মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ

    0
    4

    আনিছুল ইসলাম আশরাফী      26 march

    স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি

    সকালে বঙ্গবন্ধু ভবনসহ দেশব্যাপী দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে আওয়ামী লীগ। সকাল ছয়টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১১টায় টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

    ২৭ মার্চ বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন দলের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নেতাকর্মীদেরকে দলের কর্মসূচি পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

     মহান স্বাধীনতা দিবস

    ২৬ মার্চ মঙ্গলবার। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।  

    গণতান্ত্রিক অধিকারের দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের এই দিনে সূচিত হয়েছিল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে নয়মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান হয়।

    ৪২তম স্বাধীনতা দিবসে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদদের।

    স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসী সরকারের রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ সব নেতার স্মৃতির প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা। আমরা স্মরণ করি সেইসব শহীদকে, যাঁরা মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। সেসব মা-বোনের কথা, যাঁদের ওপর চলেছিল সীমাহীন বর্বরতা। শহীদ-পরিবারগুলোর সদস্যদের প্রতি জানাই সংহতি ও সহমর্মিতা।

    একাত্তরে পাকিস্তানী বর্বর হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে গোটা জাতি। রক্ষমাখা গৌরবের এই ইতিহাসের সঙ্গে রয়েছে লজ্জার নির্মম সত্য এক অধ্যায়। আর তা হলো সেই হানাদারদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল পাকিস্তানী হানাদারদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী। প্রকাশ্যে সহযোগিতা করেছিল এইসব নরঘাতকদের।

    স্বাধীনতা অর্জনের পর আমরা ৪১ বছর পেরিয়েছি। কোনো জাতির অর্জন, উন্নয়ন-অগ্রগতি সাধনের জন্য ৪১ বছর নিতান্ত কম সময় নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলায় বিধ্বস্ত জাপান ও জার্মানির উঠে দাঁড়ানোর দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে রয়েছে। আজ আমাদের আত্মজিজ্ঞাসার সময় হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আত্মদান ও ত্যাগের পেছনে আমাদের যেলক্ষ্য ও স্বপ্নগুলো ছিল সেসব কতটা পূরণ হয়েছে?

    মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র। আমাদের মুক্তিসংগ্রামের মর্মকথা ছিল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সব ধরনের অন্যায়-অবিচার, বৈষম্য থেকে মুক্তি। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অবশ্যই অগ্রগতি হয়েছে; তবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন পূরণে আরও অনেকটা পথ যেতে হবে।

    মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, ন্যায় ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার সংগ্রামে দলমত-নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে বাংলাদেশ সামনের পথে এগিয়ে চলুক।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here