ভুয়া চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠানের ১১প্রতারক র্যাবের হাতে গ্রেফতার

    0
    6

    বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকার আশুলিয়া হতে ভুয়া চাকরীদাতা প্রতিষ্ঠানের ১১ প্রতারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র্যাব-৪ এর একটি চৌকস দল।এ সময় চাকরীপ্রার্থী ২০ জন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

    ১৭ জানুয়ারি বিকেল চারটায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘মীম ফোর্স গার্ড লিমিটেড’ নামক একটি কোম্পানী সাধারণ জনগণের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল আশুলিয়া থানাধীন গাজীরচট এলাকায় ‘মীম ফোর্স গার্ড লিমিটেড’ এর অফিসে অভিযান পরিচালনা করে নিম্নোক্ত ১১ জন প্রতারকদেরকে গ্রেফতার করে।

    মোঃ ফাহিম রহমান (২২), জেলা-জামালপুর।মোঃ রবিউল (২০), জেলা-বরিশাল।মোঃ সাব্বির হোসেন (২২), জেলা-বগুড়া।মোঃ সবুজ মিয়া (১৮), জেলা-বি-বাড়ীয়া।মোঃ সাব্বির (১৮), জেলা-লালমনিরহাট। মোঃ হারুন মিয়া (১৯), জেলা-জামালপুর।মোঃ হিমেল মিয়া (১৮), জেলা-কিশোরগঞ্জ।সোনিয়া আক্তার (২১), জেলা-বগুড়া।মৌসুমী (২৪), জেলা-ফরিদপুর।ফারজানা আক্তার (১৮), জেলা-পিরোজপুর।রোকেয়া আক্তার (১৮), জেলা-ফরিদপুর।

    এছাড়াও প্রতারকদের নিকট হতে ২০ জন চাকরীপ্রার্থী ভুক্তভোগীসহ ০৫ টি আইডি কার্ড, ২০ টি অংগীকারনামা, ১৯ টি ভেরিফিকেশন ফরম, ০৪ টি অব্যাহতি ফরম, ২১ টি আবেদন ফরম, ২২ টি ট্রেনিং এর জন্য আবেদন ফরম, ২৫ টি জীবনবৃত্তান্ত এবং ১৫ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা তাদের নিজ নিজ কৃতকর্মের বিষয় স্বীকার করার পাশাপাশি জানায় যে, তারা রাজধানীসহ ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অফিস ভাড়া করে বিভিন্ন নামে বেনামে ভূঁইফোড় প্রতিষ্ঠান খুলে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে অর্ধ শিক্ষিত বেকার ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল যুবক/যুবতীদের আকর্ষনীয় ও উচ্চ বেতনের চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগী জনসাধারণের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।

    উক্ত গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। অদূর ভবিষ্যতেও এরুপ অসাধু নব্য প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাব-৪ এর জোড়ালো সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র্যাব ৪ কমান্ডার।

    স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কয়েক শত ভুয়া প্রতিষ্ঠানের প্রতারকচক্র বিভিন্ন জেলা থেকে চাকরির প্রতি হন্যে হয়ে ছোটা নারী পুরুষদের কৌশল করে নগদ দু-তিন মাসের সেলারি বাবদ জামানত নিয়ে চাকরি দিয়ে থাকে পরে ওই জামানত থেকে একমাস বেতন দিয়ে থাকে পরের মাসে অপরাধ দেখিয়ে অথবা অযোগ্যতা দেখিয়ে লিখিত রেখে বিদায় করে দেন, এর মধ্যে শারীরিক যোগ্যতায় অনেকেই রয়েছে যাদেরকে অবৈধ কাজে ব্যবহার করে থাকেন এবং এর থেকে মোটা অংক কামাই করে সহযোগী চাকরিদাতাকে কিছুটা কমিশন দিয়ে থাকে এভাবে তাদের চক্রবৃদ্ধি পেতে থাকে। যারা চাকরির সন্ধান করে দেন তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কমিশন নিয়ে নিজেকে একজন শুধুমাত্র উপকারকারী হিসেবেই সীমিত রাখার চেষ্টা করেন। ফলে ঐ সমস্ত চাকরিদাতা সহযোগীরা নারী-পুরুষদের একই ঘটনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বারবার প্রতারণা করে যেতে সক্ষম হচ্ছে।