বেনাপোল পোর্ট থানা এক আতঙ্ক জনপদের নাম

    0
    16

    পোর্ট থানায় যোগ দিয়েই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন কর্মকর্তারা

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩সেপ্টেম্বর,এম ওসমান,বেনাপোল প্রতিনিধি:  নানা বিতর্কে জড়িয়ে ইমেজ সঙ্কট দেখা দিয়েছে যশোরের বেনাপোল পুলিশে। এতে আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত এ বাহিনীর প্রতি বাড়ছে ক্ষোভ আর হতাশা। এলাকার মানুষের অভিযোগ পোর্ট থানা পুলিশ একাধিক ভাল মানুষকে ধরে বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে চালান দেওয়ার নাম করে অর্থ-বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে দেদারছে। বিভিন্ন লোককে ধরে বাজার থেকে কিনে আনা রঙিন ট্যাবলেটকে ইয়াবা বানিয়ে, গাঁজা, ছাই গুলকে হেরোইন বানিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে দিয়ে মাদক মামলায় চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পোর্ট থানার কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তারা। আর এর পিছনে থানা কর্তার হাত থাকলেও তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন না। তাদের বক্তব্য, পুলিশের বিরুদ্ধে লোকজন বানিয়ে বেশি বেশি বলেন। গত ১৬ বছরে এ থানায় ২১ জন ওসি যোগদান ও বদলি হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই নানা দুর্নীতির অভিযোগে বদলি ও সাসপেন্ড হয়েছেন। এক ডজনেরও বেশি এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলদের একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে এ থানা থেকে।
    বেনাপোল পোর্ট থানা এক আতঙ্ক জনপদের নাম। যেখানে সারাদিন একদল চৌকস দারোগা বিভিন্ন অজুহাতে লোক ধরে এনে থানা হাজতে গরুর খোয়াড়ের মত ঢুকিয়ে রাখে। আর দেন দরবার শেষে গভীর রাতে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়। পুলিশ লোক ধরে এনে মুক্তিপন আদায় করার মত ঘটনাও ঘটাচ্ছে বলে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভয়ে কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। যাদের আটক করে নাটকীয় ভাবে ঘুষ আদায় করছে তাদের আবার সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে কোন প্রকার যেন সাংবাদিকদের সামনে মুখ না খোলে। তাহলে আবারও তাকে ধরে এনে চালান করে দেওয়া হবে মাদক ও অস্ত্র দিয়ে।
    যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল, পুটখালি ও বাহাদুরপুর এই তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে ২০০১ সালের ৫ এপ্রিল বেনাপোল পোর্ট থানার উদ্বোধন করেন তৎকালিন ডাক টেলিযোগাযোগ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ নাসিম। ছোট একটি থানায় এক ডজনের বেশি এসআই ও এএসআই নিয়োগ দেওয়ায় এ অবস্থার সৃস্টি হয়েছে। প্রতিদিন সাদা পোষাকে ও পোশাক পরিহিত অবস্থায় এসব পুলিশ কর্তারা চোরাচালানী, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষদের আটক করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
    সুত্র জানায়, পোর্ট থানার গ্রাম গুলিতে পুলিশ সাদা পোশাকে যেয়ে কারনে-অকারনে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়িদের আটক করতে না পেরে বা তাদের নিকট থেকে ফায়দা লুটতে না পেরে যাদের গায়ে পুরাতন মাদক ব্যবসার গন্ধ লেগে আছে তাদের ধরে নিজেদের কাছে থাকা ইয়াবা, ফেনসিডিলের অথবা দুই এক পুরিয়া হেরোইন তাদের পকেটে অথবা বাড়ির আঙ্গিনায় রেখে আটক করে চালান দেওয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা আদায় করছে। শুধু তাই না মাঝে মধ্যে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের স্ত্রীদেরও আটকে রেখে স্বামীকে আটক করছে। পরে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে ছেড়েও দিচ্ছে।
    সীমান্তবর্তী যশোর জেলার ৯টি থানার মধ্যে অন্যতম থানা হচ্ছে বেনাপোল পোর্ট থানা। এটি গোল্ডেন থানা হিসেবে পরিচিত। মোটা অংকের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে এ থানায় পোস্টিং হয়ে থাকে। আর থানায় যোগ দিয়েই অনেক পুলিশ সদস্য জড়িয়ে পড়েন দুর্নীতিতে। এছাড়াও থানার কথিত ক্যাশিয়ার আমির হোসেন ওরফে জামাই আমিরের মাধমে লেনদেন হয় বিভিন্ন সিন্ডিকেটের লাখ লাখ টাকা।
    দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অবৈধভাবে অবাধে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় শার্শার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো অপরাধীদের নিরাপরাধ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে ভয়ঙ্কর সব অপরাধ। এই থানার গ্রামগুলো রয়েছে ভারত সীমান্ত লাগোয়া। এই গ্রামগুলোতে রয়েছে এক বা একাধিক চোরাচালানসহ অবৈধ কর্ম-পরিচালনা সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের মদদদাতারা স্থানীয় ভাবে খুবই প্রভাবশালী। এদের সাথে স্থানীয় প্রশাসন, জন প্রতিনিধি, আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তা ও স্থানীয় উপজেলা পর্যায়ের সরকার দলীয় নেতাদের যোগাযোগ রয়েছে। এখানে সব সময় সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা সীমান্ত এলাকার চোরাচালানী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়াও রয়েছে দলীয় কোন্দল। এই দলীয় কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে পুলিশ দু’হাতে অর্থ কামাচ্ছে। গত ১৬ বছরে এ থানায় ২১ জন ওসি যোগদান ও বদলি হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই নানা দুর্নীতির অভিযোগে বদলি ও সাসপেন্ড হয়েছেন। এক ডজনেরও বেশি এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলদের একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে এ থানা থেকে।
    সর্বশেষ বুধবার রাতে (৩০ আগস্ট) বেনাপোলের সাদীপুর সীমান্ত এলাকা থেকে হাফিজুর নামে এক চোরাকারবারীর কাছ থেকে এক লাখ মার্কিন ডলার ছিনতাই করার অভিযোগে বেনাপোল পোর্ট থানার এএসআই মেজবাহ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করে যশোর পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয় বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট)। কিন্তু এএসআই মেজবাহ উদ্দিন পুলিশ লাইনে না গিয়ে বৃহস্পতিবার ওই ডলার নিয়ে পালিয়ে যায় থানা থেকে। এ ঘটনার সাথে থানার এক কর্মকর্তা জড়িত বলে থানার মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে। এর আগে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে মাদক মামলার চালানের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই নুর আলমকে ক্লোজড করা হয় চলতি বছরের ৩ মে রাতে। গত ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আটককৃত কয়েক কেজি সোনা নিয়ে পালিয়ে যায় পোর্ট থানার এএসআই রফিক। সাথে করে নিয়ে যায় রাস্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত পিস্তলটিও। পোর্ট থানা থেকে ১৩টি সোনার বার (এক কেজি ৩ শ’ গ্রাম) নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও আসলে সে ১৭ কেজি সোনা নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ১/২ দিন এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় হলেও আস্তে আস্তে বিষয়টি থেমে গেছে। সোনা আত্মসাতের সাথে রাঘব বোয়ালরা জড়িত থাকায় বিষয়টি নিয়ে কেউ মাথা ঘামাচ্ছে না।
    এর আগে ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারী ১৫টি সোনার বার আত্মসাতের অভিযোগে তৎকালিন বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি কায়ুম আলী সরদারকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় ও থানার এএসআই রফিককে আটক করা হয়। মোমিন নামের এক সোনা চোরাচালানিকে ৫১টি সোনার বারসহ আটক করার পর পোর্ট থানায় দায়ের করা মামলায় ৩৬টি সোনার বার জব্দ দেখানো। সে সময় ওসির নির্দেশে থানার এএসআই রফিক এই সোনা নিয়ে পালিয়ে যায়। ৩দিন পরে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে দারোগা রফিক। এর আগে ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর ৩৫ লাখ হুন্ডির টাকাসহ বেনাপোল পোর্ট থানার সাদীপুর গ্রামের জাহাঙ্গীরকে আটক করে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পরে তদন্ত করে জানা যায় ওসি, দু’দারোগা এক সিপাই মিলে পুরো টাকাটা আত্মসাৎ করে। এ ঘটনায় থানার তৎকালিন ওসি হাসান হাফিজুর রহমানকে ক্লোজড করা হয় যশোর পুলিশ লাইনে। এর আগে একই অভিযোগে ৪ ডিসেম্বর এসআই সিরাজ ও কালাম হোসেন এবং কনস্টেবল মোস্তাককে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।
    বেনাপোল পোর্ট থানা উদ্বোধন করার পর এখানে প্রথম ওসি হিসেবে ২০০১ সালের ৫ এপ্রিল যোগ দেন মোঃ শাহাদৎ হোসেন। তিনি মাত্র ৩ মাস থাকার পর বদলি হন ১৯ জুলাই। পরবর্তী ওসি হিসেবে যোগ দেন ১৯ জুলাই সৈয়দ মোস্তফা কামাল (পিপিএম)। মাত্র ১৮ দিনের মাথায় তাকে চলে যেতে হয়। এর পর যোগ দেন একই সালের ১৩ আগস্ট কে,এম সাইফুল হুদা। তিনি ৪ মাসের মাথায় ১০ ডিসেম্বর বেনাপোল ছাড়েন। ৪র্থ ওসি হিসেবে যোগ দেন ২০০১ সালের ১০ ডিসেম্বর ফারুক আহমেদ খসরু (বিপিএম)। তৎকালিন বিএনপি দলীয় এমপি আলী কদরকে এমপি হিসেবে প্রটেকশন দেওয়ায় বিএনপির হাওয়া ভবনের এক নেতার কুনজরে পড়ে এখান খেকে বদলী হতে হয় তাকে ৪ মাসের মাথায় ২০০২ সালের ১৩ এপ্রিল। ৫ম ওসি হিসেবে যোগ দেন ২০০২ সালের ২৪ মে শফিকুল আলম। তিনি হাওয়া ভবনের এক নেতার আর্শিবাদে এখানে স¤্রাজ্য বিস্তার করেন ২ বছর। অবশেষে ২০০৪ সালের ২ মার্চ তিনি বদলি হন। ৬ষ্ঠ ওসি হিসেবে ২০০৪ সালের ১৮ মার্চ যোগ দেন জালাল উদ্দিন। তিনি ২০০৫ সালের ১২ এপ্রিল বদলী হন। ৭ম ওসি হিসেবে যোগ দেন একই সালের ১২ এপ্রিল আগের থাকা ওসি সৈয়দ মোস্তফা কামাল (পিপিএম)। এবার আর তাকে ১৮ দিনের মাথায় চলে যেতে হয়নি। তিনি প্রায় দেড় বছর এখানে থাকার পর ২০০৬ সালের ১১ অক্টোবর বদলী হন। একই তারিখে ৮ম ওসি হিসেবে যোগ দেন মুকবুল হোসেন মোল্যা। তাকে বিদায় নিতে হয় দেড় মাসের মাথায় ২৬ নভেস্বর। ২৭ নভেম্বর ৯ম ওসি হিসেবে যোগ দেন শাহাদৎ হোসেন খান। ৬ মাসের মাথায় তাকে বদলী করা হয় ১ জুন ২০০৭ সালে। ১০ম ওসি হিসেবে নিয়োগ পান ১ জুন আবুল বাশার। তাকেও ৭মাসের মাথায় বদলী করা হয় ৩১ জানুয়ারি ২০০৮ সালে। ১১তম ওসি হিসেবে নিয়োগ পান ১ ফেব্রুয়ারী নুরুল আমিন। এক বছর ৩ মাসের মাথায় ২০০৯ সালের ১০ মে চলে যান অন্যত্র। একই তারিখে ১২তম ওসি হিসেবে যোগ দেন এনামুল হক। নানা দুর্নীতির কারণে তাকে বদলী করা হয় ২০১০ সালের ২ মার্চ। ২২ মার্চ ১৩তম ওসি হিসেবে যোগ দেন আসলাম খান। বেনাপোলে বৈশাখী মেলায় বোমা হামলাসহ অনৈতিক সুযোগ সুবিধা নেওয়ায় তাকে সাসপেন্ড করা হয়। বোমা হামলায় জিয়াউর রহমান জিয়া নামে এক যুবক ঘটনাস্থলে নিহত ও ১০ জন আহত হয়। মাত্র দেড় মাসের মধ্যে তাকে ৬ মে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। ১৪তম ওসি হিসেবে ১৬ মে যোগ দেন ওসি আবু বকর সিদ্দিকী। অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে ওসি শেখ আবু বক্কর সিদ্দিকীকে সাড়ে ৬ মাসের মাধায় ৬ ডিসেম্বর বদলী করা হয়। এর ২দিন আগে মদ খেয়ে মাতলামী করার অভিযোগে ক্লোজড করা হয় থানার সেকেন্ড অফিসার আজমল হুদাকে। ১৫তম ওসি হিসেবে একই দিন যোগ দেন শামিম মুছা। ৯ মাসের মাথায় ২০১১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাকে বদলি করা হয়। ১৬তম ওসি হিসেবে ১৬ সেপ্টেম্বর শার্শা থানা থেকে আসেন হাসান হাফিজুর রহমান । হুন্ডির ৩৫ লাখ টাকা টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। এর আগে একই অভিযোগে দুই উপ-পরিদর্শক ও এক কনস্টেবলকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়। ১৭তম ওসি হিসেবে ৬ ডিসেম্বর যোগ দেন এ কে এম ফারুক হোসেন। আড়াই মাসের মাথায় তাকে ২০১৩ সালের ৩ মার্চ হঠাৎ করে বদলি করা হয়। একই তারিখে ১৮তম ওসি হিসেবে আসেন মিজানুর রহমান খান। আইন শৃংখলার অবনতি ও ক্ষমতাসীন দলের দু’গ্রুপের রোষানলে পড়ে সাড়ে ৬ মাসের মাথায় ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে বদলি করা হয়। ১৯তম ওসি হিসেবে ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর যোগ দেন কায়ুম আলী সরদার। তিনি নিজেকে একটি বিশেষ জেলার নাগরিক দাবি করে একের পর এক নানা দুর্নীতিতে মেতে ওঠেন। ২ জানুয়ারি বেনাপোলের আমড়াখালি থেকে ৬০টি সোনার বারসহ একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে থানায় নিয়ে ৩৬ টি সোনার দেখানো হয়। ওসি কাইয়ুমের ইশারায় তৎকালিন এএসআই রফিক অবশিষ্ট সোনার বার আত্মসাত করে পালিয়ে যায় থানা থেকে। পরে মামলাটি সিআইডি’র কাছে হস্তান্তর করা হলে সোনা আত্মসাতের বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়লে ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী তাকে যশোর পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়। সেই মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। শোনা যাচ্ছে এ ঘটনায় কিছু দিন চুপচাপ থাকার পর সব কিছু নিস্পত্তি হয়ে যায়। সোনা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া এসআই রফিক বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে ওসি হয়েছেন। চাকুরিও করছেন।
    ওসি কাইয়ুম ২০১৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বেনাপোল আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন ওসি হিসেবে যোগ দিয়ে ৬ দিনের মাথায় গোল্ডেন থানা বেনাপোল পোর্ট থানায় যোগ দেন। ২০তম ওসি হিসেবে ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী যোগ দেন মোশাররফ হোসেন। তাকে এক পর্যায়ে জোর করেই বদলি করা হয় মাত্র ২ মাসের মাথায়। মনের ক্ষোভে তিনি খুলনা রেঞ্জ থেকে বদলী হয়ে সিলেট রেঞ্জে চলে যান।
    সর্বশেষ ২১তম ওসি হিসেবে যোগ দেন একই তারিখে বর্তমান ওসি অপূর্ব হাসান। তিনি ঢাকার তেজগাঁও থেকে বদলী হয়ে যোগ দেন চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে। সেখান থেকে পোর্ট থানায় যোগদান করেন ২০১৪ সালের ৩ এপ্রিল। তিনিই এক মাত্র ওসি হিসেবে এ থানায় প্রায় সাড়ে ৩ বছর দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি ছুটিতে থাকায় ওসির দায়িত্ব পালন করছেন এসআই আলমগীর হোসেন।
    পুলিশ সদস্যদের নানা দুর্নীতির সংবাদের ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আলমগীর হোসেন সাথে কথা বললে তিনি জানান, কোন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কিছু লোক পুলিশ সম্পর্কে একটু বেশি বাড়িয়ে বলে। সব পুলিশতো আর এক নয়। দু’একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতে পারে। তবে আমি সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছি। কোন অনিয়ম এর সাথে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here