প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও বিএনপির প্রতিক্রিয়া

    0
    13

    টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে তাঁর ওপরে ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাধারণ মানুষকে ঘিরেই আমার সকল কার্যক্রম। জাতির পিতার কন্যা হিসেবে আমার জীবনেরও একমাত্র লক্ষ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমার ওপর ভরসা রাখুন। আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই।”

    প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে গত ১১ বছরে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। আসুন, দলমত–নির্বিশেষে সকলে মিলে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নতুন করে শপথ নিই।’

    তবে,সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে জনগণ ভরসা রাখতে পারছে না ।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে জাতি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। একটি প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা ক্ষমতা দখল করে আছে। জাতির প্রত্যাশা ছিল সংকট নিরসনের একটি পথ তার (প্রধানমন্ত্রী) বক্তব্যে থাকবে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বা এমন কোনো ইঙ্গিত বা কোনো সংলাপের কথা বলবেন; কিন্তু কোনোটাই তিনি বলেননি। এই সংকট নিরসনের জন্য তিনি কোনো পথ দেখাননি।

    ফখরুল বলেন, বক্তব্যের মধ্যে তিনি যে আশা ও ভরসা রাখতে বলেছেন, সেই ভরসা মানুষ কোত্থেকে রাখবে। অর্থনীতি চরমভাবে নিচে নেমে গেছে। যে অর্থনীতির বর্ণনা তিনি দিয়েছেন, তা তার ভাষণের মধ্যে, বাস্তবে ঠিক উল্টোটা। ব্যাংকগুলো ভেঙে পড়ছে। মানুষ আস্থা রাখবে কোথায়?

    তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের আয় কমে যাচ্ছে, ব্যয় বাড়ছে। প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে। আজ সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় মানুষ কী করে ভরসা রাখবে। বাংলাদেশ এখন একটা রোল মডেল। এই রোল মডেল হচ্ছে দুর্নীতির রোল মডেল, দুঃশাসনের রোল মডেল- এই হচ্ছে বাংলাদেশ। ভাষণটা ওনাদের নিজেদের জন্য। ওনার নিজের আত্মতুষ্টির জন্য। ওনারা জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন, জনগণের ভাষা যে ওনারা বুঝতে পারছেন না, জনগণের আওয়াজ যে তারা শুনতে পারছেন না- এই বক্তব্যটা তারই প্রমাণ।

    ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসের জন্য শুধু বিএনপিকে দোষারোপ করেছেন। কিন্ত ভুলে গেছেন ওনারা যে ১৭৩ দিন হরতাল করেছেন। কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে সেই সময় বাসে ১১ জন ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। আর অনেক লোক নিহত হয়েছিল। দেশের রাজনীতির যে কালচার ছিল, এখনও আছে, যেটা এখন সরকার করছে। তারা হত্যা করেছে, তুলে নিয়ে গিয়ে মারছেন, নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে, গুম হয়ে যাচ্ছে। এই জিনিসগুলো প্রধানমন্ত্রীর ভাষনে আসেনি।