ফেসবুকে মানহানিকর স্ট্যাটাস,নবীগঞ্জের ৫ যুবক কারাগারে

    0
    23

    নূরুজ্জামান ফারুকী,নবীগঞ্জ: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের এক গৃহবধু প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে অশ্লীল লেখালেখির কারনে তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়েরী মামলায় নবীগঞ্জের ৫ যুবককে কারাগারে প্রেরন করেছেন বিজ্ঞ বিচারক। গত রবিবার হবিগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযুক্তরা হাজির হলে উভয় পক্ষের আইনজীবির দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক বেগম তানিয়া কামাল আসামীদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন । এঘটনায় এলাকায় আলোচনার ঝড় বইছে। আটককৃতরা হল নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম শেখ পাড়া গ্রামের ছানু মিয়ার ছেলে এনামুল হোসেন (২৫), আলকাছ মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (২০), কামরুল ইসলামের ছেলে ফয়জুল ইসলাম(২৪), ওছমান আলীর ছেলে তাহের আহমেদ (১৮) এবং শাহ হোসেন আলীর ছেলে শাহ শাহরিয়ার আহমেদ (২১)। উল্লেখ্য যে-নবীগঞ্জ উপজেলার ৮নং সদর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম শেখ পাড়া এলাকার একটি প্রবাসী পরিবার স্থানীয় দূর্বৃত্তদের অত্যাচারে জীবন বিপন্ন। উক্ত দূর্বৃত্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এবং বিভিন্ন স্থানে ওই পরিবারের প্রবাসী স্ত্রী খেলন বেগমের বিরুদ্ধে অশ্লালীন কথাবার্তা লিখে প্রচার করায় পরিবারে নেমে আসে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অন্তকলহ। দেখা দিয়েছে সংসারে ভাঙ্গন। প্রবাসী স্বামী স্ত্রী খেলন বেগমকে ছাড়ার হুমকী দিয়েছেন। এছাড়া দূর্বৃত্তদের ভিত্তিহীন ফেসবুকে লেখালেখির কারনে মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন প্রবাসীর স্ত্রী খেলন বেগম। তাদের ভয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন বোনের বাসায় নবীগঞ্জ শহরে। আতংকিত ওই প্রবাসী পরিবার গত ৮ই নভেম্বর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর আদালত সিআর ৪০৮/২০২০ ইং, দঃবিঃ ৫০০/৫০১/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রিট-২ আদালতে দঃবিঃ ১০৭/১১৪/১১৭(সি) ধারায় অপর একটি মামলা দায়ের করেছেন। উক্ত মামলা দায়ের করার খবর পেয়ে দূর্বৃত্ত ও বখাটে ওছমান আলী, শাহ হোসেন আলী ও রকমত মিয়া গংরা তাদের আত্বীয় এনামুল হোসেন, নজরুল ইসলাম, সাইফুর রহমান, ফয়জুর রহমান গংদের দিয়ে ফেসবুকে উক্ত প্রবাসীর স্ত্রী খেলন বেগম ও তার পরিবারকে নিয়ে মানহানিকর অশ্লীল লেখা লেখির করানো হয়। পরে এ ব্যাপারে খেলন বেগম বাদী হয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা নং ১১/২০ইং ( জিআর নং ২১২/২০ইং) দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে উক্ত আসামীরা গাঁ ঢাকা দেয়। এক পর্যায়ে আসামী এনামুল, সাইফুর, ফয়জুল, তাহের ও শাহরিয়ার চলতি মাসের প্রথম দিকে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে দুই সপ্তাহের অন্তবর্তীকালীন জামিনে বাড়ি আসে। বাড়িতে এসেই মামলা তোলার জন্য বাদীনি ও তার পরিবারকে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এব্যাপারে বাদীনি তার নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে আসামীরা গত রবিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার হবিগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ প্রদান করেন। আসামী পক্ষে শুনানীতে অংশ নেন এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী এবং বাদী পক্ষে শুনানী করেন এডভোকেট নির্মল ভট্রাচার্য্য রিংকু। অপর দু’ আসামী পলাতক রয়েছেন। উল্লেখিত আসামীগণ কারাগারে যাবার খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।