মুজিব শতবর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের তালিকায় নানা অনিয়ম

    0
    20

    উপজেলা চেয়ারম্যানের তদন্তে তালিকার ১২০টি  নাম হতে বাতিল-১৫ টি  

    রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ  জৈন্তাপুরে মুজিব বর্ষে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের তালিকায় অনিয়ম, মন্ত্রীর নির্দেশে ঘরে ঘরে তদন্তে উপজেলা চেয়ারম্যান, ১৫ জনের নাম বাতিলের সুপারিশ।
    সিলেটের জৈন্তাপুরে নানা অনিয়ম দূর্নিতির মাধ্যমে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ প্রদানের নীতিমালা মোতাবেক উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ৩৩০জনের তালিকা তৈরী করা হয়। তৈরীকৃত তালিকা শুরু থেকে উপজেলা জুড়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। সর্বশেষ ১৪জানুয়ারী অতি গোপনে ৩৩০জনের নামের তালিকা হতে ১২০জনের নামে জমি রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। দ্রুত বিষয়টি উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে স্থানীয় ইউনিরয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি সহ ভূমিহীন ও গৃহহীনরা প্রতিবাদ মুখর হয় উঠেন এবং উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক বয়কট করেন ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যানগণ। পরে উপজেলা পলিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন এবং জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহেদ আহমদের মধ্যস্থতায় আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে যোগদান করে। অপরদিকে ঘর বরাদ্ধের অনিয়মের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ইমরান আহমদ এম.পি কে অবহিত করা হয়।

    মন্ত্রী মহোদয় তৈরীকৃত তালিকার ১ম পর্যায়ের ১২০জন সহ পরবর্তী ২১০জনের তালিকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদকে সরেজমিনে ঘরে ঘরে গিয়ে যাচাই বাছাই করা নির্দেশদেন এবং চেয়ারম্যান মহোদয়ের যাচাই বাছাই শেষ না করা পর্যন্ত জমি রেজিষ্টেশন স্থাগিত রাখার মৌখিক নির্দেশদেন। মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশ মোতাবেক ১৫ জানুয়ারী সকাল ৭টা হতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ স্থানীয় মিডিয়াকর্মী, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে তালিকা যাচাই বাছাই করে জৈন্তাপুর ও নিজপাট ইউপির আওতাভূক্ত তালিকা হতে যাদের পাকাবাড়ী-ঘর, নিজস্ব ভূমি রয়েছে এবং সরকারী দপ্তরের চাকুরী রয়েছে এবং বাড়ী-ঘর রয়েছে এমন ১৫ জনের নাম চিহ্নিত করে ১২০জনের তালিকা হতে তাদের নাম বাতিলের সুপারিশ করেন।

    বাতিলকৃতরা হল- মৃত মোঃ মতলিব আলীর মেয়ে রতœা বেগম (যাহার তালিকা নং-৪২), আব্দুল লতিফের ছেলে মামুনুর রশিদ (যাহার তালিকা নং-৪৩), জৈন্তাপুর ভূমি অফিসের এমএলএস মৃত জিলা মিয়ার ছেলে রফিক আহমদ (যাহার তালিকা নং-৪৪), আবুল হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ আমিনা বেগম (যাহার তালিকা নং-৪৬), মৃত কাজী ইদ্রিস আলীর ছেলে কাজী জয়নাল আবেদীন (যাহার তালিকা নং-৪৮), জৈন্তাপুর সরকারী খাদ্য গডাউনে চাকুরীজীবি মৃত কাজী ইদ্রিস আলীর ছেলে কাজী ফাহিম মিয়া (যাহার তালিকা নং-৪৯), উপজেলা চেয়ারম্যান অফিসের এম.এল.এস.এস সাইফুল ইসলামের বোন মাসুক মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ আলোয়ারা বেগম (যাহার তালিকা নং-৫০), খোকামনি দত্তের ছেলে বাদল মনি দত্ত (যাহার তালিকা নং-৫৬), মৃত শওকত আলীর স্ত্রী ফাতিমা বিবি (যাহার তালিকা নং-৫৭), মৃত তিতু মিয়ার ছেলে আব্দুস সোবহান (যাহার তালিকা নং-৬৬), আব্দুল মন্নান (যাহার তালিকা নং-৬৭), আব্দুল হান্নান (যাহার তালিকা নং-৬৮), মোঃ আব্দুল কাদিরের ছেলে মোঃ আবুল বাশার (যাহার তালিকা নং-৭৫), জামাল মিয়ার স্ত্রী আছমা বেগম (যাহার তালিকা নং-১০০), মোঃ সেলিম আহমদ (যাহার তালিকা নং-১০৫)। এছাড়া চিকনাগুল ইউপির আওতাভূক্ত এলাকার যাদের নামে জমি রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে সেই ব্যক্তিদের সরেজমিন তদন্ত চলছে। যদি সে গুলোতে অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে সেই ব্যক্তির নাম বাতিল করা হবে।

    জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ প্রতিবেদককে জানান, মুজিব বর্ষের গৃহহীন ও ভূমিহীনদের তালিকা প্রস্তুত নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে প্রশাসনের সমন্বয় না থাকায় কারনে আইন শৃঙ্খলা বৈঠক বয়কট করেন চেয়ারম্যানগণ। আমরা মধ্যস্থতা মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা হলে বৈঠক চেয়ারম্যানরা উপস্থিত হন। মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে আমি সরেজমিনে ১২০ জনের তালিকা তদন্ত পূর্বক অভিযুক্তদের যাচাই-বাছাই করে ১৫ জনের নাম চিহ্নিত করে তালিকা হতে বাঁধ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছি। পরবর্তী তালিকা তদন্তের জন্য আমার দপ্তরে আসলে তদন্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন প্রকৃত অর্থে যাদের ঘর-বাড়ী নেই তারা যেন প্রধানমন্ত্রীর, জননেত্রী, মানবতার নেত্রী, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার উপহার সঠিক ভাবে পায় এটা সকলেই কমনা করি।