর্কিটেকচার, সিইই, এফইটি, জিইই, বিবিএম, ‘এ’ ইউনিটে বিবিএ, ইকোনোমিক্স, এসওসি, পিএসএস, পিএডি, এএনপি, এসসিডব্লিউ, এই সাবজেক্টগুলো শাবিপ্রবিতে আছে যা যবিপ্রবিতে নেই। এরপর শাবিপ্রবিতে ‘বি’ ইউনিটে আসন সংখ্যা ৮০০ আর যবিপ্রবিতে আসন সংখ্যা মাত্র ৫৪০, ‘এ’ ইউনিটে শাবিপ্রবিতে ৬০০টি আসন আর যবিপ্রবিতে মাত্র ৭০ টি। তাহলে এত দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও শাবিপ্রবির সাথে যবিপ্রবির মিল হয় কেমনে। এতগুলো সাবজেক্ট যেখানে যবিপ্রবিতে নেই। তাহলে সমন্বয়টা হয় কেমননে?  যদি সমন্বিত পরীক্ষাটা ঢাবি, রাবি, চবির মতো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে হত তাহলে হয়ত একটা কথা ছিল।
    সচেতন সিলেটবাসী তাই এর যৌক্তিক বিরোধীতা করছে। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য, কিছু মিডিয়া এবং ব্যক্তি ফেইসবুক ও ব্লগে সিলেটিদের আঞ্চলিকতা ও সিলেটি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০% কোটা রাখার কথা বলে আসছেন। ‘সচেতন সিলেটবাসী’র ব্যানারে আন্দোলনকারীরা বারবার বলছেন, তাদের আন্দোলনে কোটার কোন দাবি নেই, তবুও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল থেকে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
    এই আন্দোলন আঞ্চলিক কোন বিষয় নয়। এখানে ন্যায়, স্বচ্চতা ও যৌক্তিতার ব্যাপার। মেডিকেলের মত সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একসাথে করে সমন্বিত পরীক্ষা না নিয়ে হুট করে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও নামকরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে মাত্র কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতির পরীক্ষা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি শাবিপ্রবি’র সফলতা ও গৌরবজনক অতীতকে অবশয়ই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

    লেখক:লুৎফুর রহমান তোফায়েল

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here