নড়াইল সরকারি শিশু পরিবারের এতিম ৮ নিবাসিকে ২মাসের ছুটি

    0
    21

    সাংবাদিকদের কাছে তাদের ওপর কর্তৃপক্ষের নির্যাতনের অভিযোগ করায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ৮ নিবাসিকে সংশোধনের জন্য ২ মাসের ছুটি

    নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সরকারি শিশু পরিবারের এতিম নিবাসিরা সাংবাদিকদের কাছে তাদের ওপর কর্তৃপক্ষের নির্যাতনের অভিযোগ করায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ৮ নিবাসিকে সংশোধনের জন্য ২ মাসের ছুটি দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতেই তাদের ছুটি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) মোঃ ইয়ারুল ইসলামকে প্রধান করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    নড়াইল সরকারি শিশু পরিবারের নিবাসিরা সোমবার  সকালে তাদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতন এবং বিভিন্ন দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে। শিশুরা অভিযোগে জানায়, তাদের সাথে কর্তৃপক্ষ প্রায় সময় অসদাচরণ করে থাকে। অনেক সময় মারধর করে। তাদের খেলতে দেওয়া হয়না, কিছু হলেই নাম কেটে দেওয়ার ভয় দেখায়। ঠিক মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়না। এক কারিগরি প্রশিক্ষক প্রায় তাদের জন্য বরাদ্দকৃত বিস্কুট, মুড়ি, চানাচুর নিয়ে যায়। তাদের দিয়ে উপ-তত্ত্বাবধায়ক মাঝে মাঝে ঘরের মেঝে পরিস্কার করায় এবং ময়লা ফেলায়।  ডরমেটরিতে ৩০টি ফ্যানের মধ্যে ৭টি ফ্যান নষ্ট। অনেকগুলি আস্তে আস্তে ঘোরে। জগ নেই, গ্লাস নেই। রাতের খাবার দিয়ে গন্ধ বেড়োয়। সর্বশেষ গত রোববার রাত ১০টার দিকে কর্তৃপক্ষের কাছে গলা ব্যথা, সর্দি-কাশিতে অসুস্থ সোহান সিকদারের চিকিৎসার দাবি করে। পরে ২টার দিকে কর্তৃপক্ষ ২জন পুলিশকে সাথে নিয়ে তাদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে কান ধরায় এবং চড় থাপ্পড় মারে। শিশুরা অভিযোগে জানায়, পুলিশ বলেছে তোরা গাঁজা ও ফেন্সিডিলখোর,জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হবি। কখনও মানুষ হতে পারবি না। ছোট থেকে বড় সবাই তোরা খারাপ।

    এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন শিশু পরিবারে গেলে কোনো নিবাসি সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিবাসি জানায় সাংবাদিকদের সামনে বিভিন্ন অভিযোগ করায় বড় ভাইয়াদের চলে যেতে হয়েছে। আমরা কিছু বললে আমাদেরও চলে যেতে হবে। আমরা এখন ভালো আছি, আমাদের আর কোনো সমস্যা নেই।

    সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক আসাদুল্লাহ বলেন, সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা শিশু পরিবার সরেজমিনে পরিদর্শনের পর ৮জনকে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শৃংখলা ভঙ্গের অপরাধে নিবাসি তৌফিক, হাসিব গাজী, আরমান, আল মাহমুদ, শাকিল, রবি, জুবায়েরসহ ৮জনকে ২ মাসের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ দেওয়ায় তাদের এ শাস্তি পেতে হলো কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা বেশ কিছুদিন ধরেই এ ধরনের আচরণ করছিল।