রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে থাইল্যান্ডের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    0
    4
    রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে থাইল্যান্ডের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
    রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে থাইল্যান্ডের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    ঢাকা, মে : রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়া প্রতিরোধে তাদেরকে নাগরিকত্ব প্রদানে মায়ানমারের নেতৃত্বকে রাজি করানোর জন্য থাই সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার সঙ্গে বৈঠককালে শেখ হাসিনা প্রাচ্য পাশ্চাত্য করিডোরের অভিন্ন অংশ এবং এশিয়ান ডায়ালগ ও মেকং গঙ্গা সহযোগিতায় শরিক হওয়ার জন্য ব্যাংককের সহযোগিতা চান। দ্বিতীয় এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলনের সাইড লাইনে চিয়াংমাই আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও প্রদর্শনী কেন্দ্রে দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, যৌথ বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং ঢাকা-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ শুরু করার সমস্যাসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, ২০১৬ সাল নাগাদ দুদেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘ ২৪ বছর পর দুদেশের যৌথবাণিজ্য কমিশনের বৈঠকের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি সিনাওয়াত্রাকে জানান, তার সরকার ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংশোধিত প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে এবং শিগগিরই তা অনুমোদনের জন্য কেবিনেট কমিটিতে পাঠানো হবে।
    শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন যে, সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদনের পর পরই ইতালি-থাই উন্নয়ন কোম্পানি ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করবে। গত ডিসেম্বরে ঢাকায় সিনাওয়াত্তার সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার সম্পর্কে এক নতুন যুগ সূচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থাইল্যান্ডকে খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী হিসেবে বিবেচনা করে।
    শেখ হাসিনা ২০১৪-২০১৯ মেয়াদে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বাংলাদেশের প্রার্থীতার প্রতি থাইল্যান্ডের সমর্থন চান। থাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাণিজ্যে ব্যবধান কমাতে ডব্লিউটিও-এলডিসি শর্তের অধীনে শুল্ক ও কোটামুক্তভাবে সুনির্দিষ্ট বাংলাদেশী পণ্য প্রবেশের অনুমতি প্রদান এবং থাইল্যান্ডে মৎস্য ও নির্মাণ খাতে বাংলাদেশী নিয়োগে তাঁর সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ ব্যাপারে দুই দেশ সম্ভাব্য কম সময়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে।
    পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মো: ওয়াহিদ উজ জামান এবং থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন এসময় উপস্থিত ছিলেন। পক্ষান্তরে  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি জুক জেরেমিকের সঙ্গে বৈঠককালে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এখন কোন প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়া কাজ করছে এবং তার সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। দ্বিতীয় এশিয়া প্যাসিফিক পানি সম্মেলনের বাইরে শেখ হাসিনা জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল সাখা ভিলির সঙ্গেও বৈঠক করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here