Saturday 26th of September 2020 06:54:54 PM
Tuesday 6th of May 2014 01:42:07 PM

মোদির মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ খবর ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
মোদির মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

আমারসিলেট24ডটকম,০৬মেঃ ভারতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দেশটির অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিজেপি’র নেতা নরেন্দ্র মোদি এক জনসভায়  বলেছেন-‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের বাক্স-প্যাটরা গুছিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে’। মোদির এই মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে মোদির ওই মন্তব্য ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং ‘অন্যায্য’ বলে মত প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা ইন্ডিয়ান টাইমসের সহযোগী দৈনিক ইকোনমিক টাইমসে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।
গত সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্য কোনো অবদান তো রাখেই না বরং ভবিষ্যতে ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিকদের সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে।

ঢাকায় কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে কট্টর ভারতবিরোধী জনমতকে নরেন্দ্র মোদির এই মন্তব্য আরো উসকে দিতে পারে এবং এর ফল ভোগ করতে হতে পারে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে।

অবশ্য নরেন্দ্র মোদির এই মন্তব্যের পর এখনো পর্যন্ত সরকার ভারতের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। এমনকি দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতও এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়-“উপমহাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় দফায় এবং ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয়বারের মতো দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন চলতি বছরের শুরুতে। বিতর্কিত নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে তার এই ক্ষমতাগ্রহণ বিশ্বব্যাপী তুমুল সমালোচনার ঝড় তুললেও ভারত এই নির্বাচনকে সাদরে গ্রহণ করেছে।”

গত রোববার মোদি বলেন, “ভারতের ‘ভোট-ব্যাংক নীতি’র কারণে এখানে অবৈধভাবে যে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশী জনগণ বসবাস করছেন তাদের অবিলম্বে নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে। একইসঙ্গে ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ থেকে যেসব লোককে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হচ্ছে সেসব শরণার্থী ভারতে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের সম্ভাষন-শুভেচ্ছা জানানো হবে।” এর আগে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে প্রচারণা চালানোর সময়েও এই একই বিষয়ে কথা বলেছিলেন মোদি।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মোদির এই অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ তো উদ্বিগ্ন বটেই, এমনকি দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলা দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারাও বেশ উদ্বিগ্ন বলে জানানো হয় প্রতিবেদনটিতে। পর্যটন, চিকিৎসা সেবা ও শিক্ষাগ্রহণের জন্য প্রতি বছর লক্ষাধিক বাংলাদেশী নাগরিক ভারত ভ্রমণ করেন।

ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়- “এর আগে থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের শাসনকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সে ভারতবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতে একাধিক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ২০০৯ সালে হাসিনার পুনরায় ক্ষমতায় আসার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আবারো গতি ফিরে পায় এবং হাসিনা বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসীদের ভারতের হাতে তুলে দেন। হাসিনার সরকার দেশটির জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদীদের কাঠামোও পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।”

ইকোনমিকস টাইমস্‌ জানায়,  শেখ হাসিনার সরকারের এই ভূমিকার বিনিময়ে বর্তমানে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি উন্নয়ন কাঠামো প্রকল্পে পৃষ্ঠপোষকতা করছে ভারত।এমনকি হাসিনার পুনঃনির্বাচিত নতুন সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন দেয়ার জন্যও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে ভারত।


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc