রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন কমিশনে আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র জমা

    0
    3

    ঢাকা, ২১ এপ্রিল : বর্তমান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকার আবদুল হামিদ এডভোকেটই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আজ রবিবার বেলা ৩টার কিছু পর নির্বাচন কমিশনে তার মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। আজ বেলা ১১টায় সংসদীয় দলের বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের চারজন এমপি নির্বচিন কমিশনে গিয়ে আব্দুল হামিদের নামে চারটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। তারপর হুইপ স ম ফিরোজের নেতৃত্বে সংসদীয় প্রতিনিধি দলটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বেলা ৩টার কিছু পর আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু, সেগুফতা ইয়াসমিন এমিলি ও এড. ফজলে রাব্বি মিয়া।

    রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন কমিশনে আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র জমা
    রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন কমিশনে আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র জমা

    এর আগে তাকেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দল। আজ রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের ৯ম তলায় সরকারি দলের সংসদীয় গ্রুপের এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদ্যস্য এ খবর নিশ্চিত করেছেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় কার্যত আবদুল হামিদই হচ্ছেন বাংলাদেশ ২০তম রাষ্ট্রপতি।

    দেশে ১৯তম রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের অসুস্থতার কারণে গত ১১ মার্চ সংবিধান অনুযায়ী অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন তিনি।
    বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের হুইপ আ স ম ফিরোজ সাংবাদিকদের জানান, সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে আবদুল হামিদকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য দলের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে বর্তমান স্পিকার আবদুল হামিদ এডভোকেটের নাম প্রস্তাব করেন। এ প্রস্তাবে সমর্থন জানান উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সিনিয়র সদস্য আমির হোসেন আমু। এছাড়া বৈঠকের শুরুতে সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
    রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান গত ২০ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর গত ৯ এপ্রিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আজ রাববার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন।
    আগামীকাল সোমবার মনোনয়নপত্র বাছাই ও ২৪ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়।  নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, আজ রবিবার অফিস সময়ের শেষ পর্যন্ত অন্য কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ না করলে বিকালেই আব্দুল হামিদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যাবে।
    পক্ষান্তরে রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে আগামী ২৯ এপ্রিল বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোট গ্রহণ করা হবে। এ নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন। এসব ভোটারের মধ্যে ২৭২ জনই আওয়ামী লীগের মনোনীত এমপি হওয়ায় আব্দুল হামিদের রাষ্ট্রপতি হওয়াটা এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার মাত্র।
    নির্বাচন শেষ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নতুন রাষ্ট্রপতির নাম ঘোষণার পর তা গেজেট আকারে প্রকাশের ব্যবস্থা নেবে ইসি সচিবালয়। পরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠন করাবেন প্রধান বিচারপতি। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৯ মেয়াদে ১৬ জন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর এবার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে আবদুল হামিদ এডভোকেটই হবেন দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি।

    আবদুলহামিদেরসংক্ষিপ্তজীবনবৃত্তান্ত : আবদুল হামিদ এডভোকেট ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা- মরহুম হাজি মো. তায়েব উদ্দিন এবং মা- মরহুমা তমিজা বেগম। তিনি গুরুদয়াল কলেজ থেকে মানবিকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্মাতক ডিগ্রি নেন। এরপর ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাস করার পর কিশোরগঞ্জ বারে আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর‌্যন্ত পাঁচবার কিশোরগঞ্জ জেলা বার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
    ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সাংসদ সির্বাচিত হন। সপ্তম সংসদে ১৯৯৬ সালের  ১৩ জুলাই থেকে ২০০১ এর ১০ জুলাই পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ এর ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকার হিসাবে সংসদ পরিচালনা করেন আবদুল হামিদ। আর নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার হন।
    এছাড়া আবদুল হামিদ অষ্টম সংসদে তিনি বিরোধী দলীয় উপনেতা ছিলেন এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করলে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার নির্বাচিত হন। আর সম্প্রতি দেশের উনিশতম রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর থেকে এখনো পর্যন্ত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
    ১৯৫৯ সালে ছাত্রলীগে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে আবদুল হামিদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৬১ সালে কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থাতেই যোগ দেন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে। এক পর্যায়ে তাকে কারাগারেও যেতে হয়। গুরুদয়াল কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতির দায়িত্ব পালনের পর ১৯৬৪ সালে কিশোরগঞ্জ সাবডিভিশনের ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
    আবদুল হামিদ ১৯৬৬-৬৭ সালে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৬৯ সালে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ট সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে শুরু হলে তিনি মুক্তিযুদ্ধেও অংশ গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে চলতি বছর তাকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here