পেঁয়াজ ১৩০-১৬০টাকা প্রতি কেজিঃকারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা

    0
    2

    আমারসিলেট24ডটকম,০ডিসেম্বরঃ পেঁয়াজের বাজারে আগুন। কোনোক্রমেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এক সপ্তাহে কমলেও পরের সপ্তাহে আবার লাফিয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে।এর ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৭০ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ টাকা। আর একদিনের ব্যবধানে গতকাল রবিবার উভয় ধরনের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। টানা গত ৪মাস ধরে ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৬গুণ।যা দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
    গতকাল রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায়। যা একদিন আগেও ১১৫ থেকে ১২০ টাকা ছিল। গত জুন মাসে একই পেঁয়াজের প্রতি কেজির দাম ছিল মাত্র ২২ থেকে ২৫ টাকা। ঢাকার বাইরে সিলেটের ব্যাবসায়িক প্রান কেন্দ্র শ্রীমঙ্গল শহরের পাইকারী বাজার ইহসান মার্কেটের এক ব্যাবসায়িকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, গত কাল থেকে ১৩০ টাকা ধরে আমরা বিক্রি করছি। কোথাও কোথাও আরো চড়া দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বলে জানা যায়।অন্যদিকে রাজধানীর বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম এর আগে অনেকবার বাড়লেও এমন পরিস্থিতি আর কখনো হয়নি। কয়েক মাসের ব্যবধানে বাড়তে বাড়তে এখন ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। রাজধানীর পাইকারি আড়ত শ্যামবাজারেই সব ধরনের পেঁয়াজ এখন ১শ থেকে ১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কাওরান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।
    তারা আরো বলেন, পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার প্রধান কারণ দেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এজন্য পেঁয়াজ সরবরাহে নানা সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া পেঁয়াজ একটি পচনশীল কাঁচামাল। আমদানিকারকরা বেশি দামে এ পণ্য আমদানি করে এখন লোকসানের মুখে। আবার আমদানি কম হলে বাজার অস্থির হয়ে পড়ছে। আবার সামপ্রতিক সহিংসতায় ট্রাক না পাওয়ায় বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ রেখেছে টিসিবি। তবে টিসিবি কর্তৃপক্ষ বলছে পেঁয়াজের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অচিরেই পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে টিসিবি।
    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বছরে ২২ লাখ টন। কৃষি সমপ্রসারণ অধিফতরের হিসাবে চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই দেশে উৎপাদন হয়। তবুও পেঁয়াজ আমদানি নির্ভর পণ্যে পরিণত হয়েছে। এ কারণে বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে। আর এখন দাম বাড়ছে সরবরাহ ঘাটতির কারণে।
    অন্যদিকে পেঁয়াজ আমদানিকারকরা বলছেন, বিরোধী জোটের তৃতীয় দফা অবরোধের কারণে পেঁয়াজের দাম অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। গত সপ্তাহে অবরোধ শেষে একদিন ফাঁকা থাকলেও যানজটের কারণে পর্যাপ্ত সরবরাহ হয়নি। পাশাপাশি টানা হরতাল-অবরোধের কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে তিনগুণ। বাজারে পেঁয়াজের দামে এর প্রভাবও পড়ছে।
    বর্তমানে মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে দেশী পুরনো পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। নতুন পেঁয়াজের সরবরাহও খুব কম। তাছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় এখন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের অবরোধে সরবরাহ সঙ্কট এখন চরমে পৌঁছেছে। ফলে পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারে হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় পেঁয়াজ নিয়ে সাধারণ মানুষ বিপাকে।পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবিও খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ রেখেছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here