ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে রফিকুন নেছার ব্যতিক্রমধর্মী সংগ্রাম

    1
    62

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০মার্চ,রেজওয়ান করিম সাব্বির: জৈন্তাপুর ভূমিহীন স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত রফিকুন নেছা জীবন বাঁচাতে এবং ছেলেকে মানুষ হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী কোচিং শিক্ষা দিয়ে জীবন সংগ্রাম করে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে চান।
    সরেজমিন ঘুরে- রফিকুন নেছা উরফে আগুরী(৩০) সাথে আলাপ করে যানা যায়- জীবনের ফেলে আসা নির্মম দিন গুলোর কথা। সে গোয়াইনঘাট উপজেলার গারো গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের মেয়ে। ১৮কিংবা ১৯ বৎসর বয়সে জৈন্তাপুর উপজেলার রুপচেং গ্রামে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুখ-দুঃখের মধ্যে চলতে থাকে তাদের দাম্পত্য জীবন। দারিদ্রতার সংসারে কারনে অকারনে স্বামীর কর্তৃক নানা নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। দাম্পত্য জীবনে ১টি মেয়ে ও ১টি ছেলে সন্তান রয়েছে তাদের। ছেলের জন্মের কয়েক মাসের মধ্যে ভাগ্যের দোষে তালাকপ্রাপ্ত হয়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে শিশু ছেলে সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ীতে আশ্রয় নিতে হয় রফিকুন নেছা উরফে আগুরীকে।

    এদিকে পিতৃহীন পরিবারে মায়ের সাথে নানা ভাবে কার্জ কর্ম করে ছেলেকে নিয়ে জীবন চালিয়ে আসেছেন। ২বৎসরের মধ্যে পিতার পথের পথযাত্রী হয়ে রফিকুন নেছা উরফে আগুরীর মা চলে যান পরপারে। মা মারা যাওয়ার পর দিশাহারা হয়ে পড়ে কোন উপায়ান্ত না পেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট মাহতহাটি গ্রামে মামার বাড়ীতে আশ্রয়নেন ছেলেকে নিয়ে। প্রথমে মামার পরিবারে থেকে তিনি জীবিকার সন্ধানে পথ খোঁজতে শুরু করে। মাদ্রাসা শিক্ষায় পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া রফিকুন নেছা উরফে আগুরী বিবি আত্মিয়দের সহযোগীতায় মাহুতহাটি গ্রামে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অবসর সময়ে ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষার পাঠদান শুরু করে। আত্মিয়দের সহযোগীতায় ও নিজের কঠোর সাধনায় দীর্ঘ ৫বৎসর থেকে এককক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর ভাড়া নিয়ে শিশু বাচ্ছাদের মুখ-জুবানী, নাদিয়া কায়দা, ছিপারা, আমপারা, কুরআন শরিফ ও নামাজ শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।

    বিনিময়ে হাদিয়া স্বরুপ কোন পরিবার ১শত টাকা অথবা কোন পরিবার ২শত টাকা দিয়ে তাদের সন্তানকে আঙ্গরীর কাছে ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ করছে। হাদিয়া স্বরুপ প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে কোন মতে ঘর ভাড়া দিয়ে অর্ধাহারী অনাহার ৫বৎসর থেকে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন আগুরী বিবি। স্বল্প উপার্জনের টাকা থেকে ঘরভাড়া বিদ্যুৎ বিল, দৈনন্দিন খরচাদি বাদে কোন টাকা তার অবশিষ্ট থাকে না। এদিকে ছেলেকে লামনীগ্রাম মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় শ্রেণীতে পড়াচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন- মানুষ সৎ, অসৎ বিভিন্ন ভাবে চলাফিরা করছে। অসৎ পথে টাকা পয়সা রোজগার করছে তাতে আল্লাহর সানিধ্য লাভ করা কঠিন। মা মারা যাওয়ার পর আমি আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে আজ শিশুদের মধ্যে অল্প হাদিয়া তাদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা পাঠদান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু তাতে যে পরিমান অর্থ পাচ্ছি তা নিয়ে একটি কুড়েঘর তৈরী করা সম্ভব হচ্ছে না। শুনেছি সরকার বাহদুর ভূমিহীন মধ্যে খাঁস জমি বরাদ্ধ দেয়। কিভাবে জায়গা বরাদ্ধের আবেদন করতে হয় তাও জানা নেই। তিনি বৃত্তবান সহ সরকারের উর্দ্বতনদের কাছ মাথা গুজার ঠাই স্বরুপ একটি ঘর সহ কিছু জায়গা বরাদ্ধের আবেদন জানান।

    এছাড়া বর্তমানে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪০জন শিশু শিক্ষার্থীদেরকে মুখ-জুবানী, নাদীয়া, ছিপারা, আলীফলাম, কুরআন শরিফ ও সহ নামাজ শিক্ষা দিয়ে আসছেন। এছাড়া অনেক বিবাহীত মহিলাদের/স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্রীদেরকে ইসলামী শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।
    এবিষয়ে ইউপি সদস্য সহ জৈন্তাপুর উপজেলার সচেতন মহল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকরা বলেন- রফিকুন নেছা উরফে আগুরী বিবি এলাকার ইসলামী শিক্ষা দিয়ে আমাদের সন্তাদের ইসলামের অর্দশ বাস্তবায়নের একটি বৃত্তি তৈরী করে দিয়েছে। অনেকে বলেন জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট কিংবা উত্তর-পূর্ব সিলেটে কোন মহিলা কর্তৃক ইসলামী শিক্ষায় কোচিং কারাতে দেখেননি।

    রফিকুনের পাঠদান দেখে  তাদের সন্তানদের রফিকুনের কাছে পাঠান। তারা মহান রব্বুল আল-আমিনের কাছে দোয়া করেন রফিকুনের স্বপ্ন যেন পূর্ণহয়। তাছাড়া আমরা অনেকেই বিভিন্ন ভাবে টাকা পয়সা নষ্ট করে থাকেন এসকল টাকা হতে কিছু টাকা যদি আগুরীকে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণকরে তাহলে সে আর বড় পরিসরে আমাদের শিশু বাচ্ছাদের মমতাময়ী মায়ের স্নেহ দিয়ে ইসলামী শিক্ষা দিতে সহায়ক হবে বলে জানান একটি সুত্র।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here