রানা প্লাজা ট্রাজেডি : পোষাক শ্রমিকের হতাহতের ঘটনায় সারাদেশে সর্বাত্মক শোক দিবস পালন

    0
    4

    ঢাকা, ২৫ এপ্রিল : রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভার বাজার এলাকায় রানা প্লাজা নামক নয় তলা ভবন ধসে বিপুল সংখ্যক পোষাক শ্রমিকের হতাহতের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে সর্বাত্মক শোক দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ সারাদেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। সাভারে ভবন ধসের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা আশংকা প্রকাশ করেছেন ধ্বংসস্তুপে দেড় হাজারের বেশি লোক আটকা পড়ে আছে। ঢাকা জেলা প্রশাসক ইউসুফ হারুন সাংবাদিকদের জানান, সর্বশেষ গণনা অনুযায়ী ২৩৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৫০০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

    রানা প্লাজা ট্রাজেডি : পোষাক শ্রমিকের হতাহতের ঘটনায় সারাদেশে সর্বাত্মক শোক দিবস পালন
    রানা প্লাজা ট্রাজেডি : পোষাক শ্রমিকের হতাহতের ঘটনায় সারাদেশে সর্বাত্মক শোক দিবস পালন

    নিহতের স্বজনেরা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন। নিহতদের লাশ স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, একশ’র বেশি লাশ ইতোমধ্যে নিহতের স্বজনেরা গ্রহণ করেছেন। উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও র‌্যাব অংশগ্রহণ করেছে। কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার অভিযান আরো দুই দিন চলতে পারে। ধসে পড়া এ ভবনে তিনটি গার্মেন্টস ইউনিট, একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ও প্রায় ৩০০ দোকান ছিল। এই ভবনটিতে দুই দিন আগে ফাটল দেখা দেয়। নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তা বিধি না মেনে এ ভবন নির্মাণ করা হয়, যা এই করুণ পরিণতির কারণ।
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর গতকাল সাংবাদিকদের জানান, ঘটনা হচ্ছে আমরা জানি না এখন পর্যন্ত কতজন প্রকৃত পক্ষে নিহত হয়েছেন। কিন্তু আমি বলতে পারি এ ভবন নিরাপত্তা নিয়ম কানুন বা বিধি মেনে নির্মাণ করা হয়নি। ভবন ধসের আশংকা সত্ত্বেও শত শত মহিলাসহ শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। গতকাল ভবন ধসের ঘটনার পর এ ভবন ও গার্মেন্টস কারখানার মালিক পালিয়ে গেছেন। ভবনের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ রাজউক ও পুলিশ দুইটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে।
    শিল্প পুলিশ জানায়, তাদের দুই জন গোয়েন্দা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন এবং আশংকা প্রকাশ করেছেন তাদের মৃত্যু হয়েছে। তারা ওই ভবনে তদন্তে গিয়েছিলৈন। সে সময় ভবনটি ধসে পড়েছে। সাভারে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল আবুল হাসান সারওয়ার্দী জানান, সেনাবাহিনীর প্রকৌশলী ও উদ্ধারকারীদের উদ্ধার অভিযান ধীর পদক্ষেপে যেতে হচ্ছে। আশংকা করা হচ্ছে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ভেতরে যেতে হলে বাকি অবকাঠামো ধসে পড়ে আটকা পড়া লোকদের জন্য বিপদজনক হতে পারে।
    সারওয়ার্দী উদ্ধার অভিযান তদারক করছেন। তিনি বলেন, ধসে পড়া ভবনে আটকে পড়া শেষ ব্যক্তিকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় উদ্ধার না করা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। আগের খবরে বলা হয়, সাভার ঢাকা, পার্শ্ববর্তী সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ৬০০র বেশি জনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ৩০ সদস্যের মেডিকেল টিম ও কয়েকটি গ্রুপে চিকিৎসক ও প্যারামেডিকস তাঁবুতে আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
    সেনাবাহিনী জানায়, ভবন ধসের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আটকেপড়াদের উদ্ধার ও আহতদের চিকিৎসার নির্দেশ দেয়ার পর পরই সেনাবাহিনীর তিন হাজার কর্মকর্তা ও সৈনিক মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ধ্বংস্তূপের ওপর থেকে ভবনের বেসমেন্টে আটকেপড়াদের উদ্দেশে পানির বোতল ও শুকনা খাবার ফেলা হচ্ছে। একটি টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায় যে, দুই জন গার্মেন্টস মহিলা শ্রমিক তাদের উদ্ধারের জন্য আবেদন জানাচ্ছেন।
    বিশাল মেশিনের মধ্যে আটকে পড়া দুই বোন সখিনা ও লাকি আবেদন জানাচ্ছেন ‘অনুগ্রহ করে আমাদের উদ্ধার করুন ও আমাদের জীবন রক্ষা করুন। গত ২০০৫ সালে একই এলাকার একটি গার্মেন্টস কারখানার বহুতল বিশিষ্ট ভবন ধসে পড়লে ৭০ জন নিহত হয়।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here