রাজধানীতে আগুন ১০ হাজার মানুষ ঘর ছাড়া

    0
    10

    রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরের শিয়ালবাড়ী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে বস্তির প্রায় ১ হাজার ঘর। বস্তিতে টিনের ঘর ছিল প্রায় ২ হাজার। নিম্নআয়ের মানুষ এই বস্তিতে বসবাস করতেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বস্তির মধ্যের একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তেই বস্তিবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিম্নআয়ের অনেকেই সকালে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ঘরের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে আত্মরক্ষার্থে ছোটাছুটি করতে থাকেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। বস্তির টিনশেড ঘরগুলো একে একে পুড়ে আগুনের প্রকাণ্ড লেলিহান শিখা বের হতে থাকে। প্রায় ৩ ঘণ্টা চেষ্টার পর সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময়ের মধ্যে বস্তির প্রায় ১ হাজার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তীব্র পানি সংকট আর বাতাসের তীব্রতার কারণে বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়েছে। ফলে দ্রুত পুরো বস্তি এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বস্তির পাশে একটি ছয়তলা বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস পানি দিয়ে ঐ বাড়ির আগুন নিভিয়ে ফেলে। শেষ সম্বলটুকু রক্ষার জন্য বস্তিবাসীর চিত্কারে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক নারী তাদের সন্তানকে ঘরে রেখে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে কর্মস্থল থেকে ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। এর আগেই বস্তিবাসীদের চেষ্টায় সবাই নিরাপদে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, আগুন লাগার পর বস্তিবাসীরা বিভিন্ন আসবাব দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিল। যে কারণে আমাদের গাড়ি ঢুকতে বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক জলাধার না থাকায় বরাবরের মতো পানি সংকটে পড়তে হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন ভবনের রিজার্ভ ট্যাংক থেকে পানি নিয়ে আমরা কাজ করেছি। তাছাড়া ফাঁকা জায়গায় তীব্র বাতাস থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে বড়ো ধরনের বেগ পেতে হয়েছে। আমরা কোনো হতাহতের সংবাদ পাইনি। আমাদের কাছে নিখোঁজের কোনো অভিযোগ করেনি কেউ।

    তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে তা নিশ্চিত হতে তদন্তের দরকার রয়েছে। এছাড়া পুরো বস্তিতে প্লাস্টিকের পাইপে গ্যাস লাইনের সংযোগ ছিল। সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

    বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা ও ঢাকা জেলা প্রশাসক পরিদর্শনে আসেন। ইলিয়াস মোল্লা বলেন, সাত মাসে এই এলাকায় তিনবার আগুন লেগেছে। এই বস্তির জমির মালিক সরকার। প্রায় ১০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসলামিয়া স্কুল মাঠসহ আরো কয়েকটি স্কুলের মাঠে থাকবে। কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র্যাবসহ সরকারের সংস্থাগুলো অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে গতকাল বিকাল পর্যন্ত বস্তির প্রায় ১০ হাজার মানুষ আশপাশের খোলা জায়গায় ঠাঁই নেয়। নিজেদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে তারা এখন নির্মম এক সত্যের মুখোমুখি হয়েছে। তাদের কপালে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সাহায্য-সহযোগিতাও জোটেনি। ইত্তেফাক