ফটিকছড়ির ভুজপুরে হামলার জন্য জামায়াত-শিবির ও সাকা চৌধুরীর পরিবারকে দায়ী করেছে আওয়ামী লীগ

    0
    5

    ফটিকছড়ির ভুজপুরে হরতালবিরোধী মিছিলে হামলার জন্য জামায়াত-শিবির ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারকে দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করেন তাঁরা।
    সংবাদ সম্মেলনে ওই ঘটনার অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী ও হামলায় অংশ নেওয়া দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী।
    আফতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১১ এপ্রিল সকালে দক্ষিণ ফটিকছড়ির আজাদী বাজার থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। মিছিলে ৮০০ মোটরসাইকেল, কার, জিপ, মাইক্রোবাস, পিকআপ, মিনি ট্রাকসহ মোট ৮২৫টি গাড়ি ছিল। মিছিলটি ধর্মপুর, নানুপুর, লেলাং, রাঙামাটিয়া, ফটিকছড়ি সদর, বিবিরহাট ও পাইন্দং এলাকা অতিক্রম করে ভুজপুরের দিকে যাচ্ছিল।
    উপজেলা চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভুজপুর থেকে মিছিলটি আবারও উপজেলা সদরে যাওয়ার পথে ভুজপুর ন্যাশনাল স্কুলের সামনের সড়কে বড় বড় গাছের গুঁড়ি ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। এ সময় দুই শতাধিক দুর্বৃত্ত মিছিলে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, দা, কিরিচ, রড, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা শুরু করে। হরতালবিরোধী মিছিলের পেছন থেকে এবং সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড়ে ওত পেতে থাকা আরও কয়েক শ সন্ত্রাসী ঝটিকা আক্রমণ শুরু করে।
    সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভুজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জামায়াতের নেতা শফিউল আলম নূরী নিজের নাম উল্লেখ করে স্থানীয় কাজিরহাট মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা করেন, ‘মাদ্রাসার বড় হুজুরকে আওয়ামী লীগের গুন্ডারা মেরে ফেলেছে। সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আজাদকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে এবং মসজিদ ভেঙে দিয়েছে। আপনারা এদের সশস্ত্রভাবে প্রতিহত করুন।’ তাঁর আহ্বানে আশপাশের আরও ১০/১২টি মসজিদ থেকেও একই ঘোষণা প্রচার করা হয়। এ ঘোষণার পর বিভিন্ন গ্রাম থেকে নারী-পুরুষ এসে মিছিলে বেপরোয়া আক্রমণ শুরু করে। এ সময় স্থানীয় মাদ্রাসা, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি।
    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই হামলায় তিনজন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। ছয়জন ঘটনার পর থেকে এখনো হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় আছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জন চিরতরে পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন। এ ঘটনায় ২৩০টি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ আছে আরও ১৬০টি মোটরসাইকেল। তিনটি কার, একটি মাইক্রোবাস, তিনটি জিপ, আটটি ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলোর আনুমানিক দাম ১০ কোটি টাকা। দুর্বৃত্তরা ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের গাড়িটিও পুড়িয়ে দেয়।
    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, সহসভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, বিগত নির্বাচনে ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।
    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, হামলার পরিকল্পনাকারী জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সখ্য রয়েছে বলে আওয়ামী লীগ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। তাহলে এ ঘটনায় আওয়ামী লীগেরও কেউ কেউ জড়িত কি না? তখন মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল হিসেবে নেতাদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি থাকতে পারে। তবে এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নয়।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here