ভারত-চীনের সীমান্ত বিরোধ মীমাংসার অঙ্গীকার : শীর্ষ বৈঠকে ৮ চুক্তি

    0
    4

    ঢাকা, মে : ভারত ও চীন দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ চূড়ান্ত মীমাংসার অঙ্গীকার করে বলেছে, উভয় দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বিশ্ব শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতে সফররত চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং বলেন, বেইজিং নয়াদিল্লীর সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক স্থাপনে অঙ্গীকারবদ্ধ। রবিবার তিন দিনের ভারত সফরে দিল্লিতে এসেছেন চীনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। গত মার্চ মাসে চীনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও এ অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নের জন্য দুদেশের মধ্যে সুসম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন।
    লির সঙ্গে বৈঠকের পর নয়াদিল্লীতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মনমোহন বলেন, ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত সমস্যার চূড়ান্ত সমাধানের জন্য উভয় দেশ আগ্রহ ব্যক্ত করেছে এবং এ ব্যাপারে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে শিগগিরই একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করা হবে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে একটি যথাযথ, যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের রূপরেখা তৈরির আলাচনা এগিয়ে নিতে উভয় দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের শিগগিরই বৈঠকে বসার ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।
    চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং বলেন, সীমান্ত সমস্যাটি ঐতিহাসিক। তবে সমস্যা মোকাবেলায় উভয় পক্ষ একমত। তিনি বলেন, সীমান্ত সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পন্থা কাজে লাগাতে হবে এবং বিদ্যমান মতবিরোধ দূর করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সীমান্ত সমস্যা সমাধানে উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করবে। এর আগে রবিবার লি বলেছিলেন, ভারত ও চীনের মধ্যে সুসম্পর্ক এশিয়া ও বিশ্বের জন্য সত্যিকারের আশীর্বাদ বয়ে আনবে। তিনি বলেন, ভারত ও চীনের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক ছাড়া বিশ্বশান্তি সম্ভব নয়।
    সংবাদ সম্মেলনের পর ভারত ও চীনের মধ্যে কৃষি, পর্যটন ও বাণিজ্যসহ আটটি কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া আন্তঃসীমান্ত ব্রহ্মপুত্র নদে আরো তিনটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে চীনের পরিকল্পনা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তিতেও চুক্তি হয়েছে। এর আগে সকালে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান লি কেকিয়াং। সেখান থেকে তিনি যান রাষ্ট্রপতি ভবনে। সেখানে চীনা প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার জানানো হয়।
    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, ভারতের পশ্চিম সীমান্তবর্তী হিমালয় সংলগ্ন লাদাখ অঞ্চল নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। গত মাসের শুরুতে চীনা সৈন্যরা লাদাখ অঞ্চলের বিরোধপূর্ণ সীমানা অতিক্রম করলে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। চীনের সৈন্যরা ভারতের দাবিকৃত ভূখন্ডের ২০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ভারতও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ঘাঁটি তৈরি করে একেবারে চীনা সৈন্যদের মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে দুদেশের মধ্যস্থতায় সেনা প্রত্যাহার করে বেইজিং। এ প্রেক্ষাপটে ভারতে চীনা প্রধানমন্ত্রীর সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
    চীন ও ভারতের মধ্যে বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে ১৯৬২ সালে একবার যুদ্ধ হয়েছিল। এরপর শান্তি বজায় রাখতে উভয় দেশ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। তা সত্ত্বেও পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দুটি দেশের মধ্যে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা চিহ্নিত হয়নি।
    হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমন খুরশিদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে লি কেকিয়াংয়ের। তিনি ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী, লোকসভার বিরোধী দলনেত্রী সুষমা স্বরাজ ও উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির সঙ্গেও বৈঠক করবেন। মঙ্গলবার সকালে তাজ হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার পর মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন লি কেকিয়াং। বাণিজ্যনগরীতে একাধিক বণিক সভার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here