পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে এসএনসি লাভালিন ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ

    0
    3

     

     

    পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে এসএনসি লাভালিন ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ
    পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে এসএনসি লাভালিন ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ

    ঢাকা, ১৮এপ্রিল : বাংলাদেশের পদ্মা সেতু কম্বোডিয়ার একটি প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়ায় বিশ্বব্যাংক কানাডার প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। সেইসঙ্গে এসএনসিলাভালিনের শতাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানকেও একই মেয়াদের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক। যা বিশ্ব ব্যাংকের সর্বোচ্চ নিষেধাজ্ঞা। গতকাল বুধবার বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, পদ্মা প্রকল্পে লেনদেনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতার ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছে এসএনসিলাভালিন।
    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সমঝোতার ভিত্তিতে এসএনসিলাভালিন ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের তদন্ত চলাকালে কম্বোডিয়ার পল্লী বিদ্যুপ্রকল্পে এসএনসিলাভালিনের দুর্নীতির অভিযোগ পায় বিশ্বব্যাংক। সমঝোতা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের দেয়া সব শর্ত পূরণ করলে নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে আট বছর করা হতে পারে।
    বিশ্বব্যংকের ইন্টিগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্ট লিওনার্ড ম্যাকার্থি বিবৃতিতে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পরপরই আমরা বিষয়টি রয়্যাল কানাডীয় পুলিশকে জানিয়েছি। দুর্নীতি জালিয়াতির ঝুঁকি কমিয়ে আনার যে প্রতিশ্রতি এসএনসিলাভালিন বিশ্ব ব্যাংককে দিয়েছে, তা তারা নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিপালন করবে বলেই আমি আশা করি। পদ্মাসেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের দশমিক বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার কথা থাকলেও দুর্নীতি অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েনের পর গত জানুয়ারির শেষে বাংলাদেশ সরকার তাদের না করে দেয়। প্রকল্পের কাজ পেতে বালাদেশি কর্মকর্তাদের ঘুষ সাধার অভিযোগে এসএনসিলাভালিনের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহের বিচার চলছে কানাডায়। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কানাডায় এসএনসিলাভালিন কার্যালয় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে সে দেশের পুলিশ। বিশ্ব ব্যাংক অভিযোগ আনার পর দুর্নীতি দমন কমিশন রাজধানীর বনানী থানায় সাত জনকে আসামি করে যে মামলা করেছে, তাতেও আসামি করা হয়েছে ওই দুই জনকে। মামলায় সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (নদী শাসন) কাজী মো. ফেরদৌস ছাড়াও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড প্ল্যানিং কনসালটেন্ট লিমিটেডের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশে কানাডীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের স্থানীয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ মোস্তফা এবং এসএনসিলাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেসকেও আসামি করা হয়েছে।
    মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পারস্পারিক যোগসাজসে ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্র করার মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্পের তদারকি পরামর্শকের কাজ এর অন্যতম দরদাতা এসএনসি লাভালিন ইন্টারন্যাশনালকে পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে। এসএনসি লাভালিন ওই কার্যাদেশ পেলে ঘুষ লেনদেন সম্পন্ন হতো। বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগ কানডীয় পুলিশের তদন্তের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে রমেশ শাহর একটি ডায়েরি, যাতে সম্ভাব্য ঘুষ বণ্টনের একটি তালিকা রয়েছে। ওই তালিকায় অন্য অনেকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদ্মা সেতু প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি এডভাইজর মশিউর রহমান এবং সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের নামও রয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। ওই ডায়রির তথ্যের ভিত্তিতে গত বছর শেষ দিকে বাংলাদেশ সরকারকে একটি প্রতিবেদনও পাঠায় বিশ্ব ব্যাংক

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here