লকডাউন উপেক্ষা করে জৈন্তাপুরে রমরমা চোরাচালানের অভিযোগ

0
57
লকডাউন উপেক্ষা করে জৈন্তাপুরে রমরমা চোরাচালানের অভিযোগ
লকডাউন উপেক্ষা করে জৈন্তাপুরে রমরমা চোরাচালানের অভিযোগ

জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সব কয়েকটি সীমান্ত পথ দিয়ে সীমান্ত লকডাউন অমান্য করে ১৭ চোরাচালান ব্যবসায়ীরা তাদের রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সীমান্তে অবাধ যাতায়াতের মাধ্যমে করোনার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ। সীমান্ত পথ দিয়ে ভারত হতে অবাধে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু-মহিষ, কসমেট্রিক্স, আমদানী নিষিদ্ধ শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট, ভারতীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের মদ, ইয়াবা, টাটা গাড়ীর পার্স, টায়ার, সিএনজি আটো রিক্সার চাকা, বিভিন্ন কোম্পানীর মোবাইল হ্যান্ড সেট, নিম্ন মানের চা-পাতা, মটর সাইকেল, বিভিন্ন কোম্পানীর বিস্কুট এবং ভারতীয় শাড়ী।অপরদিকে বাংলাদেশ হতে পাচার করা হচ্ছে আমদানীকৃত মটরশুটি, সুপারী, প্লাষ্টিক সমাগ্রী এবং স্বর্নের বার। এই ঘটনায় অভিযোগের তীর সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর দিকে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত চেরাচালান ব্যবসার মধ্যে অন্যতম সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য উপজেলার হরিপুর বাজারের ব্যবসায়ী রফিক আহমদ উরফে লোদাই হাজী, হেলাল আহমদ, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, মোঃ আলী, মোঃ আব্দুল্লাহ, সুইট ফারুক, আজির রহমান, মোঃ ইব্রহিম আলী, দরবস্ত মানিকপাড়া গ্রামের বিলাল আহমদ, লালাখাল গ্রামের সামসুজ্জামান সেলিম, জালাল উদ্দিন, লালাখাল কালিঞ্জিবাড়ী গ্রামের রহিম উদ্দিন।

৪ নং বাংলাবাজারের জামাল আহমদ, আলুবাগান গ্রামের কবিরাজ ফারুক, ঘিলাতৈল গ্রামের আব্দুল করিম উরফে বেন্ডিজ করিম, কেন্দ্রি মির্জান আহমদ রুবেল, হরিপুর শ্যামপুর গ্রামের জিগামেল্লা। তাদের মধ্যে মোঃ রহিম উদ্দিন, সেলিম আহমদ মির্জান, আহমদ রুবেল, আব্দুল করিম উরফে বেন্ডিজ করিম, কবিরাজ ফারুক জামাল আহমদ বিজিবি-ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র অন্যতম সোর্স হিসাবে চোরাচালান ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনায় বাংলাদেশের কিছু সংখ্যাক স্থল বন্দর শর্ত সাপেক্ষে চালু রাখা হলে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সীমান্তের সব কয়েকটি পথ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু জৈন্তাপুর উপজেলার চোরাচালান ব্যবসার অন্যতম সিন্ডিকেট চক্রের ১৭জন সদস্য সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে শত শত বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে প্রবেশ করে ভারতীয় গরু-মহিষ, কসমেট্রিক্স, আমদানী নিষিদ্ধ শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট, ভারতীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের মদ, ইয়াবা, টাটা গাড়ীর পার্স, টায়ার, সিএনজি আটো রিক্সার চাকা, বিভিন্ন কোম্পানীর মোবাইল হ্যান্ড সেট, ভারতীয় নিম্ন মানের চা-পাতা, মটর সাইকেল, বিভিন্ন কোম্পানীর বিস্কুট এবং ভারতীয় শাড়ী বানের পানির মত নিয়ে আসছে বিনিময়ে বাংলাদেশ হতে পাচার করা হচ্ছে আমদানীকৃত মটরশুটি, সুপারী, প্লাষ্টি সমাগ্রী এবং স্বর্নের বার।

সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য পণ্য আদান প্রদান করছে সীমান্তের নলজুরী, আলু বাগান, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর, আসামপাড়া, ছাগল খাউরী, মিনাটিলা, রাবার বাগান, কাটালবাড়ী, কেন্দ্রী হাওর, ডিবির হাওর, ডিবির হাওর (আসামপাড়া), ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, টিপরাখলা (সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র), কমলাবাড়ী, ভিতরগোল, গোয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, নয়াগ্রাম, কালিঞ্জীবাড়ী, জালিয়াখলা, বড়গাং নদীর উৎসমূখ, সারী নদীর মুখ, লাল মিয়ারটিলা, বাঘছড়া, জঙ্গীবিল, আফিফানগর, তুমইর, ইয়াংরাজা, বালিদাঁড়া, সিঙ্গারীরপাড় এলাকার অন্তত ১২০টি চোরাইপথ দিয়ে।এসকল পণ্য আদান-প্রদানে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’র কিছু সদস্যরা সক্রিয় ভাবে ভূমিকা পালন করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। চোরাচালানের অন্যতম রোড হিসাবে লালাখাল, মিনাটিলা, কেন্দ্রি, ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, টিপরাখলা এবং গোয়ালবাড়ী অন্যতম।

চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাংলাদেশের ভিতর যে সকল রোড ব্যবহার করে উপজেলার হরিপুর বাজার, দরবস্ত বাজার এবং জৈন্তাপুর বাজারে গরু মহিষসহ ভারতীয় পন্য পাচারের রোড হিসাবে ব্যবহার করছে, আলুবাগান, শ্রীপুর, আদর্শগ্রাম টু সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক হয়ে দরবস্ত ও হরিপুর বাজার, ফুলবাড়ী, ঘিলাতৈল, টিপরাখলা, কমলাবাড়ী, গোয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, জালিয়াখলা টু জৈন্তাপুর বাজার, লালাখাল নাজিমগড় রির্সোট সম্মুখ হতে লালখাল-সারীঘাট টু দরবস্ত হরিপুর বাজার, লালাখাল-কেলেসিং বাজার টু দরবস্ত বাজার। লালাখাল-বালিদাঁড়া-ইটাখাল টু চতুল বাজার হয়ে সিলেট-কানাইঘাট রোড দিয়ে দরবস্ত টু হরিপুর বাজার।

এছাড়া সীমান্তের ব্যবসা পরিচালনা করতে বিজিবির সোর্সদের মাধ্যমে বড় গরু, মহিষ প্রতি ১ হাজার ৫ শত টাকা, ছোট গরু প্রতি ১ হাজার টাকা, কসমেট্রিক্স কিট প্রতি ২ হাজার টাকা, বিড়ি-সিগারেটের কাটুন প্রতি ১ হাজার ৫ শত টাকা, মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রতি ৩ শত টাকা, শাড়ীর কিট প্রতি ৩ হাজার টাকা, মোটরসাইকেল প্রতি ৫ হাজার টাকা, টায়ার টিউব, গাড়ীর অন্যান্য যন্ত্রাংশ আলোচনা স্বাপেক্ষে। ভারতে পাচারের ক্ষেত্রে মটরশুটি বস্তা প্রতি ১২০ টাকা, সুপারী বস্তা প্রতি ২৫০ টাকা এবং অন্যান্য পণ্য আলোচনা স্বাপেক্ষে টাকা আদায় করা হয়। মামলা সিজারের জন্য ২০টি গরু/মহিষ বিপরিতে ১টি গরু বা মহিষ, অন্যান্য মালামাল আলোচনা স্বাপেক্ষে বিজিবিকে দিতে হয় বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়।

এছাড়া বিজিবি গরু-মহিষ আটক করলে কাষ্টম কর্মর্কতার উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে নিলাম দিয়ে আসছে। সম্প্রতি ৩ হতে ৪ মাস ধরে অতি গোপনে সিজার বা মামলার জন্য চোরাকারবারী কর্তৃক দেওয়া গরু-মহিষ গুলো প্রকাশ্যে নিলাম না করে গোপনে অল্প মূল্যে চোরাকারবারীদের কাছে হস্তান্তর করেন। বিষয়টি সরকারী বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তদন্তেও উঠে এসেছে।

ফলে সচেতন মহল মনে করছে আভ্যন্তরিন করিডোর ব্যবস্থা চালু করা জ