মৌলভীবাজারে শারদীয়া দূর্গা পূজার প্রস্তুতি চলছে

    0
    26

    আমারসিলেট 24ডটকম,০৮অক্টোবর,শাব্বিরএলাহী:শরতের আমেজে উৎসবমূখর বাংলায় আবার এসেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান দূর্গাপূজা। দেশের অন্যান্য জেলার মতো মৌলভীবাজারের পূজামন্ডপ গুলোতেও চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি। কয়েক প্রহরের অপেক্ষা শেষে ৪ দিনব্যাপী পূজার্চনা শেষে দশমী তিথিতে বিসর্জন দেয়া হবে দেবী দূর্গাকে। সেই অনুযায়ী মন্ডপগুলো সাজছে নানান সাজে। অনেক মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজও শেষ পর্যায়ে। কোনটার আবার রঙের কাজ চলছে। ভক্তদের অভ্যর্থনা জানাতে বাহারী সাজের গেট আর তোরন তৈরী হচ্ছে প্রতিটি মন্ডপে।

    মৌলভীবাজারের পূজা মন্ডপগুলোর মধ্যে বিশেষ আকর্ষন হিসেবে প্রতিবারই পৌরানিক থিমঅনুসরন করে ত্রিনয়নী পূজা পরিষদ। এবারে সীতা দেবীর মৃত্যুর পর পার্বতীর জন্ম থেকে বিবাহ পর্যন্ত বিভিন্ন পৌরাণিক ঘটনার আবহে অর্ধশতাধিক প্রতিমা তৈরী করছে ত্রিনয়নী পূজা পরিষদ। ত্রিনয়নীতে পূজা দেখতে আসা ভক্তরা একটি দানবের মুখ দিয়ে পেটের ভেতর প্রবেশ করে সেখানে তিনটি স্তরে প্রতিমা দেখে দেখে দানবটির লেজ দিয়ে বের হবেন। ত্রিনয়নী পূজা পরিষদের সভাপতি শ্রীকান্ত দাশ জানান, শতাধিক প্রতিমার এই আয়োজনের এবার ৬ষ্ঠ তম বর্ষ। তাই প্রতিবারের মতো এবারো আকর্ষনীয় এ পূজো দেখতে লক্ষাধিক মানুষের আগমন প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

    মৌলভীবাজার জেলায় ৭৭২  টি পূজামন্ডপে এবারের দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সংঘ, মন্দির আর ব্যক্তিগত পূজা মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়াবে এক হাজারে। প্রতিটি উপজেলায় দূর্গোৎসবের আয়োজকরাও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সেরে নিচ্ছেন শেষ মহুর্তের প্রস্তুতি। ত্রিনয়নী পূজা মন্ডপের প্রতিমা শিল্পী দীপক পাল বলেন, ‘দশজন কারিগর নিয়ে টানা পনেরো দিন যাবত প্রতিমা তৈরীর কাজ করছি। তবে শেষ দিকে এসে পরিশ্রম অনেকটাই বেড়ে গেছে। তবে মায়ের আশীর্ব্বাদে ষষ্টীর আগেই সব কাজ শেষ করা যাবে

    পূজা উদযাপন কমিটিও ব্যস্ত প্রতিটি উপজেলা থেকে গ্রামের পূজামন্ডপগুলোর তদারকিতে। জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নিহির কাšিত দে মিন্টু জানান, সামর্থ্য অনুযায়ী সংঘ এবং মন্দির গুলোতে পূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। পূজা চলাকালে দর্শনার্থী ও ভক্তদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে প্রতিটি অঞ্চলে উদযাপন কমিটির সাথে প্রতিনিয়িত মতবিনিময় চলছে। এছাড়াও  প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় করে সমন্বিতভাবে সফল অয়োজনে সচেষ্ট তারা।

    মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মদ জানান, বাঙ্গালীর এই শারদীয় উৎসব নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে পুলিশ প্রশাসন গ্রহন করেছে নানা পরিকল্পনা। পূজা ও ঈদ এক সাথে হওয়াতে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। আর সে অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে চলছে তাদের নিরাপত্তা প্রস্তুতি। বিশেষ করে রাজনগরের পাঁচগাও, কুলাউড়ার কাদিপুর, রূপসপুর, ত্রিনয়নীর মতো বড়ো আয়োজনকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হবে।

    এদিকে শেষ মূহুর্তের পূজোর কেনাকাটার ধুম লেগেছে মার্কেট ও বিপনী বিতান গুলোতে। মৌলভীবাজারের অভিজাত পোষাক বিক্রেতাদের মধ্যে এমবি ক্লথ ষ্টোর, বিলাস ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর, জেদ্দা ক্লথ ষ্টোর এগিয়ে আছে এবার। তবে গেলো বছরের তুলনায় খানিকটা মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগও রয়েছে ক্রেতাদের। তারপরও সামর্থ অনুযায়ী বাজেট সমন্বয় করে পরিবারের পূজোর কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here