Saturday 25th of January 2020 02:14:53 AM
Monday 9th of December 2019 12:46:39 AM

মুক্তিযোদ্ধার নামে নকল সন্তানকে আসল বানাতে তদবীর

সাধারন ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
মুক্তিযোদ্ধার নামে নকল সন্তানকে আসল বানাতে তদবীর

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের পর প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হওয়ার পরও নড়েচরে বসেছে অভিযুক্তরা। সমাজসেবা অফিসে তদবীর করে বার বার সময় বৃদ্ধি করায় সকল মুক্তিযোদ্ধা ও অভিযোগকারী চরম ক্ষোব প্রকাশ করেছে।
জানাযায়,নিঃসন্তান মুক্তিযোদ্ধা নুর মিয়াকে তারেই আপন ভাতিজি বাবা উল্লেখ্য করে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা উত্তোলন করছে। আর এই কাজটির মূলকারীগড় মুক্তিযোদ্ধার আপন ছোট ভাই আবুল হোসেন। তিনি নিজের দ্বিতীয় সন্তান (হালিমা বেগম) কে মুক্তিযোদ্ধা নুর মিয়ার সন্তান উল্লেখ্য করে ভুল তথ্য দিয়ে গত ৪বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা সহ অন্যান্য সুবিধা নিজেই ভোগ করছেন। আর এই অভিযোগ তুলেছেন মৃত মুক্তিযোদ্ধার বড় ভাই মিয়া হোসেন।

তিনি গত ০১,০৭,১৯ইং তারিখে তার ভাই নূর মিয়া নাম দিয়ে মিথ্যে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বাতিল করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবার জন্য আবুল হোসেনের বিরোদ্ধে তাহিরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পর থেকেই নানান ভাবে নিজেদের বাচাঁতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আবুল হোসেনগংরা। আর কি ভাবে সবাইর চোখে ফাকিঁ দিয়ে ভুয়া তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান বলে কাগজ তৈরী করা হল ভাতা উত্তোলণ করা হল আর কি ভাবেই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কাগজ পত্রে স্বাক্ষর করলেন এনিয়ে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে।
এবিষয়ে আবুল হোসেনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও কোন ভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।
অভিযোগকারী মিয়া হোসেন(মুক্তিযোদ্ধার বড় ভাই)বলেন,আমি অভিযোগ দিয়েছি যাতে করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়দানীকারীরা মুক্তিযোদ্ধার ভাতা না পায়। কারন আমার ভাই মারা গেছে বিয়ের একমাস পর নিঃ সন্তান অবস্থায়। এরপর তার বউ আমার ছোট ভাইয়ের কাছেই বিয়ে বসে। তাহলে কি ভাবে আবুলের ২য় মেয়ে হালিমা আমার মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়ের সন্তান হয়। এই সন্তান আবুল হোসেনের সে ভূল তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা তুলে খাচ্ছে। এর বিচার হওয়া দরকার। অভিযোগের পর বার বার সময় বাড়িয়ে তারা তাদের ভুয়া কাগজপত্র গুলো ভাল ভাবে তৈরী করছে।
তাহিরপুর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান,এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নিয়ে হাজির হবার জন্য অভিযুক্তদের প্রথমে ১০দিন পরে আবারও ১মাস সময় চেয়েছে গত ৩ডিসেম্বর আবারও সময় চেয়েছে অনুরুধ করেছে তাই তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। যাকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান উল্লেখ্য করা হয়েছে তা আমাদের প্রথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হয়েছে। এই বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে ডিএনএ টেষ্ট করা হবে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে,স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী জানান,উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে মৃত ওলি মামুদের ছেলে নুর হোসেন ১৯৭১সালে মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর তিনি তাহিরপুর উপজেলার চিসকা গ্রামের মনসুর আলী মেয়ে সাফিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের দেড় মাস পর নিঃসন্তান অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা নূর মিয়া মারা যান। পরির্বতিতে সাফিয়া বেগম দেবর(মুক্তিযোদ্ধা নূর মিয়ার ছোট ভাই)আবুল হোসেনকে বিয়ে করেন। আবুল হোসেনের সংসারে ৮জন ছেলে মেয়ে রয়েছে। প্রথম সন্তান আকলিমা বেগমের জন্ম তারিখ ১৯৮৬ সালে। ২য় মেয়ে হালিমা আক্তারের জন্ম তারিখ ১৯৮৭সালে। আবুলের ২য় মেয়েকে হালিমা কে নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত মুক্তিযোদ্ধা নূর মিয়ার সন্তান পরিচয় দিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করে অন্যান্য সুবিধা ভোগ করে আসছে আবুল হোসেন।

কিন্তু হালিমা আক্তারের জাতীয় পরিচয় পত্রে,স্কুলের খাতায়,হালিমার বিয়ের কাবিন নামায় ও পিতার নামের স্থলে লেখা আবুল হোসেন লেখা কিন্তু নাম পরিবর্তন করার চেষ্টা করে করেন কৌশলে চতুর আবুল। এখনও নিজেরদের বাচাঁতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc